ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

দিল্লিতে বায়ুদূষণে শীর্ষে, আতশবাজিতে পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা


দিল্লিতে বায়ুদূষণে শীর্ষে, আতশবাজিতে পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বায়ুদূষণ একটি ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা আইকিউএয়ার-এর লাইভ র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী, শনিবার সকালে বিশ্বের বৃহত্তম শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় দিল্লি প্রথম স্থানে উঠে এসেছে।

শনিবার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে আইকিউএয়ারের তালিকায় দিল্লির বায়ুমান সূচক (একিউআই) ছিল ৫৮১। একই সময়ে প্রতিবেশী পাকিস্তানের লাহোরের সূচক ছিল ২৮৫। এর মানে হলো, দিল্লির দূষণের মাত্রা লাহোরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

এদিকে, ভারতের কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (সিপিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ১০টায় দিল্লির বায়ুমান সূচক ছিল ৩৬৩, যা ‘খুব খারাপ’ শ্রেণিতে পড়ে।

আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গের শেখ পেয়ার আলী 'জীবিত' প্রমাণে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন

দীপাবলিতে আতশবাজি ও পটকা ফোটানোর কারণে বায়ুদূষণ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, দিল্লি ও আশপাশের এলাকার স্কুলগুলোকে অনলাইন ক্লাস চালানোর নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। পাশাপাশি নাগরিকদের বাড়ি থেকে কাজ করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দীপাবলির আগের আট বছরের মধ্যে দিল্লির বায়ুমান সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় ছিল।

উত্তর ভারতের বিভিন্ন এলাকায় শীতের শুরু থেকেই বায়ুদূষণ একটি নিয়মিত সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এই সময় ঠান্ডা ও ভারী বাতাসের কারণে যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা এবং ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর ধোঁয়া বাতাসে আটকে থাকে। ফলে দূষণের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়।

এটি উল্লেখযোগ্য যে, আইকিউএয়ারের সূচক এবং ভারতের সরকারি বায়ুমান সূচকের পরিমাপ পদ্ধতি এক নয়। তাই এই দুটি সূচকের মান সরাসরি তুলনা করা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন: আইএস দমনে নতুন যৌথ কমিটি গঠন করলো ইরাক, সিরিয়া, জর্ডান ও তুরস্ক

সূত: রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধুপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪০ পি.এম


মধুপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

টাঙ্গাইলের মধুপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দেশাত্মবোধক সংগীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিবসটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল স্থানীয় সংসদ সদস্য ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন এমপি'র। তবে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এম. রতন হায়দার, মধুপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মোতালিব হোসেন এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর লতিফ পান্না।
আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক পটভূমি, তাৎপর্য এবং জাতীয় জীবনে এ দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্য সুসংহত করার ক্ষেত্রে দিবসটির প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও আলোচনা করেন।
এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় সুধীজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশন করা হয়। সংগীতানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সীতাকুণ্ডে কাভার্ড ভ্যানের পেছনে ট্রাকের ধাক্কায় দুইজন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪০ পি.এম


সীতাকুণ্ডে কাভার্ড ভ্যানের পেছনে ট্রাকের ধাক্কায় দুইজন নিহত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে কাভার্ড ভ্যানের পেছনে ট্রাকের ধাক্কায় ট্রাকচালক ও হেলপার নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে উপজেলার পন্থিছিলা বড়ুয়াপাড়া এলাকায়।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ট্রাকচালক মো. ছালেহ আহম্মেদ সেলিম (৪৬), যিনি রংপুরের মাহিগঞ্জের নানছিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং হেলপার মো. সোহরাব (৩৫)।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে রংপুর থেকে চট্টগ্রামের দিকে আসা একটি মালামালবোঝাই ট্রাক সীতাকুণ্ড উপজেলার মহাসড়কে পন্থিছিলা বড়ুয়াপাড়া অতিক্রম করছিল। এ সময়, সামনে থাকা একটি কাভার্ডভ্যান হঠাৎ ব্রেক করলে, পেছনে থাকা ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এই সংঘর্ষে ট্রাকটির সামনের কেবিন দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং চালক ও হেলপার কেবিনের ভেতরে আটকা পড়ে যান।

ঘটনার খবর পেয়ে কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ ও সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করেন। পরে, সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

কুমিরা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক আব্দুল মতিন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও হেলপারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবু নাছের রায়হানের বদলির আদেশে কাঁঠালিয়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, প্রত্যাহারের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাঠালিয়া সংবাদদাতা ফাতিমা আক্তার মিম

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৪ পি.এম


আবু নাছের রায়হানের বদলির আদেশে কাঁঠালিয়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, প্রত্যাহারের দাবি

লকাঠির কাঁঠালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু নাছের রায়হানের আকস্মিক বদলির আদেশে স্থানীয় সাধারণ জনগণের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। মাদক নির্মূল, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সাহসী ভূমিকা রাখা এই পুলিশ কর্মকর্তার বদলি আদেশ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী। অবিলম্বে এই বদলি আদেশ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাঁঠালিয়া থানায় যোগদানের পর থেকেই ওসি মোহাম্মদ আবু নাছের রায়হান জনবান্ধব পুলিশিংয়ের অনন্য নজির স্থাপন করেন। বিশেষ করে উপজেলার প্রধান সমস্যা ‘মাদক’ নির্মূলে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে আপসহীন অভিযান পরিচালনা করেন। তাঁর কঠোর পদক্ষেপ ও সফল অভিযানের ফলে এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে।
মাদক ছাড়াও চোর-ডাকাত সিন্ডিকেট দমন এবং থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তিনি অল্প দিনেই জনগণের আস্থা অর্জন করেন। তাঁর সততা ও কর্মতৎপরতার কারণে এলাকাবাসী পুলিশের ইতিবাচক সেবার সুফল পেতে শুরু করেছিল।
এমন একজন নিষ্ঠাবান ও জনবান্ধব কর্মকর্তার বদলির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো উপজেলাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও সর্বস্তরের জনগণের মতে, কাঁঠালিয়াকে সম্পূর্ণ অপরাধ ও মাদকমুক্ত রাখতে ওসি আবু নাছের রায়হানের মতো কর্মকর্তার এখানে থাকা অত্যন্ত জরুরি। জনস্বার্থ ও এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে এই বদলি আদেশ প্রত্যাহার করে তাঁকে কাঁঠালিয়া থানাতেই বহাল রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণতন্ত্রের ১২ বছরে ব্যাপক ক্ষতি, মোদি সরকারকে সোনিয়ার সমালোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৪ পি.এম


গণতন্ত্রের ১২ বছরে ব্যাপক ক্ষতি, মোদি সরকারকে সোনিয়ার সমালোচনা

ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের গত ১২ বছরের শাসনে দেশের গণতন্ত্র এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের জনগণ এখন এই ক্ষতির বিষয়টি উপলব্ধি করতে শুরু করেছেন এবং তাদের মধ্যে অসন্তোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সম্প্রতি দ্য হিন্দু ইন্টারভিউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সোনিয়া গান্ধী এসব কথা বলেন। ৭৯ বছর বয়সি এই নেত্রী জানান, আগামী ১০ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে তার স্মৃতিকথা "বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ"।

সাক্ষাৎকারে ভারতের রাজনীতিতে কংগ্রেসের একসময়কার একচ্ছত্র আধিপত্য কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন, এ নিয়ে তিনি খুব বেশি হতাশ নন।

সোনিয়া গান্ধী বলেন, ‘গত ১২ বছরে আমাদের দেশ, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই সরকার ক্ষমতা ছাড়ার পরও প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সময় লাগবে। এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোরও বড় ধরনের প্রচেষ্টা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ এখন অসন্তুষ্ট হতে শুরু করেছে এবং ক্ষতির বিষয়টি বুঝতে পারছে। তবে আমি আশাবাদী। আমার বিশ্বাস, দেশের মানুষ আবারও সুশাসন ফিরে আসাকে স্বাগত জানাবে।’

২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতাচ্যুত হলে ভারতের রাজনীতি আবার নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনাভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফিরবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এবং নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে কংগ্রেস। দলটির অভিযোগ, নির্বাচনে ভোট চুরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে তারা।

এ ছাড়া জুলাই মাসে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।

সোনিয়ার বক্তব্যের জবাব বিজেপির

সোনিয়া গান্ধীর গণতন্ত্র নিয়ে মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল। তিনি কংগ্রেস নেত্রীকে ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

মেঘওয়াল বলেন, ‘সাক্ষাৎকারে গণতন্ত্র নিয়ে বেশ কিছু মন্তব্য করেছেন সোনিয়াজি। আমি তাকে প্রশ্ন করতে চাই, ১৯৭৫ সালের কথা কি তার মনে নেই? তখন গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছিল। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হাজারো জ্যেষ্ঠ নেতাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। সাংবাদিকদের কণ্ঠও রোধ করা হয়েছিল। সেই সময়ের কথাও তার মনে রাখা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, গত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করেছেন। তার নেতৃত্বেই ভারত বিশ্বজুড়ে ‘গণতন্ত্রের জননী’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে বলে দাবি করেন এই মন্ত্রী।

কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী গিরিরাজ সিংও সোনিয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ভারতের নয়টি রাজ্যে গত ৪০ বছর ধরে কংগ্রেস ক্ষমতায় নেই। তার দাবি, এই সেই কংগ্রেস, যারা একসময় জরুরি অবস্থা জারি করে জনগণের কণ্ঠ রোধ করেছিল।

জরুরি অবস্থা নিয়ে যা বললেন সোনিয়া

সাক্ষাৎকারে ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার পটভূমি নিয়েও কথা বলেন সোনিয়া গান্ধী। তিনি বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দ্রুত অবনতিশীল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

সোনিয়ার ভাষায়, সে সময় বিভিন্ন স্থানে সহিংস বিক্ষোভ চলছিল। সরকারি কার্যালয় ও গণপরিবহনে আগুন দেওয়া হচ্ছিল। ব্যাপক বিশৃঙ্খলার পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ অমান্য করার আহ্বানও জানানো হচ্ছিল।

তবে জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই না গেয়ে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এ পরিস্থিতির সমাধান হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘পেছন ফিরে তাকালে আমরা বিষয়গুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে পারি। ভুলে গেলে চলবে না, ইন্দিরা গান্ধী নিজেই পরিস্থিতি উপলব্ধি করেছিলেন এবং ১৯৭৭ সালের মার্চে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরে জরুরি অবস্থার সময় অতিরিক্ত কঠোরতার জন্য তিনি প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়েছিলেন।’

সোনিয়া স্বীকার করেন, রাজনীতিতে কখনো কখনো সমঝোতা করতে হয়। তবে বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সঙ্গে তার দল কখনো কোনো সমঝোতা করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না বলে জানান তিনি।

নির্বাচনে সমান সুযোগ পাচ্ছে না বিরোধীরা: সোনিয়া

২০১৪, ২০১৯ ও ২০২৪ সালের পরপর তিনটি লোকসভা নির্বাচনে বড় পরাজয়ের পর কংগ্রেস এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। দলটির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের ভেতরেও এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অধীনে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি ১০ মাসে ১৪ বার আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন।

এই প্রতিবেদনকে সামনে রেখে কংগ্রেসের দাবি, দেশে অনেক নির্বাচনেই কারচুপি হয়েছে। এ কারণে দলটি আবার ব্যালট পেপারে ভোট গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে।

সোনিয়া গান্ধীর অভিযোগ, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে সমান সুযোগ পাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘আমি খুব বেশি হতাশ নই। কারণ, এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো সমান সুযোগ পায়নি। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশন, মূলধারার গণমাধ্যম, বিপুল অর্থের ব্যবহার এবং ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে কাজে লাগানোর মাধ্যমে তারা নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে।’

তবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও কংগ্রেস লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

সোনিয়া বলেন, ‘এত চাপের মধ্যেও টিকে থাকার সক্ষমতা দেখিয়েছে একমাত্র কংগ্রেস। আমাদের নেতা-কর্মীরা অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। নানা ধরনের হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েও দেশের প্রতিটি গ্রাম ও জেলায় কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা সংবিধানে উল্লেখিত মূল্যবোধ রক্ষায় লড়াই করছেন।’

তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে অনেক নির্বাচনে কারচুপির বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে এবং মানুষ এখন এ বিষয়ে আগের চেয়ে বেশি সচেতন।

সোনিয়া জানান, কংগ্রেস একই মনোভাবাপন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কাজ করছে এবং দিন দিন দলটির নির্বাচনী সম্ভাবনা বাড়ছে।

মোদির রাজনৈতিক উত্থান নিয়েও মন্তব্য

সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক উত্থান নিয়েও কথা বলেন সোনিয়া গান্ধী।

মোদির চা বিক্রেতা থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গল্প তার প্রচার দল কিছুটা বাড়িয়ে প্রচার করেছে কিনা, এমন প্রশ্নে সোনিয়া বলেন, আরএসএসের ভেতরে একজন সুবিধাবঞ্চিত পরিবার থেকে উঠে এসে ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য মোদিকে অবশ্যই কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এটা সত্য যে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি আদর্শিক পরিবেশ থেকে উঠে এসেছেন। তবে রাজনীতিতে সফল হওয়ার অনেক পথ রয়েছে। কংগ্রেসের মধ্যেও এমন উদাহরণ আছে। যেমন—ড. মনমোহন সিং ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। আরএসএসের কাছ থেকে আমাদের শেখার মতো তেমন কিছু আছে বলে আমি মনে করি না।’

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%