ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আশ্রিত জীবন থেকে অঢেল বিত্ত: বাংলাবাজারের সবুজের উত্থানের নেপথ্যে চরম বিশ্বাসঘাতকতা ও জালিয়াতি!


আশ্রিত জীবন থেকে অঢেল বিত্ত: বাংলাবাজারের সবুজের উত্থানের নেপথ্যে চরম বিশ্বাসঘাতকতা ও জালিয়াতি!

বরিশালের বাংলাবাজারে ব্যবসায়ী সবুজকে ঘিরে নকল পণ্য, ব্যবসায়িক অনিয়ম ও সম্পদ অর্জন নিয়ে অভিযোগ, কয়েকটি বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত।

একসময় আর্থিকভাবে সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকা সবুজ কীভাবে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সম্পদ ও বিত্ত-বৈভবের মালিক হলেন, তা নিয়ে বরিশাল নগরীর বাংলাবাজার ও সংলগ্ন এলাকায় নানা প্রশ্ন ও আলোচনা রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ এবং প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে ‘তালাশ বিডি’। অনুসন্ধানের প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যবসায়িক লেনদেন, পণ্যের মান, সম্পদ অর্জন এবং আরও কয়েকটি অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের সবকটির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।


অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শৈশবেই পিতাকে হারান সবুজ। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি নানার এক ভাইয়ের আশ্রয়ে বেড়ে ওঠেন বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে।

পরবর্তী সময়ে তার চাচাতো মামা বিপ্লবের স্যানিটারি সামগ্রীর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন সবুজ। দীর্ঘ সময় তিনি ওই ব্যবসার বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য।

তবে একপর্যায়ে ব্যবসার হিসাব-নিকাশ ও মালামাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।


স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যবসার জমা-খরচের হিসাব এবং কিছু মালামালের বিষয়ে প্রশ্ন ওঠার পর সবুজ ও তার মামা বিপ্লবের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

এ নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে অভিযোগও করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে সবুজকে ওই ব্যবসা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

তবে ওই সময়ের ঘটনাগুলো সম্পর্কে অভিযুক্ত পক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য এই প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে ইলেকট্রিক পণ্যের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সবুজ কীভাবে অল্প সময়ে উল্লেখযোগ্য সম্পদের মালিক হলেন, এ বিষয়টি নিয়েই স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

বাংলাবাজার এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, পুরান ঢাকার নবাবপুর থেকে নিম্নমানের বা নামসর্বস্ব ব্র্যান্ডের কিছু ইলেকট্রিক পণ্য সংগ্রহ করে সেগুলো বরিশালের বাজারে বিক্রি করা হয়।

তাদের আরও অভিযোগ, কিছু পণ্য ক্রেতাদের কাছে মূল বা উন্নতমানের পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে এসব পণ্য প্রকৃতপক্ষে নকল বা ভেজাল কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পণ্যের নমুনা পরীক্ষা এবং প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে ‘তালাশ বিডি’র অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।


‘তালাশ বিডি’র অনুসন্ধানী টিম সবুজের ব্যবসা, সম্পদ এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে।

অনুসন্ধানে বরিশালের রূপাতলী ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট সংলগ্ন এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট কেনার তথ্য পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। একইসঙ্গে ওই এলাকায় জমি বা অন্যান্য সম্পদ ক্রয়ের বিষয়েও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

এসব সম্পদ সবুজের নিজ নামে, নাকি অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে এবং এগুলোর অর্থের উৎস কী, তা নিশ্চিত করতে দলিলপত্র, রেজিস্ট্রি ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ, আতঙ্কে এলাকাবাসী


সবুজের ইলেকট্রিক মালামাল সংরক্ষণের একটি গোডাউনকে ঘিরেও একটি গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

একটি বিশেষ সূত্রের দাবি, ওই গোডাউনকে ব্যবহার করে গোপনে মাদকের চালান সংক্রান্ত লেনদেন করা হয়ে থাকে।

তবে এই অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এখনো ‘তালাশ বিডি’র হাতে আসেনি। ফলে বিষয়টিকে এই মুহূর্তে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না।

অভিযোগটির সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট স্থান, সময়, ব্যক্তি ও নথিপত্র সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

## *অভিযোগের বিষয়ে সবুজের বক্তব্য*

প্রতিবেদন প্রকাশের আগে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত সবুজের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি কোনো সাড়া দেননি।

তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

## *যেসব বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে*

সবুজের অল্প সময়ে সম্পদ বৃদ্ধির উৎস, ইলেকট্রিক পণ্যের প্রকৃত মান ও উৎস, নিম্নমানের বা নকল পণ্য আসল পণ্য হিসেবে বিক্রির অভিযোগ, ব্যবসায়িক লেনদেন ও হিসাব-নিকাশ নিয়ে পূর্বের বিরোধ এবং রূপাতলী ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট সংলগ্ন এলাকায় জমি ও ফ্ল্যাট কেনার তথ্য যাচাই করছে ‘তালাশ বিডি’।

একইসঙ্গে এসব সম্পদের মালিকানা ও অর্থের উৎস, গোডাউনকে ঘিরে ওঠা মাদকসংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা এবং এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উপরোক্ত বিষয়গুলোর কোনোটি এখনো আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করছে না ‘তালাশ বিডি’। অভিযোগ, নথি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য যাচাই করেই অনুসন্ধান এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী পর্বে আরও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।

তালাশ বিডির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তৃতীয় পর্ব আসছে খুব শিগগিরই…

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুয়েতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জরুরি নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:২৪ এম


কুয়েতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জরুরি নির্দেশনা

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ দূতাবাস দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশনা প্রদান করেছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) তারিখে কাউন্সেলর ও দূতালয় প্রধান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের স্বাক্ষরিত একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে কুয়েতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে, দেশটিতে বসবাসরত সকল বাংলাদেশি নাগরিককে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সকলকে সামরিক স্থাপনার আশপাশ থেকে দূরে থাকার জন্যও আহ্বান জানানো হয়েছে।

এছাড়া, কুয়েতের আইন মেনে চলার পাশাপাশি দেশটির সরকারের দেওয়া নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে, ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার কোনো ছবি বা ভিডিও ধারণ না করার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে।

দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি-সংক্রান্ত কোনো ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড না করার জন্য প্রবাসীদের অনুরোধ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারী ক্রিকেটে সর্বকালের সর্বোচ্চ রান এখন স্মৃতি মান্ধানার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:২৪ এম


নারী ক্রিকেটে সর্বকালের সর্বোচ্চ রান এখন স্মৃতি মান্ধানার

ভারতের স্মৃতি মান্ধানা, মিতালি রাজকে অতিক্রম করে নারী ক্রিকেটে সব ফরম্যাটে সর্বকালের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। এই কীর্তি গড়ার জন্য তিনি দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নারী এশিয়া কাপ ২০২৬-এর ‘গ্রুপ এ’-এর ম্যাচে হংকংয়ের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিলেন। ৩০ বছর বয়সী এই বাঁহাতি ব্যাটার তার ৩০৩তম আন্তর্জাতিক ইনিংসে মিতালি রাজের ১০,৮৬৮ রানের রেকর্ডকে অতিক্রম করেন। নিউ জিল্যান্ডের সুজি বেটসকে (১০,৭৪০) পিছনে ফেলে, এখন তিনি নারী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের অধিকারী। মিতালি রাজ, যিনি চার বছর আগে ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন, তার সামনে শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধারের কোনো সুযোগ নেই।

হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচে, শেষ ওভারে রানআউট হওয়ার আগে, মান্ধানা ৬৪ বল মোকাবিলা করে ১৪টি চার এবং ৭টি ছক্কা হাঁকিয়ে ১২৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস উপহার দেন। এটি ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৮তম শতক। তার অসাধারণ ব্যাটিংয়ের ফলে ভারত ৫ উইকেটে ১৯৩ রানের সংগ্রহ গড়ে।

এই শতকটি অর্জনের মাধ্যমে, মান্ধানা নারী ক্রিকেটে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির রেকর্ডও নিজের নামে করেছেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক মেগ ল্যানিংয়ের ১৭টি শতককে অতিক্রম করেছেন। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দুটি শতক করার কীর্তি গড়ার মাধ্যমে তিনি একমাত্র ভারতীয় নারী ব্যাটার হিসেবে এই সাফল্য অর্জন করেছেন।

এই দিনে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মান্ধানা তার ৯৩তম পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেন। ফলে, তিনি মিতালি রাজের সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বরেকর্ডে নাম লেখান। তবে নারী টি-টোয়েন্টিতে ৩৭টি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস নিয়ে তিনি এককভাবে শীর্ষে অবস্থান করছেন। এই তালিকায় ৩৩টি ইনিংস নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বেথ মুনি।

মান্ধানার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ক্যারিয়ারও অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ৯ টেস্টে ৫২.৫৩ গড়ে তার সংগ্রহ ৭৮৮ রান। ওয়ানডেতে ৪৭.৮৮ গড়ে তার রান ৫,৪১১। আর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১২৬.৫৫ স্ট্রাইক রেটে তার রান ৪,৬৮১।

নারী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শীর্ষ পাঁচ রান সংগ্রাহক:

নারী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ শতক:

নারী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস:

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আশুগঞ্জে পাঁচ দশক ধরে সংরক্ষিত জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত জিপ, এখনো সচল ইঞ্জিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শরীফ উদ্দিন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:২৬ এম


আশুগঞ্জে পাঁচ দশক ধরে সংরক্ষিত জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত জিপ, এখনো সচল ইঞ্জিন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানা প্রাঙ্গণে প্রায় পাঁচ দশক ধরে একটি পুরোনো জিপ গাড়ি সংরক্ষিত রয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে এই গাড়িটি সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত যান হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও গাড়িটির ইঞ্জিন এখনো সচল অবস্থায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, দেশের কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে সারের চাহিদা পূরণ এবং সার উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে আশুগঞ্জে সার কারখানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আশুগঞ্জ সফর করে কারখানার কার্যক্রম ও অগ্রগতি পরিদর্শন করেন।

১৯৭৭ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি পরিচালিত হয়। এর অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার সোনারামপুর এলাকায়ও খাল খনন করা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই কর্মসূচির অগ্রগতি পরিদর্শনে জিয়াউর রহমান যে জিপ গাড়ি ব্যবহার করেছিলেন, সেটিই বর্তমানে আশুগঞ্জ সার কারখানা প্রাঙ্গণে সংরক্ষিত রয়েছে।

সময়ের পরিক্রমায় জিপটি এখন একটি ঐতিহাসিক স্মারকে পরিণত হয়েছে। পুরোনো এই যানটি দেশের কৃষি, শিল্প ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের স্মৃতিও বহন করছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

গাড়িটির বর্তমান চালক আলমগীর মিয়া জানান, তার বাবা মো. জাহাঙ্গীর মিয়া দীর্ঘ ২৬ বছর এই গাড়ি চালিয়েছেন। তিনি নিজেও গত ২২ বছর ধরে গাড়িটির চালকের দায়িত্ব পালন করছেন। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গাড়িটির ইঞ্জিন সচল আছে কি না, তা পরীক্ষা করতে মাঝে মাঝে এটি চালানো হয়।

আলমগীর মিয়া বলেন, “গাড়িটির ইঞ্জিন এখনো সচল আছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মাঝে মাঝে গাড়িটি চালিয়ে পরীক্ষা করা হয়। এটি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত হওয়ায় আমরা যত্ন করে সংরক্ষণ করে আসছি।”

আশুগঞ্জ সার কারখানা শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু কাউসার বলেন, ইতিহাসের সাক্ষী এই পুরোনো জিপ গাড়িটি এখনো কারখানা প্রাঙ্গণে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

আশুগঞ্জ সার কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, জিয়াউর রহমান আশুগঞ্জের সোনারামপুরে খাল খনন কার্যক্রম পরিদর্শনে এই গাড়িতে করে গিয়েছিলেন। এ সময় একাধিক দেশের রাষ্ট্রদূতসহ তার সফরসঙ্গীরাও গাড়িটিতে ছিলেন বলে জানান তিনি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ঐতিহাসিক এই জিপ গাড়িটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও সর্বসাধারণের জন্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হলে নতুন প্রজন্ম দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘আইকন’ শব্দটির সার্থক বাংলা প্রতিশব্দ উত্তম কুমার: জয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:২৮ এম


‘আইকন’ শব্দটির সার্থক বাংলা প্রতিশব্দ উত্তম কুমার: জয়া

বাঙালির আবেগের সঙ্গে একটি নাম আজও গভীরভাবে যুক্ত রয়েছে—সেটি হল মহানায়ক উত্তম কুমার। পঞ্চাশের দশক থেকে বাংলা সিনেমার দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখা এই কিংবদন্তি অভিনেতা কোটি মানুষের হৃদয়ে আজও বেঁচে আছেন। দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান মহানায়কের জন্মশতবর্ষে তাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

উত্তম কুমারের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জয়া একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি তাকে সত্যিকার অর্থে একজন ‘আইকন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

জয়া লিখেছেন, ‘আইকন’ শব্দটির যদি কোনো সার্থক বাংলা প্রতিশব্দ খুঁজতে হয়, তবে সেই শব্দ বা নামটি অবশ্যই উত্তম কুমার। একশ বছর পরেও বাংলা সিনেমায় তার মতো উজ্জ্বল সর্বগ্রাসী উপস্থিতি নজিরবিহীন।

জয়া মনে করেন, উত্তম কুমার শুধু একজন অভিনেতা বা নায়ক ছিলেন না। তার ভাষায়, একজন শিল্পীর যে বহুমাত্রিক সত্তা, তারই এক অনন্য সমন্বয় তার ব্যক্তিত্বে বিদ্যমান। পর্দায় তার অভিনয় যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করেছে, পর্দার বাইরেও তার ব্যক্তিত্ব তৈরি করেছে এক স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক অভিঘাত।

শুধু জনপ্রিয়তা দিয়ে উত্তম কুমারের প্রভাব ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেছেন জয়া। তিনি লিখেছেন, জনপ্রিয়তা তাকে মহানায়ক করেছে; কিন্তু শুধুমাত্র জনপ্রিয়তা তার পরিচয়ের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা নয়। তিনি বাঙালির মনের নায়ক; এমন এক প্রতীক, যার সঙ্গে বাঙালির পুরুষত্ব, ব্যক্তিত্ব, সৌন্দর্য এবং আত্মবিশ্বাসের একটি বিশেষ আবেগ আজও জড়িয়ে আছে।

কালজয়ী এই অভিনেতার প্রভাব নিয়ে জয়া আরও লিখেছেন, সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, বাংলা সিনেমার ভাষাও বদলেছে। কিন্তু উত্তম কুমার নির্মিত সেই মিথ এখনো অমলিন।

সবশেষে মহানায়কের জন্মশতবর্ষে শ্রদ্ধা জানিয়ে জয়া বলেন, ভালোবাসা ও নিরন্তর মুগ্ধতার এই ঋণ কখনো ফুরোনোর নয়।

উল্লেখ্য, উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে কলকাতায় নানা আয়োজনের মাধ্যমে তাকে স্মরণ করা হচ্ছে। একইভাবে বাংলাদেশেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানায়ককে স্মরণ করছেন সাধারণ দর্শক ও তারকারা। দুই বাংলার মানুষের কাছে উত্তম কুমারের জনপ্রিয়তা যে সময়ের সঙ্গে কমেনি, জন্মশতবর্ষের আয়োজনগুলোতেই তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%