০৫:৩৫ পি.এম
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে বিদ্যালয় ভবনের অতিরিক্ত কক্ষ নির্মাণের কাজে সাটারিংয়ে স্টিলের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি উপজেলার চরকাদিরা কে এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবনের অতিরিক্তি কক্ষ ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে। উপজেলা স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর প্রকৌশলী আবদুল কাদের মোজাহিদের বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রাক্কালন বহির্ভূত কাজ করিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয়রা।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে একটি প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ৯টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য দুই কোটি ৪৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রাক্কালন অনুযায়ী, ভবনের কলাম, টাইবিম, লিন্টেল ও ছাদের ঢালাই কাজে আধুনিক স্টিল সাটারিংয়ের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রবাসী নিহত, আহত ৪ জন।
নির্মাণের গুণগত মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে নির্ধারিত মানের ১৬ বিডাব্লিউজি এমএস শিট ও নির্দিষ্ট মাপের অ্যাঙ্গেল ব্যবহারেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ৯টি বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত কক্ষ ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজের মেয়াদ রয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কাজের মাত্র ২৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ, প্রকৌশলী চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করেছেন।
এক্ষেত্রে প্রত্যেক বিদ্যালয়ে শুধুমাত্র স্টিল শাটারিং বাবদ বরাদ্দ ধরা হয়েছে সাড়ে তিন লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু সরকারের এ নির্দেশনা ও অনুমোদিত নকশা উপেক্ষা করে সাটারিংয়ে স্টিলের পরিবর্তে নিম্নমানের পুরনো বাঁশ, কাঠ ও জরাজীর্ণ উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এই কাজের জন্য সরকারী অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা প্রকৌশলীর প্রত্যক্ষ মদদেই ঠিকাদাররা এভাবে কাজ করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন প্রধান শিক্ষক উল্লেখ করেন যে, সরকার একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ২.৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও ওই উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
বিষয়টি সম্পর্কে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গোফরান ট্রেডার্স ও ফয়সাল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. গোফরান জানিয়েছেন, প্রাক্কালন অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে এবং সবকিছু উপজেলা প্রকৌশলীর নির্দেশনা অনুযায়ী চলছে। এ ব্যাপারে কমলনগর উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল কাদের মোজাহিদ জানান, তিনি কিছু অনিয়ম পেয়েছেন এবং ঠিকাদারকে নোটিশও দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: কমলনগরে কোরআনের আলোয় আলোকিত ৫ শিক্ষার্থী, ফয়জুল কোরআন ইসলামী একাডেমির সংবর্ধনা
এলজিইডির লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী বলেছেন, তিনি অনিয়মের ঘটনাটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডির) নোয়াখালী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মহসিন বলেছেন, এই ঘটনা অনুসন্ধান করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন