ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

সুদানে আরএসএফের পক্ষে লড়তে ভাড়াটে যোদ্ধা পাঠিয়েছে আমিরাত


সুদানে আরএসএফের পক্ষে লড়তে ভাড়াটে যোদ্ধা পাঠিয়েছে আমিরাত

সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এর হয়ে লড়াই করার জন্য কলম্বিয়ার ভাড়াটে যোদ্ধাদের সুদানে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। জাতিসংঘের তদন্তকারীদের একটি গোপন প্রতিবেদনে এই বিষয়ে অকাট্য প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি জানাচ্ছে, আমিরাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান লিবিয়া, সোমালিয়া ও চাদের মধ্য দিয়ে এসব যোদ্ধাদের সুদানে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। দারফুর অঞ্চলে আরএসএফের সামরিক অভিযানে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে উত্তর দারফুরের রাজধানী এল-ফাশের অবরোধ ও দখলের সময় তাদের সক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে।

গত সপ্তাহে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জমা দেওয়া প্রতিবেদনটি মিডল ইস্ট আই নামক মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের হাতে এসেছে। প্রতিবেদনে গোপনীয়তার বিষয়টি কঠোরভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এটি প্রকাশ করা হবে না।

আরও পড়ুন: গুজরাটে রান্নাঘরের ছুরি দিয়ে সাবেক সেনাসদস্যকে হত্যা, স্ত্রী গ্রেপ্তার

জাতিসংঘের তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, আমিরাতভিত্তিক গ্লোবাল সিকিউরিটি সার্ভিসেস গ্রুপ (জিএসএসজি) কলম্বীয় ভাড়াটে যোদ্ধাদের সুদানে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমিরাত সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। লিবিয়া, সোমালিয়া ও চাদের মধ্য দিয়ে এসব যোদ্ধাদের সুদানে নেওয়া হয়, যেখানে আমিরাত-সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সোমালিয়ার আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল পুন্টল্যান্ডের বোসাসোতে অবস্থিত পুন্টল্যান্ড মেরিটাইম পুলিশ ফোর্সের (পিএমপিএফ) ঘাঁটিটি কলম্বীয় যোদ্ধাদের যাতায়াত ও প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। এই বাহিনীর সঙ্গে আমিরাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

এছাড়া, কলম্বীয় ভাড়াটে যোদ্ধারা দারফুরে আরএসএফের সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে এল-ফাশের অবরোধ ও দখলের সময় তারা সক্রিয় ছিলেন এবং যুদ্ধ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করেছেন। এর মধ্যে ড্রোন পরিচালনা, কামান ব্যবহারে সহায়তা এবং পদাতিক বাহিনীর সঙ্গে অভিযান পরিচালনার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গত বছরের অক্টোবরে ৫০০ দিনের বেশি সময় অবরোধের পর উত্তর দারফুরের রাজধানী এল-ফাশের দখল করে আরএসএফ। অভিযানের সময় আরএসএফের যোদ্ধারা হাজার হাজার বেসামরিক মানুষকে ধর্ষণ, হত্যা ও চাঁদাবাজির শিকার করেছেন বলে ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে রক্ত সংগ্রহ করতে আরএসএফ যোদ্ধারা অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন।

আরও পড়ুন: আরামকো ভবনে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ, সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করেছে

জাতিসংঘের তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, কলম্বীয় যোদ্ধাদের আমিরাতের আবুধাবি, গায়াথি ও আল-ওয়াথবায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সোমালিয়ার পুন্টল্যান্ড অঞ্চলের বোসাসোতে পিএমপিএফের ঘাঁটিতেও তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আমিরাতের সামরিক বাহিনী পিএমপিএফকে অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ ও তদারকি করেছে।

কলম্বীয় ভাড়াটে যোদ্ধাদের পাশাপাশি লিবিয়ায় খলিফা হাফতারের পরিবার ও তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন মিলিশিয়াদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা ব্যবহার করে আরএসএফের কাছে অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, ইথিওপিয়া, চাদ এবং সোমালিয়ার দুটি বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল পুন্টল্যান্ড ও সোমালিল্যান্ডের মধ্য দিয়েও এসব সরঞ্জাম পরিবহন করা হয়েছে। আমিরাতের সঙ্গে পুন্টল্যান্ড ও সোমালিল্যান্ডের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সোমালিল্যান্ডকে ইসরাইল স্বীকৃতি দিয়েছে।

তবে আমিরাত এবং এই সরবরাহ নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষগুলো কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মিডল ইস্ট আই আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করলেও তারা সাড়া দেয়নি। প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত এক চিঠিতে আমিরাত জানিয়েছে, সুদানের সংঘাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো অনিয়মের অভিযোগ তারা প্রত্যাখ্যান করছে। ভাড়াটে যোদ্ধাদের বিষয়ে ওঠা অভিযোগকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে।

আরও পড়ুন: নির্বাচনের ফলাফল বানচালের চেষ্টা করছে নেতানিয়াহুর লিকুদ দল

সুদানের যুদ্ধ ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে চলছে। এই সংঘাতে আরএসএফের বিরুদ্ধে দারফুরে গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে। জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রও দারফুরে গণহত্যা সংঘটনের জন্য আরএসএফকে দায়ী করেছে।

আমিরাতের সুদানের যুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জাতিসংঘের এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময়টি এমন, যখন দেশটির শীর্ষ কূটনীতিকদের একজন লানা নুসেইবেহ জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার প্রচার চালাচ্ছেন। যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত সুদানের রাষ্ট্রদূত বাবিকার আল-সিদ্দিক আল-আমিন বলেছেন, সুদানে আরএসএফকে আমিরাতের সমর্থনের বিষয়টি আড়াল করতে নুসেইবেহর প্রার্থিতা ব্যবহার করা উচিত নয়।

তিনি মন্তব্য করেন, ‘যাদের হাতে সুদানের মানুষের রক্ত লেগে আছে, তাদের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নেতৃত্ব দেওয়া উচিত নয়।’

নুসেইবেহ মহাসচিব নির্বাচিত হলে জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতা বড় ধরনের ধাক্কা খাবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

আরও পড়ুন: টিকটকের অ্যালগরিদম নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুতর আপত্তি

নুসেইবেহ ২০১৩ সালে জাতিসংঘে আমিরাতের প্রথম নারী স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি এ পদে ছিলেন। এ সময়ে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সহসভাপতি, জাতিসংঘ নারী সংস্থার নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি এবং দুইবার নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

আমিরাতের সুদানের যুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও নুসেইবেহ তা অস্বীকার করে আসছেন। সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের মহাসচিব হলে সুদান বিষয়ে নিরপেক্ষ থাকতে পারবেন বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে আরএসএফকে আমিরাতের সমর্থনের অভিযোগ সরাসরি মোকাবিলা করেননি। চলতি সপ্তাহে পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আরএসএফের সংঘটিত নৃশংসতার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং জাতিসংঘের তথ্য অনুসন্ধানকারী সংস্থাগুলোর কাজে তিনি সমর্থন দেবেন।

এদিকে জাতিসংঘের তদন্তকারীদের এ বছরের আরেকটি প্রতিবেদনে আমিরাতের বিরুদ্ধে আরএসএফকে ভাড়াটে যোদ্ধা সরবরাহের অভিযোগ আনা হয়েছিল। ওই যোদ্ধারা এল-ফাশের আক্রমণে অংশ নিয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। জুলাইয়ে নিরাপত্তা পরিষদে তদন্তকারীরা তাদের প্রমাণ উপস্থাপনের পর আমিরাতের জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূত প্রতিবেদনটির ‘গুরুতর ত্রুটিগুলো অবিলম্বে সংশোধনের’ দাবি জানান। আমিরাতের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য বাহরাইন কয়েক মাস ধরে প্রতিবেদনটি আটকে রেখেছে।

গত সেপ্টেম্বরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক উচ্চ মাত্রার নিশ্চয়তার সঙ্গে জানায়, সুদানে আমিরাতের ভূমিকার সমালোচক ও জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের লক্ষ্য করে চালানো একটি প্রভাব বিস্তারকারী তৎপরতার পেছনে আমিরাত রয়েছে।

আরও পড়ুন: ১২ বছর পর লিবিয়ায় দূতাবাস চালু করল মিসর

কলম্বীয় ভাড়াটে যোদ্ধাদের সুদানে পাঠানোর সঙ্গে যুক্ত জিএসএসজি প্রতিষ্ঠানটি নিয়েও নতুন তথ্য সামনে এসেছে। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমিরাতের প্রেসিডেন্সির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে নিজেদের আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রেসিডেন্সিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘পছন্দের নিরাপত্তা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লখনৌগামী ইন্ডিগো বিমানে হাতে লেখা হাইজ্যাকের হুমকির নোটে আতঙ্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০১ পি.এম


লখনৌগামী ইন্ডিগো বিমানে হাতে লেখা হাইজ্যাকের হুমকির নোটে আতঙ্ক

বেঙ্গালুরু থেকে লখনৌগামী বিমানে ছিনতাইয়ের হুমকি সংক্রান্ত হাতে লেখা নোটের কারণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিমানের শৌচালয় থেকে এক যাত্রী নোটটি উদ্ধার করেন।

ইন্ডিগোর ফ্লাইটটি ১৭৮ যাত্রী নিয়ে বেঙ্গালুরু থেকে লখনৌর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। যাত্রা শুরু হওয়ার পরেই বিমানের শৌচালয় থেকে ওই হুমকি দেওয়া নোটটি উদ্ধার করা হয়। নোটটিতে লেখা ছিল, ‘বিমানটি হাইজ্যাক হতে চলেছে ঠিক ৬টা ৩০ মিনিটে। বার্তা অগ্রাহ্য করলে ফল ভোগ করতে হবে।’ পাইলট নোটটি হাতে পাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানিয়ে দেন। এরপর বিমানটি ফিরে যায় বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া বিমানবন্দরে।

অবতরণের পর সব যাত্রীকে নামিয়ে নেওয়া হয় এবং নিরাপত্তা কর্মীরা বিমানটি তল্লাশি করেন। পুলিশ যাত্রীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

এ ধরনের হুমকির ঘটনা নতুন নয়। তবে দিওয়ালি উৎসবের সময়কালে বিমান ঘিরে এই হাইজ্যাকের হুমকি দেওয়া চিঠি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দীপাবলিতে ২০ কর্মীকে ১ লাখ রুপি বোনাস দিলেন ব্যবসায়ী রামস্বরূপ মুন্ডে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০১ পি.এম


দীপাবলিতে ২০ কর্মীকে ১ লাখ রুপি বোনাস দিলেন ব্যবসায়ী রামস্বরূপ মুন্ডে

ভারতের গুজরাটের সুরাটে দীপাবলি উপলক্ষে নিজের প্রতিষ্ঠানের ২০ কর্মীকে এক লাখ রুপির বেশি করে নগদ বোনাস দিয়েছেন এক ব্যবসায়ী। কর্মীদের প্রতি তার এমন উদারতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা চলছে। বোনাস পাওয়ার পর কয়েকজন কর্মীকে আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদতেও দেখা গেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যবসায়ীর নাম রামস্বরূপ মুন্ডে। তিনি সুরাটের একটি বস্ত্রপ্রতিষ্ঠানের মালিক। দীপাবলি উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানের ২০ কর্মীর প্রত্যেককে এক লাখ রুপির বেশি নগদ অর্থ উপহার দিয়েছেন তিনি।

তবে বোনাস দেওয়ার আয়োজনেও ছিল ভিন্নতা। সাধারণ খামে টাকা না দিয়ে রুপালি রঙের পূজার থালায় সাজিয়ে রাখা হয় নতুন নোটের বান্ডিল। ১০ থেকে ৫০০ রুপির নোট দিয়ে সাজানো এসব থালা কর্মীদের হাতে তুলে দেন তাদের স্ত্রীরা। এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনে কর্মীদের মধ্যে আনন্দ ও আবেগের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, কর্মীরা একে একে নগদ অর্থের থালা গ্রহণ করছেন। কেউ আনন্দে আপ্লুত হচ্ছেন, আবার কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না।

কর্মীদের প্রতি এমন উদারতার কারণ ব্যাখ্যা করে রামস্বরূপ মুন্ডে বলেন, তিনি তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শুধু শ্রমিক হিসেবে দেখেন না; তাদের নিজের পরিবারের অংশ মনে করেন। দীপাবলিতে কর্মীরা যেন পরিবারের সঙ্গে আর্থিক দুশ্চিন্তামুক্ত হয়ে উৎসব উদ্যাপন করতে পারেন, সেটিই ছিল তার উদ্দেশ্য।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসার ঝড় উঠেছে। অনেকে এমন উদার মালিকের অধীনে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। একজন মন্তব্য করেছেন, নিজের পরিবারের মতো কর্মীদের পরিবারকেও উৎসবের আনন্দে শামিল করার মানসিকতাই একজন মানুষকে প্রকৃত অর্থে ধনী করে তোলে।

আরেকজন লিখেছেন, প্রত্যেক কর্মীর এমন একজন মালিক পাওয়া উচিত। কেউ কেউ আবার ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন কীভাবে করা যায়, তা নিয়েও মজা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
কারিনাকে ইব্রাহিম আলি খান

তুমি বিশ্বের সবচেয়ে ‘কুল’ সৎমা: ইব্রাহিম আলি খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০২ পি.এম


তুমি বিশ্বের সবচেয়ে ‘কুল’ সৎমা: ইব্রাহিম আলি খান

বলিউডের জনপ্রিয় তারকা সাইফ আলি খান এবং কারিনা কাপুর খান-এর পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে ভক্তদের আগ্রহের শেষ নেই। সম্প্রতি, এই তারকা দম্পতি উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় টেলিভিশন শো ‘কফি উইথ করণ’-এর নতুন একটি পর্বে, যা আরও কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

শোয়ের একটি বিশেষ পর্বে সাইফের বড় ছেলে ইব্রাহিম আলি খানের একটি ভিডিও বার্তা প্রদর্শিত হয়। ভিডিওতে, ইব্রাহিম তার সৎমা কারিনা সম্পর্কে প্রশংসা করেন এবং পরিবারের মধ্যে সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরেন।

সাইফ এবং কারিনা শোয়ে তাদের পারিবারিক বন্ধন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। ভিডিও বার্তায় ইব্রাহিম তার বাবাকে ‘হিরো’ এবং আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাবার তারকা হওয়ার পেছনে নয়, বরং জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য তিনি বাবাকে শ্রদ্ধা করেন।

ইব্রাহিম বলেন, ‘হ্যালো আব্বা ও বেবো। ড্যাড, তুমি আমার আদর্শ। আমার হিরো। তবে তুমি কে, তার চেয়েও বড় কথা তুমি কী কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছো। জীবনের উঁচু-নিচু পথ, হার্ট অ্যাটাক, আঙুলের চোট, ছুরিকাঘাতের ঘটনা— সবকিছুর পরেও তুমি শক্তভাবে টিকে আছো। আর সেই কারণেই তুমি আমার হিরো এবং সবসময় এভাবেই থাকবে।’

এরপর, করিনা কাপুর খানকে ধন্যবাদ জানিয়ে ইব্রাহিম বলেন, ‘আর বেবো, আমি চাই তুমি জেনে রাখো যে তুমি বিশ্বের সবচেয়ে ‘কুল’ ছোটমা (স্টেপ-মাদার)। তুমি সবসময় আমাদের পাশে থেকেছ। তাই তোমাকে অনেক ধন্যবাদ এবং অনেক ভালোবাসা।’

শোয়ের শেষে, উপহার কার হাতে দেওয়া উচিত, এমন প্রশ্নের উত্তরে ইব্রাহিম বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে বাবার নাম উল্লেখ করেন।

পারিবারিক সম্পর্কের এই সুসম্পর্ক নিয়ে সাইফ আলি খান মন্তব্য করেন, একটি পরিবারকে সুন্দরভাবে একত্রিত রাখার পেছনে কারিনার অবদান অনেক। প্রথম পক্ষের সন্তান সারা ও ইব্রাহিমের সঙ্গে কারিনার সম্পর্ক গড়ে ওঠার পুরো কৃতিত্ব তিনি তার স্ত্রীর দিকে নির্দেশ করেন, তবে সবার পারস্পরিক সহযোগিতাকেও তিনি সাধুবাদ জানান।

অভিনেতা বলেন, ‘সবাই ভীষণ চমৎকার। তবে এই সম্পর্কের পুরো কৃতিত্ব আমি অবশ্যই করিনাকে এবং বাকিদের দেবো, কারণ এই বিষয়গুলো দুদিক থেকেই কাজ করে।’

অন্যদিকে, ইব্রাহিমের সঙ্গে তার ছোট দুই ভাই তৈমুর ও জেহের সম্পর্কের রসায়ন নিয়ে কথা বলেন কারিনা। তিনি জানান, তৈমুর ও জেহ তাদের বড় ভাই ইব্রাহিমকে খুব ভালোবাসে এবং তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।

করিনার ভাষায়, ‘তৈমুর ও জেহ ইব্রাহিমকে খুব ভালোবাসে। ওরা ওর মতো হতে চায় এবং ওর সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসে। ইব্রাহিমও ওদের সঙ্গে সময় দিতে চেষ্টা করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০৪ পি.এম


ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ইরানে জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় সরকারি স্থাপনায় হামলা ও নাশকতার অভিযোগে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও ছিল।

বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের মাধ্যমে ইরানের সংবাদমাধ্যম এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া তিনজন হলেন— হাসান দিয়োবান্দ, হামিদ কাজেমি ও রেজা জানগানে।

ইরানের বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, বিক্ষোভের সময় তারা আগ্নেয়াস্ত্র, গ্রেনেড ও পেট্রোলবোমা ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা চালান। তারা কারাজ শহরে একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে আগুন ধরিয়ে দেন এবং সরকারি স্থাপনা ভাঙচুর করেন। এই ঘটনায় শহরের কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

জানুয়ারির সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানে একের পর এক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে। এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও আনা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক ইরান সরকারের প্রতি সব ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডের বিধান পুরোপুরি বিলুপ্ত করার উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%