কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
০৩:১৪ পি.এম
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা আদর্শ কলেজে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা সভা, রচনা প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিহাস-ঐতিহ্য, দেশপ্রেম, জাতীয় ঐক্য ও সংহতির চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াস নেওয়া হয়।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে কলেজের সভাকক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসটির কর্মসূচির শুভ সূচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কলেজের অধ্যক্ষ এম.এম. মুজিবুর রহমান মুজিব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ এম.এম. মুজিবুর রহমান মুজিব বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এ দিনের ঐতিহাসিক পটভূমি, জাতীয় ঐক্য ও সংহতির চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্বাধীনতার চেতনা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতি বজায় রেখে দেশের অগ্রযাত্রায় সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ কবিরুল আলম, সহকারী অধ্যাপক লাকিবুর রহমান মিয়া ও প্রভাষক মো. শাকিল হোসেন। বক্তারা দিবসটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন করা এবং জাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রভাষক মো. বাবুল শিকদারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের চিন্তা, মনন ও লেখনীর মাধ্যমে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরে। আলোচনা সভা শেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তকের গণ্ডির বাইরে ইতিহাসচর্চায় আগ্রহী করা, সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ এবং দেশপ্রেম ও জাতীয় মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। এ ধরনের শিক্ষামূলক আয়োজন শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, মনন ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় সুধীজনেরা অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালীতে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলের উদ্যোগে পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, রচনা প্রতিযোগিতা, প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বেলা সোয়া ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে দিবসটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আক্তার।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নানের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আহসান কবীর, সাধারণ সম্পাদক এইচএম দীন মোহাম্মদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাফিউল আজম দুলাল,সিনিয়র সহসভাপতি মনিরুজ্জামান মিয়া, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোমা রানী দাস, কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওয়াহিদুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা কৃষ্ণকান্ত নাথ, সহকারী অধ্যাপক মোঃ আখতারুজ্জামান এবং উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ইউএনও রেহেনা আক্তার বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ঐতিহাসিক এ দিনের চেতনা ও তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে রচনা প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতায় কাউখালীতে সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে দিবসটি উদযাপন করা হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসএম আহসান কবীর ও সাধারণ সম্পাদক এইচএম দীন মোহাম্মদ তাঁদের বক্তব্যে বলেন, ৭ নভেম্বর বহুদলীয় গণতন্ত্র, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহী-জনতার ঐক্যের মাধ্যমে দেশ ও জাতিকে চরম সংকট থেকে মুক্ত করা হয়েছিল। বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা এবং জাতীয় সংহতি সুদৃঢ় করার যে শিক্ষা এ দিন আমাদের দেয়, তা ধারণ করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ