ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিএনপির বিরুদ্ধে টাকা বিতরণের অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর


বিএনপির বিরুদ্ধে টাকা বিতরণের অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা বিতরণ এবং অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনার প্রস্তুতির অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। একই সঙ্গে নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগও করেছেন তিনি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও শহরের লারোজা রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন জামায়াতের প্রার্থী। এ সময় তিনি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

দেলাওয়ার হোসেন বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন সরকারি সুবিধার কার্ড দেওয়ার কথা বলে ভোটারদের নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে তাঁরা অভিযোগ পেয়েছেন। পাশাপাশি ধানের শীষে ভোট দিলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জামায়াতের এই প্রার্থীর দাবি, ভোটার স্লিপ বিতরণের পাশাপাশি ভোটারদের ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁদের কাছে তথ্য এসেছে। এ ছাড়া বুধবার রাতেও বিভিন্ন ইউনিয়নে, বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বসবাসের এলাকায় অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনার প্রস্তুতি চলছে বলে তাঁরা খবর পেয়েছেন। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, গত ৮ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনের সমর্থকদের একটি অংশ পেশিশক্তি ও দলীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তাঁর দাবি, প্রতীক বরাদ্দের আগেই ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির প্রার্থীর ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো হয়েছিল।

ভোটার, ভোটকর্মী ও সাধারণ মানুষের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। এ ছাড়া কয়েকজন কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে বিএনপির প্রার্থীর গোপন বৈঠক, নির্বাচনি প্রচারণায় সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অনুদান দেওয়ার আশ্বাস এবং একজন সরকারি চাকরিজীবীর প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

দেলাওয়ার হোসেনের অভিযোগ, গত ১৩ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এশার নামাজের পর ভোটার ও দোকানদারদের সঙ্গে গণসংযোগের সময় তাঁকে বাধা দেওয়া ও লাঞ্ছিত করা হয়। পরে ২০ অক্টোবর রুহিয়া উপজেলার ২ নম্বর আখানগর ইউনিয়নে নির্বাচনি বৈঠক শেষে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তাঁদের একজন কর্মী গুরুতর আহত হন এবং ডেকোরেশনের চেয়ার ভাঙচুর করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া ২১ অক্টোবর সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে তাঁদের নির্বাচনি জনসভার মঞ্চ তৈরির সময় মাঠের বিভিন্ন অংশ বিএনপির ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে ঘিরে ফেলার অভিযোগ করেন জামায়াতের প্রার্থী। তাঁর ভাষ্য, পরে রিটার্নিং কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে সমাবেশের আগের রাতে সেগুলো সরানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নারী কর্মীর পরিবারকে হুমকি এবং আরেক কর্মীর বাসায় গিয়ে সশস্ত্র ব্যক্তিদের প্রচারণা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও করেন দেলাওয়ার হোসেন। তাঁর দাবি, এসব ঘটনায় নির্বাচনি এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সম্পদ নির্বাচনি কাজে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টায় প্রচারণার সময়সীমা শেষ হওয়ার পর স্থানীয় এনজিও ইএসডিওর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একত্র করে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে তাঁরা অভিযোগ পেয়েছেন। এ ছাড়া ২৪ ও ২৫ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের প্রায় ২৪ জন সরকারি চিকিৎসককে দিয়ে তিনটি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনার অভিযোগও করেন তিনি।

দেলাওয়ার হোসেন আরও বলেন, ২৮ অক্টোবর ‘মানব কল্যাণ’ প্রতিষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক ও আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়েছে বলে তাঁরা অভিযোগ পেয়েছেন। এসব অভিযোগের পক্ষে ভিডিও ফুটেজ, স্থিরচিত্র ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণ রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিটির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে জামায়াতের প্রার্থী বলেন, তাঁদের অভিযোগের ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে। নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও নির্বাচনি বৈঠকে চেয়ার ভাঙচুরের অভিযোগে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। অভিযোগের ক্ষেত্রে দল-মতনির্বিশেষে একই মানদণ্ড অনুসরণ এবং প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ভোটারদের ভোটাধিকার রক্ষার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভোটাররা কোনো চাপ বা ভয়ভীতি ছাড়াই নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন।

নির্বাচন বর্জনের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাঁরা নির্বাচন বর্জন করতে আসেননি; বরং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এবং শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকতে চান। প্রশাসনের প্রস্তুতির ওপর তাঁদের এখনো আস্থা রয়েছে। তবে ১৯৯৪ সালের মাগুরা নির্বাচনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে তাৎক্ষণিক অবস্থা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ভোটার উপস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াতের এই প্রার্থী। তাঁর মতে, উপনির্বাচন হওয়ায় ঢাকার বাইরে অবস্থানরত অনেক ভোটারের আগ্রহ কম থাকতে পারে। পাশাপাশি বাড়িতে গিয়ে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের কারণে ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে আসতে পারবেন কি না, তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।

সংখ্যালঘু ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসতে বাধা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে বিএনপির অভিযোগের জবাবে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, এ অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব নাগরিকের নিরাপদে ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সব ভোটারকে নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

দেলাওয়ার হোসেন বলেন, এই নির্বাচন শুধু একটি আসনের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের বিষয় নয়; বরং নির্বাচনি ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠারও পরীক্ষা। দলীয় সরকারের অধীনেও অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব—আগামীকালের ভোটের মাধ্যমে সেই দৃষ্টান্ত স্থাপনের দায়িত্ব প্রশাসনের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাঁশপাতার চায়ের উদ্ভাবনী ধারণায় দেশসেরা বেরোবির মাহিদ-আজিজ, পাচ্ছেন লাখ টাকার ফান্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বেরোবি প্রতিনিধি

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩২ পি.এম


বাঁশপাতার চায়ের উদ্ভাবনী ধারণায় দেশসেরা বেরোবির মাহিদ-আজিজ, পাচ্ছেন লাখ টাকার ফান্ড

বাঁশপাতা থেকে পরিবেশবান্ধব চা তৈরির উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণা উপস্থাপন করে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের দুই শিক্ষার্থী। এ অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁদের উদ্যোগ বাস্তবায়নে এক লাখ টাকার ফান্ড প্রদান করা হবে।

বিজয়ী দুই শিক্ষার্থী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের ১৪তম ব্যাচের মাহিদ ও আজিজ। তাঁরা যৌথভাবে বাঁশপাতাকে কাজে লাগিয়ে বিকল্প ও পরিবেশবান্ধব চা উৎপাদনের ব্যবসায়িক ধারণা উপস্থাপন করেন।

জানা যায়, বাঁশপাতার সম্ভাবনাময় ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে সামনে রেখে এ উদ্যোগের পরিকল্পনা করেন মাহিদ। পরবর্তী সময়ে সহপাঠী আজিজকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিযোগিতায় আবেদন করেন তিনি। প্রাথমিক বাছাইয়ে নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁরা বুটক্যাম্পে অংশ নেন এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে নিজেদের উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করে সারা দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন।

প্রতিযোগিতার বিচারক প্যানেলে ইউনিলিভার, গ্রিন ভয়েস, দ্য আর্থ সোসাইটি ও ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন বিজয়ী শিক্ষার্থীরা।

নিজেদের উদ্যোগ সম্পর্কে মাহিদ বলেন, ‘আমরা হঠাৎ করেই ভাবলাম, বাংলাদেশে বাঁশপাতার চা নিয়ে কাজ করা যায় কি না। বিশ্বজুড়ে এ ধরনের সম্ভাবনাময় পণ্যের বাজার রয়েছে। সেই ভাবনা থেকেই আজিজকে সঙ্গে নিয়ে আবেদন করি। পরে নির্বাচিত হয়ে বুটক্যাম্পে অংশ নিই এবং শেষ পর্যন্ত প্রথম স্থান অর্জন করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাঁশপাতা পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। এতে সিলিকা, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। আমরা বাঁশপাতার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব একটি চা বাজারে নিয়ে আসতে চাই।’

উদ্যোক্তাদের দাবি, বাঁশপাতার চা স্বাস্থ্যসচেতন ভোক্তাদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প পানীয় হতে পারে। তবে এর পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্যগত উপকারিতা ও বাণিজ্যিক উৎপাদনের উপযোগিতা নির্ধারণে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।

জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হওয়ার পাশাপাশি এক লাখ টাকার ফান্ড পাওয়ার সুযোগকে নিজেদের উদ্যোগ বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন মাহিদ ও আজিজ। তাঁদের প্রত্যাশা, যথাযথ গবেষণা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে বাঁশপাতার মতো সহজলভ্য প্রাকৃতিক উপাদানকে কাজে লাগিয়ে দেশে নতুন ধরনের পরিবেশবান্ধব পণ্যের বাজার তৈরি করা সম্ভব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালী সদর উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ নুর হোসাইন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, নোয়াখালী

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৩ পি.এম


নোয়াখালী সদর উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা
 
জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির নোয়াখালী সদর উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে আহ্বায়ক করা হয়েছে মোঃ ফয়সালকে এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে সাহেদ খানকে। সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে মনোয়ারা বেগম তমাকে। 
 
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর-২০২৬) দিবাগত রাতে জেলা এনসিপির আহ্বায়ক কাজী মাইন উদ্দিন তানভীর ও সদস্য সচিব প্রকৌশলী মোঃ ইকবাল হোসেন সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নোয়াখালী সদর উপজেলা এনসিপির ১৫ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়াও উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে আহ্বায়ক কমিটিকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
 
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে চরফ্যাশনে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এইচ এম নোমান চরফ্যাশন

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৮ পি.এম


লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে চরফ্যাশনে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে চরফ্যাশন উপজেলা শাখা।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় চরফ্যাশন কেন্দ্রীয় খাসমহল মসজিদের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে অফিসের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় ।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভোলা জেলা শাখার সেক্রেটারী কাজী মাও: হারুন অর রশিদ । এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চরফ্যাশন উপজেলা শাখার আমীর অধ্যক্ষ মীর শরীফ হোসেন ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাজী মাও: হারুন অর রশিদ বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশে সন্ত্রাসী বাহিনী লগি বৈঠা নিয়ে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। ওই ঘটনায় তাঁদের ছয়জন নেতাকর্মী নিহত হন এবং তাতেই ক্ষান্ত হয়নি তারা বরং হামলাকারীরা লাশের ওপর নৃত্য করে গোটা বাংলাদেশকে দুনিয়ার সামনে কলঙ্কিত করেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে। তারা যে খুনি ও মানবতা বিরোধী অপরাধী তারা আঠাশেই অক্টোবরেই প্রমাণ করেছে।

তিনি বলেন, সেদিন তাদের পরিকল্পনা ছিলো জামায়াতের অফিসে হামলা করে জামায়াতের মিটিং বানচাল করার। তবে জামায়াতের তৎকালীন আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর নেতৃত্বে মিটিং সম্পন্ন হয়। নেতাকর্মীরা সেদিন পল্টন এলাকায় মানবপ্রাচীর গড়ে তুলেছিলো, এবং প্রতিহত করা হয়। তাই তাদের পরিকল্পনা সফল হয়নি৷ তারা রাস্তায় রাস্তায় যাকে পেয়েছে তাদের উপরে হামলা করেছে।

কাজী মাও: হারুন অর রশিদ অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে ওই মামলার কার্যক্রম বন্ধ করার পাশাপাশি মামলা সংক্রান্ত নথিপত্র গায়েব করে দেন। তিনি শেখ হাসিনাসহ এই মামলার চার্জশিট সব আসামির বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে এবং গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় কার্যকর করতে হবে। বাতিল করা অধ্যাদেশগুলো পুনরায় পাস করারও দাবি জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মীর শরীফ হোসেন বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় এনে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে।

২৮ অক্টোবর বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন। সেদিন জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা বুক চিতিয়ে দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিলো। তারই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় চব্বিশের পাঁচ আগষ্ট স্বৈরাচার হাসিনাকে দেশ থেকে পালাতে হয়েছিলো।

তিনি বলেন, এই দেশে আর বিভাজন খুন, হত্যা ও চাঁদাবাজের রাজনীতি আর চলবে না। জামায়াত যতদিন আছে জনগনকে সাথে নিয়ে এসব অন্যায়, অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে৷

অধ্যক্ষ মীর শরীফ হোসেন আরো বলেন, বর্তমান সরকারের কাছে আমরা দাবি করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। ২৮শে অক্টোবরে খুনের সাথে জড়িতদের বিচার করতে হবে।

সমাবেশ থেকে বক্তারা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচার, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানান।

সংগঠনের সেক্রেটারি মাও: আবুল কাশেমের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এনামুল হক রায়হান, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি মাও: জহির উদ্দিন, ছাত্রশিবির পৌর সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম আরো উপস্থিত ছিলেন অফিস সম্পাদক অধ্যাপক রেজাউল হাসান ইমরান, অ্যাডভোকেট আবু জাফর প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন শহরে রূপান্তর করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৬ পি.এম


ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন শহরে রূপান্তর করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

টোকিও, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, সরকার ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি অঞ্চলে পরিচ্ছন্নতা, দূষণমুক্ত পরিবেশ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ঢাকা শহরকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন করে গড়ে তোলা।

বুধবার সন্ধ্যায় টোকিওর হোটেল নিউ ওতানিতে বাংলাদেশ কমিউনিটির উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন।

তারেক রহমান বলেন, টোকিওর রাস্তাঘাটে কোনো ময়লা-আবর্জনা দেখা যায় না, কিন্তু ঢাকায় চারদিকে আবর্জনা জমে থাকে, যা পরিবর্তন করা অত্যাবশ্যক। আবর্জনা থেকে জীবাণু ছড়ায়, তাই ঢাকাবাসিকে সুস্থ রাখতে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং যথাযথভাবে বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকাসহ সারা দেশকে পরিচ্ছন্ন করার চেষ্টা করছি। বায়ুদূষণ কমানো, পরিবেশের উন্নয়ন এবং বিভিন্ন স্থানে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবর্জনার কারণে রাস্তায় চলাচলে যাতে ভোগান্তি সৃষ্টি না হয় এবং দূষিত বাতাসের কারণে মানুষ অসুস্থ না হয়, সেজন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি টোকিওর মতো করে ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন করতে পারি, তাহলে সেটি হবে বড় একটি সংস্কার।’

প্রান্তিক মানুষের কল্যাণই সংস্কারের অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার এমন সংস্কার বাস্তবায়ন করতে চায়, যাতে সমাজের প্রান্তিক ও খেটে খাওয়া মানুষ সরাসরি উপকৃত হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের সুফল সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ পাবে।

তারেক রহমান বলেন, সংস্কার বলতে রাজনীতিবিদ হিসেবে আমি সেই সংস্কারকেই বুঝি, যার সুবিধা দেশের প্রান্তিক মানুষটিও পায়। সরকারের অগ্রাধিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নতি ঘটে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা।

তিনি বলেন, এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশের গণতন্ত্রমনা জনগণের সহযোগিতা পেলে, আমরা আমাদের কাক্সিক্ষত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের উপকারে আসবে- এমন সংস্কার কার্যক্রম যাতে বিএনপি সরকার বাস্তবায়ন করতে না পারে, সে ধরনের পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার যে সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে আপনাদের পরিবারসহ দেশের সাধারণ মানুষও উপকৃত হবে। তাই এসব উদ্যোগকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, আমি বলছি না যে বিএনপিকে ভোট দেন। কাজগুলো যদি আপনাদের কাছে সঠিক মনে হয়, তাহলে সমর্থন দেন, যাতে আমরা সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারি।

এ সময় উপস্থিত প্রবাসীরা করতালির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশসহ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে যেসব সংস্কার প্রয়োজন, সেগুলো বাস্তবায়নই সরকারের লক্ষ্য। কিছু সংস্কার বাস্তবায়নে সীমিতসংখ্যক মানুষ উপকৃত হবেন। কিন্তু আমার অগ্রাধিকার হচ্ছে এমন উদ্যোগ- যাতে সমাজের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী লাভবান হয়।

তিনি আরও বলেন, এসব কাজ সম্পন্ন করতে পরিশ্রম, ধৈর্য ও ঐক্যের প্রয়োজন। দেশের উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে শিশুদের জাপানি ভাষা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ করে গড়ে তোলা, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, বন্ধ শিল্পকারখানা চালু, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জাপান বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে আলোকচিত্র উপহার দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%