মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:২৪ পি.এম
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেলিভারি ওয়ার্ডে দীর্ঘ দিন ধরে দায়িত্ব পালনকারী এক ওয়ার্ড বয়ের বিরুদ্ধে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে অনিয়মসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় শাহীন মিয়া।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, দীর্ঘ দিন একই ইউনিটে দায়িত্ব পালনের সুযোগে ডেলিভারি ওয়ার্ডে শাহীনের একটি শক্তিশালী প্রভাববলয় তৈরি হয়েছে। প্রসূতি রোগীদের ট্রলিতে নেওয়া, সিট বরাদ্দসহ বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে অনৈতিক ভাবে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, দাবিকৃত অর্থ দিতে অনীহা প্রকাশ করলে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। এমনকি সেবা পেতে হয়রানি কিংবা বিলম্বের আশঙ্কায় অনেক পরিবার প্রতিবাদ না করে অর্থ দিতে বাধ্য হন বলেও দাবি করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী নিয়েও অভিযোগ শুধু রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায় নয়, হাসপাতালের সরকারি সরবরাহের ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী নিয়েও শাহীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত কিছু ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী রোগীর নামে ইস্যু করিয়ে তা রোগীকে না দিয়ে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেগুলো বাইরে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বাইরের লোকজন দিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ শাহীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, নিজের প্রভাব ধরে রাখতে হাসপাতালের বাইরের একটি প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, অনিয়মের প্রতিবাদ করলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো কিংবা নানা ভাবে হয়রানির আশঙ্কা তৈরি করা হয়।
ডেলিভারি ওয়ার্ডে স্বজনকে নিয়ে আসা এক ভুক্তভোগী বলেন, “সরকারি হাসপাতালে সেবা পাওয়ার আশায় এসে ছিলাম। কিন্তু বিভিন্ন পর্যায়ে টাকা দাবি করা হয়েছে। টাকা না দিলে কাজ এগোয় না এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
তদন্তের দাবি: ডেলিভারি ওয়ার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ইউনিটে একজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনরা। তাদের দাবি, অভিযোগ গুলো নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিররুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক বলে সচেতন মহল মনে করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জার্মানির জন্য এবারের গ্রীষ্ম একটি ভীতিকর সতর্কবার্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা এবং দাবানলের কারণে দেশটিতে অতিরিক্ত গরমের ফলস্বরূপ প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ মানুষ। এবারের গ্রীষ্মকাল দেশটির ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বাধিক উষ্ণতম হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) গ্রীষ্মের শেষ দিনে জার্মানির আবহাওয়া অধিদপ্তর (ডিডব্লিউডি) জানায়, দীর্ঘস্থায়ী উষ্ণতা ও বৈরী আবহাওয়ার নজির দেশটিতে খুব কমই দেখা গেছে। জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই তিন মাসে গড় তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০০৩ সালে রেকর্ড হওয়া ১৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তুলনায় এটি মাত্র শূন্য দশমিক ১ ডিগ্রি কম।
৩০ ডিগ্রির ওপরে ছিল ২২ দিন
ডিডব্লিউডির তথ্য অনুযায়ী, জার্মানিতে এবার গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রচণ্ড গরমের দিনের সংখ্যা ছিল অস্বাভাবিক। দেশজুড়ে গড়ে ২২ দিন তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে ছিল। এর মধ্যে প্রায় পাঁচ দিন তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির সীমা ছাড়িয়ে যায়। জুনের শেষ দিকে কিছু এলাকায় পারদ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠে যায়। এই তীব্র তাপপ্রবাহ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে।
শুধু গরমেই মৃত্যু ১৫ হাজার ৮০০
রবার্ট কখ ইনস্টিটিউটের (আরকেআই) হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৬ আগস্ট পর্যন্ত অতিরিক্ত তাপের কারণে জার্মানিতে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ মানুষ। জুনের শেষের দিকে আঘাত হানা তীব্র তাপপ্রবাহের ফলে আনুমানিক ৯ হাজার ৬০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ডিডব্লিউডির মতে, জুনের শেষের সেই তাপপ্রবাহ বিশেষভাবে ভয়াবহ ছিল। প্রতিষ্ঠানটি মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে এর পেছনে দায়ী করেছে।
খরায় থমকে গেছে অর্থনীতিও
শুধু প্রাণহানি নয়, দীর্ঘস্থায়ী খরার প্রভাব জার্মানির অর্থনীতিতেও পড়েছে। পানির স্তর কমে যাওয়ার ফলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ রাইন নদীতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। কিছু এলাকায় ফেরি চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়েছে। পশ্চিম জার্মানির কয়েকটি অঞ্চলে বড় ধরনের দাবানল দেখা দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে।
অস্ট্রিয়াতেও ভাঙল ২৬০ বছরের রেকর্ড
জার্মানি ছাড়া প্রতিবেশী অস্ট্রিয়াও একই সময়ে তীব্র গরমের কবলে পড়েছে। দেশটির প্রায় ২৬০ বছরের আবহাওয়া রেকর্ডে এবারের গ্রীষ্মকালকে সবচেয়ে উষ্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এবারে অস্ট্রিয়ায় তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা অতিক্রম করেছে। রেকর্ড তাপমাত্রা, তাপপ্রবাহজনিত ব্যাপক প্রাণহানি, খরা এবং দাবানল - ইউরোপের এই দুই দেশের এবারের গ্রীষ্ম জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
তথ্য সূত্র-
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ইরাকের কাছে ৮০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের সামরিক হেলিকপ্টার এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম বিক্রির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। স্থানীয় সময় সোমবার (৩১ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থ কেন্দ্রিক বিখ্যাত সামরিক সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘বেল-টেক্সট্রন’ হবে মূল ঠিকাদার। চুক্তির মাধ্যমে ইরাককে বেল ৪১২ইপিএক্স এবং বেল ৪০৭এম মডেলের সামরিক হেলিকপ্টার সরবরাহ করা হবে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এক অংশীদারের নিরাপত্তা জোরদারে সরাসরি সহায়তা প্রদান করবে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ সুরক্ষিত ও শক্তিশালী হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানায়, এই সামরিক সরঞ্জাম ইরাকের সামরিক বাহিনীর বর্তমান এবং ভবিষ্যতের বিভিন্ন নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা করার সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। বিশেষ করে, দেশটির বিমান বাহিনীর রোটারি-উইং পরিবহন সুবিধা, নজরদারি এবং আকাশ থেকে স্থলভাগে হামলা বা নিশানা করার সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে।
সূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। প্রথমে দলটির নাম ছিল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পরিবর্তনের এক পর্যায়ে ১৯৭৬ সালে সামরিক আইন জারি করে ক্ষমতায় আসেন জিয়াউর রহমান। প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময়েই তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন।
এর আগে ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান তার শাসনকে বেসামরিকীকরণের উদ্দেশ্যে ১৯ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করেন এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের লক্ষ্যে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগ দল) প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জাগদল বিলুপ্ত করে বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।
১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় রমনা রেস্তোরাঁয় আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে বিএনপির যাত্রা শুরু করেন জিয়াউর রহমান। সেই সময় সংবাদ সম্মেলনে নতুন দলের আহ্বায়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি প্রথমে ১৮ জন সদস্যের নাম ঘোষণা করেন। পরে ৯ সেপ্টেম্বর ১৮ জনসহ ৭৬ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। এটি ছিল বিএনপির প্রথম কমিটি। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে দলটির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল ডান, বাম ও মধ্যপন্থীদের সমন্বয়।
বিএনপির প্রয়াত জ্যেষ্ঠ নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের মতে, দলটি মূলত শাহ আজিজুর রহমানের মুসলিম লীগ, যাদু মিয়ার চীনপন্থি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), ক্যাপ্টেন হালিম চৌধুরীর ইউনাইটেড পিপলস পার্টি (ইউপিপি), মওলানা মতিনের লেবার পার্টি, তফসিলি ফেডারেশন, জাগদল, বিভিন্ন পেশাজীবী এবং বিভিন্ন দলের সঙ্গে সম্পর্কহীন বা দলছুট রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল।
বিএনপির প্রথম কমিটিতে অন্য যারা ছিলেন-
বিচারপতি আবদুস সাত্তার, সাবেক ন্যাপ নেতা মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ উল্লাহ, সাবেক মুসলিম লীগ নেতা শাহ আজিজুর রহমান, সাবেক ন্যাপ-ভাসানী নেতা ক্যাপ্টেন (অব) এ এস এম আবদুল হালিম চৌধুরী, পাকিস্তানের সাবেক মন্ত্রী রসরাজ মণ্ডল, সাবেক ক্যাবিনেট ও খাদ্য সচিব আবদুল মোমেন খান, ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন আহমদ, ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, মির্জা গোলাম হাফিজ, সাবেক নৌবাহিনী প্রধান ক্যাপ্টেন(অব) নুরুল হক, চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট এম সাইফুর রহমান, কে এম ওবায়দুর রহমান, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, শামসুল হুদা চৌধুরী, এ জেড এম এনায়েতুল্লাহ খান মিন্টু, এস এ বারী এটি, ড. আমিনা রহমান, আবদুর রহমান, ডা. এম এ মতিন, আবদুল আলীম, ব্যারিস্টার আবুল হাসনাত, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, নূর মোহাম্মদ খান, আবদুল করিম, শামসুল বারী, মজিবুর রহমান, ডা. ফরিদুল হুদা, শেখ আলী আশরাফ, আবদুর রহমান বিশ্বাস, ব্যারিস্টার মুহাম্মদ আবদুল হক, এমরান আলী সরকার, দেওয়ান সিরাজুল হক, এমদাদুর রহমান, এডভোকেট আফসার উদ্দিন, কবির চৌধুরী, এম আর খান, ক্যাপ্টেন (অব) সুজাত আলী, তুষার কান্তি বাড়ৈ, সুনীল কুমার গুপ্ত, রেজাউল বারী ডিনা, আনিসুর রহমান, আবুল কাসেম, মনসুর আলী সরকার, আবদুল হামিদ চৌধুরী, মনসুর আলী, শামসুল হক, সাংবাদিক খন্দকার আবদুল হামিদ, জুলমত আলী খান, এ এফ এম নাজমুল হুদা, কাজী মাহবুব আহমেদ, আবু সাঈদ খান, মোহাম্মদ ইসমাইল, সিরাজুল হক মন্টু, শাহ বদরুল হক, আবদুর রউফ, মির্জা মোরাদুজ্জামান, এ এম জহিরুউদ্দিন খান, ব্যারিস্টার সুলতান আহমেদ চৌধুরী, শামসুল হুদা, সালেহ আহমেদ চৌধুরী, আফসার আহমেদ চৌধুরী, তরিকুল ইসলাম, আনোয়ারুল হক চৌধুরী, মইনউদ্দিন খান, এম এ সাত্তার, হাজী জালাল উদ্দিন, আহমেদ আলী মণ্ডল, শাহেদ আলী, আবদুল ওয়াদুদ, শাহ আবদুল হালিম, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, আতাউদ্দিন খান, আবদুর রাজ্জাক চৌধুরী, আহমেদ আলী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান আশা প্রকাশ করেছেন যে, দেশে চলমান লোডশেডিং খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জাহেদ উর রহমান জানান, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সৃষ্ট লোডশেডিংয়ের চাপ এবার শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, লোডশেডিং নিয়ে একটি বিস্তারিত ডেটা প্রকাশের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, "জ্বালানি নিয়ে প্রচুর কথাবার্তা হয়েছে। আশা করছি, যে পরিমাণ লোডশেডিং আছে, সেটা খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে বেশ খানিকটা কমে আসবে।"
ঢাকায় সাম্প্রতিক সময়ে তুলনামূলকভাবে বেশি লোডশেডিং দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে গ্রামাঞ্চলে বেশি লোডশেডিং দেওয়া হতো। তবে বর্তমান সরকার সংকটের বোঝা সবাইকে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বড় শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহে নীতিগত অগ্রাধিকার থাকে, কারণ এসব এলাকায় অর্থনৈতিক কার্যক্রম বেশি। তিনি উল্লেখ করেন, "শুধু শহরে ক্ষমতাবান মানুষ বসবাস করেন বলে সেখানে বেশি বিদ্যুৎ দেওয়া হবে, এমন নীতি সরকার নেয়নি। সংকটের সময়ে সবাইকে এর কষ্ট ভাগ করে নিতে হবে।"
আগামী সপ্তাহে অতীতের লোডশেডিংয়ের তথ্য প্রকাশের পরিকল্পনা জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ‘আনইন্টারাপ্টেড বিদ্যুৎ’ সরবরাহের যে দাবি করা হয়েছিল, বাস্তবে সে সময় কতটা লোডশেডিং হয়েছে, তার তথ্য প্রকাশ করা হবে। ওই সময়ে কত মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে এবং এর কতটা গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওপর চাপানো হয়েছিল, সেই তথ্যও তুলে ধরা হবে।
বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটের কারণ হিসেবে তিনি জ্বালানি ঘাটতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ, সঞ্চালন গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং দ্রুত বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদাকে দায়ী করেন।
তিনি বলেন, "গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার স্বাভাবিক প্রবণতা তৈরি হয়। এর ফলে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তুলনামূলকভাবে এ চাহিদা কম ছিল।"
চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং এড়াতে ঢাকার ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় প্রয়োজনীয় মাত্রায় লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে। সাশ্রয় করা বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর ফলে ঢাকার বাইরে শিল্প-কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহক শ্রেণিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ও ঘনঘন লোডশেডিংয়ের চাপও কমছে।
সব মিলিয়ে লোডশেডিংয়ের বোঝা তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে বণ্টন করা সম্ভব হচ্ছে উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, "আমরা একটা সংকটের মধ্যে আছি এবং এ সংকটের কষ্টটা আমাদের সবাইকে কমবেশি নিতে হবে। এ কষ্ট খুব দীর্ঘ সময় থাকবে, সেটাও আমরা মনে করি না। সে ব্যাপারে সরকারের যথেষ্ট উদ্যোগ আছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ