ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শাহজালাল বিমানবন্দরে ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকার স্বর্ণালংকারসহ তিনজন আটক


শাহজালাল বিমানবন্দরে ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকার স্বর্ণালংকারসহ তিনজন আটক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১ কোটি ৩৬ লাখ ৮৬ হাজার টাকার মূল্যমানের ৮৬১ দশমিক ৮ গ্রাম স্বর্ণালংকারসহ তিনজনকে আটক করেছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।

আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— মো. নাসির মোল্লা (৪০), সোহাগ শেখ (২৪) এবং মো. হাছান মিয়া (২৩)।

এপিবিএন সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতের বেলায় বিমানবন্দরের গোলচত্বরসংলগ্ন উত্তর পাশের ফুটপাতে ওই তিনজনকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। পুলিশ উপস্থিতি টের পেয়ে তারা সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করলে এপিবিএনের সদস্যরা তাদের আটক করেন।

আরও পড়ুন: জুলাই একদিনে সংঘটিত হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

পরে তাদের শরীর তল্লাশি করে মোট ৮৬১ দশমিক ৮ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত স্বর্ণালংকারগুলো ২১ ও ২২ ক্যারেটের। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৩৬ লাখ ৮৬ হাজার ১৬০ টাকা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানান, বিভিন্ন দেশ থেকে অজ্ঞাতনামা যাত্রীদের মাধ্যমে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে এসব স্বর্ণালংকার বাংলাদেশে আনা হয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত বলেও প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় ১১ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রেজাউল কবির বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তা বিষয়ে এপিবিএন আপসহীন। চোরাচালান প্রতিরোধ ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তারা সক্রিয় রয়েছে। স্বর্ণ ও মাদক চোরাচালানের অপতৎপরতা রোধে এয়ারপোর্ট এপিবিএনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন: ঢাকায় ২৪ ঘণ্টার অভিযানে পুলিশের হাতে ৪৮৪ গ্রেপ্তার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে কোস্টগার্ডের অভিযানে ৭০০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৬ পি.এম


চট্টগ্রামে কোস্টগার্ডের অভিযানে ৭০০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ

বাংলাদেশ কোস্টগার্ড মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত থাকা ৭০০ বস্তা ইউরিয়া সারসহ তিনটি ট্রাক জব্দ করেছে। এই ঘটনায় দুজন পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে সীতাকুন্ড থানার বাঁশবাড়িয়া এলাকা থেকে এই সারগুলি জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে, জব্দকৃত সারগুলো ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় সন্দ্বীপের একটি ডিলারের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার বিএন সাব্বির আলম সুজনের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।

কোস্টগার্ড জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে সীতাকুন্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ঘাট এলাকায় ভাটিয়ারী স্টেশন কোস্টগার্ড অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় অবৈধভাবে সাগরপথে মিয়ানমারে পাচারের প্রস্তুতিকালে তিনটি ট্রাক থেকে কার্গো বোটে রাসায়নিক ইউরিয়া সার তোলার সময় দুজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। অভিযানে ৭০০ বস্তা সার জব্দ করা হয়।

চট্টগ্রাম কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার বিএন সাব্বির আলম সুজন বলেন, জব্দ করা ইউরিয়া সার, পাচারকাজে ব্যবহৃত ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সারগুলো নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশি মালিকের টানে নবীনগরে সৌদি সিইও, সৃষ্টি হলো উৎসুক জনতার ভিড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৬ পি.এম


বাংলাদেশি মালিকের টানে নবীনগরে সৌদি সিইও, সৃষ্টি হলো উৎসুক জনতার ভিড়

হেলিকপ্টারে চড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের প্রত্যন্ত গ্রামে এসে সৌদি আরবের নাগরিক ও ব্যবসায়ী মুহাম্মদ মোবারক আলকাহতানি তার প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারের বাড়িতে উপস্থিত হয়েছেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের দামলা গ্রামে তার আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়। সকাল থেকেই তাকে একনজর দেখার জন্য মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে।

মুহাম্মদ মোবারক আলকাহতানি সৌদি আরবের নাগরিক এবং কাউছার মিডলইস্ট কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। তিনি শুক্রবার সকালে হেলিকপ্টারে করে দামলা গ্রামে পৌঁছান এবং পরে কাউছার মিডলইস্ট কোম্পানির কর্ণধার মো. কাউছার মিয়ার বাড়িতে যান।

প্রত্যন্ত একটি গ্রামের বাড়ির কাছে হেলিকপ্টার অবতরণের খবর দ্রুত আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিভিন্ন বয়সের মানুষ সেখানে জড়ো হতে শুরু করেন। স্থানীয় নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সৌদি অতিথিকে দেখতে ভিড় করেন। অনেকেই স্মৃতি ধরে রাখতে মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সৌদি আরবের সঙ্গে এ এলাকার অনেক মানুষের কর্মসূত্রে যোগাযোগ রয়েছে, তবে একজন সৌদি নাগরিককে সরাসরি হেলিকপ্টারে করে গ্রামের বাড়িতে আসতে দেখা তাদের কাছে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। এই কারণেই বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়।

রতনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুন সরকার বলেন, "সৌদি আরবের একজন ব্যবসায়ী ও এলাকার একজন মানুষের ব্যবসায়িক সহযোগী হেলিকপ্টারে করে দামলা গ্রামে এসেছেন, বিষয়টি স্থানীয় মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আনন্দ ও কৌতূহল তৈরি করেছে।" তার আগমনকে ঘিরে গ্রামের মানুষের মধ্যে উৎসাহ দেখা দিয়েছে।

কাউছার মিডলইস্ট কোম্পানির কর্ণধার মো. কাউছার মিয়া জানান, সৌদি কফিল মুহাম্মদ মোবারক আলকাহতানির সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক ও কর্মসম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কের কারণেই তিনি বাংলাদেশে এসে তার গ্রামের বাড়িতে সময় কাটাতে এসেছেন। একজন সৌদি নাগরিকের নিজ গ্রামের বাড়িতে আগমন তার জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয় বলেও তিনি জানান।

বাংলাদেশে এসে অনুভূতি জানতে চাইলে মুহাম্মদ মোবারক আলকাহতানি বলেন, "বাংলাদেশে এসে আমার খুব ভালো লাগছে। এখানকার মানুষ খুবই অতিথিপরায়ণ। আমি বেশ আনন্দিত ও উৎফুল্ল।"

একজন বিদেশি ব্যবসায়ীর সঙ্গে গ্রামের মানুষের এমন সরাসরি যোগাযোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন স্থানীয়রা। তার আকস্মিক ও ব্যতিক্রমী আগমনকে ঘিরে শুক্রবার দিনভর দামলা গ্রামজুড়ে আলোচনা ও কৌতূহল ছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুমের শিকার ছাত্রদল নেতার ছেলের জন্য প্রধানমন্ত্রী বই পাঠালেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৭ পি.এম


গুমের শিকার ছাত্রদল নেতার ছেলের জন্য প্রধানমন্ত্রী বই পাঠালেন

ঢাকার দারুসসালাম থানা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মফিজুল ইসলাম রাশেদ ২০১৩ সালের ৪ এপ্রিল গুমের শিকার হন। তার ছোট ছেলে রামীমুল ইসলাম রিফাদ বাবার অপেক্ষায় অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠছে।

রিফাদের মা রুমা বেগম, যিনি স্বামীর গুমের বিচারের জন্য ছোটাছুটি করছিলেন, ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে মোহাম্মদপুরে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। মায়ের মৃত্যুর পর সাভারের হেমায়েতপুরে তাদের বসতভিটাটুকুও চাচার দখলে চলে যায়। বাবা-মা দুজনকেই হারিয়ে রিফাদ বর্তমানে চাঁদপুরে খালার কাছে থেকে বালিথুবা আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে এবং এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী।

রিফাদের এসএসসি পরীক্ষার জন্য কিছু বই এবং টেস্ট পেপারের প্রয়োজন রয়েছে। রিফাদের বড় ভাই রিমন এই বিষয়টি জানালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন রিফাদের পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় বই তার ভাই রিমনের হাতে পৌঁছে দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সদস্য মাসুদ রানা লিটন, কৃষি প্রশিক্ষণ ইনিস্টিটিউট ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল জলিল, ঢাকা কলেজ ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মিসবাহ, শেকৃবি ছাত্রদল নেতা শোআইব ইসলাম ও ইয়াসির আরাফাত মিরাজ প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সংগঠন সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লংমার্চের মধ্য দিয়ে বড় আন্দোলনের পথ খুঁজছে জামায়াত-এনসিপি?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৭ পি.এম


লংমার্চের মধ্য দিয়ে বড় আন্দোলনের পথ খুঁজছে জামায়াত-এনসিপি?

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পাটির (এনসিপি) ১১ দলীয় ঐক্য জোট ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ এবং পথসভা আয়োজন করেছে। তারা আগামী দুই মাসের মধ্যে আরও তিনটি বিভাগে একই ধরনের কর্মসূচি পরিচালনা করার পরিকল্পনা করেছে। কর্মসূচির শেষে নভেম্বরে ঢাকায় একটি মহাসমাবেশ আয়োজনের কথাও রয়েছে। খবরটি বিবিসির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে লংমার্চের পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জোটের নেতারা ছয় দফা বাস্তবায়নের দাবি তুলে ধরেন।

প্রথম দিনের কর্মসূচিতে এমন মন্তব্য উঠে আসে যে, লংমার্চে যদি বাধা দেওয়া হয় বা দাবিগুলো পূরণ না করা হয়, তাহলে সরকার পতনের একদফা ঘোষণা করা হবে।

ঢাকায় কর্মসূচির শুরুতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে, জোটের অন্যতম শরিক দল এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, "যদি সরকার লংমার্চে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে ‘ছয় দফা এক দফায় পরিণত হবে’।"

অন্যদিকে, লালদিঘীর সমাবেশে এগার দলীয় জোটের প্রধান দল জামায়াতে ইসলামী প্রধান শফিকুর রহমান সরকারকে সতর্ক করেন, বিরোধী দলের আন্দোলন "ঈদের পরের আন্দোলন হবে না।"

সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পূর্বে এই কর্মসূচিকে ইঙ্গিত করে বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে তিনি মন্তব্য করেন, "আমরা দেখলাম, একটি বিশাল গাড়ির লংমার্চ আয়োজন করা হয়েছিল। বাইরে বিভিন্ন মানুষ একটি কথা বলে যে জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে অন্য কিছু করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল কিনা? যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করতে গাড়ির লংমার্চ করা যেত, তাহলে আমরাই সবচেয়ে আগে লংমার্চের আয়োজন করতাম।"

এ ধরনের বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠছে, এ লংমার্চ কর্মসূচির মাধ্যমে বিরোধী দল কি সরকারকে বড় আন্দোলনের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে চায়?

সরকার কেন সন্দেহ করছে?

জামায়াত-এনসিপির কর্মসূচির দিনেই ঢাকায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, দেশে অরাজকতার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, "আমরা খেয়াল করছি কিছু রাজনৈতিক দল, কিছু ব্যক্তি, বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে এবং বিভ্রান্তি তৈরির মাধ্যমে দেশে একটি অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়, অবশ্যই দেশের আইনে বলা আছে কীভাবে অরাজকতাকে কন্ট্রোল করতে হবে।"

পরদিন দলের পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বিরোধী দলের কর্মসূচির সমালোচনা করেন।

কিন্তু সরকারের এমন সমালোচনা বা সন্দেহের কারণ কী? কিংবা বিরোধী দলের কর্মসূচি নিয়েই বা কেন উদ্বিগ্ন? এ বিষয়ে দুটি বিষয় উঠে আসছে।

প্রথমত, সরকার মাত্র ছয় মাস পার করেছে। এর মধ্যেই বিএনপি এই আন্দোলনের যৌক্তিকতা দেখছে না।

দ্বিতীয়ত, কর্মসূচি ঘিরে সম্ভাব্য ‘অস্থিরতা সৃষ্টির তথ্য’ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াতের এ লংমার্চকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ এক ধরনের সুযোগ নিতে চেয়েছিল। এ লংমার্চের মধ্যে ঢুকে তারা এক ধরনের অঘটন ঘটাবে। এখানে সরকারের কাছে তথ্য ছিল। তাই সরকারের পক্ষ থেকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল যাতে করে সরকার পতন কিংবা সরকারকে দায় চাপানোর রাজনীতি কেউ করতে না পারে।

তার মতে, গণভোটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতারণা করে গেছে এবং এর বাইরে আওয়ামী লীগ সরকারের ষোল বছরের যে ‘অব্যবস্থাপনা’ সেটার দায় বিএনপির নয়।

তবে জামায়াত এসবের দায় ‘বিএনপির উপর চাপিয়ে চাপিয়ে লংমার্চ কর্মসূচি করছে’ বলেও তিনি মনে করেন।

‘বড় আন্দোলনের’ পথ তৈরি করছে জামায়াত?

লংমার্চে জামায়াত নেতৃত্বাধীন এগার দলীয় জোট থেকে মূলত ছয়টি দাবি তুলে ধরা হয়েছে।

এগুলো হলো গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাসের সংকট, দুর্নীতি-দলীয়করণ বন্ধ করা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন।

কিন্তু সরকারের ছয় মাস পার হতে না হতেই এসব দাবি সামনে রেখে বড় ধরনের কর্মসূচিকে সন্দেহ করছে বিএনপি।

আবার জামায়াতের কর্মসূচি থেকেও স্পষ্ট যে, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে তারা সরকারকে রাজপথেও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ার পথ তৈরি করতে চায়।

জোটের ঘোষণা অনুযায়ী, পরবর্তী লংমার্চ হবে ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে ১৯ সেপ্টেম্বর। এরপর খুলনায় ১০ অক্টোবর। আর ২৪ অক্টোবর লংমার্চ হবে সিলেটে।

বিভাগীয় শহরে চারটি লংমার্চ শেষে নভেম্বরে ঢাকায় হবে মহাসমাবেশ। সেখান থেকে আসবে পরবর্তী কর্মসূচি বা ঘোষণা।

কিন্তু বিএনপি সরকার ক্ষমতা নেওয়ার মাত্র ছয় মাস হতেই কেন এরকম ধারাবাহিক কর্মসূচিতে যাচ্ছে এগার দলীয় জোট?

জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, সরকার একেবারে প্রথম দিনেই গণভোটের রায়কে অস্বীকার করেছে। যেকোনো সরকারের কিছু সময় যাওয়ার পরে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিষয়গুলো আসে। কিন্তু এই সরকারের ক্ষেত্রে বিষয়টা এমন নয়। তারা একেবারে শুরুর দিনেই যে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ছিল যে, গণভোটের গণরায়কে তারা বাস্তবায়ন করবে- এটাকে তারা অস্বীকার করেছে।

তার মতে, পরিস্থিতিই তাদের আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

অন্যদিকে একইরকম মত দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডারে দুটো ম্যান্ডেটরি টাইম ছিল। সংসদের প্রথম অধিবেশন যেদিন শুরু হবে, তার ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকতে হবে। আপনি ডাকেননি। ছয় মাসের মধ্যে জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন করে সংবিধানে তফশিল অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই সেপ্টেম্বরে সেই ছয় মাসও শেষ হয়ে যাচ্ছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার মনে করেন, সরকার গণভোটের রায় কিংবা জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন তো করছেই না বরং ‘ইচ্ছেমতো চলার’ প্রবণতা তৈরি হয়েছে। যেকোনো আইন পাশ থেকে শুরু করে সবখানেই এটা দেখা যাচ্ছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে আপনি যা ইচ্ছা, তা-ই করে যাবেন, এজন্য তো লোকেরা আপনাদের ভোট দেয়নি। আর আপনি যদি ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে মেজরিটি হন, তাহলে গণভোটে তো প্রায় ৭০ শতাংশ হ্যাঁ ভোটের পক্ষে পড়েছে। সেটা মানবেন না?

আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি বলেন, "এখন এই যে, বলা হচ্ছে মাত্র ছয় মাস হলো, এখন এমন কী হয়েছে! ...কিন্তু এতোগুলো প্রাণের বিনিময়ে যে গণআকাঙ্ক্ষা, আপনি তাকে অস্বীকার করে যাচ্ছেন! এর চেয়ে বড় আর কী হতে পারে?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%