০৯:০৩ পি.এম
বাংলাদেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবদুল হাদী (এম এ হাদী)-এর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি।
মন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশের চিকিৎসাক্ষেত্রে কোনো দূরদর্শী ব্যক্তিত্বের কথা স্মরণ করলে অধ্যাপক ডা. এম এ হাদীর নাম সর্বাগ্রে উচ্চারিত হবে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, অধ্যাপক ডা. হাদী শুধু চিকিৎসকদের পেশাগত উন্নয়ন ও কল্যাণে কাজ করেননি, বরং নার্স, টেকনোলজিস্ট সহ সামগ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থার মানোন্নয়নেও যুগান্তকারী অবদান রেখেছেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ ডা. মিলন হলে অধ্যাপক ডা. এম এ হাদীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: সাভারে শ্রমিক আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহকালে তিন সাংবাদিকের ওপর হামলা
মন্ত্রী আরও বলেন, "দেশের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।" তিনি বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রেফার্ডকৃত রোগীদের জন্য বছরের ৩৬৫ দিন ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও চিকিৎসা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে গতানুগতিক ধারার বাইরে এসে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গবেষণা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। চিকিৎসকদের মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণায় উৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় প্রণোদনা বাড়ানোর বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগী হতে হবে।
অনুষ্ঠানে আলোচক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অধ্যাপক ডা. এম এ হাদীর কর্মময় জীবন, কঠোর সময়ানুবর্তিতা, চিকিৎসা সেবায় ঐতিহাসিক ভূমিকা, রোগীদের প্রতি মমত্ববোধ এবং শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, এমপি এবং ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, এমপি।
আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে চারবার সেরা ওসি হলেন রাকিবুল হাসান
অধ্যাপক ডা. এম এ হাদী ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক ডা. মোফাখখারুল ইসলাম রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক, অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. রফিকুল কবীর লাবু, ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটুসহ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবদুল হাদী ১৯৪১ সালের ৩১ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৪ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস এবং ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) থেকে সার্জারিতে এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ উপাচার্য, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিনসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারী এই চিকিৎসক ২০০৭ সালের ১৬ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন