১২:২১ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের ইনানী এলাকায় একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ফলে মৃতের সংখ্যা ছয়জনে পৌঁছেছে। এই ঘটনায় রিসোর্টটি সম্পূর্ণরূপে পুড়ে গেছে এবং পর্যটকসহ আরও ৯ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার কিছু পরে উখিয়া উপজেলার মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ছয়জনে দাঁড়িয়েছে।
মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহম্মেদ (৫)।
আহতদের মধ্যে কয়েকজন হলেন মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০), সামিদা (৩২), নাফিজা নওয়ার খান (২৯) ও সাহাবুদ্দিন (৩১)।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, আগুন লাগার পর সকাল ৮টা থেকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট উদ্ধার কাজ শুরু করে এবং প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
বর্তমানে সেখানে উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনার পর রিসোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পালিয়ে গেছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।
দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলা দীর্ঘ বালুকাময় সমুদ্রসৈকত, দ্বীপ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য একটি প্রধান পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক এখানে ভ্রমণে আসেন। সম্প্রতি কক্সবাজারে পর্যটকদের ভিড় বৃদ্ধি পেয়েছে। আসন্ন পূজার পাঁচ দিনের ছুটিতে পর্যটকদের ভিড় আরও বাড়তে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্গাপূজা একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উৎসব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি মন্তব্য করেন, "প্রতিটি উৎসব পরস্পর ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা দেয়।"
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দিরে পূজা পরিদর্শন শেষে, রিজভী মন্দির ও মণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, এবারের দুর্গাপূজায় প্রতিটি মন্দিরে ৮ হাজার টাকা অনুদান এবং পুরোহিত ও সেবায়েতদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একইসঙ্গে পুরোহিতদের জন্যও ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
রিজভী জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতাকর্মীরা পূজার মণ্ডপে পাহারার কাজে নিয়োজিত আছেন।
তিনি বলেন, নির্বিঘ্নে উৎসব পালনের জন্য সার্বিকভাবে সব মণ্ডপের খোঁজ খবর নেয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি ও সরকার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) শিউলি খানম পদত্যাগ করেছেন। তিনি শনিবার (১৭ অক্টোবর) ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগপত্রটি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে জমা দেওয়ার পর সেটি সলিসিটরের কাছে পাঠানো হয়।
শিউলি খানমের পদত্যাগের ফলে সাম্প্রতিক সময়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের একাধিক আইন কর্মকর্তার পদত্যাগের ঘটনা নতুন করে সামনে এসেছে। এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বেলায়েত হোসেন। এরও আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাদিয়া আফরিন শাপলা।
গত ৭ সেপ্টেম্বর একযোগে পদত্যাগ করেন পাঁচ আইন কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে রয়েছেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার রুবি, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দিকা ও প্রোজ্জ্বল চাকমা।
এছাড়া সম্প্রতি সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. নূরুল করিমও পদত্যাগ করেন। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর আইনমন্ত্রী বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন।
এর আগে গত জুন মাসে সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জামায়াত-সমর্থিত সাতজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের উদ্দেশ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘ আলোচনার পর জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করে। তবে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর সেই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে মতভিন্নতা দেখা দিয়েছে। সংবিধান সংশোধন নাকি সংস্কার- এই প্রশ্নে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধে রাষ্ট্রকাঠামো পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা ছিল, তা রাজনৈতিক বিরোধের কারণে বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
গত বছরের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকারনামায় সই করে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ২৪টি রাজনৈতিক দল। পরে গণফোরাম ও জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) সনদে সই করে। তবে ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় অংশগ্রহণ করলেও বামধারার চারটি দল সনদে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানায়।
সনদে স্বাক্ষরের মাধ্যমে রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের একটি ভিত্তি তৈরি হলেও বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বিএনপি সরকার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সনদের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে উদ্যোগী হয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের দাবি, মৌলিক সংবিধান সংস্কার প্রয়োজন, কেবল সংশোধন নয়। এ নিয়ে সংসদে এবং সংসদের বাইরেও রাজনৈতিক উত্তাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে সরকার। কমিটি পেশাজীবীদের সঙ্গে এখন পর্যন্ত সাতটি বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকে পাওয়া মতামতের ভিত্তিতে সংসদে চূড়ান্ত প্রস্তাবনা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রস্তাবগুলো নিয়ে আবারও গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানা গেছে।
দীর্ঘ মেয়াদে কার্যকর ও টেকসই সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
তিনি বলেন, “সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে বসেছে। আমরা যাদের কাছে মতামত জানতে চাচ্ছি, কী করলে দীর্ঘ সময়ের জন্য সংবিধান সংশোধন করতে পারি, সে বিষয়ে তাদের পরামর্শ নিচ্ছি।”
বিরোধী দলের জন্য কমিটির দরজা খোলা রয়েছে জানিয়ে চিফ হুইপ আরও বলেন, “বিরোধী দলের জন্য সবসময় দরজা খোলা রয়েছে। কমিটিতে তাদের আমরা স্বাগত জানাই। সবার মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই।”
তবে সরকারের এই উদ্যোগ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আপত্তি রয়েছে। দলটির দাবি, বিরোধী দলের মতামত উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিলে তা ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে। বিশেষ কমিটিকে বয়কট করে সংবিধান সংস্কারের দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বিরোধী দল কমিটিতে না গেলেও সরকারের কার্যক্রম থেমে থাকবে না—এমন মনোভাব ক্ষমতাসীনদের মধ্যে ফ্যাসিবাদী প্রবণতার প্রতিফলন।’
অতীতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি আগেও ক্ষমতায় থাকাকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা মানতে চায়নি। কিন্তু একপর্যায়ে সেই ব্যবস্থা মেনে নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিল পাস করে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছিল দলটিকে। তাই এত অহংকার ভালো না।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ‘বিরোধী দলসহ সংসদে ৯০ জন সদস্য রয়েছেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ১১টি দল আন্দোলন করছে। তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।’
এদিকে, বিরোধী দলের মতামত ছাড়া সংবিধান সংশোধন করা হলে ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে জামায়াত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ