ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

চীনের ওপর নির্ভরশীলতা ইউরোপের স্বাধীনতার জন্য ঝুঁকি: তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী


চীনের ওপর নির্ভরশীলতা ইউরোপের স্বাধীনতার জন্য ঝুঁকি: তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং সতর্ক করেছেন যে, চীনা সরবরাহকারীদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য একটি ঝুঁকি তৈরি করছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার পোল্যান্ডের ওয়ারশ নিরাপত্তা ফোরামে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন।

বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ইইউর শীর্ষ সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। সম্মেলনের প্রথম দিনেই চীনের সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা করবেন জোটের নেতারা। ইইউ চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতে দেশটির ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস করতে চায়।

ওয়ারশ নিরাপত্তা ফোরামে লিন চিয়া-লুং মন্তব্য করেন, ‘চীনের কর্তৃত্ববাদী আদর্শ ইউরোপের গণতন্ত্রের সঙ্গে মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক। তাই চীনের ওপর নির্ভরশীলতা শুধুমাত্র অর্থনৈতিক ঝুঁকি নয়, এটি ইউরোপের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য একটি হুমকি।’

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের সঙ্গে টানাপোড়েন, ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র সংকটে উদ্বেগ

তিনি আরো বলেন, ‘একটি ইউরোপ হবে যা সরবরাহব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত, যেখানে নিজের স্বাধীনতার একটি অংশ অন্যের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।’ এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ইমেইলে যোগাযোগ করা হলেও ওয়ারশে অবস্থিত চীনা দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।

তাইওয়ানের কর্মকর্তারা বিদেশ সফরে গেলে চীন নিয়মিত প্রতিবাদ জানায়। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তেকের সঙ্গে আলোচনা করতে রাজি নয় বেইজিং। চীনের দাবি, লাই একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী। তবে তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য ও সম্পর্ক বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। লিন বলেন, তাইওয়ানের সঙ্গে বাণিজ্য ইউরোপের জন্য লাভজনক হতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘তাইওয়ান ও ইউরোপ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু মূল্যবোধে বিশ্বাস করে। এগুলো হলো গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন।’ লিন আরো বলেন, ‘তাইওয়ানের মডেল সিলিকন ভ্যালিতে উদ্ভাবন ও সমৃদ্ধির বিকাশে সহায়তা করেছে। ইউরোপের ক্ষেত্রেও এটি একই ভূমিকা রাখতে পারে।’

চীনের আপত্তির কারণে অতীতে তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইউরোপে খুব কমই সফর করতেন। তবে দুই বছরের বেশি সময় আগে দায়িত্ব নেওয়ার পর লিন কয়েকবার ইউরোপ সফর করেছেন, যার মধ্যে পোল্যান্ড সফরও রয়েছে।

আরও পড়ুন: দিল্লিতে সিজেপির পতাকা মিছিল ঘিরে ২৫ হাজার নিরাপত্তাকর্মীর মোতায়েন

তাইওয়ান ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ করার চেষ্টা করছে। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর থেকে এ উদ্যোগ আরও জোরালো হয়েছে। চীনের সঙ্গে ইউরোপেরও বেশ কিছু বিষয়ে বিরোধ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য ঘাটতি এবং রাশিয়াকে চীনের সহায়তা নিয়ে ইউরোপের উদ্বেগ।

পোল্যান্ডসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের সঙ্গে তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে। তবে তাইওয়ানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার বেইজিংয়ের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে।

তাইওয়ানের বক্তব্য, বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমান মর্যাদায় সম্পর্ক গড়ে তোলার অধিকার তাদের রয়েছে।

আরও পড়ুন: মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় বিপর্যস্ত ইরানের আকাশপথ, বেড়েছে ভাড়া ও ভোগান্তি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসি-ডি পল জুটিতে ইন্টার মিয়ামি নিশ্চিত করেছে প্লে-অফে স্থান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫০ এম


মেসি-ডি পল জুটিতে ইন্টার মিয়ামি নিশ্চিত করেছে প্লে-অফে স্থান

ইন্টার মিয়ামি শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে নতুন এক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। লিওনেল মেসির অ্যাসিস্ট থেকে রদ্রিগো ডি পলের গোল এবং জার্মান বের্তেরামের লক্ষ্যভেদ; এই দুই গোলের মাধ্যমে নিউইয়র্ক সিটি এফসিকে ২-০ ব্যবধানে পরাজিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ের ফলে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) প্লে-অফে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করেছে দলটি।

বৃহস্পতিবার ভোরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রদর্শন করেছে মিয়ামি। ম্যাচের ২০ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন বের্তেরামে। চলতি মৌসুমে এটি তাঁর অষ্টম গোল। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার ডি পল। মেসির নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে তিনি জালে পাঠান।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নিউইয়র্ক সিটি একটি পেনাল্টি পায়। তবে মিয়ামির গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট ক্লেয়ার নিকোলাস ফার্নান্দেজের স্পটকিক ঠেকিয়ে দেন। এর ফলে তিনি টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ক্লিন শিট ধরে রাখেন।

২০২৩ সালে মেসি যোগ দেওয়ার পর সেই মৌসুমে কেবল প্লে-অফে উঠতে পারেনি মিয়ামি। কিন্তু এরপর টানা তিন মৌসুমে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে দলটি। ২০২৪ সালে প্রথম রাউন্ডে আটলান্টা ইউনাইটেডের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। তবে গত বছর ভ্যাঙ্কুভারকে হারিয়ে ক্লাবের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমএলএস কাপ জেতে মিয়ামি।

এবারও শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন দেখছেন মেসি। ২০২৬ সালে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলার পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণাও দিয়েছেন এই মহাতারকা। এখন ক্লাবের হয়ে আরেকটি শিরোপা জিতে বছরটিকে স্মরণীয় করে তোলার সুযোগ তাঁর সামনে রয়েছে।

এর আগে নিজেদের সর্বশেষ ম্যাচে মেসি ও লুইস সুয়ারেজের জোড়া গোলে ডিসি ইউনাইটেডকে ৪-০ ব্যবধানে পরাজিত করেছিল মিয়ামি। নিউইয়র্ক সিটির বিপক্ষেও জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে তারা। গত ১৬ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করা নতুন কোচ ক্রিস্টিয়ান গঞ্জালেসের অধীনে এটি মিয়ামির দ্বিতীয় জয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে আটক বাবা-মা অবস্থান ধর্মঘট শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫২ এম


মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে আটক বাবা-মা অবস্থান ধর্মঘট শুরু

দিল্লির ইন্ডিয়া গেটের সামনে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছিলেন নিহত অঙ্কিতা ভাণ্ডারির বাবা-মা, যারা মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে আন্দোলন করছেন। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে তাদের আটক করে দিল্লি পুলিশ।

২০২২ সালে ভারতের উত্তরাখণ্ডে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ১৯ বছর বয়সী অঙ্কিতা ভাণ্ডারি। বিজেপি নেতা দুষ্মন্ত কুমার গৌতম, যিনি সম্প্রতি সিকিমের রাজ্যপাল হয়েছেন, তাকে অঙ্কিতাকে নির্যাতন ও হত্যার জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবাদস্বরূপ, বুধবার সন্ধ্যায় দিল্লির ইন্ডিয়া গেটের সামনে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন অঙ্কিতার বাবা-মা।

আটকের সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস নেতা পবন খেড়া, দলের মুখপাত্র সুপ্রিয়া শ্রীনতে, যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি উদয়ভানু চিবসহ কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী। যদিও প্রায় দুই ঘণ্টা পর সবাইকে মুক্তি দেওয়া হয়।

অঙ্কিতার বাবা-মা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, মেয়ে হত্যার বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। অঙ্কিতার মা জানিয়েছেন, যদি অবস্থান ধর্মঘট করতে না দেওয়া হয়, তাহলে তারা বাড়িতেই অনশন শুরু করবেন।

এদিকে, সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে কংগ্রেস তাদের আটক হওয়ার সমালোচনা করেছে। এতে বলা হয়েছে, ‘ভিআইপি দুষ্মন্ত গৌতমকে বাঁচাতে নরেন্দ্র মোদি সব সীমা অতিক্রম করলেন। ভোর ৪ টায় পুলিশ পাঠিয়ে অঙ্কিতার বাবা-মাকে গ্রেপ্তার করা হল। প্রথমে দুষ্মন্তকে রাজ্যপাল করা হল। আর এখন মেয়ের জন্য বিচার চাওয়া বাবা-মায়ের কণ্ঠরোধ করা হল। লজ্জাজনক।’

চার বছর আগে ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর উত্তরাখণ্ডে খুন হন অঙ্কিতা। ১৯ বছর বয়সী অঙ্কিতা হৃষীকেশের একটি রিসোর্টে রিসেপশনিস্ট হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। ২০ দিনের মাথায় নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। ছয়দিন পর একটি খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, ওই রিসোর্টে অঙ্কিতাকে ‘যৌন কাজে’ বাধ্য করা হত। ‘ভিআইপি’র সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক তৈরির জন্য তাকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। রাজি না-হওয়ায় তাকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। হৃষীকেশের ওই রিসোর্টের ম্যানেজার ছিলেন সাবেক বিজেপি নেতা বিনোদ আর্যের ছেলে পুলকিত আর্য, যিনি অঙ্কিতাকে খুনের অভিযোগে কারাগারে রয়েছেন।

অঙ্কিতার পরিবার অভিযোগ করেছে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিজেপির সাবেক সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা দলের তফসিলি জাতি মোর্চার সাবেক প্রেসিডেন্ট দুষ্মন্ত গৌতমের যোগসূত্র রয়েছে। তাদের দাবি, তদন্তে যে ‘ভিআইপি’র কথা উঠে এসেছে, অর্থাৎ যার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য অঙ্কিতাকে চাপ দেওয়া হয়েছিল, তিনি এই দুষ্মন্ত। সম্প্রতি সেই দুষ্মন্তই সিকিমের রাজ্যপাল পদে নিযুক্ত হয়েছেন। অঙ্কিতার বাবা-মায়ের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডে সিবিআই তদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত রাজ্যপাল হিসেবে দুষ্মন্তের নিয়োগকে স্থগিত রাখা হোক। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবিপূরণ না হলে পুরো দেশে আন্দোলন শুরু হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অঙ্কিতার বাবা।

দুষ্মন্তকে রাজ্যপাল করার প্রতিবাদে বুধবার সন্ধ্যায় অবস্থানে বসা অঙ্কিতার বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়ান লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তারা ইন্ডিয়া গেটের সামনে প্রতিবাদে যোগ দেন।

সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণে কে কতটা দায়ী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৩ এম


বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণে কে কতটা দায়ী?

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্বন নিঃসরণের হিসাব কিভাবে করা হবে এবং এর দায় কার ওপর বর্তাবে, তা নিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, গবেষক ও পরিবেশকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বিতর্ক জলবায়ু নীতিমালা, করপোরেট বিনিয়োগ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। কার্বন অ্যাকাউন্টিং নিয়ে চলমান এই বিতর্কের ফলে নতুন মতবিরোধের সৃষ্টি হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা চললেও, কে কতটুকু কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী—তা নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়ে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, একটি পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে ব্যবহার ও ভোগের শেষ ধাপ পর্যন্ত সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণের দায় কার ওপর বর্তাবে, তা নিয়ে মতভেদ বেড়ে চলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের অ্যাসপেনে গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে এ বিষয়ে আলোচনা করেন শিক্ষাবিদ, বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা। অ্যাসপেন ইনস্টিটিউটের একটি প্রতিবেদনে সম্মেলনের আলোচনা ও মতবিরোধের চিত্র উঠে এসেছে। কার্বন নিঃসরণ পরিমাপ ও দায় নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়ে চলমান এই বিতর্কের প্রভাব পড়বে জলবায়ু-সংক্রান্ত বিধিবিধান থেকে শুরু করে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর জ্বালানি কেনার সিদ্ধান্ত পর্যন্ত।

কার্বন নিঃসরণ হিসাবের প্রচলিত পদ্ধতি

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে গ্রিনহাউস গ্যাস প্রটোকল (জিএইচজিপি) কার্বন নিঃসরণ হিসাবের অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই পদ্ধতি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কীভাবে তাদের নিঃসরণ পরিমাপ ও প্রতিবেদন করবে, সেই কাঠামো নির্ধারণ করে। জিএইচজিপি অনুযায়ী, কার্বন নিঃসরণকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়।

প্রথমটি স্কোপ-১। কোনো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কার্যক্রম থেকে সরাসরি যে নিঃসরণ ঘটে, তা এর আওতায় পড়ে। দ্বিতীয়টি স্কোপ-২। প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ, তাপ ও শীতলীকরণ সেবা কেনার মাধ্যমে যে পরোক্ষ নিঃসরণের সঙ্গে যুক্ত হয়, তা এখানে হিসাব করা হয়। আর স্কোপ-৩-এর আওতায় পড়ে প্রতিষ্ঠানের পুরো মূল্যশৃঙ্খলের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য পরোক্ষ নিঃসরণ—যেমন কাঁচামাল উৎপাদন, পণ্য পরিবহন ও ভোক্তার হাতে পৌঁছানোর পর পণ্য ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট নিঃসরণ।

এই কাঠামো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছায় কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগকে উৎসাহিত করেছে। বিশেষ করে, নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ কেনার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট হিসাবপদ্ধতি অনুসরণ করার সুযোগ দিয়েছে এটি। ফলে দীর্ঘমেয়াদি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

তবে এই পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি অংশ মনে করে, বর্তমান নিয়মে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। তাদের মতে, নিঃসরণ হিসাবের পদ্ধতিতে অস্পষ্টতা ও একাধিক প্রতিষ্ঠানের একই নিঃসরণের দায় নিজেদের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।

একই নিঃসরণের দায় একাধিক প্রতিষ্ঠানের?

প্রচলিত পদ্ধতির অন্যতম সমালোচনা হলো, এতে একই কার্বন নিঃসরণ একাধিক প্রতিষ্ঠানের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। একে বলা হয় ‘ডাবল কাউন্টিং’ বা দ্বৈত গণনা।

উদাহরণ হিসেবে একটি ভবন নির্মাণের কথা ধরা যাক। ভবন তৈরিতে ব্যবহৃত ইস্পাত উৎপাদনের সময় কার্বন নিঃসরণ হয়। প্রচলিত হিসাবপদ্ধতিতে ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এবং ভবনের মালিক—তিন পক্ষই নিজ নিজ নিঃসরণ হিসাবের আওতায় ওই ইস্পাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিঃসরণকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।

সমালোচকদের মতে, এতে প্রকৃত নিঃসরণের পরিমাণ ও দায় সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তবে বর্তমান ব্যবস্থার সমর্থকেরা বলছেন, একাধিক প্রতিষ্ঠানের হিসাবে একই নিঃসরণ অন্তর্ভুক্ত হওয়া মানেই বায়ুমণ্ডলে নিঃসরণ দ্বিগুণ হওয়া নয়। বরং উৎপাদন ও সরবরাহের বিভিন্ন ধাপে কারা নিঃসরণের সঙ্গে যুক্ত, তা বোঝার সুযোগ তৈরি হয়।

বিকল্প পদ্ধতি ‘ই-লেজার’

প্রচলিত কাঠামোর বিকল্প হিসেবে আলোচনায় এসেছে ‘ই-লেজার’ পদ্ধতি। শিক্ষাবিদদের গবেষণা থেকে উঠে আসা এই ধারণার পক্ষে এখন কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও অবস্থান নিয়েছে।

ই-লেজার পদ্ধতিতে প্রতিটি নিঃসরণকে আলাদাভাবে হিসাব করা হবে। কোনো পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে সরবরাহ ও বিক্রির বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করার সময় সংশ্লিষ্ট কার্বন নিঃসরণের হিসাবও পণ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। অর্থাৎ, প্রতিটি নিঃসরণের জন্য একটি নির্দিষ্ট হিসাব থাকবে এবং পণ্য এক পক্ষ থেকে অন্য পক্ষের কাছে গেলে সেই হিসাবও স্থানান্তরিত হবে।

এই পদ্ধতির সমর্থকদের দাবি, এতে একই নিঃসরণ একাধিকবার গণনার ঝুঁকি কমবে। পাশাপাশি, প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের কার্যক্রমে কোথায় কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব, তা আরও স্পষ্টভাবে শনাক্ত করতে পারবে। পণ্য কেনার সময় সরবরাহকারীদের নিঃসরণ-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করাও সহজ হতে পারে।

তবে এর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ, একটি পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি পক্ষকে এই পদ্ধতিতে অংশ নিতে হবে। সরবরাহশৃঙ্খলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ হিসাবের বাইরে থাকলে পুরো ব্যবস্থার কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তেল কোম্পানি, নাকি ভোক্তা—দায় কার?

কার্বন নিঃসরণের দায় নির্ধারণ নিয়ে সবচেয়ে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে পণ্য ব্যবহারের পর্যায়ে। বিশেষ করে, তেল ও গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রচলিত জিএইচজিপি কাঠামোর স্কোপ-৩ অনুযায়ী, একটি তেল কোম্পানিকে তার বিক্রি করা পেট্রল গ্রাহকেরা ব্যবহার করে যে কার্বন নিঃসরণ করেন, তা-ও হিসাবের আওতায় আনতে হয়। তেল কোম্পানিগুলোর সামগ্রিক কার্বন নিঃসরণের হিসাব বড় হওয়ার পেছনে এটি অন্যতম প্রধান কারণ।

কিন্তু ই-লেজার পদ্ধতিতে পণ্য ব্যবহারের সময় সৃষ্ট নিঃসরণের দায় মূলত সেই পক্ষের ওপর বর্তাবে, যারা জ্বালানি পোড়ায়। অর্থাৎ, তেল কোম্পানির পরিবর্তে গাড়িচালক বা জ্বালানি ব্যবহারকারী ভোক্তার ওপর সরাসরি দায় বেশি পড়তে পারে।

এখানেই বিতর্কের মূল প্রশ্ন। ভোক্তা জ্বালানি ব্যবহার করলেও জ্বালানির বিকল্প, গণপরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধরন কিংবা অবকাঠামো নির্ধারণের মতো বৃহত্তর ব্যবস্থার ওপর তার নিয়ন্ত্রণ সীমিত। ফলে নিঃসরণের দায় ভোক্তার ওপর বেশি করে চাপানো হলে, যেসব প্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকের হাতে ব্যবস্থাগত পরিবর্তনের ক্ষমতা রয়েছে, তাদের দায় তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পেতে পারে—এমন উদ্বেগ রয়েছে।

পরিবর্তনের পক্ষে বড় প্রতিষ্ঠানের সমর্থন

২০২১ সাল থেকে একাধিক গবেষণাপত্রে ই-লেজার পদ্ধতির ধারণা আলোচনায় আসে। পরে ২০২৫ সালে এক্সনমোবিল, ব্ল্যাকরকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এই পদ্ধতির পক্ষে প্রচার চালাতে একটি ব্যবসায়িক জোট গঠনে সমর্থন দেয়।

অন্যদিকে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে জনআলোচনায় আগের মতো গুরুত্ব না পাওয়ায় কিছু প্রতিষ্ঠান কার্বন নিঃসরণ হিসাব ও প্রতিবেদন তৈরিতে প্রয়োজনীয় অর্থ ও জনবল ব্যয় করতে কম আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রচলিত ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি আরো জোরালো হয়েছে।

জিএইচজিপিও এ বিষয়ে পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নতুন প্রধান নির্বাহী নিয়োগের পাশাপাশি বেশ কিছু সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে।

সমঝোতার পথ খুঁজছেন সংশ্লিষ্টরা

অ্যাসপেনের সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনা শেষ হয়েছে একটি সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে। তারা কার্বন নিঃসরণ হিসাবের বিষয়ে অভিন্ন অবস্থান তৈরিতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।

সম্মেলনে কিছু অংশগ্রহণকারী এমন একটি সম্ভাবনার কথাও বলেছেন, যেখানে পণ্যের কার্বন নিঃসরণ অনুসরণে ই-লেজার পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে, আর পুরো প্রতিষ্ঠানের নিঃসরণ হিসাবের জন্য জিএইচজিপির বৃহত্তর কাঠামো বহাল রাখা যেতে পারে।

এতে দুই পদ্ধতির সুবিধা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের সমন্বিত ব্যবস্থা কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত নয়।

জলবায়ু নীতিতে পড়বে বড় প্রভাব

কার্বন নিঃসরণ হিসাবের এই বিতর্ক শুধু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ হিসাবের বিষয় নয়। এর প্রভাব পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের বিধিবিধানেও।

একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলো কোন খাতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগ নেবে, কোন সরবরাহকারীর কাছ থেকে পণ্য কিনবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কতটা বিনিয়োগ করবে—এসব সিদ্ধান্তও প্রভাবিত হতে পারে।

ভবিষ্যতে কার্বন নিঃসরণের দায় কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, তা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার কৌশলকেও প্রভাবিত করবে। নিঃসরণের দায় উৎপাদক, সরবরাহকারী, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ভোক্তার মধ্যে কীভাবে ভাগ হবে, সেই সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে পারে কারা নিঃসরণ কমানোর জন্য সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়বে। তাই কার্বন নিঃসরণ পরিমাপের পদ্ধতি নিয়ে এই আপাতদৃষ্টিতে কারিগরি বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে একটি বড় প্রশ্ন—জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় দায় ও দায়িত্ব কীভাবে ন্যায্যভাবে বণ্টন করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে হামে আক্রান্ত হয়ে স্কুলছাত্রী রাইসা তানিয়ার মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ এম


চট্টগ্রামে হামে আক্রান্ত হয়ে স্কুলছাত্রী রাইসা তানিয়ার মৃত্যু

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভায় হামে আক্রান্ত হয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইসা তানিয়া রাধিকার মৃত্যু ঘটেছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরের দিকে চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

রাধিকা দোহাজারী জামিজুরী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। সে জামিজুরী ঘোড়াপাড়া এলাকার মোহাম্মদ আলীর কন্যা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল তিনটার সময় রাধিকার মৃতদেহ একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আনা হয়। প্রিয় সহপাঠীর নিথর দেহ দেখে শিক্ষার্থীরা কান্নায় ভেঙে পড়ে। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষ্ণু যশা চক্রবর্তী জানান, প্রায় ২০ দিন আগে রাধিকা একবার অসুস্থ হয়েছিল। পরে সুস্থ হয়ে সে বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। এরপর হামে আক্রান্ত হয়ে আবার অসুস্থ হলে তাকে চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।

তিনি আরও বলেন, পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও রাধিকা পারদর্শী ছিল। তার অকাল মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের সকলেই শোকাহত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%