শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২০ পি.এম
বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজিবাহী জাহাজ থেকে গ্যাস খালাসে সাময়িক বিলম্ব হলেও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে।
তিনি উল্লেখ করেন, শুক্রবার সকাল ৭টা ১৮ মিনিট থেকে এলএনজি খালাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং দুপুরের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় যশোর সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত যশোর জেলা হাসপাতাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
গ্যাস ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজিবাহী জাহাজ থেকে গ্যাস খালাসে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল। ফলে সাময়িকভাবে গ্যাসের চাপ কমে যায়। তবে খালাস কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
এদিকে যশোরবাসীর জন্য সুখবর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যশোরে পূর্ণাঙ্গ করোনারি কেয়ার ইউনিটের (সিসিইউ) সেবা চালু করা হবে। গুরুতর হৃদরোগীদের চিকিৎসার জন্য অন্য জেলায় যেতে না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।
যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং রোগীদের সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিরা নাজমুল মুন্নি, যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা, যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হুসাইন শাফায়াতসহ স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা সেতু (উত্তর) থানার দক্ষিণ মেদেনীমণ্ডল মাওয়া পুরাতন ঘাটের একটি অটোরিকশার গ্যারেজ থেকে ৯৫টি পুরোনো ব্যাটারি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৩টার সময় মুখোশ পরিহিত কয়েকজন দুর্বৃত্ত গ্যারেজের তালা ও শিকল কেটে ভিতরে প্রবেশ করে। তারা পাহারাদার মাসুমকে বেঁধে মারধর করে এবং হত্যার হুমকি দেয়। পরে তারা ২২টি অটোরিকশা থেকে ৯৫টি ব্যাটারি ও ২২টি চার্জার নিয়ে পালিয়ে যায়। লুট হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এই ঘটনার পর ২৪ সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতু (উত্তর) থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে যাত্রাবাড়ী থেকে মো. মাসুদ (৩৩), সিরাজদিখানের মালখানগর থেকে আছলাম শেখ (৩৮) এবং টঙ্গীবাড়ীর দক্ষিণ বেতকা থেকে মো. সজিব ফকিরকে (২৯) গ্রেফতার করা হয়। মাসুদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে লুট হওয়া ৯৫টি ব্যাটারি।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ঘটনার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতার হওয়া আছলাম শেখের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে চারটি মামলা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে শুক্রবার সকালে, যেখানে পরিকল্পিত সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও সহিংসতার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদ জানানো হয়। জেলা শহরে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সংগঠন তিনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
এ কর্মসূচির নেতৃত্বে ছিলেন জেলা যুবদলের সভাপতি খসরুজ্জামান জিএস শরীফ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ সুমন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন সাজ্জাদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শহীদুল্লাহ্ কায়সার শহীদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ওয়ালীউল্লাহ রাব্বানী তৌকি, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মারুফ মিয়া, বর্তমান সভাপতি শরীফুল ইসলাম নিশাদ, সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওশাদ এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রাজীব।
শুক্রবার সকাল থেকেই কিশোরগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় নেতাকর্মীরা পরিকল্পিত সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও সহিংসতার প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মিছিলের পর শহরের পুরান থানা এলাকার ইসলামিয়া সুপার মার্কেটে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সহিংসতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
বক্তারা উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক অংশ। তবে সেই মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, সন্ত্রাস বা আতঙ্ক সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে দেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।
তারা আরও বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কোনো পক্ষ যাতে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য বা সহিংসতার মাধ্যমে জনজীবনে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মীদেরও দায়িত্বশীল আচরণ এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার আহ্বান জানান বক্তারা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা জানান তারা।
সমাবেশে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, জনসম্পৃক্ত রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের পাশে থেকে দেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে তারা কাজ করে যাবেন।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে জেলা শহরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। এ কর্মসূচিতে সংগঠন তিনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মন্তব্য করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের উপর নির্ভর করছে যুদ্ধ কখন শেষ হবে। ফক্স নিউজের ‘স্পেশাল রিপোর্ট উইথ ব্রেট বায়ের’ অনুষ্ঠানে তিনি এই বিষয়টি তুলে ধরেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রচারিত সাক্ষাৎকারে, সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চান, বছরের শেষ হওয়ার আগে কি এই সংঘাতের সমাপ্তি ঘটতে পারে? এর জবাবে মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরা এটি চালিয়ে যেতে চাই না। আমেরিকাকেই বেছে নিতে হবে যে তারা এটি শেষ করতে চায় কি না।’
যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে যখন ব্যাপক দূরত্ব রয়েছে, তখন বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তেহরান কখনোই মার্কিন চাপের কাছে মাথা নত করবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য কোনো সমঝোতা না হলে তিনি ইরানকে ‘ধ্বংস’ করে দিতে পারেন। তবে তিনি এ-ও ইঙ্গিত করেছেন যে, শিগগিরই একটি চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর, তেহরান পাল্টা হামলা চালায় উপসাগরীয় দেশগুলোতে যেখানে মার্কিন এবং ইসরায়েলি ঘাঁটি অবস্থিত। এই ঘটনার পর থেকে ট্রাম্প যুদ্ধের লক্ষ্য ও সময়সীমা পরিবর্তনের কথা বলছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং লেবাননে ইসরায়েলি আক্রমণে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে দুর্বল করে দেওয়াকে তার যুদ্ধের অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইরানের দাবি, তাদের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই এবং তারা তা অর্জনের চেষ্টা করার কথাও অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ। পারমাণবিক অসংঘাত চুক্তির পক্ষ হিসেবে তেহরান বলছে, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক প্রযুক্তি বিকাশের অধিকার তাদের রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকাই চলচ্চিত্রে নায়ক মানেই যখন নির্দিষ্ট কিছু ছাঁচের মধ্যে আবদ্ধ ছিল, তখন অভিনয়, গান এবং স্টাইলিশ ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে সেই ধারণা পাল্টে দিয়েছিলেন জাফর ইকবাল। রুপালি পর্দায় তিনি কখনো রোমান্টিক নায়ক, কখনো দুর্দান্ত অ্যাকশন হিরো—বিভিন্ন রূপে দর্শকদের মন জয় করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীতেও তার বিচরণ ছিল সমান। ভক্তদের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘বাংলার এলভিস প্রিসলি’ হিসেবে। আজ এই কিংবদন্তি অভিনেতা ও সংগীতশিল্পীর জন্মদিন।
১৯৫০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার পল্টনে জন্মগ্রহণ করেন জাফর ইকবাল। মাত্র ৪১ বছর বয়সে তার জীবন থেমে যায়। তবে এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই অভিনয় ও সংগীতে তিনি এমন কিছু স্মৃতি রেখে গেছেন, যা আজও দর্শক-শ্রোতার হৃদয়ে তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
অভিনয়ের আগেই গানের জগতে
ছোটবেলা থেকেই জাফর ইকবালের সংগীতের সঙ্গে পরিচয় ছিল। তার বড় ভাই আনোয়ার পারভেজ ছিলেন খ্যাতিমান সংগীত পরিচালক এবং সুরকার। ছোট বোন শাহনাজ রহমতুল্লাহও দেশের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী ছিলেন। সংগীতময় পরিবারে বেড়ে ওঠার ফলে গানের প্রতি আগ্রহ স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছিল।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে, ১৯৬৬ সালে, বন্ধুদের নিয়ে একটি ব্যান্ড গড়ে তোলেন জাফর ইকবাল। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের আগে সংগীতশিল্পী হিসেবে তার পথচলা শুরু হয়। পরবর্তীতে রুপালি পর্দায় জনপ্রিয়তা পেলেও গানের সঙ্গে তার সম্পর্ক কখনো বিচ্ছিন্ন হয়নি।
১৯৬৯ সালে খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘আপন পর’ সিনেমার মাধ্যমে তার বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে। ছবিটিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন কবরী। এরপর ধীরে ধীরে অভিনয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করেন জাফর ইকবাল। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেও পরিচিত। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন প্রয়াত এই নায়ক।
‘মাস্তান’ থেকে ‘নয়নের আলো’
সত্তরের দশকের মাঝামাঝি ‘মাস্তান’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে ড্যাশিং নায়ক হিসেবে পরিচিতি পান জাফর ইকবাল। পর্দায় তার উপস্থিতি, ব্যক্তিত্ব এবং অভিনয়ের ধরন দর্শকদের কাছে তাকে আলাদা করে তোলে। এরপর ‘নয়নের আলো’ তাকে প্রতিষ্ঠিত করে রোমান্টিক নায়ক হিসেবে।
তবে জাফর ইকবালের তারকাখ্যাতির পেছনে শুধুমাত্র অভিনয় কিংবা জনপ্রিয় সিনেমা ছিল না। সমসাময়িক অনেক নায়কের তুলনায় তার পোশাক, চুলের ছাঁট এবং ব্যক্তিত্ব ছিল ব্যতিক্রম। পর্দায় তার শরীরী ভাষা এবং চরিত্র ফুটিয়ে তোলার নিজস্ব ধরনও তৈরি করেছিল আলাদা এক স্টাইল।
এ কারণে পরবর্তী সময়ে তাকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম স্টাইলিশ নায়ক ও ফ্যাশন আইকন হিসেবে স্মরণ করা হয়। তার সাজপোশাক ও ব্যক্তিত্বের প্রভাব সে সময়ের তরুণদের মধ্যেও দেখা যেত।
কেন ‘বাংলার এলভিস প্রিসলি’?
জাফর ইকবালকে ভক্তরা ‘বাংলার এলভিস প্রিসলি’ নামেও ডাকতেন। পশ্চিমা সংগীতের কিংবদন্তি এলভিস প্রিসলির প্রতি তার অনুরাগ ছিল। সংগীতচর্চা, পোশাক এবং ব্যক্তিত্বে সেই প্রভাবের ছাপও পাওয়া যেত। সব মিলিয়ে এই উপাধি হয়ে ওঠে তার পরিচয়ের একটি অংশ।
অভিনেতা হিসেবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি সংগীতশিল্পী হিসেবেও তিনি নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন। তার প্রথম সিনেমায় গাওয়া গান ছিল ‘পিচ ঢালা পথ’। তার কণ্ঠে গাওয়া ‘হয় যদি বদনাম হোক আরও’, ‘সুখে থেকো ও আমার নন্দিনী’ এবং ‘প্রেমের আগুনে’ গানগুলো শ্রোতাদের কাছে পরিচিত। আশির দশকে প্রকাশিত হয়েছিল তার একটি অডিও অ্যালবামও।
দেড় শতাধিক সিনেমায় অভিনয়
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য সিনেমায় কাজ করেছেন জাফর ইকবাল। তার অভিনীত ছবির সংখ্যা প্রায় ১৫০। উল্লেখযোগ্য সিনেমার তালিকায় রয়েছে ‘সূর্য সংগ্রাম’, ‘মাস্তান’, ‘নয়নের আলো’, ‘অবুঝ হৃদয়’, ‘ভাই বন্ধু’, ‘অবদান’, ‘প্রেমিক’, ‘আশীর্বাদ’, ‘প্রতিরোধ’, ‘এক মুঠো ভাত’, ‘মেঘ বিজলী বাদল’, ‘সন্ধি’ এবং ‘বন্ধু আমার’সহ আরও অনেক ছবি। ববিতার সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি সবচেয়ে বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তাদেরকে একসঙ্গে প্রায় ৩০টি ছবিতে দেখা গেছে।
বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে নিজের বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। কখনো রোমান্টিক আবহে, কখনো অ্যাকশন দৃশ্যে—পর্দায় তার উপস্থিতি দর্শকদের কাছে ছিল আকর্ষণীয়। অভিনয় ও সংগীতের এই যুগল পরিচয়ই তাকে সমসাময়িক তারকাদের থেকে আলাদা করেছিল।
৪১ বছরেই থেমে যায় পথচলা
জাফর ইকবালের জীবনের শেষ অধ্যায় এসেছিল বড় অসময়ে। নিয়ন্ত্রণহীন জীবনযাপনের কারণে একসময় ক্যান্সারে আক্রান্ত হন তিনি। দেখা দেয় হার্টের সমস্যা। দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে যায়। শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগে ১৯৯২ সালের ৮ জানুয়ারি মাত্র ৪১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তার শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ছিল ‘লক্ষ্মীর সংসার’।
জীবন খুব বেশি দীর্ঘ হয়নি, কিন্তু শিল্পী হিসেবে তার অর্জন ছিল বহুমাত্রিক। সময়ের ব্যবধানে ঢাকাই চলচ্চিত্রের অনেক কিছু বদলে গেলেও দর্শকের স্মৃতিতে তিনি আজও সেই স্টাইলিশ নায়ক, যার উপস্থিতি ছিল একেবারেই নিজস্ব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ