ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

চকরিয়ায় গৃহবধূকে হাতুড়ি দিয়ে হত্যা: স্বামী আটক


চকরিয়ায় গৃহবধূকে হাতুড়ি দিয়ে হত্যা: স্বামী আটক

কক্সবাজারের চকরিয়া এলাকায় পারিবারিক কলহের কারণে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে এবং বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার পর পরিস্থিতি বেগতিক দেখে, স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা ওই গৃহবধূকে বাড়ির চালার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার প্রচার চালান। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডের মাঝের পাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় জনতার সহায়তায় পুলিশ ঘাতক স্বামীকে আটক করেছে। উল্লেখ্য, ঘটনার সময়ও একই স্থানে ছিল।

গৃহবধূর নাম রুমা আক্তার (৩০)। তিনি মাঝের পাড়া গ্রামের বাহাদুর আলমের কন্যা এবং মোহাম্মদ মানিকের স্ত্রী। তাদের ৮ বছরের সন্তান মো. লাবিব জানায়, তার বাবা মানিক বৃহস্পতিবার রাতে হাতুড়ি দিয়ে তার মাকে পিটিয়ে এবং বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেছেন।

আরও পড়ুন: বুকব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

স্থানীয়দের মতে, রুমা আক্তারের সঙ্গে বিয়ের পর থেকে স্বামী মানিক নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। বাড়ি নির্মাণের জন্য এনজিও থেকে নেওয়া ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকতো। এর মধ্যে মানিক রুমার আরেক খালাতো বোনকে বিয়ে করেন। শেষ পর্যন্ত, প্রথম স্ত্রী রুমা আক্তারকে পিটিয়ে হত্যা করেন স্বামী মানিক।

চকরিয়া থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান বলেন, ‘লক্ষ্যারচরে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে কিনা, তা এখনই বলা যাবে না। কারণ শরীরের বাইরে তেমন কোন আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। তাই ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়রা স্বামী মানিককে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। এই ঘটনায় মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তিসাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলীকদমে ৩২টি পাহাড়ি পাড়ায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পের উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৪৪ পি.এম


আলীকদমে ৩২টি পাহাড়ি পাড়ায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পের উদ্বোধন

‎

বান্দরবান, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ : আলীকদম উপজেলার থিংকুপাড়াসহ ৩২টি দুর্গম পাহাড়ি পাড়ায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পের উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে।

এই প্রকল্পটি দীর্ঘদিনের পানি সংকট সমাধান এবং পাহাড়ি জনগণের জন্য নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে।

‎

গতকাল বৃহস্পতিবার, উপজেলার থিংকুপাড়ায় অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামছুল আলম, এনডিসি, পিএসসি।

‎

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৭ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। প্রকল্পের আওতায় পাহাড়ি ঝিরি থেকে ৯.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি এনে ৮ আউটলেটের মাধ্যমে থিংকুপাড়াসহ ৩২টি দুর্গম পাহাড়ি পাড়ার বাসিন্দাদের পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত জনগণের জন্য নিরাপদ পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা।

এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন পানির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পানি সংগ্রহে সময় ও শ্রম সাশ্রয়ের আশা করা হচ্ছে।

‎

প্রধান অতিথি মন্তব্য করেন, প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হচ্ছে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত জনগণের জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের পানি সংকট সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখা। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সংশ্লিষ্ট ৩২টি পাহাড়ি পাড়ার স্থানীয় বাসিন্দারা সরাসরি উপকৃত হবেন।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে সুপেয় পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে পাহাড়ি জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি হ্রাস এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রকল্পটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। দুর্গম পাহাড়ি জনপদে বিশুদ্ধ পানির মতো মৌলিক চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের জন্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

‎

১০ কিলো এলাকার থিংকু পাড়ার কারবারী বিশ্ব ত্রিপুরা বাসসকে জানান, "আমাদের গ্রামের লোকজনকে এক সময় অনেক কষ্ট করে ঝিরি ঝর্ণা পানি পান করতে হতো। শুকনো মৌসুমে ঝিরিগুলো শুকিয়ে গেলে আমরা আর পানি পাইনা কোথাও।"

তিনি বলেন, "বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে গ্রামের মধ্যে পাইপ লাইন দিয়ে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদকের বিস্তারে রাজনৈতিক পেট্রোনাইজেশনের অভিযোগ ইশরাক হোসেনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৪৫ পি.এম


মাদকের বিস্তারে রাজনৈতিক পেট্রোনাইজেশনের অভিযোগ ইশরাক হোসেনের

ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য ও কর্মকর্তা মাদক ব্যবসার চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, মাদকের বিস্তার লাভের পেছনে রাজনৈতিক পেট্রোনাইজেশন দায়ী।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদকের কবল থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। কারণ, আমাদের রাষ্ট্র এবং সরকার নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে।

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, মাদক পরিবহনে কিছু পরিবহন কোম্পানির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে একটি গবেষণায় দেখা গেছে—দেশে ৮২ লাখ মাদক ব্যবহারকারী রয়েছে, যা মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশ। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যুবক ২৫ বছর বয়সের আগেই মাদক সেবনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। এই বিষয়টি এখন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও পিস ইউনিভার্সিটির চুক্তি স্বাক্ষর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৪৫ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও পিস ইউনিভার্সিটির চুক্তি স্বাক্ষর

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতিসংঘের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ইউনিভার্সিটি ফর পিস (ইউপিস) এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান কোডার্সট্রাস্ট যৌথভাবে কাজ করবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং গবেষণা কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিউ ইয়র্কের 'ট্রাম্প সেন্টারে' তিন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, ইউনিভার্সিটি ফর পিসের ডিন প্রফেসর মিহির এবং কোডার্সট্রাস্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আজিজ আহমেদ স্বাক্ষর করেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে।

সমঝোতার আওতায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ, শান্তিশিক্ষা এবং পেশাগত উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। এসব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনলাইন, অফলাইন এবং ব্লেন্ডেড পদ্ধতির পরিকল্পনা রয়েছে। এই সহযোগিতার মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, ওয়েব ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, ডেটা ব্যবস্থাপনা, ফ্রিল্যান্সিং এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নের মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার পরামর্শ, কর্মক্ষেত্রের উপযোগী দক্ষতা অর্জন এবং পেশাগত জীবনে প্রবেশের সুযোগ তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তার অধিভুক্ত কলেজগুলোর নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্নাতকদের কাছে এসব কার্যক্রম পৌঁছে দিতে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদান করবে। ইউনিভার্সিটি ফর পিস শান্তিশিক্ষা, সংঘাত নিরসন, মানবাধিকার ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে একাডেমিক জ্ঞান, প্রশিক্ষক এবং পাঠ্যবিষয়বস্তু সরবরাহ করবে। এছাড়া, ডিজিটাল দক্ষতার সমন্বয়ে স্বল্পমেয়াদি, পেশাগত ও সনদভিত্তিক কোর্স চালু, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, যৌথ গবেষণা এবং শিক্ষা ও গবেষণাসংক্রান্ত তথ্য বিনিময়ের পরিকল্পনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্মেলন, কর্মশালা এবং একাডেমিক কার্যক্রমও আয়োজন করা হবে।

সমঝোতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি। এর মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষকেরা আধুনিক ডিজিটাল দক্ষতা, শান্তিশিক্ষা, মানবাধিকার ও সংঘাত নিরসন সংক্রান্ত বিষয় পাঠদান ও শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ পাবেন। তিন প্রতিষ্ঠানের এই উদ্যোগ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের (এসডিজি) মানসম্মত শিক্ষা (এসডিজি ৪), শোভন কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (এসডিজি ৮) এবং শান্তি, ন্যায়বিচার ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান (এসডিজি ১৬) অর্জনে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ইউনিভার্সিটি ফর পিস কোস্টারিকাভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, যা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বাংলাদেশ এর অন্যতম সিগনেটরি। প্রতিষ্ঠানটি শান্তি, সংঘাত নিরসন ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণায় কাজ করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় শুরু হলো ২ দিনব্যাপী আদিবাসী খাদ্য ও শস্যমেলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৪৬ পি.এম


ঢাকায় শুরু হলো ২ দিনব্যাপী আদিবাসী খাদ্য ও শস্যমেলা

বাঙালির পরিচিত খাবারের বাইরেও দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব খাদ্যসংস্কৃতি ও রান্নার ঐতিহ্য রয়েছে, যেমন বাঁশকোঁড়ল, হেবাঙ, জুমের সবজি, পাজন, বিন্নি চালের পিঠা। এই বৈচিত্র্যময় খাবার ও কৃষিপণ্য নগরবাসীর সামনে উপস্থাপন করার উদ্দেশ্যে রাজধানীর মিরপুরে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী পঞ্চম আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলা।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) মিরপুরের পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে উন্নয়ন সংগঠন নাগরিক উদ্যোগ ও আদিবাসী সুহৃদদের যৌথ আয়োজনে এই মেলার উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান ও মানবাধিকারকর্মী শিরীন পারভীন হক এবং অধিকারকর্মী মেইনথিন প্রমীলা।

অনুষ্ঠানে দীপেন দেওয়ান মন্তব্য করেন, "আদিবাসীদের খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতি দেশের অন্য জনগোষ্ঠীর মানুষের কাছে তুলে ধরার এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।" তিনি আরও বলেন, "এ মেলার মাধ্যমে বাংলাদেশে বাঙালির পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস এবং তাদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির চিত্র ফুটে উঠবে।" তিনি উল্লেখ করেন, "আদিবাসীদের খাদ্যসংস্কৃতি দেশের সম্পদ, যা জাতীয় বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করেছে।"

তিনি আরও বলেন, "বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে বর্তমান সরকার কাজ করছে।" তিনি জানান, "পাহাড়ে উৎপাদিত পণ্য দেশের সর্বত্র পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।" দীপেন দেওয়ান বলেন, "আদিবাসীদের স্বতন্ত্র পরিচয়, ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"

শিরীন পারভীন হক বলেন, "বাংলাদেশ বহুজাতি ও বহুসংস্কৃতির দেশ। এ মেলার আয়োজন সেই বাস্তবতাকে তুলে ধরছে।" তিনি উল্লেখ করেন, "খাদ্যে ভেজালের বিস্তারের মধ্যে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী খাদ্য উৎপাদনব্যবস্থা নিরাপদ খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে।" তবে তিনি সতর্ক করেন, "পাহাড়ের মানুষের খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে ভূমির অধিকার গভীরভাবে জড়িত।" ভূমি দখলের কারণে তাঁরা উৎপাদনব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং এ বিষয়ে রাষ্ট্রের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন বলে জানান।

মেইনথিন প্রমীলা বলেন, "আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনপদ্ধতি সংরক্ষণে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি।" তিনি বলেন, "পাশাপাশি তাঁদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।"

সভাপতির বক্তব্যে জাকির হোসেন বলেন, "আদিবাসীরা দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরা সবার দায়িত্ব।" তিনি ঢাকায় আদিবাসীদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির জন্য আলাদা বাজার গড়ে তোলার দাবি জানান।

আলোচনা শেষে অতিথিরা বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন। মেলায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বাঁশকোঁড়ল, কলাপাতায় রান্না করা হেবাঙ, জুমের সবজি ও জনপ্রিয় পাজনসহ নানা ধরনের খাবার স্থান পেয়েছে। এছাড়া মণিপুরি, গারো ও রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী খাবার, কালো ও সাদা বিন্নি চালের পিঠা এবং বিভিন্ন ধরনের মুন্ডি দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় আদিবাসী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংগীতশিল্পী মং, বর্ষা চাকমা, বুলু তঞ্চঙ্গ্যা ও মার্কুস চিসিমের পরিবেশনার পাশাপাশি পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%