আব্দুল আউয়াল মিছবাহ সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
১১:২০ এম
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার পলমাটি গ্রামের কৃতি সন্তান কবি আকিকুর রহমান তালুকদার সাহিত্য ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জহিরুল ইসলাম সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেছেন। তাঁর এ অর্জনে নিজ এলাকা ও সাহিত্যাঙ্গনে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
কবি আকিকুর রহমান তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত। কবিতা ও সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে তিনি নিজ এলাকার প্রকৃতি, সমাজ সচেতনতামূলক লেখা, অনিয়ম ও দূর্নীতি, মাটি, মানুষ, স্বাধীনতা ও সত্যের পক্ষে লেখা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর লেখায় ইতিহাস, মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও সমাজের বাস্তবচিত্র ফুটে ওঠে।
তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘রক্তাক্ত অলিগলি রাজপথ’, ‘সত্যের সন্ধানে’, এছাড়াও প্রকাশনের অপেক্ষায় রয়েছে। শিশু-কিশোরদের জন্য তাঁর লেখা ‘টাকলু দাদু’ ও ‘ছোটদের মা-বাবা’ পাঠকদের জন্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে
যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত বই ১। ‘রক্তাক্ত মানচিত্রে স্বাধীনতা’ ২। অখণ্ড বাংলার ভাস্কর্য ৩। স্বর্ণাক্ষরে লেখা কাব্য।
তাঁর লেখনিতে বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্য বিশেষভাবে উঠে এসেছে। দেশপ্রেম স্বাধীনতা ও জাতীয়তাবাদ চেতনাকে ধারণ করে তাঁর সাহিত্যকর্ম ইতোমধ্যে পাঠকমহলে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
জহিরুল ইসলাম সাহিত্য পুরস্কার অর্জনের প্রতিক্রিয়ায় কবি আকিকুর রহমান তালুকদার বলেন, এই সম্মাননা আমার সাহিত্যচর্চার অনুপ্রেরণা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে সমাজের অনিয়ম দূর্নীতি , দেশ ও মানুষের কল্যাণে আরও বেশি সাহিত্যকর্ম উপহার দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
মধ্যনগর উপজেলা বি এন পির যুগ্ন আহবায়ক আবুর বাশার তালুকদার এবং মধ্যনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাহিত্যপ্রেমী আব্দুল আউয়াল মিছবাহ তারা উভয়ই বলেন, প্রত্যন্ত জনপদ পলমাটি গ্রামের একজন কৃতী সন্তান হিসেবে আকিকুর রহমান তালুকদারের এই অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সম্মান নয়, বরং মধ্যনগরের সাহিত্যাঙ্গনের জন্যও গর্বের বিষয়। তাঁর এ সাফল্য নতুন প্রজন্মকে সাহিত্যচর্চায় উৎসাহিত করবে বলে আমরা আশা প্রকাশ করি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকটের সমাধানে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে কাজ করবে চীন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের পাশাপাশি রাজনৈতিক সম্পর্কেও বিএনপির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার কথা জানিয়েছে চীন।
বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ রয়েছে এবং চীন এই বিনিয়োগ ধারাবাহিকভাবে বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে।
এ সময় চীনের রাষ্ট্রদূত জানিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর শেষে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। চীন বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টালিউড অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায় নতুন সিনেমার শুটিং করতে নেপালে গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়েছেন। তিনি রাসুয়া জেলায় বন্যা ও পাহাড়ি ধসের কারণে যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে আটকে পড়েছেন।
তার সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী প্রতিভা মুখোপাধ্যায় এবং শুটিং ইউনিটের অন্যান্য সদস্যরা।
নেপাল পৌঁছান খরাজ মুখোপাধ্যায়। রাসুয়া জেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শুটিং চলাকালীন হঠাৎ করে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয় এবং নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যে রাস্তাঘাট এবং একাধিক সেতু ভেসে যায়।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সিনেমার শুটিং কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
যদিও টেলিযোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে, তবে খরাজ মুখোপাধ্যায় নিরাপদ ও অক্ষত রয়েছেন। তিনি সেখান থেকে মুঠোফোনে নিজের পরিস্থিতি জানিয়ে বলেন, ‘২৬ আগস্ট আমাদের কলকাতায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ভয়ঙ্কর বন্যা ও রাস্তাঘাট ভেসে যাওয়ায় আটকে পড়েছি।
কোনো ফ্লাইটের টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে গোরখপুর হয়ে আগামী ২৮ আগস্ট দেশে ফেরার চেষ্টা করব।’
একই সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিতে অভিনেতা রজতাভ দত্তও নেপাল গিয়েছিলেন। তবে তার অংশের কাজ আগে শেষ হয়ে যাওয়ায় দুর্যোগ শুরুর আগেই তিনি নিরাপদে কলকাতায় ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন। উল্লেখ্য, এই সিনেমায় বাংলাদেশের চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসও অভিনয় করছেন।
নেপালের রাসুয়া জেলায় বন্যায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৬২ জন এবং অনেকেই নিখোঁজ রয়েছেন। সেতু ও সড়ক ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আপাতত নিরাপদ আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছেন খরাজ মুখোপাধ্যায় ও তার শুটিং টিম, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিব্বতে উদ্ধার অভিযান বৃষ্টি এবং দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কঠিন হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের জিরং কাউন্টিতে একটি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে।
ভূমিধসের গভীরতা প্রায় ১ দশমিক ৫ মিটার এবং এটি সীমান্ত এলাকার ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ভূমিধসের এলাকা উঁচু পাহাড় এবং গভীর উপত্যকায় অবস্থিত। সেখানে পানি জমে থাকার কারণে এবং অব্যাহত বৃষ্টির জন্য উদ্ধার কাজ আরো চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। খারাপ আবহাওয়া এবং দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে উদ্ধারকারী দলের জন্য অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জিরং বন্দর থেকে ডিংরি বিমানবন্দর পর্যন্ত এলাকায় আগামী তিন দিন ধরে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে উদ্ধার অভিযান আরও কঠিন হতে পারে। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, পাহাড়ি এলাকার সরু রাস্তায় বড় যানবাহন এবং ভারী উদ্ধার সরঞ্জাম নিয়ে চলাচল করাও চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সিজাং এলাকায় অবস্থিত জিরং সীমান্ত বন্দরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
ভূমিধসের পর চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয় ভূতাত্ত্বিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্বিতীয় স্তরের জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। এটি দেশের চার স্তরের জরুরি ব্যবস্থার মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্তর। দেশের জাতীয় দুর্যোগ প্রতিরোধ, হ্রাস ও ত্রাণ কমিশন এবং জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ও দ্বিতীয় স্তরের জরুরি ব্যবস্থা কার্যকর করেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তার জন্য তাঁবু, চুলা, পোশাক, কম্বল, ভাঁজ করা বিছানা এবং মাদুরসহ ৩০ হাজার ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজের জন্য চীনের কেন্দ্রীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ তহবিল থেকে ১২০ মিলিয়ন ইউয়ান বরাদ্দ করা হয়েছে।
এছাড়াও, দুর্যোগের পর জরুরি পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের জন্য জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন আরও ১০০ মিলিয়ন ইউয়ান বরাদ্দ করেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিধসের কারণে জিরং বন্দরের দিকে যাওয়ার সড়ক, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এর ফলে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালের রসুয়া অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ফলে অন্তত ১৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৩০০ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন, যাদের অধিকাংশই মানসসরোবর তীর্থযাত্রী।
এ তথ্য বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড অন্বীক্ষা সামিটে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন।
দুর্যোগের ভয়াবহতা তুলে ধরে খানাল বলেন, "কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একের পর এক শহর কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।" তার দেওয়া প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, রসুয়া অঞ্চলে এই বন্যায় ১৬২ জন নিহত হয়েছে। পাশাপাশি, হাজারো পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে এবং বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজদের বিষয়ে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "হাজারো পরিবার ঘর হারিয়েছে এবং এখন পর্যন্ত বহু মানুষ নিখোঁজ। আমরা এখনো দুর্যোগের পূর্ণ মাত্রা নিরূপণের চেষ্টা করছি।"
নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ভারতীয়দের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য বলেও তিনি জানান। খানালের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্য দিয়ে মানসসরোবর যাত্রার জন্য বিদেশি নাগরিকরা যাতায়াত করেন। বর্তমানে প্রায় ৩০০ ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাসের সঙ্গে নেপাল সরকার নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করাকে নেপালি নাগরিকদের নিরাপত্তার মতোই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
সূত্র : এনডিটিভি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ