সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:১২ এম
যুগের আধুনিকতার কারণে হাওরাঞ্চলের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী পেশা কয়াল ও কয়ালি যন্ত্রের যাঁতাকলে হারিয়ে গেছে। সুনামগঞ্জের মধ্যনগর, ধর্মপাশা, দিরাই, শাল্লাসহ পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ, কলমাকান্দা ও ঠাকুরকোনা উপজেলার কয়েকশ কয়াল বর্তমানে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। তাদের দিন কাটছে অত্যন্ত মানবেতর ও দুঃখ-কষ্টে পরিবার-পরিজন নিয়ে।
এক হাতে ডান্ডি এবং অন্য হাতে দাঁড়িপাল্লা নিয়ে নিজস্ব ঢং ও সুর-ছন্দে কয়ালদের মুখে মুখে রচিত ধারাপাতের বুলি আওড়ানোর দৃশ্য এখন আর দেখা যায় না। ‘এগারে-এগ, দুয়ারে-দুই, তিনারে-তিন, চৌনারে-চার, পোঁণারে-পাঁচ, ছয়ারে-ছয়, সাঁতারে-সাত, আটারে-আট’ বুলিতে ১০০ মণ (আটশ পাল্লা) ধান মেপে পারিশ্রমিক বা কয়ালি হিসেবে কয়ালরা পেতেন এক মণ ধান।
ধান পরিমাপে কয়ালকে আরও দুজন সহযোগী সাহায্য করতেন। একজন পাল্লায় ধান তুলে দিতেন এবং কয়াল মাপার পর অন্যজন পাল্লা থেকে চটের বস্তায় ধান ভরে দেয়ার কাজ করতেন। প্রতি চার পাল্লা মাপার পর পাল্লা ও পাথর অদলবদল করা হতো। অর্থাৎ এক পাল্লায় পাথর আর অন্য পাল্লায় ধান তুলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষের আস্থা, বিশ্বাস ও স্বার্থ রক্ষা করতেন কয়াল। বছরের বারো মাসই ধান মাপা নিয়ে ব্যস্ত থাকা সেই কয়ালরা আজ কর্মহীন ও বেকার। গৃহস্থের গোলাঘর, মাড়াখলা, মোকাম কিংবা আড়ত- সর্বত্র দাঁড়িপাল্লা দিয়ে ধান মেপেই একসময় জীবিকা নির্বাহ করতেন তারা।
কয়ালি পেশার শুরুতে তারা সনাতন পদ্ধতিতে সের হিসেবে ধান পরিমাপ করতেন। গজারি কাঠের তৈরি সোজা সমান্তরাল ডান্ডিতে পাটের মুষ্টি, লোহার হাতলযুক্ত পাঁচসেরি পাথর আর পোক্ত বেতের শক্ত বুননের পাল্লা অনেক আগেই কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। বেতের পাল্লার বদলে একসময় প্লাস্টিকের পাল্লা এলেও শেষ পর্যন্ত কেজির মাপও হার মেনেছে আধুনিক মিটারের কাছে। সের ও কেজির বাটখারা এবং দাঁড়িপাল্লাকে চিরবিদায় জানিয়েছে ওয়েইং স্কেল। মুদি দোকান, আড়ত, মোকাম থেকে শুরু করে কৃষকের ধানের গোলাঘরও এখন ডিজিটাল ওজন মাপার যন্ত্রের দখলে।
বিলুপ্তপ্রায় এ ঐতিহ্যবাহী পেশা নিয়ে কথা হয় মধ্যনগর উপজেলার রংচি গ্রামের কয়াল আব্দুর নূরের সাথে। অতীতের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘মধ্যনগর, দিরাই, শাল্লাসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার ধানের আড়তে বার্ষিক চুক্তিতে কাজ করতেন শত শত কয়াল। এখন কয়ালও নেই, কয়ালিও নেই। কৃষকের গোলাঘর থেকে শুরু করে মোকাম ও আড়ত- সবখানেই ওয়েইং স্কেলে ধান মাপা হয়। কৃষক, আড়তদার ও ফড়িয়াদের সবার ঘরেই এখন মিটার। ফলে আড়তদারের তালিকা থেকেও হারিয়ে গেছে কয়াল ও কয়ালি পেশা।’ আব্দুর নূরের মতো কয়েকশ কয়াল এখন বাধ্য হয়ে পেশা বদলে দিনমজুরির কাজ করছেন।
স্থানীয়রা জানান, অতীতে গ্রামের ক্ষুদ্র, মাঝারি, বড় ও প্রান্তিক চাষিদের ধান বিক্রির জন্য নিজস্ব কয়াল থাকতেন। গোলাঘর থেকে চার-পাঁচ মণ থেকে শুরু করে শত মণ ধান বিক্রির সময় কয়ালদের ডাক পড়ত। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ধানের মোকাম ও আড়তে শত শত মণ ধান মাপতেন তারা। কিন্তু ডিজিটাল যুগে ওয়েইং স্কেলের দাপটে শত বছরের সেই ঐতিহ্য আজ পুরোপুরি বিলুপ্তির মুখে।
কয়ালদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না; কখনো শেখা হয়নি বইয়ের গণিতের ধারাপাত। স্বশিক্ষায় শিক্ষিত এই কয়ালরা পূর্বপুরুষদের গণনার বুলি মুখস্থ করেই বংশপরম্পরায় ধান মেপে সংসার চালাতেন। ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জের গ্রামীণ হাটবাজারে কৃষিনির্ভর বাজারব্যবস্থায় ধানের ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে গভীর আস্থার সেতুবন্ধন তৈরি করেছিলেন তারা।
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী মাপের শুরুতে ‘এক’ ও ‘শূন্য’কে তারা অকল্যাণকর মনে করতেন। তাই একের পরিবর্তে ‘এগারে-এগ’ এবং শূন্যের পরিবর্তে ‘আটারে-আট’ বলতেন। পাঁচসেরি পাথরে আট পাল্লা ধান মাপলে এক মণ হতো। তবে আধুনিক যুগে ডিজিটাল ওজন মাপার যন্ত্রের বহুল ব্যবহারের কারণে গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই কয়াল শ্রেণি এবং তাদের মুখনিঃসৃত মিষ্টি সুরের বুলি আজ বিলুপ্তির পথে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে মদিনা গ্রুপ। আগ্রহ ও যোগ্যতা থাকলে আবেদন করতে পারেন।
পদের নাম ও সংখ্যা: হেড অব ইনফরমেশন টেকনোলজি, সংখ্যা নির্ধারিত নয়।
আবেদনের যোগ্যতা: প্রার্থীদের বিএসসি (সিএসই/আইটি/সিএস) ডিগ্রি থাকতে হবে। এছাড়া, ১০ থেকে ১২ বছরের অভিজ্ঞতা আবশ্যক। শুধুমাত্র পুরুষ প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। বয়সের ক্ষেত্রে কোনো নির্ধারণ নেই। কর্মস্থল হবে ঢাকায়।
বেতন: মাসিক বেতন ৭০,০০০-৮০,০০০ টাকা করে দেয়া হবে।
আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন করার জন্য এবং বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে ক্লিক করুন এখানে ।
আবেদনের শেষ সময়: আগামী ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মোংলা কাস্টম হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ঘুস বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও স্টেকহোল্ডাররা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। তারা মোংলা কাস্টমস হাউসের মূল ফটকের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেন, যেখানে দ্রুত অপসারণ, বিভাগীয় তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
রোববার (২৫ অক্টোবর) মোংলা বন্দর কাস্টমস ভেন্ডার অ্যাসোসিয়েশন, শিপ চ্যান্ডলার অ্যাসোসিয়েশন এবং ভুক্তভোগী সাধারণ ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভের পর ব্যবসায়ীরা কাস্টমস কমিশনারের কাছে একটি অভিযোগ সংবলিত স্মারকলিপি পেশ করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন যে, মোংলা বন্দরে কাস্টমস হাউজের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের ক্যাপ্টেন ও নাবিকদের জিম্মি করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন। তারা জানান, পণ্যবাহী দেশি-বিদেশি জাহাজগুলো বন্দরে ভিড়লেই কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে জোর করে মার্কিন ডলার, দামি হুইস্কি এবং বিদেশি সিগারেট আদায় করা হয়। পরবর্তীকালে এসব অবৈধ মাদক ও পণ্য চোরাকারবারিদের মাধ্যমে গোপন আস্তানায় ও খুলনার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, কাস্টমসের আইজিএম শাখায় দায়িত্ব পালনকালে মামুন ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। আমদানি-রফতানি সংক্রান্ত বৈধ ক্লিয়ারেন্সের জন্য আসা ফাইল আটকে রেখে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত চরম অসদাচরণ ও হয়রানি করা হয়।
এছাড়া নতুন ভেন্ডার লাইসেন্স পাইয়ে দেয়ার লোভ দেখিয়ে বন্দরের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও বেকার যুবকদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। লাইসেন্স না পাওয়ার পর টাকা ফেরত চাইতে গেলে উল্টো সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং শিপ হ্যান্ডলারদের নানা ধরনের মিথ্যা মামলা ও হয়রানির হুমকি দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।
অভিযোগ রয়েছে যে, অভিযুক্ত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আল মামুন সব সময় ঊর্ধ্বতন এক শীর্ষ কর্মকর্তার (এডিশনাল কমিশনার) নাম ভাঙিয়ে নিজের প্রভাব বিস্তার করেন।
ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, এই কর্মকর্তা দীর্ঘদিন মোংলা বন্দরের কাস্টমসে রয়েছেন। আল মামুনের দুর্নীতিগ্রস্ত আচরণের কারণে দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দরের সুনাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। অনেক নতুন ও পুরোনো ব্যবসায়ী নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়ে এ বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। ফলে সরকার প্রতিবছর মোংলা বন্দর থেকে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আহরণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং সামগ্রিক আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
বন্দর ব্যবসায়ীরাও মোংলা বন্দরে ব্যবসা করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ব্যবসায়ীরা কাস্টমস প্রশাসনের প্রতি আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, অনতিবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে মোংলা কাস্টম হাউস থেকে প্রত্যাহার করে বিভাগীয় তদন্তপূর্বক কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সমাবেশ শেষে কাস্টমস কমিশনার বরাবর একটি স্বারকলিপি দেয়া হয়।
অভিযুক্ত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি এবং তার মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে এ প্রসঙ্গে মোংলা কাস্টমস হাউসের কমিশনার মো. গিয়াস কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ ও স্মারকলিপি পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এই প্রতিষ্ঠানে ২২টি পদে মোট ৩৯৩ জনকে নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে ৮ নভেম্বর সকাল ১০টায় এবং ৮ ডিসেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। আবেদন শুধুমাত্র অনলাইনে গ্রহণ করা হবে। অষ্টম শ্রেণি ও এসএসসি পাস চাকরি প্রার্থীরাও আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
আবেদন শুরু: ৮ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টা
আবেদনের শেষ তারিখ: ৮ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখ রাত ১২ পর্যন্ত
আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে
চাকরির ধরন: অস্থায়ী
প্রার্থীর ধরন: নারী - পুরুষ
কর্মস্থল: চট্টগ্রাম
বয়সের সীমা: ৮ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রার্থীদের বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে। তবে ৬নং পদের জন্য সর্বোচ্চ বয়স ৪০ বছর এবং ৮ নং পদের জন্য ৩৫ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের এফিডেভিট গ্রহণ করা হবে না।
আবেদনের পদ্ধতি: আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন করতে এবং বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে যেতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি এবং ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে এবং অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে না। প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদনের প্রিন্ট কপি সংরক্ষণ করা আবশ্যক।
আবেদন ফি: অনলাইনের মাধ্যমে ১-৩ নং পদের জন্য ২০০ টাকা, ৪-৬ নং পদের জন্য ১৫০ টাকা, ৭-১৭ নং পদের জন্য ১০০ টাকা এবং ১৮-২২ নং পদের জন্য ৫০ টাকা জমা দিতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থি সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করে আবারও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। অক্টোবরের প্রথম দিকে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটে পিছিয়ে পড়ার পরও তিনি দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে এ জয় অর্জন করেছেন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ৯টার কিছু পর ব্রাজিলের সুপ্রিম ইলেক্টোরাল কোর্ট লুলাকে বিজয়ী ঘোষণা করে। তিনি ৫১ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছেন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলার পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৬ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি ভোটার।
অন্যদিকে, বলসোনারো ৪৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তাকে ভোট দিয়েছেন ৫ কোটি ৯০ লাখেরও বেশি ভোটার। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ৪০ লাখেরও বেশি।
লুলার এই জয় ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। আধুনিক ব্রাজিলের ইতিহাসে আর কোনো রাজনীতিবিদ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম পর্বে হেরে গিয়ে দ্বিতীয় দফার ভোটে জয়ী হতে পারেননি। এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন এই বামপন্থি রাজনীতিবিদ।
বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর লুলার ওয়ার্কার্স পার্টির প্রধান এদিনিয়ো সিলভা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ।’ পোস্টের সঙ্গে তিনি একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে সমর্থকদের ‘ওলে, ওলে, ওলে, ওলে, ওলা! লুলা, লুলা!’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।
তবে কিছু এলাকায় গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়ার খবর আসার পর ভোটারদের ভোটদানে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে পুরো ভোটপ্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
লুলার সমর্থকরা অভিযোগ করেছেন, বলসোনারোর সমর্থকরা বাস চলাচল কমিয়ে দিয়েছিলেন, যাতে প্রেসিডেন্টের সমর্থক শ্রমিক-শ্রেণির ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে না পারেন। এছাড়া ভারী বৃষ্টির কারণে দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকার ক্ষতি হয়েছে, যা বলসোনারোর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
এর আগে লুলা ও বলসোনারো—উভয় প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারশিবির ভোট দেয়ার সময় বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। পরে দেশজুড়ে ভোটকেন্দ্রগুলো নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দুই ঘণ্টা বেশি খোলা রাখা হয়। ব্রাসিলিয়া সময় সন্ধ্যা ৭টা (জিএমটি রাত ১০টা) পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে।
এ জয়ের মাধ্যমে লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট পদে বহাল থাকছেন লুলা। অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ এক নির্বাচনে জয় থেকে বঞ্চিত হলো অঞ্চলটির ডানপন্থি রাজনৈতিক শিবির।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পেরু, কলম্বিয়া, আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া ও ইকুয়েডরের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থি নেতারা জয়লাভ করেছেন। তাদের অনেকেই ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে জনমনে থাকা অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েছেন।
ধাতুশ্রমিকদের সাবেক ইউনিয়ন নেতা ৮০ বছর বয়সী লুলা ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন। এর মাধ্যমে গণতন্ত্রে ফেরার পর ব্রাজিলের সবচেয়ে বেশি বয়সে শপথ নেয়া প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজেরই রেকর্ড ভাঙবেন তিনি।
লুলা চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট হওয়ার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। এর আগে ২০০২, ২০০৬ এবং ২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি।
রোববারের চূড়ান্ত পর্বে (রান-অফ) লুলা কিছুটা পিছিয়ে থাকা অবস্থায় লড়াইয়ে নেমেছিলেন। নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে তিনি সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও, গত ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটে তিনি বলসোনারোর চেয়ে পিছিয়ে পড়েছিলেন।
প্রথম দফায় লুলা ৪৫ শতাংশ ভোট পান, যেখানে ডানপন্থি সিনেটর বলসোনারো পান ৪৭ শতাংশ। ওই নির্বাচনে কোনো প্রার্থীই ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় রান অফে গড়ায়।
১৯৮০-র দশকে, অর্থাৎ ব্রাজিলে সামরিক স্বৈরশাসনের শেষ পর্যায়ে রাজনীতিতে আসা লুলা এ পর্যন্ত সাতবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
২০০২ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি। এরপর ২০২২ সালে তিনি তৃতীয় মেয়াদে জয়লাভ করেন; আধুনিক ব্রাজিলের ইতিহাসে সেটি ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি নির্বাচন।
ওই নির্বাচনে লুলার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কট্টর ডানপন্থি সাবেক প্রেসিডেন্ট জায়ার বলসোনারো। আর এবারের নির্বাচনে লুলার প্রতিপক্ষ সিনেটর বলসোনারো হলেন সেই জায়ার বলসোনারোরই সন্তান।
সূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ