০১:৪৯ পি.এম
গাজীপুরের শ্রীপুরে ৫৪ বছর বয়সে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন মজনু কাইয়াঁ। তিনি জিপিএ-৪.৬৩ পেয়ে পাশ করে এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন।
মজনু কাইয়াঁ শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের ভিটিপাড়া গ্রামের নিজাম উদ্দিন কাইয়াঁর পুত্র। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা।
১৯৭৩ সালে জন্মগ্রহণকারী মজনু ১৯৯১ সালে ত্রিমোহনী বিডি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে বরমী ডিগ্রি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তবে উচ্চতর গণিতে অকৃতকার্য হওয়ায় তিনি হতাশ হয়ে পড়েন এবং এরপর আর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন: ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগ, আহত দুই শিক্ষার্থী
কর্ম ও পারিবারিক জীবনের ব্যস্ততার কারণে দীর্ঘ ৩২ বছর শিক্ষাজীবন থেমে গেলেও শিক্ষার প্রতি তার আগ্রহ অব্যাহত ছিল। সংসার, ব্যবসা ও পারিবারিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে পড়াশোনায় ফেরার সুযোগ হয়নি। কিন্তু তার মনে অসমাপ্ত শিক্ষাজীবন শেষ করার প্রবল ইচ্ছা ছিল।
একপর্যায়ে ৫৪ বছর বয়সে এসে তিনি আবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরিবারের কাউকে না জানিয়ে ভর্তি হন গাজীপুরের পূবাইল টেকনিক্যাল কলেজে। ব্যবসা এবং সংসারের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি তিনি পড়াশোনা শুরু করেন। অবশেষে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৪.৬৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।
মজনু কাইয়াঁ বর্তমানে ভিটিপাড়া কোব্বাত হামিদ কাইয়াঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার এই সাফল্য শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বয়স শিক্ষার পথে কোনো বাধা হতে পারে না, তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
আনোয়ার হোসেন মজনু কাইয়াঁ জানান, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থী ও যারা মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছেন, তাদের অনুপ্রেরণা জোগাতেই তিনি নিজের অসমাপ্ত শিক্ষাজীবন শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি এবার স্নাতকে ভর্তি হয়ে স্নাতকোত্তর শেষ করার পরিকল্পনা করেছেন। তার বিশ্বাস, ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায় থাকলে যেকোনো বয়সেই নতুন করে শুরু করা সম্ভব।
আরও পড়ুন: অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্স কলেজের অধ্যক্ষ ১৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধের পর পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
মজনুর বৃদ্ধ মা আনোয়ারা খাতুন এই বয়সে ছেলের লেখাপড়ায় আনন্দ পেয়েছেন। তিনি বলেন, "ছেলে ভালো লেখাপড়া করছে, এটা সত্যিই গর্বের।"
শ্রীপুরের ভিটিপাড়া কোব্বাত হামিদ কাইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রজব আলী মোড়ল বলেন, "লেখাপড়ার কোনো বয়স নেই, যেকোনো বয়সে শিক্ষা লাভ করা একজন মানুষের অধিকার। মজনু কাইয়াঁ একজন শিক্ষানুরাগী। তিনি আমাদের প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সদস্য। আমরা তার ফলাফলে গর্বিত।"
মজনু কাইয়ার এমন উৎসাহ ও সাফল্যে তিনি এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে মধ্যরাতে ছাত্রীদের বিক্ষোভ, পদত্যাগের দাবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন