শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:১০ এম
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী দায়ের করা মামলায় পুলিশ ইসমাইল মাহমুদ পাটওয়ারী নামের একজন আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রায়পুর পৌর শহরের দেনায়েতপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করার বিষয়টি পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
রায়পুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জসিম উদ্দিন জানান, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে।
ইসমাইল মাহমুদ পাটওয়ারী রায়পুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের উপজেলা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পৌর শহরের ধানহাটাসংলগ্ন এলাকায় তিনি তার পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন এবং রায়পুর পৌরসভার সহকারী কর আদায়কারী হিসেবেও কর্মরত আছেন।
এ বিষয়ে তার পরিবারের বক্তব্য নেওয়ার জন্য স্ত্রী তাহমিনা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাহমিনা রায়পুর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তবে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা জানান, রাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ করার জন্য সমর্থন দিয়েছেন। নেতানিয়াহুর মতে, ট্রাম্প তাঁকে এই অভিযানের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত নেতা হিসেবে বিবেচনা করছেন।
নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সমর্থনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি নেতানিয়াহুকে সঙ্গী করেই এই ‘কাজটি সম্পন্ন করতে’ চান।
এছাড়া, নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেছেন যে, যদি ইরান নতুন করে হামলা চালায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে এমন শক্তি প্রয়োগ করা হবে, যা তেহরান কল্পনাও করতে পারবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন ইরানের তুলনায় বেশি তেল রপ্তানি করছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের চেয়ে বেশি। এই পরিস্থিতি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। কারণ, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার প্রচেষ্টা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার হুমকির মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলো বিকল্প পথে তেল সরবরাহ বৃদ্ধি করছে।
জ্বালানি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে উপসাগরীয় দেশগুলো দৈনিক ২ কোটি ৪৬ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে। যুদ্ধ শুরুর পূর্বে রপ্তানির পরিমাণ ছিল দৈনিক ২ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেল।
তবে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থার (ইউকেএমটিও) তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে সেখানে অন্তত ১২টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত সপ্তাহে একটি কনটেইনারবাহী জাহাজও প্রণালিটিতে ডুবে যায়, যা সম্ভবত কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য ধরনের অস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
বিকল্প পথে তেল পরিবহন
হরমুজ প্রণালির ঝুঁকি এড়াতে, উপসাগরীয় দেশগুলো জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের পদ্ধতি গ্রহণ করছে। এই প্রক্রিয়ায় ছোট জাহাজে করে উপসাগর থেকে তেল নিয়ে প্রণালির বাইরে অপেক্ষমাণ বড় তেলবাহী জাহাজে স্থানান্তর করা হচ্ছে। বিমা ব্যয় ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেক দেশ বেসরকারি জাহাজের পরিবর্তে নিজেদের জাহাজ ব্যবহার করছে।
সৌদি আরবও লোহিত সাগর দিয়ে তেল রপ্তানি বৃদ্ধি করেছে। পূর্বে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে এশিয়ায় তেল পাঠাত দেশটি। তবে, হুথিদের সৌদি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর বিকল্প পাইপলাইন ব্যবহার করে মিসর হয়ে ভূমধ্যসাগরীয় পথে তেল পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন এখনো যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশের বেশি কম। প্রতিষ্ঠানটির হিসাব বলছে, সেপ্টেম্বরে উপসাগর থেকে রপ্তানি করা ইরান ছাড়া অন্যান্য দেশের অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে পরিবহন করা হয়েছে। যুদ্ধের আগে এ হার ছিল ১৭ শতাংশ।
পাইপলাইন নির্মাণে আগ্রহ বাড়ছে
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিকল্প পথে তেল রপ্তানির ব্যবস্থা স্থায়ী করতে আগ্রহী। ওপেকের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদক ইরাক গত জুলাইয়ে সিরিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। এই চুক্তির আওতায় ইরাকের উত্তরাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল পর্যন্ত পাইপলাইন পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
যদিও তেল রপ্তানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৯ ডলারে রয়েছে। বিশেষ করে ডিজেলের মতো পরিশোধিত জ্বালানির দাম বেড়েছে। হরমুজ এড়িয়ে দীর্ঘ পথে জাহাজ চলাচল করায় পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়াও এর একটি কারণ।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছে। বুধবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সরকার উৎখাতের বিষয়ে তাঁর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি দাবি করেন, ইরান আবারও পারমাণবিক কর্মসূচি চালু করছে।
এর আগে ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনের প্রচারে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান ‘শেষ করতে’ সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ফলে, তেল রপ্তানি বৃদ্ধি পেলেও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
এমএমআর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে সেমিনার ও স্ক্রিনিং কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। এই কর্মসূচিটি ১৪ অক্টোবর মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিসার্চ সেন্টার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ ক্লাবের উদ্যোগে পরিচালিত হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবুল হোসেন। মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যান্সার হাসপাতালের প্রকল্প সমন্বয়কারী ও বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন।
আলোচনার সময় ডা. রাসকিন স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি, বিস্তার, উপসর্গ, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে স্থানীয় পর্যায়ে সমাজভিত্তিক ক্যান্সার সেবা ও গবেষণা কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন হেলথ ক্লাবের মেন্টর ও ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানিয়া আহমেদ। এ ছাড়া কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন নিলুফা সুলতানা, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. ফুয়াদ হোসেন এবং মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক ডা. তরিকুল ইসলামসহ অন্যান্য বক্তারা বক্তব্য রাখেন।
আলোচনা শেষে আগ্রহী নারীদের জন্য স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং সেবা প্রদান করেন গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যান্সার হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পতিত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি ব্লেম গেম শুরু হয়েছে। একে অপরের বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির সঙ্গে গোপন সমঝোতা ও সখ্যের অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
সরকারি দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, বিরোধী দলই আওয়ামী লীগকে পেছন থেকে উসকানি দিচ্ছে, যার ফলে দেশ অস্থিতিশীল হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, শিল্পাঞ্চলগুলোতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, বিরোধী দলের অভিযোগ, আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করে তাদের রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখতে চাচ্ছে সরকারি দল। বিরোধী মত দমনে পরিকল্পিতভাবে ‘আওয়ামী জুজু’র ভয় দেখানো হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে কোনো অকাট্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি, তবে সরকারপ্রধান জানিয়েছেন, তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।
দীর্ঘ দেড় দশক স্বৈরাচারী শাসনে নিষ্পেষিত রাজপথের দুই পুরোনো সহযাত্রী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে একে অপরকে ঘায়েল করতে আওয়ামী লীগ কার্ড ব্যবহার করছে। এতে প্রশ্ন উঠেছেÑ সত্যিই কি কেউ নিষিদ্ধ বা বিতাড়িত শক্তির সঙ্গে সমঝোতা করছে, নাকি প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে দেউলিয়া করতে নতুন এই অস্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি সরকার ও বিরোধী দল একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপের রাজনীতি অব্যাহত রাখে, তবে বিতাড়িত রাজনৈতিক দলই লাভবান হবে। তাই দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে উভয়পক্ষের উচিত পারস্পরিক দোষারোপের সংস্কৃতি পরিহার করে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা।
বিএনপি সরকার গঠনের পরপরই প্রধান বিরোধী দল জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য সরকারকে সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও জুলাই সনদ নিয়ে প্রথম থেকেই টানাপোড়েন শুরু হয়। জুলাই সনদের পাশাপাশি জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দল সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। সরকারের মেয়াদ সাত মাস না যেতেই বিরোধী দল লংমার্চ, বিভাগীয় সমাবেশসহ সরকারবিরোধী নানা কর্মসূচি পালন করছে। এসব কর্মসূচি থেকে সরকার পতনের হুমকি পর্যন্ত এসেছে।
সম্প্রতি বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সরকারকে আর সহযোগিতা করা হবে না বলেও ঘোষণা দিয়েছেন। বিরোধী দলের আন্দোলন-কর্মসূচির পাশাপাশি রাজধানী এবং এর আশপাশে শ্রমিক আন্দোলন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বকেয়া বেতন ও বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে তারা প্রায়ই রাজপথে নামছে। সরকারি দলের অভিযোগ, এসব কর্মসূচি পালিত হচ্ছে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে। এর পেছনে বিরোধী দলের ইন্ধন এবং সম্পৃক্ততার অভিযোগও তোলা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। আন্দোলন চাঙা করতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিরোধী দল আঁতাত করছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
অপরদিকে বিরোধী দলের অভিযোগ, তাদের কোণঠাসা করতে সরকারি দলের লোকজনই আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করছে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ একজোট হয়ে বিরোধী দলকে দমনের চেষ্টা করছে।
তবে বিএনপি ও জামায়াতের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ‘সম্পর্ক তৈরির’ অভিযোগ এর আগেও উঠেছিল। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে অভিযোগটি দুই দলের বিরুদ্ধেই ছিল। নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে উভয় দলই তখন আওয়ামী লীগকে ‘কাছে টানার’ চেষ্টা করেছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়। ওই সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয়সহ তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সুরক্ষা দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হাতে আটক দলটির নেতাকর্মীদের ছাড়াতে তদবির করার তথ্য পাওয়া যায়। প্রার্থীদের নির্বাচনি জনসভায়ও জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য দিতে দেখা যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানও শোনা গেছে।
নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের তুলনায় বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সখ্য বেশি দেখা গেছে। এর ফলস্বরূপ নির্বাচনের পরপরই দেশের কয়েকটি স্থানে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় খোলার খবর পাওয়া যায়। কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার ঘটনা ঘটে। যদিও পরে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী ও জুলাই বিপ্লবীরা ওই সব কার্যালয় ভাঙচুর করে তালাবদ্ধ করে দেন। বিএনপি সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগের কারাবন্দি বেশকিছু নেতাকর্মী জামিনে মুক্তও হন। আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের কেউ কেউ এ সময়ে আত্মপ্রকাশ করতে শুরু করেন।
ভারতে পলাতক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার তথাকথিত দেশে ফেরার ঘোষণার পর দেশে আত্মগোপনে থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির নেতাকর্মীদের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল, কথিত লকডাউন পালন, অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ এবং সাম্প্রতিক শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিষয়টি আবার সামনে এসেছে। হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পরপরই সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সারা দেশে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের তৎপরতা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি গ্রেপ্তার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
গত মঙ্গলবার রাজশাহীতে এক অনুষ্ঠানে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল জামায়াতকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে, তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে।...কাদের সাহায্যে করছে? এই যে কতটা দল আছে, যারা ভ্রান্তি ছড়ায় দেশের মধ্যে। তারা জনগণের কাছে বিভিন্ন টিকিট বিক্রি করার চেষ্টা করেছিল নির্বাচনের আগে। এই দুপক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।’
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে গত বুধবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। তিনি বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘তারা আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিচ্ছে।’ বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকরা যে আন্দোলন করছে, আলোচনার মাধ্যমে সরকারের তা মেনে নেওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সূর মিলিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিরোধী দলের সম্পর্কের প্রমাণ রয়েছে। জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং একটি গুপ্ত দল অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। পরাজিত শক্তি এবং ওই দলের আচরণ ও কথাবার্তায় মিল রয়েছে। অতীতের মতো এখনো তারা বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সাহাবুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্বশীল জায়গা থেকে যে গোয়েন্দা তথ্যের কথা বলেছেন, উচিত হবে তার প্রমাণক তুলে ধরে বিষয়টি পরিষ্কার করা। অপরদিকে বিরোধী দলকেও পাল্টা অভিযোগের ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। অন্যথায় বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে পতিত ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নতুন করে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার পথ খুঁজবে। এতে সরকারের উন্নয়নকাজ বাধাগ্রস্ত হবে, দেশ ও সরকার লাভবান হবে না।
এই শিক্ষাবিদ আরো বলেন, বড় দুই দলের অনৈক্যের সুযোগে আওয়ামী লীগ ধীরে ধীরে সক্রিয় হলে তা কারো জন্য ভালো হবে না। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে পারস্পরিক দোষারোপের সংস্কৃতি পরিহার করে উভয়পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক তারেক ফজল আমার দেশকে বলেন, এ বিষয়ে কতটা গভীর থেকে এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বলা হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে নির্দ্বিধায় বলা যায়, বিষয়টি রজননৈতিক। রাজনৈতিক সুবিধা নিতে দল দুটির পক্ষ থেকে এ ধরনের বক্তব্য আসছে।
পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করে এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, নিঃসন্দেহে বলা যায়, এভাবে দোষারোপের রাজনীতি চলমান থাকলে বিতাড়িত গোষ্ঠীই সুবিধা পাবে। এ বিষয়ে দুপক্ষকে এখনই সংযত হওয়া দরকার। না হলে পরিস্থিতি ভয়ংকর রূপ নিতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ