ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৮:২৩ পি.এম
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি পূজা উদ্যাপন কমিটির সদস্য ও আয়োজকদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বরিশাল রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. জুলফিকার আলী হায়দার বলেন, মুসলমান ও হিন্দু সম্প্রদায় পাশাপাশি বসবাস করছি। আমাদের আবহমানকালের সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি কেউ যাতে নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এই সম্প্রীতি বিনষ্টের কোনো ষড়যন্ত্র বা অপচেষ্টা সফল হবে না।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের মেদিরাবাদ তারাবুনিয়া স্বর্গীয় শ্রীনাথ মৃধা সার্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দির পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিআইজি মো. জুলফিকার আলী হায়দার বলেন, আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে গত এক সপ্তাহ ধরেই দুর্গাপূজা ঘিরে প্রস্তুতি, চলাচল ও নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করেছি। তবে পুলিশের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা সম্ভব, যদি আপনারা নিজেরাও সজাগ থাকেন। আপনাদের চোখ-কান খোলা রেখে নজরদারি করতে হবে, যাতে দুষ্কৃতকারীরা কোনো সুযোগ না পায়। পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় অপরিচিত ব্যক্তিদের চলাফেরা এবং সন্দেহজনক আচরণের ওপর নজর রাখতে হবে। কোনো ব্যক্তিকে সন্দেহজনক মনে হলে দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে জানাতে হবে।
তিনি বলেন, পূজামণ্ডপে ভিড়ের মধ্যে কিছু অসাধু ব্যক্তি মানুষের গায়ে হাত দেওয়া, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া ও মানিব্যাগ চুরির মতো অপরাধ করার চেষ্টা করতে পারে। এ ধরনের ঘটনা এড়াতে আয়োজক কমিটিকে ভিড়ের মধ্যে সতর্কতামূলক নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।
দুর্গাপূজার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, প্রতিমা নির্মাণের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও ভাণ্ডারিয়ায় এখন পর্যন্ত এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ জন্য তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আয়োজক কমিটিগুলোর উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
আরো বক্তব্য রাখেন পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান, পিরোজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসরিন জাহান, মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী, ভাণ্ডারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান, পূজামণ্ডপের সভাপতি রমনী মৃধা ও সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিত হালদার পমূখ। এ সময় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মেদিরাবাদ তারাবুনীয় সার্বজননীন দূর্গাপূজা মণ্ডপের সভাপতি রমনী মৃধা বলেন, প্রবিছরের ন্যায় আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ৬দিন ব্যাপী শারদীয় দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এ দুর্গা মণ্ডপে শত বছর ধরে অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবার প্রশাসনের সার্বিক সহায়তায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পূজা আয়োজনে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
মোঃ তরিকুল ইসলাম
ভাণ্ডারিয়া, পিরোজপুর।
০১৭১০০২০৩৮২
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা। তবে আন্দোলনকারীদের নিয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজার মন্তব্য, ‘যাঁরা মিছিল করেছেন, তাঁরা না বুঝে করেছেন।’ তাঁর এ বক্তব্যকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে নাগেশ্বরী কলেজ মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক গোলাম রসুল রাজা ও সদস্যসচিব আলহাজ মোখলেছুর রহমানের অনিয়মের কারণে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এ সময় তাঁরা এসব নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আতিকুর রহমান লেবু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম আল আমিন, সাবেক সভাপতি নুরনবী দুলাল, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক নুরুজ্জামান হক, পৌর যুবদলের সদস্যসচিব নুরুজ্জামান এবং পৌর যুবদলের সহসভাপতি মিজানুর রহমান মিজানসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ভুলে যাননি। অর্থের বিনিময়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, নাগেশ্বরী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১৫ জন সার ডিলারের মধ্যে ১০ জনকে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য এবং উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মোখলেছুর রহমান ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজার অনিয়মের কারণে এসব নিয়োগ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজা বলেন, ‘যাঁরা মিছিল করেছেন, তাঁরা না বুঝে করেছেন। যাঁরা যোগ্য, তাঁরাই ডিলারশিপ পেয়েছেন। এখানে বিএনপির কোনো হাত নেই। বিএনপি কোথাও হস্তক্ষেপও করেনি।’
একই দলের নেতাকর্মীদের সার ডিলার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আন্দোলন এবং দলের আহ্বায়কের ‘না বুঝে করেছেন’ মন্তব্যের মধ্য দিয়ে নাগেশ্বরীর সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের অনেকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় কাঁঠালিয়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও বাস্তবভিত্তিক অগ্নিনির্বাপণ মহড়ার আয়োজন করা হয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি দুর্যোগ সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা। উপজেলা পরিষদের সামনে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মকবুল হোসেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম জামাল। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগপ্রবণ দেশ। কেবল সরকারি উদ্যোগেই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রতিটি পরিবারকে আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে। ঘর থেকেই সচেতনতার অভ্যাস শুরু করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মমিন উদ্দিন বলেন, সময়মতো নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ যোবায়ের হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমি রানী বল, থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু নাছের রায়হান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কে এম জামান এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ আমিনুল ইসলাম।
এ ছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আখতার হোসেন নিজাম মিরবহর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন কবির হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শাহিন হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক মোঃ হাছিব ভুট্টো আকন এবং উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোঃ জয়নাল আবেদীন।
আলোচনা সভা শেষে উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মোঃ খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিসের একটি চৌকস দল বাস্তবভিত্তিক উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ মহড়া প্রদর্শন করে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও উপস্থিত দর্শকদের দুর্যোগকালীন ও অগ্নিকাণ্ডের সময়ে তাৎক্ষণিক করণীয় সম্পর্কে ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগে ব্যাপক অর্থবাণিজ্য, অনিয়ম এবং আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠদের পুনর্বাসনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদে এবং বিতর্কিত নিয়োগ স্থগিতসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় সচেতন জনগণ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর ১টায় শাল্লা পুরাতন উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে সচেতন জনগণের ব্যানার ও উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মো. শহিদ মিয়ার সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন—শাল্লা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তারেক হাসান মুন্না, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এরশাদ মিয়া, শাল্লা কলেজের সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. রাব্বুল মিয়া, মো. সফি মিয়া ও মো. বাবু মিয়াসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শাল্লায় সার ডিলার নিয়োগে কোনো ধরনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়নি। প্রকৃত ও যোগ্য স্বত্বাধিকারীদের বাদ দিয়ে আর্থিক লেনদেন ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বেছে বেছে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে পুনর্বাসনের পাঁতারা চলছে বলে তারা দাবি করেন।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, "উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে বিশেষ একটি গোষ্ঠীর স্বার্থ সংরক্ষণে ব্যস্ত রয়েছেন। সরকারি প্রশাসনের কাজ জনগণের সেবা নিশ্চিত করা, কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দেওয়া নয়।"
এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশপত্র (ডিও লেটার) প্রদান নিয়েও নানা প্রশ্ন তোলেন আন্দোলনকারীরা। আওয়ামী লীগের সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা কীভাবে সংসদ সদস্যের ডিও লেটার পেলেন এবং এর পেছনে কাদের মদদ বা কী পরিমাণ অর্থের লেনদেন রয়েছে—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "কার ইশারায় এবং কাদের স্বার্থে এই বিতর্কিত নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তা আমরা উদঘাটন করব। কোনো অনিয়ম বা রাজনৈতিক প্রভাবের নিয়োগ সাধারণ জনগণ মেনে নেবে না।"
তারা অবিলম্বে এই বিতর্কিত নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন করে প্রকৃত যোগ্যদের মাঝে ডিলারশিপ বিতরণের দাবি জানান। একইসাথে বিতর্কিত ইউএনও পিয়াস চন্দ্র দাসকে শাল্লা থেকে অপসারণের দাবি তুলে বলেন, "অবিলম্বে এই ইউএনওকে প্রত্যাহার করা না হলে আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি গড়ে তোলা হবে।"
সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থবাণিজ্যের এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাসের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, "আমরা মাঠপর্যায় থেকে শুধু আবেদন ও ফাইল পাঠানোর দায়িত্ব পালন করেছি। যাবতীয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নিয়োগ প্রক্রিয়া মন্ত্রণালয় (কৃষি মন্ত্রণালয়) থেকে সম্পন্ন হয়েছে। এখানে আমাদের নিজস্ব কোনো হাত বা ব্যক্তিগত এখতিয়ার নেই।"
তবে ইউএনওর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে পারেননি স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও আন্দোলনকারীরা। তারা সার ডিলার নিয়োগে অর্থবাণিজ্য ও প্রশাসনিক অনিয়মের উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে চাঞ্চল্যকর শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্না হত্যা মামলায় ফার্মেসির মালিক জিতেশ চন্দ্র গোপকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মরদেহ গুমের চেষ্টার অপরাধে তাঁকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় প্রায় সাড়ে চার বছর আগে সংঘটিত এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মামলায় এ রায় দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) সুনামগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মল্লিক মো. মঈন উদ্দিন সোহেল।
যেভাবে ঘটে মর্মান্তিক ঘটনা
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, নিহত শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্না (৩৫) সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের নারিকেলতলা গ্রামের সৌদিপ্রবাসী ছুরুক মিয়ার স্ত্রী। তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জগন্নাথপুর পৌর শহরের পৌর ভবনের পেছনের একটি কলোনিতে বসবাস করতেন।
২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি ওষুধ কেনার জন্য জগন্নাথপুর পৌর শহরের অভি মেডিকেল হল ফার্মেসিতে যান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ