আবুল কাশেম রুমন,সিলেটে প্রতিনিধি
১২:০২ পি.এম
সিলেটে চির বিদায় নিতে হয়েছে তিন বন্ধুদের, গোয়াইনঘাট বাসী শোকে মাতম করছে। পৃথিবী থেকে বিদায় নিবার কিছু ঘণ্টা আগে পর্যন্ত তারা ছিল একই বেঞ্চের সহপাঠী এবং একই স্বপ্নের পথে চলা। একসঙ্গে তারা পরীক্ষা দিয়েছে এবং গল্প-আড্ডায় মেতেছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, তাদের তিনজনকেই একসঙ্গে বিদায় নিতে হলো। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো জাফলং আমির মিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির তিন শিক্ষার্থী সাকিব আহমদ (১৬), রায়হান আহমেদ (রাহুল) (১৬) এবং জয় আহমদ (১৬)-এর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তাদের অকাল মৃত্যুতে গোয়াইনঘাটের পুরো পরিবেশ শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। সোমবার (৬ জুলাই ২০২৬ইং) একসঙ্গে তিন বন্ধুর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তাদের দাফন করা হয়।
রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে তারা চলমান পরীক্ষার শেষে বেড়াতে গিয়ে জাফলং ইউনিয়নের রাধানগর-বাউরভাগ চা বাগান সড়কে তাদের বহনকারী মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের গাছের সঙ্গে শক্তিতে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত এই তিন শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন অবস্থায় একটি একটি করে মারা যায়।
নিহতদের মধ্যে সাকিব উপজেলার নয়াবস্তি গ্রামের মহরম মিয়ার ছেলে, রায়হান ছৈলাখেল গ্রামের হাবিবুর রহমান (হবি) মিয়ার ছেলে, এবং জয় লাখেরপাড় গ্রামের আব্দুল রাজ্জাক মিয়ার ছেলে। পৃথক জানাজার পরে তাদের নিজ নিজ সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
সোমবার (৬ জুলাই ২০২৬ইং) দুপুরে নিহতদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক একটি দৃশ্য। উঠোনজুড়ে স্বজনদের কান্না এবং ঘরের ভেতরে সন্তানহারা মায়েদের আহাজারিতে যেন বাতাসও ভারী হয়ে উঠেছে। কেউ তাদের ছেলের স্কুলব্যাগ বুকে জড়িয়ে কান্না করছে, কেউ বার বার বলছে, একটি বার ফিরে আয় বাবা, আরেকবার মাকে ডেকে যা। এক মায়ের আর্তনাদ, সকালে হাসিমুখে পরীক্ষা দিতে গিয়ে সন্ধ্যায় আমার বুক খালি করে ফিরে এলো। অন্য এক মা ছেলের ছবি বুকে চেপে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন, সেই কান্না শুনে উপস্থিত অনেকের চোখও অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল।
পারিবারিক সূত্র জানাচ্ছে, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই এই তিন বন্ধুর মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। স্কুল, খেলাধুলা কিংবা অবসরের প্রতিটি মুহূর্তে তারা ছিল একে অপরের ছায়াসঙ্গী। এবং এখন তারা পাশাপাশি কবরের নীরব বাসিন্দা। সাকিবের বাবা মহরম মিয়া বলেছেন, ‘আমার ছেলে খুব শান্ত-স্বভাবের ছিল। তাকে নিয়ে ছিল অনেক স্বপ্ন। আল্লাহ আমার বুকটাই খালি করে দিয়েছেন। বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ যে কত ভারী, তা সকলেই বুঝবে।’
রায়হানের বাবা হাবিবুর রহমান (হবি) মিয়া বলেন, ‘সাকিবের মৃত্যুর খবরেই আমরা ভেঙে পড়েছিলাম। তখনও আশা ছিল যে আমার ছেলে হয়তো ফিরে আসবে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর সেই আশাটিও শেষ হয়ে গেল। সকালে পরীক্ষা দিতে বের হওয়া ছেলেটা জীবিত ফিরে আসেনি।’ জয় এর বাবা রাজ্জাক মিয়া বলেছেন, ‘তিন বন্ধু সব সময় একত্রে চলাফেরা করত। কখনো ভাবিনি, আল্লাহ তাদের একসঙ্গে নেবেন। এখন তিনটি পরিবার একই শোক বহন করছে।’
এ ঘটনায় জাফলং আমির মিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা এটি একটি অপূরনীয় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সহপাঠীদের মধ্যে নূর হোসেনসহ অনেকেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছেন, ‘এক বেঞ্চের তিন বন্ধু এভাবে চলে যাবে, আমরা কখনো ভাবিনি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অটোভ্যানের সিটের নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১৪ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। রোববার (৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার জামতলা মোড়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে। তিনি আরও জানান, আগামী বছর অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন শেষ হবে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সচিবালয়ে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি।
তথ্য উপদেষ্টা আরও জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন এরইমধ্যে রোড ম্যাপ তৈরি করছে।
এসময় অতিরিক্ত বিদ্যুৎবিল নিয়ে তিনি বলেন, গত জুনে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার ব্যাপারে জনগণের অভিযোগ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অনিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ঠেকাতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, দেশে খাদ্য চাষ এবং সংরক্ষণ পর্যায়ে খাদ্যপণ্যে অনেক রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। দেশের খাদ্য ব্যবসায়ীদের ডাটা সংগ্রহ করে একটি তথ্য ভান্ডার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের সচেতন করা হবে। অনিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ঠেকাতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সাভারে এনসিপির জনসভায় ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়ে তিনি বলেন, এই ঘটনায় তদন্ত হবে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অনবরত বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে পরপর দুই দফা স্বল্পমেয়াদী বন্যার কারণে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল, বিশেষ করে সবজি, নষ্ট হয়ে গেছে। এই কারণে নদ-নদী অববাহিকার প্রান্তিক কৃষকেরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এছাড়া, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করে দ্রুত সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ফলে একরের পর একর পটল ও করলা ক্ষেত সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে গেছে। মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাট সহ অন্যান্য ফসলের ক্ষেতও। ক্ষেত বাঁচানোর কোনো উপায় না থাকায় অনেক কৃষককে ক্ষেত থেকে নষ্ট ও আধপাকা ফসল সরিয়ে নিতে দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই সপ্তাহ আগে বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলায় প্রবাহিত হওয়া ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদী বন্যার সৃষ্টি হয়। এর ফলে নিমিষেই তলিয়ে যায় পটল, শসা, করলা, পাট, বাদাম, আমন বীজতলা সহ বিভিন্ন প্রকার ফসল। এক সপ্তাহের মধ্যে পরপর দুই দফা বন্যার কারণে ফসলের ক্ষেত দীর্ঘদিন ধরে তলিয়ে থাকার ফলে তা সম্পূর্ণরূপে পচে যায় এবং নষ্ট হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কৃষকেরা জানান, বন্যার ফলে তাদের উঠতি ফসলের ক্ষেত নষ্ট হয়েছে যা তাদের জন্য চরম বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক কৃষক ধারদেনা করে লাগানো ফসল থেকে উৎপাদন খরচও তুলতে সক্ষম হননি। তারা আশা করছেন, বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে গেলে পরবর্তী ফসল চাষের জন্য সরকারি জরুরি সহযোগিতা পাওয়া যাবে।
কুড়িগ্রাম সদরের পাঁচগাছী এলাকার ভুক্তভোগী কৃষক মোছাব্বের হোসেন তার আকুতিতে জানান, '২ বিঘা জমিতে পটল লাগিয়েছিলাম। কিন্তু বন্যার পানিতে পুরো আবাদটাই নষ্ট হয়ে গেছে। মাত্র তিনবার পটল তুলে বাজারে বিক্রি করতে পেরেছিলাম। তাতে আমার উৎপাদন খরচই ওঠেনি। এখন যদি সরকারিভাবে সহযোগিতা না পাই, তাহলে পরবর্তী আবাদের জন্য কোনো অর্থনৈতিক সামর্থ্য নেই।'
এই বিষয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. মেহেদী হাসান কৃষকদের পাশে থাকার কথা ব্যক্ত করে বলেন, 'বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং পরবর্তী আবাদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা নিয়ে আমরা কৃষকদের পাশে দাঁড়াব।'
জেলা কৃষি বিভাগের সরকারি তথ্যমতে, পরপর দুই দফা বন্যার পানিতে জেলার ৯টি উপজেলার মোট ৪৯৯ হেক্টর জমির সবজি সহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ