ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

সুন্দরবনের দুবলার চরে পর্যটক রিয়াজ আহমেদ নিখোঁজ, উদ্ধার অভিযান চলছে


সুন্দরবনের দুবলার চরে পর্যটক রিয়াজ আহমেদ নিখোঁজ, উদ্ধার অভিযান চলছে

সুন্দরবনের দুবলার চর এলাকায় এক পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। রিয়াজ আহমেদ (২৭) নামের এই পর্যটক বোট থেকে নেমে বোট ছাড়ানোর চেষ্টা করার সময় ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে যান। ঘটনার পর থেকে বন বিভাগ এবং কোস্ট গার্ড যৌথভাবে তাঁকে উদ্ধারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে।

নিখোঁজ রিয়াজ আহমেদ ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা কাঠালী পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ থেকে তিন দিনের অনুমতি নিয়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা ফরেস্ট স্টেশনে রাজস্ব প্রদান করেন তিনি এবং তাঁর সঙ্গীরা। ‘মিজানুর রহমান ইকো ট্যুরিজম-২’ (বিএলসি নম্বর: ২৬২৭০৮০৬০০৪) নামের পর্যটকবাহী বোটটি গত ৫ নভেম্বর সুন্দরবন ভ্রমণে যাত্রা করে। ওই বোটে নরসিংদীর ৯ জন, ময়মনসিংহের ৯ জন এবং গাজীপুরের ১ জনসহ মোট ১৯ জন পর্যটক ছিলেন।

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শাহিনুর ইসলাম জানান, নতুন জেগে ওঠা একটি চরে বোটটি আটকে যায়। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বোটে থাকা পর্যটকদের মধ্যে কেউ কেউ বোটটি ছাড়ানোর জন্য নিচে নেমে ধাক্কাধাক্কি করতে থাকেন। চেষ্টা ব্যর্থ হলে অনেকেই ওপরে উঠে আসার সময় হঠাৎ ঢেউ এসে চারজনকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় তিনজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও রিয়াজ আহমেদ পানির স্রোতে ভেসে যান।

আরও পড়ুন: নারীরা সুযোগ পেলে বিদেশে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করবে: শামা ওবায়েদ

শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, পর্যটকরা সাতক্ষীরা রেঞ্জের মাধ্যমে সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিলেন। ঘটনার পর থেকেই দুবলার চর ও আলোরকোল- এই দুই এলাকার বন বিভাগের মাঠকর্মী এবং কোস্ট গার্ডের সদস্যরা যৌথভাবে নিখোঁজ পর্যটককে উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাঁর সন্ধান মেলেনি।

কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট আবুল কাশেম জানিয়েছেন, শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ পর্যটককে উদ্ধারে তাঁদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ২১৮ দুর্ঘটনায় ঝরেছে ১৬৯ প্রাণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৪৪ পি.এম


ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ২১৮ দুর্ঘটনায় ঝরেছে ১৬৯ প্রাণ

রাজধানী থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পৌঁছানোর জন্য ফেরির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো একসময়। তবে পদ্মা সেতু চালুর ফলে সেই পরিস্থিতি এখন পরিবর্তিত হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার পথ এখন অনেক কম সময়ে পার করা সম্ভব হয়েছে।

কিন্তু এই যাতায়াতের সুবিধার বিপরীতে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুতগতির যানবাহন, পাল্লা দিয়ে ওভারটেকিং, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং নিয়ন্ত্রণহীন চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। কোনো ঘটনায় একাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে, আবার কোনো দুর্ঘটনায় কেউ সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে পড়ছেন। ফলে স্বজন হারিয়ে পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় চার বছরের মধ্যে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে (পদ্মাসেতু-ভাঙ্গা) ২১৮টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ১৬৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ১১২ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাগুলোতে ৮৪টি মামলা দায়ের হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১২৮ জন পুরুষ, ৩৩ জন নারী এবং ৮ জন শিশু রয়েছে।

দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে স্থানীয়রা অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, চালকদের অসতর্কতা, যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি এবং প্রতিকূল আবহাওয়াকে উল্লেখ করেছেন। এক্সপ্রেসওয়েতে নির্ধারিত গতির পরিবর্তে অনেক যানবাহনকে একে অপরের সঙ্গে পাল্লা দিতে দেখা যায়। সামনে থাকা গাড়িকে অতিক্রম করার সময় পাশের লেন দখল, হঠাৎ ব্রেক এবং নিরাপদ দূরত্ব না রাখার কারণে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। কোনো গাড়ি বিকল হয়ে সড়কে দাঁড়িয়ে পড়লে পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির যানবাহনের জন্য তা প্রাণঘাতী ফাঁদ হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে এক্সপ্রেসওয়েতে গতি নিয়ন্ত্রণ ও পুলিশি নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

২০২৩ সালের ১৯ মার্চ সকালে মাদারীপুরের শিবচরের কুতুবপুর এলাকায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ইমাদ পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে চালকসহ ২০ জন নিহত হন। ওই দুর্ঘটনার স্মৃতি এখনো স্থানীয়দের মনে তাড়া করে বেড়ায়। কিন্তু এরপরও দুর্ঘটনার ঝুঁকি পুরোপুরি কমেনি বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।

কুতুবপুরের বাসিন্দা সাকিব হাসান অভিযোগ করেন, এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে আগের মতো কার্যকর নজরদারি দেখা যায় না। তিনি বলেন, "২০২৩ সালে কুতুবপুরেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ২০ জনের প্রাণহানি হয়েছিল। এখনো অনেক যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলে। আগের মতো পুলিশের তৎপরতা দেখা যায় না। নিয়মিত স্পিড গান ব্যবহার করে গতি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে বা আইনি কঠোর প্রয়োগ করলে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমানো সম্ভব।"

শুধু গতিই নয়, যাত্রী ওঠানামার অনিয়মও এই সড়কে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। শিবচরের পাঁচ্চর গোলচত্বর এলাকায় অনেক পরিবহনকে যাত্রী তোলার জন্য এক্সপ্রেসওয়ের পাশে থামতে দেখা যায়। অথচ যাত্রীদের নিরাপদে ওঠানামার জন্য সেখানে যাত্রীছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে। সেটি যথাযথভাবে ব্যবহার না হওয়ায় যাত্রীদের এক্সপ্রেসওয়ের রেলিং টপকে গাড়িতে উঠতে হচ্ছে। এতে একদিকে যানবাহনের চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে যাত্রীরাও দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছেন।

বাস চালক এমদাদুল ইসলাম বলেন, "শুধু বাস বা ট্রাকচালকদের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে না। মোটরসাইকেলের বেপরোয়া চলাচল, ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়ি অতিক্রম এবং পথচারীদের হঠাৎ রাস্তা পারাপারও দুর্ঘটনার কারণ।"

মোটরসাইকেল চালক মেহেদী হাসান জানান, পদ্মা সেতু পার হওয়ার পর অনেক পরিবহন একে অপরকে ওভারটেক করার প্রতিযোগিতায় নামে। তাদের বেপরোয়া গতির কারণে এক্সপ্রেসওয়েতে মোটরসাইকেল চালানো এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার কথা ভেবে এখন মূল এক্সপ্রেসওয়ে এড়িয়ে নিচের বিকল্প বাইপাস সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন। দুর্ঘটনা কমাতে বাসসহ সব ধরনের যানবাহনের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো জরুরি।

চৌরাস্তা এলাকার বাসিন্দা ইমন আহমেদ বলেন, "দুর্ঘটনার পর প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের এই ভাঙ্গা হাইওয়েতে দুর্ঘটনা ঘটলে আহত ব্যক্তিদের শিবচর অথবা ঢাকায় নিতে হয়। এতে অনেক সময় লেগে যায়। আড়িয়াল খাঁ সেতুর পাশে নির্মিত ট্রমা সেন্টারটি চালু করা গেলে অনেক আহত ব্যক্তির প্রাণ বাঁচানো সম্ভব বলে আমার বিশ্বাস। সরকারের কাছে দাবি, দ্রুত এটি চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।"

হাইওয়ে পুলিশের মাদারীপুর রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোমতাজুল এহসান আহমেদ হুমায়ুন বলেন, "এক্সপ্রেসওয়েতে আমাদের এআই প্রকল্প রয়েছে। এটি বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। প্রকল্পটি চালু হলে ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম থেকে যানবাহনের চলাচল পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। স্পিড গান ব্যবহারের কার্যক্রম একেবারে বন্ধ নেই, সীমিত পর্যায়ে চলছে। যাতে মানুষের হয়রানি না হয়, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু পুলিশি নজরদারি নয়, চালক ও যাত্রীদেরও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। সবার সম্মিলিত সচেতনতাই দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সন্দ্বীপে ব্রাদারহুড স্পোর্টিং ক্লাবের ফুটসাল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে সমিতির হাটের জয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আমিনুল ইসলাম রিয়াদ সন্দ্বীপ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৪৮ পি.এম


সন্দ্বীপে ব্রাদারহুড স্পোর্টিং ক্লাবের ফুটসাল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে সমিতির হাটের জয়

সন্দ্বীপে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে ব্রাদারহুড স্পোর্টিং ক্লাব আয়োজিত উন্মুক্ত ফুটসাল ফুটবল টুর্নামেন্ট–২০২৬।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) আলিমিয়ার বাজারের জেবুন্নুর সুলতান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে সমিতির হাট স্পোর্টিং ক্লাব ২-০ গোলে বিসমিল্লাহ স্পোর্টিং ক্লাবকে পরাজিত করে জয় তুলে নেয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবু তাহের। প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন টাকুর।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হারামিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, আজিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব কবির, জেবুন্নুর সুলতান উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ফোরকান উদ্দীন রিজবি, মুছাপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা নাজিম উদ্দিন, হুমায়ুন কবির মেম্বার ও মাঈন উদ্দিন শিকদারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রাদারহুড স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি কামরুজ্জামান শাহীন।

টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় ধারাভাষ্যকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সোহেল রানা, আরপিএল টিভির আমিনুল ইসলাম রিয়াদ ও আশরাফুল আলম।

আয়োজকরা জানান, স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করা এবং এলাকার ক্রীড়াঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সিপাহী-জনতার প্রতিরোধই আসল বিপ্লব: রাশেদ খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৭ পি.এম


ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সিপাহী-জনতার প্রতিরোধই আসল বিপ্লব: রাশেদ খান

ঝিনাইদহে ঐতিহাসিক ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ ১৮ বছর পর অত্যন্ত উৎসবমুখর ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে পালিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও জেলা বিএনপির উদ্যোগে পৃথকভাবে এই দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

জেলা প্রশাসনের একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে, যা প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মসজিদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়। র‍্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অপরদিকে, দুপুরে জেলা বিএনপির উদ্যোগে আরেকটি বিশাল আনন্দ র‍্যালি বের করা হয়, যেখানে দলীয় নেতাকর্মীরা আনন্দ-উল্লাসে ফেটে পড়েন।

মতবিনিময় সভা শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেন, ১৮ বছর ধরে ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসটি যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে বিএনপি সরকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বারের মতো অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সারা দেশে এই দিবসটি পালিত হচ্ছে।

৭ই নভেম্বর ১৯৭৫ সালের ইতিহাস তুলে ধরে রাশেদ খান বলেন, ওই দিনের ঘটনাটি ছিল ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সিপাহী ও সাধারণ জনতার এক ঐতিহাসিক প্রতিরোধ। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারত সহযোগিতা করলেও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের ওপর নানানভাবে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করা হয় এবং জনগণ তা মেনে নেয়নি। তিনি আরও বলেন, একাত্তরের পরে ৭৫ পর্যন্ত এবং পরবর্তীতে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নানা হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস রয়েছে। তাঁর মতে, পঁচাত্তরের আগের সময়টিতে যেমন ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছিল, তেমনি চব্বিশের আন্দোলনেও ফ্যাসিবাদের দোসররা গণহত্যা চালিয়েছে।

৬৯, ৯০ এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খান বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান পূর্বের সব আন্দোলনকে ছাড়িয়ে গেলেও বাংলাদেশের ইতিহাসে একমাত্র প্রকৃত ‘বিপ্লব’ সংগঠিত হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর, যার নেতৃত্ব দিয়েছিল তৎকালীন সিপাহী ও জনতা। ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের সেনা অভ্যুত্থান এবং পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এতদিন জাতিকে মিথ্যা ইতিহাস ও ভুল বয়ান শোনানো হয়েছে; এখন সময় এসেছে সঠিক ও সত্য ইতিহাস জানানোর।

তিনি আরও বলেন, অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে যেমন দেশের বড় পরিবর্তন সূচিত হয়েছিল, তেমনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গঠনের এই যাত্রায় দেশের সকল রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে এসে সহযোগিতা করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপির শোভাযাত্রা উপলক্ষে নয়াপল্টনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৭ পি.এম


বিএনপির শোভাযাত্রা উপলক্ষে নয়াপল্টনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণের কারণে রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। শোভাযাত্রার প্রস্তুতির জন্য বিএনপির কার্যালয়ের সামনে সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দৃশ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা যায়। সেখানে এসআরবি, পিজিআর, পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়া, স্টেজের চারপাশে ডগ স্কোয়াডসহ কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সড়কে ব্যারিকেড বসিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, নিরাপত্তার স্বার্থে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।

দুপুর দেড়টা থেকে ২টার মধ্যে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর বিকেল ৩টায় তার নেতৃত্বে শোভাযাত্রা বের হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

দলীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী, শোভাযাত্রাটি নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে দিয়ে কাকরাইল মোড়, হেয়ার রোড, মিন্টো রোড, ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউতে গিয়ে শেষ হবে।

এর আগে শুক্রবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে শোভাযাত্রার রুটের বিস্তারিত তুলে ধরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।

শোভাযাত্রায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগমের প্রস্তুতি থাকায় নিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%