ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দুর্গাপুরে সাংবাদিক হত্যার ২৪ ঘণ্টা পর স্ত্রীর মামলা, আসামি ৮ জনই অজ্ঞাত


দুর্গাপুরে সাংবাদিক হত্যার ২৪ ঘণ্টা পর স্ত্রীর মামলা, আসামি ৮ জনই অজ্ঞাত

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৪০) হত্যার ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী আন্দদিতা সাংমা অজ্ঞাত ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় মামলা করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বিরিশিরির তেলুঞ্জিয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়ি এলাকার একটি দোকানের সামনে দুর্বৃত্তের গুলিতে সাংবাদিক আলিফ ফকির নিহত হন।

আরও পড়ুন: মহাসপ্তমীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন বিএমপি কমিশনার

লুৎফুজ্জামান আলিফ বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজও পরিচালনা করতেন।

মামলা দায়েরের পর নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী আন্দদিতা সাংমা বলেন, "থানায় মামলা করেছি। এখন আমি চাই যেন সুষ্ঠু বিচার পাই। আমার স্বামীকে যারা এভাবে হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই।"

তিনি আরও বলেন, "আমার দুটি ছোট ছোট বাচ্চা আছে। তাদেরও তো একটা নিরাপত্তা দরকার। তারা আমার স্বামীকে মেরে ফেলেছে আমার ছোট বাচ্চাদের ওপর যে এমন কিছু হবে না তার কী গ্যারান্টি? আমি তো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার ঘরের পাশ থেকে আমার স্বামীকে হত্যা করে রেখে গেল। এখন আমরা কতটা নিরাপদ? আমরা তো নিরাপদ না। এখন যে বাসায় যাব রাত কাটাব কীভাবে? ঘুম তো আসবে না।"

আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন এম পি কামরুজ্জামান কামরুল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০৩১ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদে থাকছেন জুড বেলিংহ্যাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১৫ এম


২০৩১ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদে থাকছেন জুড বেলিংহ্যাম

জুড বেলিংহ্যাম রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে তার সম্পর্ককে আরও দীর্ঘ করার পরিকল্পনা করছেন। ইংল্যান্ডের এই তারকা মিডফিল্ডার স্প্যানিশ ক্লাবটির সঙ্গে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত চুক্তি নবায়নের বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন। নতুন চুক্তির আওতায় তার বেতন-ভাতা বৃদ্ধি পাবে।

২০২৩ সালে জার্মান ক্লাব বরুসিয়া ডর্টমুন্ড থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যোগদানের সময় তার সঙ্গে ২০২৮-২৯ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত চুক্তি হয়েছিল। এবার ইউরোপের সফলতম ক্লাবটি তার মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে দীর্ঘ সময়ের জন্য তাকে দলে রাখা যায়।

রিয়ালে যোগ দেওয়ার পর থেকেই বেলিংহ্যাম তার সামর্থ্য প্রমাণ করে চলেছেন। তিনি মাঝমাঠে কার্যকর ভূমিকা পালন করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করে ম্যাচের গতিপথ পরিবর্তন করার দক্ষতাও দেখিয়েছেন। ক্লাবের হয়ে তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ও দলের ওপর প্রভাবের স্বীকৃতি হিসেবে নতুন চুক্তিতে আর্থিক সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে।

দানি কারভাহাল, লুকা মদ্রিচ ও টনি ক্রুসের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের বিদায়ের পর রিয়ালের নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে ক্লাবটি বেলিংহ্যামকে ভবিষ্যতের অন্যতম নেতা হিসেবে দেখছে। মাঠে তার পরিশ্রম, দায়িত্বশীলতা এবং সতীর্থদের উজ্জীবিত করার ক্ষমতা সমর্থকদের প্রশংসা অর্জন করেছে।

গত মৌসুমের শেষের দিকে চুক্তি নবায়ন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। শুরু থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব থাকায় সমঝোতায় পৌঁছানো সহজ হয়েছে বলে জানা গেছে। মাদ্রিদের জীবনযাত্রা ও ক্লাবের পরিবেশের সঙ্গে বেলিংহ্যামের মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

চোট ও শারীরিক সমস্যার কারণে বেলিংহ্যামকে সম্প্রতি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। কাঁধের অস্ত্রোপচারের বিষয়টিও তার ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলেছিল। তবে তিনি ধীরে ধীরে শারীরিক সমস্যা কাটিয়ে নিজের সেরা ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

কোচের কৌশলে আক্রমণভাগের কাছাকাছি স্বাধীনভাবে খেলার সুযোগ পেলে বেলিংহ্যামের কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পায়। কিলিয়ান এমবাপ্পের পেছনে থেকে আক্রমণে অবদান রাখার পাশাপাশি রক্ষণেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। দুই প্রান্তে তার সক্রিয় উপস্থিতি রিয়ালের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে বেলিংহ্যামকে ধরে রাখার উদ্যোগ রিয়াল মাদ্রিদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তার গুরুত্বকে তুলে ধরছে। আগামী বছরগুলোতে মাঝমাঠ ও নেতৃত্বে ইংলিশ এই তারকার ভূমিকা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুখ খোলা রেখে ঘুমালে শরীরে হতে পারে নানা সমস্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১৬ এম


মুখ খোলা রেখে ঘুমালে শরীরে হতে পারে নানা সমস্যা

ঘুমের সময় মুখ খোলা রেখে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস অনেকের মধ্যে দেখা যায়। বিশেষ করে সর্দি, অ্যালার্জি অথবা নাক বন্ধ থাকলে এমনটি হতে পারে। সকালে ঘুম থেকে উঠে স্বাভাবিক অনুভব করায় অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। তবে নিয়মিত মুখ খোলা রেখে ঘুমানোর অভ্যাস মুখের স্বাস্থ্য এবং ঘুমের মানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে ঘুমের সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার ফলে মুখ ও গলা শুকিয়ে যেতে পারে, নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় এবং দাঁত ও মাড়ির বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি নাক কিংবা শ্বাসনালির কোনো সমস্যা থাকলে এমন অভ্যাস তৈরি হতে পারে। তাই নিয়মিত এমন হলে এর পেছনের কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।

নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়া কেন বেশি উপকারী?

শ্বাস নেওয়ার সময় নাক কেবল বাতাস চলাচলের পথ হিসেবে কাজ করে না; এটি বাতাসকে পরিশোধন, উষ্ণ ও আর্দ্র করতেও সাহায্য করে। নাকের ভেতরের সূক্ষ্ম গঠন ধুলাবালি ও বিভিন্ন কণা আটকে রাখতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার সময় তৈরি হওয়া নাইট্রিক অক্সাইড ফুসফুসের কার্যক্রম ও রক্তপ্রবাহের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে।

অন্যদিকে, মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার ফলে বাতাস সরাসরি মুখ ও গলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে মুখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যেতে পারে এবং গলায় অস্বস্তি সৃষ্টি হতে পারে।

সর্দি-কাশি বা সাময়িক নাক বন্ধ থাকার কারণে মাঝে মাঝে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া সাধারণ ঘটনা। তবে দীর্ঘ সময় এমন হলে অ্যালার্জি, নাকের গঠনগত সমস্যা অথবা শ্বাসপ্রশ্বাসের অন্য কোনো জটিলতা রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

মুখ খোলা রেখে ঘুমালে যেসব সমস্যা হতে পারে

১. মুখ ও গলা শুকিয়ে যাওয়া

সারারাত মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার কারণে মুখের ভেতরের আর্দ্রতা কমে যেতে পারে। ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠে মুখ শুকনো লাগা, গলায় খুসখুসে ভাব অথবা ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

২. নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ

লালা মুখের ভেতর থেকে খাবারের অবশিষ্টাংশ ও কিছু ব্যাকটেরিয়া সরিয়ে রাখতে সাহায্য করে। মুখ শুকিয়ে গেলে লালার পরিমাণ কমে যায়। এর ফলে মুখে দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে।

৩. দাঁত ও মাড়ির সমস্যা

দাঁত ও মাড়িকে সুরক্ষিত রাখতে লালার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মুখ দীর্ঘ সময় শুকনো থাকলে দাঁতের ক্ষয়, মাড়িতে প্রদাহ এবং অন্যান্য মুখের সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

৪. ঠোঁট ফেটে যাওয়া ও জিহ্বায় আস্তরণ পড়া

ঘুমের সময় মুখ দিয়ে বাতাস চলাচলের কারণে ঠোঁটের আর্দ্রতা কমে যেতে পারে। এতে ঠোঁট শুষ্ক হয়ে ফেটে যেতে পারে। একই সঙ্গে জিহ্বায় সাদা বা অন্য ধরনের আস্তরণও দেখা দিতে পারে।

৫. নাক ডাকা ও ঘুমের ব্যাঘাত

মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস নাক ডাকার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। বিশেষ করে শ্বাসনালিতে বাধা থাকলে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে। ফলে পর্যাপ্ত সময় ঘুমানোর পরও সকালে ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।

২০২২ সালে পলিমারস (বাসেল) সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় মুখের আর্দ্রতা কমে যাওয়ার সঙ্গে দাঁতের ক্ষয় ও মুখের সংক্রমণের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তবে মুখ শুকিয়ে যাওয়ার পেছনে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও অন্যান্য শারীরিক কারণও থাকতে পারে।

মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া কি ঘুমের মান নষ্ট করে?

ঘুমের সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার সঙ্গে যদি শ্বাসনালির সমস্যা যুক্ত থাকে, তাহলে ঘুমের মান খারাপ হতে পারে। এর একটি সম্ভাব্য কারণ হলো অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া। এ সমস্যায় ঘুমের মধ্যে শ্বাসনালির ওপরের অংশ বারবার সরু হয়ে যায় বা বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা সৃষ্টি হয়।

স্লিপ অ্যাপনিয়ার সম্ভাব্য লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জোরে নাক ডাকা, ঘুমের মধ্যে দম আটকে আসা বা হাঁপিয়ে ওঠা, সকালে মাথাব্যথা এবং দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম পাওয়া।

আমেরিকান থোরাসিক সোসাইটির প্রকাশনায়ও স্লিপ অ্যাপনিয়া এবং স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তবে শুধু মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস থাকলেই কারও স্লিপ অ্যাপনিয়া হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এ ক্ষেত্রে অন্যান্য উপসর্গ ও চিকিৎসার ইতিহাস বিবেচনা করা জরুরি।

দীর্ঘ সময় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে মনোযোগ, মেজাজ এবং দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে নাক ডাকার সঙ্গে ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসা বা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ক্লান্তির মতো লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

মাঝেমধ্যে মুখ খোলা রেখে ঘুমানো সাধারণত উদ্বেগের কারণ নয়। তবে নিয়মিত এমন হলে, নাক দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে কিংবা ঘুমের মধ্যে জোরে নাক ডাকা ও শ্বাস আটকে আসার লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।

নাক বন্ধ থাকার কারণ শনাক্ত করে তার চিকিৎসা করা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা উপকারী হতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মুখে টেপ লাগিয়ে ঘুমানো উচিত নয়, বিশেষ করে নাক বন্ধ থাকা বা শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা থাকলে।

মুখ খোলা রেখে ঘুমানোর অভ্যাসকে সবসময় সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। নিয়মিত এমন হলে এর কারণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই সুস্থ ঘুম ও মুখের স্বাস্থ্য বজায় রাখার ভালো উপায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কমলনগরে নিষিদ্ধ সময়ে মা ইলিশ শিকারের দায়ে চারজনকে কারাদণ্ড ও জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১৮ এম


কমলনগরে নিষিদ্ধ সময়ে মা ইলিশ শিকারের দায়ে চারজনকে কারাদণ্ড ও জরিমানা

মেঘনা নদীতে নিষিদ্ধ সময়ে ডিমওয়ালা মা ইলিশ শিকার ও পরিবহনের দায়ে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে চারজনকে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আরাফাত হুসাইন তাদেরকে এই দণ্ড প্রদান করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন—উপজেলার চরফলকন এলাকার জেলে ফরহাদ হোসেন ও ইসমাইল হোসেন এবং একই এলাকার বাসিন্দা মো. নোমান ও মো. বাচ্চু। ফরহাদ ও ইসমাইলকে ১৩ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে নোমান ও বাচ্চুকে এক হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তূর্য সাহা জানিয়েছেন, জাতীয় মাছ ইলিশের ভরা প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা মা ইলিশ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে সরকার ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মেঘনা নদীর বিভিন্ন অববাহিকায় সকল ধরনের মাছধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই ২২ দিন নদীতে সব ধরনের মাছধরা নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ইলিশ ক্রয়-বিক্রয়, বাজারজাতকরণ, সংরক্ষণ এবং পরিবহনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ নিষেধাজ্ঞার বাস্তবায়নে শুক্রবার সকালে মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে মৎস্য বিভাগ ও কোস্টগার্ড যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। ওই সময় পাটারীরহাট মাছঘাট এলাকা থেকে মাছ শিকারকালে দুই জেলে এবং মাছ পরিবহনের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে প্রায় ৮০ কেজি ইলিশ মাছসহ আটক করা হয়। পরে তাদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে বিচারক দুই জেলেকে ১৩ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অপর দুই ব্যক্তিকে এক হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডের রায় দেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আরাফাত হুসাইন জানান, মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ আইনে এ দণ্ড প্রদান করা হয়েছে। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জেলেদের থানা পুলিশের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত দুইজন নগদ অর্থ প্রদান করে ছাড়া পেয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে ডিজিটাল ‘মব সন্ত্রাস’: কারা এর পেছনে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২০ এম


বাংলাদেশে ডিজিটাল ‘মব সন্ত্রাস’: কারা এর পেছনে?

সম্প্রতি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগে শামীম রেজা (জাহাঙ্গীর) নামের এক সুফি সাধককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। একই অভিযোগে ময়মনসিংহে পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকেও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। জামায়াত অধ্যুষিত সাতক্ষীরায় ‘ডিজিটাল মব সন্ত্রাস’ করে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের একজনকে হত্যা করা হয়। এসব ঘটনার মাধ্যমে কী প্রমাণিত হচ্ছে? নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে আইনের শাসন কি সামঞ্জস্যপূর্ণ? যখন দেশকে ‘মৌলবাদের উত্থান’ রাষ্ট্র প্রমাণের অপচেষ্টা চলছে দেশি ও আন্তর্জাতিকভাবে, তখন বিএনপির নেতাকর্মীরা কি নিস্তব্ধ হয়ে রয়েছেন?

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া এলাকায় পল্লি চিকিৎক ওয়াহিদুজ্জামান শামীমের বিরুদ্ধে গত ১৩ অক্টোবর ফেসবুকে অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলা হয়। স্থানীয়ভাবে ‘ফেসবুক লাইভ’ করে লোক জড়ো করে শামীমকে প্রথম দফায় গণপিটুনি দেয়া হয়। পুলিশ তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে, রাতে কয়েকশো মানুষের একটি উগ্র মব হাসপাতালের পেছনের দরজা ভেঙে ওয়ার্ড থেকে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে দ্বিতীয় দফায় পিটিয়ে হত্যা করে। নিহত যুবকটি দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন, পরিবারের দাবি অনুযায়ী। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এই পৈশাচিক ঘটনার প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘দেশ (উগ্র) ডানপন্থার ট্রেনে উঠে গেছে। হরেক রঙের নরম-গরম ডান মিলে এটা নিশ্চিত করে ছাড়বে। এসব ডিজিটাল মব আদতে সিস্টেমেটিক প্রোপাগান্ডা ও ক্যারেক্টার এসাসিনেশন মেকানিজম। এ মেকানিজমকে এড়িয়ে যাওয়ার উপায় সহসা নেই।’

তিনি পোস্টে সংস্কারের আড়ালে ক্ষমতার লোভে প্রধান দলগুলোর রাজনৈতিক অবস্থানকে দায়ী করে বলেন, ‘সংস্কারের নামে (ক্ষমতার জন্য?) বিএনপির বিরোধিতা করতে গিয়ে জাশির (জামায়াত-শিবির) কাছে যাওয়ার খেসারত সেকুলার সমাজের দিতেই হবে। ট্রাডিশনাল আলেম সমাজকেও জাশিকে সার্ভিস দেয়ার খেসারত দিতে হবে।’

রাজনৈতিক পূর্বাভাসে মাহফুজ আলমের মতে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থান যত শক্তিশালী হবে, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসার সম্ভাবনা ততটাই অনিবার্য হয়ে উঠবে। তিনি ব্যঙ্গাত্মক সুরে লেখেন, ‘গুড টাইম ইজ কামিং ফর জাশি এন্ড ৭২ আদার্স। এ আশু ভবিষ্যৎ পাল্টানোর সাধ্য আপাতত কারো নেই।’ দেশের বিএনপি ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের সমালোচনা করে লেখেন, ‘তোমরা বাকিরা আপাতত জাশি প্রযোজিত কালচারাল ওয়ারে নিজেদের ব্যস্ত রাখো।’

দীর্ঘ দেড় যুগ পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায়। দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতির উন্নয়ন, বিদেশি বিনিয়োগ এনে দেশে বেকারত্ব দূরীকরণ এবং নানামুখী সংকট থেকে উত্তরণের চেষ্টা যখন চলছে; তখন একের পর এক অপ্রীতিকর ঘটনা কেন ঘটছে? এর নেপথ্যে কারা? দিল্লিতে বসে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে ‘উগ্রবাদী রাষ্ট্র’ তকমা দেয়ার মিশন পরিচালনা করছে; হিন্দুত্ববাদী ভারত বাংলাদেশে ‘মৌলবাদী রাজনীতি উত্থান’ প্রচারণা চালাচ্ছে। শেখ হাসিনা ও ভারতের এসব এজেন্ডা বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি করতে ধর্মের নামে একের পর এক পৈশাচিক কাণ্ড ঘটানো হচ্ছে। কখনো অস্থায়ী পূজা মণ্ডপের পাশে গরুর গোশত রান্না করা, কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজাব নিয়ে বিশৃঙ্খলা, কখনো ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি টানানো নিয়ে বিশৃঙ্খলা ইস্যু সৃষ্টি রহস্যজনক নয় কি?

ইসলাম ধর্ম কখনোই উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেয় না। ‘ইসলাম’ শব্দের আভিধানিক অর্থ শান্তি। ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলা হয় কারণ এর মূল শিক্ষা ও দর্শন মানবজীবনে ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি ও শৃংখলা প্রতিষ্ঠা করা। ইসলামী চিন্তাবিদরা বলে থাকেন, ইসলামে জবরদস্তি বা বিনা কারণে সহিংসতা নিষিদ্ধ। মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে ক্ষমা ও উদারতার আদর্শ স্থাপন করেছেন। এমনকি পশু-পাখির প্রতিও অযথা নিষ্ঠুরতা না করার এবং তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করার শিক্ষা ইসলামে রয়েছে। অথচ কারণে অকারণে ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে কখনো ‘মব সন্ত্রাস’ করে কখনো ‘ডিজিটাল মব’ করে মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটছে। আইনের শাসনের সঙ্গে এ ধরনের বর্বরতা, পৈশাচিকতা যায় না। অথচ ৯২ ভাগ মুসলমানের দেশে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার পরও ‘উগ্রবাদী মব সন্ত্রাস’ নীরব দর্শক হয়ে দেখছে।

বিএনপি ক্ষমতায়; দলটি তৃণমূল পর্যায়ে অনেক শক্তিশালী এবং রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে দলটির নেতাকর্মীরা ছড়িয়ে রয়েছেন। দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকলে সে দলের নেতাকর্মীদের উপর আইন শৃংখলা পরিস্থিতি রক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে ইনসাফের রাজনীতি চর্চার দায়িত্ব পড়ে। ৮ মাস আগে ক্ষমতায় আসা দলটির নেতাকর্মীরা যেন এসব দায়িত্বকে থোড়াইকেয়ার করে নিজেদের ‘ভাগ্যের পরিবর্তনে’ অধিক মনোযোগী হয়ে পড়েছেন। ইসলামী ধারার রাজনীতি তথা ‘আল্লাহর আইন কায়েম’ দোহাই দিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে, হিন্দুত্ববাদী ভারতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে একের পর এক অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দেয়া হচ্ছে ধর্মের দোহাই দিয়ে; তারপরও বিএনপি যেন নিজেদের মধ্যে হারিয়ে গেছে।

‘ইসলামের’ নামে জামায়াতের রাজনীতির মর্মকথা অনুধাবন করে সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম যে উপলব্ধি করেছেন, ‘গুড টাইম ইজ কামিং ফর জাশি (জামায়াত-শিবির) অ্যান্ড ৭২ আদার্স (আওয়ামী লীগ)। এ আশু ভবিষ্যত পাল্টানোর সাধ্য আপাতত কারো নেই। আর, জাশি যত গুড টাইমে যাবে, ততই লীগ ফেরা অনিবার্য হয়ে উঠবে। উই আর গোয়িং ব্যাক টু সেভেন্টি-ওয়ান। যেখানে বিএনপির একাংশ জাশির দুনিয়ায়, অন্য অংশ লীগের দুনিয়ায় বাস করবে। তোমরা বাকিরা আপাতত জাশি প্রযোজিত কালচারাল ওয়ারে নিজেদের ব্যস্ত রাখো।’ বিএনপির নেতাদের এই উপলব্ধি হতে তো বড় পণ্ডিত প্রয়োজন নেই। তাহলে কি বিএনপির নেতা-মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-এমপিরা দলের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের বদলে নিজেদের ‘পদ-পদবি’ ভোগ বিলাসে বেশি ব্যস্ত?

এটা ঠিক অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে দেশে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা হয়েছে। আইন শৃংখলা বাহিনীর অমনযোগিতার সুযোগ নিয়ে ‘মব সন্ত্রাস’ এ ২৫৯ জন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। ওই সময় অন্তর্বর্তী সরকারের আশপাশের লোকজনের প্রচ্ছন্ন পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত এ মব সন্ত্রাসের সুফল ভোগ করেছে জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে জন্ম নেয়া দল এনসিপি। পুলিশকে অন্ধকারে রেখে নানা অজুহাতে মব সন্ত্রাস করায় ফ্যাসিস্ট হাসিনার সুবিধাভোগ বড় বড় ব্যবসায়ী-শিল্পপতিরা ‘মব সন্ত্রাস’ থেকে বাঁচতে রাতের আঁধারে মব সন্ত্রাসের মাস্টারমাইণ্ডদের অর্থ দিতেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে গরুর গোশতের ফাও ঝোলের জন্য যারা অপেক্ষা করতেন দেড় বছরের মধ্যেই তারা কোটিপতি হন। বাসে ঝুলে যাতায়াত করতেন, এখন তারা প্রাডো, বিএমডব্ল্উি গাড়িতে ঘুরে বেড়ান। অন্তর্বর্তী সরকার ছিল অনির্বাচিত এবং তাদের জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা তেমন ছিল না। কিন্তু নির্বাচিত বিএনপি সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেয়া। শেখ মুজিবের শাসনামলে ১৯৭৩ সালে প্রখ্যাত রাজনীতিক নির্মল সেন লিখেছিলেন ‘স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারাস্টি চাই’। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ডিজিটাল মব করে সুফিসাধক শামীম রেজা (জাহাঙ্গীর), পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাস, ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে হত্যার ঘটনা কি দেশে স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টির বার্তা দেয়?

এটা ঠিক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখনো তিনি দেশেকে ‘জঙ্গী রাষ্ট্র’ ও ‘ইসলামী মৌলবাদীদের উত্থান’ প্রমাণের চেষ্টা করেছেন। ১৯৯৮-৯৯ সালে যখন ব্রিটিশ প্রিন্স চার্লস এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন বাংলাদেশ সফর করেন, তখন তাদের হাতে ‘বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের উত্থান’ ফিরিস্তি তুলে ধরে বই উপহার দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে পশ্চিমাদের ‘জঙ্গী তকমা’ প্রমাণের জন্য জঙ্গী ধারার অনেক নাটক করেছেন শেখ হাসিনা ও তার তথাকথিত প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীরা। দেরিতে হলেও মার্কিনীরা বুঝতে পেরে ‘জঙ্গী’ ইস্যু থেকে সরে এসেছে। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত পলাতক শেখ হাসিনা ভারতে বসে দিল্লির প্রযোজনায় ‘বাংলাদেশে মৌলবাদীদের উত্থান’ প্রচারণা চালাচ্ছে। এমন অপপ্রচার বোঝার পরও জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের রাজনীতি চর্চার নামে ‘দেশকে মৌলবাদীর উত্থান’ প্রমাণের জন্য একের পর এক কাণ্ড করছে। যেটা সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ধরতে পেরে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। অথচ ক্ষমতাসীন বিএনপির নীতি নির্ধারকরা মব সন্ত্রাস, মৌলবাদের উত্থান ইস্যুর বাড়বাড়ন্তেও নীরবতা পালন করছেন। হিন্দুত্ববাদী ভারত ও শেখ হাসিনা যৌথভাবে বাংলাদেশকে একটি ‘মৌলবাদী বা উগ্রবাদী রাষ্ট্র’ তকমা দেয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। তারেক রহমানের সরকারের বিরুদ্ধে জামায়াতের লংমার্চ কর্মসূচির পর থেকে এই ধরনের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র আরো বেগবান হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বট বাহিনীর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের নেতিবাচক ভাবমর্যাদা তৈরির চেষ্টা চলছে। দিল্লিতে পলাতক হাসিনা ও দেশীয় একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন ঘটনা ও সামাজিক বিশৃংখলাকে অতিরঞ্জিত করে বিশ্বদরবারে উপস্থাপন করছে। দেশি-প্রবাসী সাংবাদিক বিদেশি গণমাধ্যমে ‘বাংলাদেশের সম্প্রীতি’ নষ্ট করার জন্য পরিকল্পিতভাবে ভুয়া তথ্য ও গুজব ছড়াচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাধারণ অপরাধ বা সামাজিক আইনশৃংখলার অবনতিকে ধর্মীয় এবং উগ্রবাদী রূপ দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশকে একটি অস্থিতিশীল এবং উগ্রপন্থী রাষ্ট্র হিসেবে ব্র্যান্ডিং করা। যা দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অথচ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী করতে নানা ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছেন। দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র এবং মুক্তচিন্তার সুরক্ষায় ক্ষমতাসীন দল ও নাগরিক সমাজের ঐক্যবদ্ধ থাকা যখন জরুরি। তখন সুশীল সমাজ ঘুমিয়ে এবং ক্ষমতাসীন বিএনপি নীরব দর্শক। বিএনপির এই নীরবতা দেশকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে একবার ভেবে দেখা উচিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%