ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই মোহাম্মদ আল মামুন ‘বাংলার কৃষ’?


সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই মোহাম্মদ আল মামুন ‘বাংলার কৃষ’?

দিনের বেলায় জীবিকার তাগিদে এসএস পাইপ মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করেন তিনি। অবসর পেলেই সুপারহিরো হওয়ার স্বপ্ন পূরণের সাধনায় মেতে ওঠেন। বোনের পুরোনো বোরকাকে কৃষের পোশাকে রূপ দিয়ে নানা কসরত ও স্টান্ট দেখানোর চেষ্টা করেন মামুন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ডের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ফলে পরিচিতি লাভ করেছেন ‘বাংলার কৃষ’ নামে। সিরাজগঞ্জের মোহাম্মদ আল মামুনের কথা বলা হচ্ছে।

মামুন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বনবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। জীবিকার প্রয়োজনে দিনের বেশির ভাগ সময় কাটে লোহা ও স্টিলের কাজ করে। তবে কাজের ফাঁকে কিংবা অবসর সময়ে তার ব্যস্ততা ভিন্ন। বলিউডের জনপ্রিয় সুপারহিরো কৃষের মতো কিছু করে দেখানোর স্বপ্ন নিয়ে তিনি প্রায় আট থেকে দশ বছর ধরে অনুশীলন করে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: আজ ১৬ অক্টোবর বিশ্ব বিড়াল দিবস উদযাপন

মামুনের এই স্বপ্নযাত্রা শুরু হয় ডিগবাজির ভিডিও তৈরি করে। নিজের কসরতের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলেও শুরুতে তেমন সাড়া পাননি। পরে ব্যতিক্রমী কিছু করার চিন্তা থেকে কৃষের আদলে নিজেকে উপস্থাপনের পরিকল্পনা করেন। কিন্তু দামি পোশাক, উন্নত সরঞ্জাম কিংবা বিশেষ প্রশিক্ষণের সুযোগ না থাকায় নিজের সামর্থ্যেই সুপারহিরোর সাজ তৈরি করেন।

এ জন্য বোনের পুরোনো একটি বোরকাকে বেছে নেন তিনি। নিজের কল্পনা আর হাতের কাজ দিয়ে সেটিকে কৃষের পোশাকে রূপ দেন। সেই পোশাক পরে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন রাস্তাঘাট ও দালানকোঠায় নানা ধরনের স্টান্ট দেখানোর চেষ্টা করেন। তার কসরত দেখতে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ। কেউ বিস্ময় নিয়ে দেখেন, আবার কেউ মুঠোফোনে ধারণ করেন তার ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ড।

একসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মামুনের স্টান্টের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরিচিতি বাড়তে থাকে। স্থানীয়ভাবে অনেকেই তাকে ডাকতে শুরু করেন ‘বাংলার কৃষ’ নামে। সীমিত সামর্থ্য নিয়েও তিনি নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটে চলেছেন।

মামুনের লক্ষ্য শুধু কৃষের পোশাক পরে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা নয়। তিনি নিজের প্রতিভাকে আরও বিকশিত করে একদিন চলচ্চিত্রে কাজ করার স্বপ্ন দেখেন। এ জন্য সরকারি দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা চান।

আরও পড়ুন: ৫২ বছরে মা হচ্ছেন হিলারি, ৫০ পেরিয়ে গর্ভধারণ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ

আল মামুন বলেন, "সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গণ্ডি পেরিয়ে একদিন চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ পেতে চাই। নিজের তৈরি এই পরিচয় নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে চাই। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।"

জীবিকার তাগিদে পাইপ মিস্ত্রির কাজ করলেও সুপারহিরো হওয়ার স্বপ্ন ছাড়তে নারাজ মামুন। সীমাবদ্ধতাকে সঙ্গী করেই এগিয়ে চলেছেন নিজের লক্ষ্যের দিকে। তার প্রত্যাশা, একদিন এই স্বপ্নই তাকে পৌঁছে দেবে চলচ্চিত্রের বড় পর্দায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধে নিহত শহিদুল ইসলাম, আহত দুইজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১৭ এম


বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধে নিহত শহিদুল ইসলাম, আহত দুইজন

নওগাঁর মান্দায় বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধের ফলস্বরূপ শহিদুল ইসলাম (৪২) নামে এক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় তার ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম এবং স্ত্রী সাথী আক্তার আহত হয়েছেন। সাইফুল ইসলামের মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার তুলসীরামপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত শহিদুল ইসলামের মা সুফিয়া বিবি ও স্ত্রী মোছা. সাথী আক্তার জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকেলে শহিদুলের একটি বাছুর প্রতিবেশী ইব্রাহীম হোসেনের পালার খড় খেতে গেলে সেটিকে আটকে রাখা হয়। পরে বাছুরটি আনতে গেলে সাথী আক্তারের সঙ্গে প্রতিবেশীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

এই পরিস্থিতিতে চিৎকার শুনে শহিদুল ইসলাম, তার ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম এবং মা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিরোধ থামানোর চেষ্টা করেন। তখন প্রতিবেশী ইব্রাহীম হোসেনের ছেলে মো. মোয়াজ্জেম ও জিহাদের মা জীবন নেছা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শহিদুলের ওপর হামলা চালায়। এই হামলার সময় শহিদুলের মাথায় আঘাত লাগলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্বজনদের দাবি, ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।

শহিদুলকে রক্ষা করতে তার ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম এগিয়ে গেলে তাকেও আঘাত করা হয়। এতে তার মাথায় আঘাত লাগে এবং গুরুতর রক্তক্ষরণ ঘটে। পরে শহিদুলের স্ত্রী সাথী আক্তার এগিয়ে এলে তার মাথায়ও আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এসে আহতদের উদ্ধার করেন। তাদের পরে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

খবর পেয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নিহত শহিদুল ইসলামের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সকালের মধ্যে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১৮ এম


সকালের মধ্যে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামে

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের পাঁচটি অঞ্চলে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে আগামীকাল বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের ওপর দিয়ে উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশ

ঢামেকে রোগীর স্বজনদের ওপর হামলার তদন্তের আশ্বাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৩ এম


ঢামেকে রোগীর স্বজনদের ওপর হামলার তদন্তের আশ্বাস

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে এসে রোগীর স্বজনদের মারধরের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দৈনিক যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর হাসপাতাল প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম ফরহাদ হোসেন ভুক্তভোগী পরিবারকে ডেকে কথা বলেছেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে পরিবারের সদস্য মমতাজ বেগম ও মো. আসাদুল্লাহ পরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে আগামী দুই দিনের মধ্যে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তের জন্য ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, গত ১০ অক্টোবর শনিবার রাতে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চার নম্বর কক্ষের পাশে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ১২ অক্টোবর সোমবার বিকালে দৈনিক যুগান্তরের অনলাইন সংস্করণে ‘ঢামেকে চিকিৎসা নিতে এসে রোগীর স্বজনদের ওপর হামলার অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পরদিনই হাসপাতাল প্রশাসনের সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের সাক্ষাৎ হয়।

পরিবারের অভিযোগ, কুমিল্লার তিতাস থানার আলমপুর এলাকায় মারামারির ঘটনায় মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া ইয়াকুবকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেকে আনা হয়েছিল। শনিবার রাত ৮টার দিকে হাসপাতালে পৌঁছে জরুরি বিভাগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও রসিদ জমা দেন তারা। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও চিকিৎসা না পেয়ে অনুরোধ করতে গেলে প্রথমে ইয়াকুবকে মারধর করা হয়। পরে তাকে রক্ষা করতে গিয়ে তার শ্বশুর মো. আসাদুল্লাহ, শাশুড়ি মমতাজ বেগম ও শ্যালক সিয়াম হোসেনও মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ পরিবারের।

ভুক্তভোগী মমতাজ বেগমের অভিযোগ, রাত ৮টা থেকে তারা বারবার চিকিৎসার অনুরোধ করলেও তাদের অপেক্ষা করতে বলা হয়। রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে ইয়াকুবকে জরুরি বিভাগের চার নাম্বার কক্ষের পাশে নেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা ও যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে তিনি চিকিৎসার অনুরোধ জানালে কয়েকজন স্টাফ তাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। এ সময় বেশি কথা বললে ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি তার।

মমতাজ বলেন, ‘আমার মেয়ের জামাই পাঁচ ঘণ্টা ধরে কষ্ট পাচ্ছিল। আমরা বারবার চিকিৎসার অনুরোধ করেছি। কিন্তু সে নিজের কষ্টের কথা বলতেই তাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। আমার স্বামী প্রতিবাদ করতে গেলে তার নাকে ঘুষি মারা হয়। নাক ফেটে রক্তে পাঞ্জাবি ভিজে যায়। এরপর আমার ছেলে সিয়াম এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ছেলেকে মারধর করতে দেখে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে পেছন থেকে স্টিলের পাইপ দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এতে মাথা ঘুরে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে এক কর্মী কাঁচি নিয়ে তার দিকে তেড়ে আসেন বলেও দাবি করেন তিনি। এ সময় বাইরে থাকা লোকজন চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে দরজা ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। দরজা খোলার পর একজনের হাতে বড় ছুরি দেখতে পান বলেও অভিযোগ করেন মমতাজ। আতঙ্কিত হয়ে তারা সেখান থেকে চলে আসেন।

তার ভাষ্য, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন, তা তারা ভাবেননি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।

রোগীর শ্বশুর মো. আসাদুল্লাহ বলেন, মেয়ের জামাইকে ভালো চিকিৎসা করানোর জন্য ঢাকা মেডিকেলে এনেছিলাম। কিন্তু চিকিৎসা নিতে এসে হাসপাতালের নার্স ও কর্মচারীদের হাতে আমরা লাঞ্ছিত হয়েছি। আমার নাকে ঘুষি মেরে ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার স্ত্রী ও ছেলেকেও মারধর করা হয়েছে। ৫৯ বছর বয়সি আসাদুল্লাহ জানান, ঘটনার পর তিনি ও তার স্ত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তাদের কাছে রক্তমাখা পাঞ্জাবিসহ কাপড়চোপড়ও রয়েছে বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।

রোগীর শ্যালক সিয়াম হোসেনের অভিযোগ, প্রথমে তার দুলাভাই ইয়াকুবকে মারধর করা হয়। তাকে রক্ষা করতে গেলে তার বাবা আসাদুল্লাহর নাকে ঘুষি মারা হয়। পরে বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। এরপর মা মমতাজ বেগম এগিয়ে গেলে তার মাথায় স্টিলের পাইপ দিয়ে আঘাত করা হয়। সিয়ামের দাবি, মোট পাঁচজন এ হামলায় জড়িত ছিলেন।

পরিবারের দাবি, ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ১১ অক্টোবর রোববার সকাল ৯টায় প্রশাসনিক ভবনে ডেকে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে না পেয়ে তারা শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে হাসপাতালের স্টাফ নার্স তুহিন, জাকির হোসেন, তিতাস হোসেন, মো. সালাম ও অফিস সহকারী জাকির হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা আসাদুল্লাহ, তার স্ত্রী, ছেলে সিয়াম ও মেয়ের জামাই ইয়াকুবকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। আসাদুল্লাহর স্ত্রীর মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম এবং তার নাক ফাটিয়ে দেওয়া হয়। পরে তাদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন আসাদুল্লাহ।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন (ক্যাজুয়ালটি) ডা. মোস্তাক আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, জরুরি বিভাগে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীদের ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে হাসপাতাল প্রশাসন তাদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিল। তবে তারা আগে দেখা করতে আসেননি। হাসপাতাল প্রশাসন এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের বিষয়ে সর্বদা সচেষ্ট।

তিনি আরও বলেন, আমরা ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে দোষী ব্যক্তিদের যথাযথ শাস্তি হওয়ার পক্ষে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না হয়।

এদিকে, ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার এসআই মনিরুল ইসলাম এ প্রতিবেদকের খারাপ ব্যবহার করেন অভিযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে খালি আপনারা সাংবাদিকরা ফোন দেন। আপনাদের কাছে কি আমি জবাব দিব? আমরা রিপোর্ট দিব থানায়। সকাল থেকে আরও সাংবাদিক ফোন দিছে। আপনাদের কাছে বলতে বাধ্য নয়। ফালতু সাংবাদিক। এ কথা বলেই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে এর আগে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ এবং হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দুই দিনের মধ্যে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন বলে জানিয়েছে পরিবার।

এখন হাসপাতাল প্রশাসনের দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী তদন্ত কতটা নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয় এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর ভুক্তভোগী পরিবারের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পূজো উদ্বোধনে যাওয়ার পথে মমতার ওপর হামলার চেষ্টা, আটক এক নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৪ এম


পূজো উদ্বোধনে যাওয়ার পথে মমতার ওপর হামলার চেষ্টা, আটক এক নারী

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার চেষ্টা সংক্রান্ত অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কলকাতার কালীঘাটে নিজের বাসা থেকে বের হয়ে দুর্গাপূজার মণ্ডপ উদ্বোধন করতে যাওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ এক নারীকে আটক করেছে। তবে ঘটনার প্রকৃতি এবং ওই নারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনও সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

মমতা কালীঘাট মিলন সংঘের দুর্গাপূজার উদ্বোধনে যাচ্ছিলেন, যা তার বাড়ির নিকটবর্তী। তৃণমূল কংগ্রেসের সূত্র অনুযায়ী, মমতা বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর ভিড়ের মধ্যে এক নারী মিশে যান। এরপর তিনি মমতার কাছে গিয়ে তাকে ঘুষি মারার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। ওই নারী অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজও করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কিছু লোককে ‘গায়ে কে হাত দিল’ বলে চিৎকার করতে শোনা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, একপর্যায়ে ওই নারী মাটিতে শুয়ে পড়েন। পরে মমতার নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং কালীঘাট থানার পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আটক নারীর বাড়ি কলকাতার এস এন ব্যানার্জি রোড এলাকায়। পুলিশ তার সাথে কথা বলে ঘটনার কারণ জানার চেষ্টা করছে। তবে তার মানসিক অবস্থা বা আচরণের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির উত্তেজনাপূর্ণ সময়ে ঘটেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে সম্প্রতি দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন মমতা। কলকাতায় ফেরার পর মঙ্গলবার রাজাবাজার এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি মিছিল করার পরিকল্পনা ছিল। তবে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর বাধায় সেই কর্মসূচি অগ্রসর হয়নি বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল। এরপর সন্ধ্যায় পূজামণ্ডপ উদ্বোধনে যাওয়ার পথে মমতার ওপর হামলার চেষ্টা ঘটে। ফলে তার নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কিন্তু ঘটনাটি কীভাবে ঘটল, আটক নারী কীভাবে মমতার এত কাছে পৌঁছালেন এবং নিরাপত্তারক্ষীরা পরিস্থিতি সামাল দিতে কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তা তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে।

মমতা পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী। তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের উপস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তবে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ ও পুলিশের তদন্তের ফল সামনে না আসা পর্যন্ত নিগ্রহের অভিযোগের সব দিক নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%