শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৩২ পি.এম
মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয়ের সূচনা হয়। এরপর প্রায় এক বছর ধরে কথাবার্তা ও যোগাযোগ চলতে থাকে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই প্রেমের টানে চীন থেকে বাংলাদেশে এসে রংপুরের পীরগঞ্জের এক তরুণীকে বিয়ে করেন ২৯ বছর বয়সী এই যুবক। বিয়ের পূর্বে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তিনি নাম পরিবর্তন করে আয়ান ইসলাম রাখেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নের প্রথমডাঙ্গা গ্রামে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আয়ান ইসলামের পূর্বের নাম ছিল ঝাওহুইয়ান। তার বাড়ি চীনের সিচুয়ান প্রদেশের পিংচাং কাউন্টির ইয়াঙ্কু টাউনশিপের তুবা গ্রামে। তরুণী আবিদা সুলতানার বাড়ি পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নের প্রথমডাঙ্গা গ্রামে অবস্থিত।
প্রায় এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগের একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। এরপর নিয়মিত কথাবার্তা ও যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে আবিদাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন ঝাওহুইয়ান।
গত ২৫ আগস্ট ভোরে বাংলাদেশে পৌঁছান তিনি। ঢাকায় পৌঁছানোর পর বাসে করে রংপুরে আসেন। পরে পীরগঞ্জে গিয়ে আবিদার সঙ্গে দেখা করেন। বিষয়টি দুই পরিবারের সদস্যদের জানানো হলে তাদের সম্মতিতে বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়।
বিয়ের আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর রংপুরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন ঝাওহুইয়ান। এরপর তার নাম রাখা হয় আয়ান ইসলাম। পরদিন বৃহস্পতিবার রাতে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
আবিদার পরিবারের সদস্যরা জানান, আয়ানের সঙ্গে আবিদার আগে থেকেই যোগাযোগ ও সম্পর্ক ছিল। তাদের বিয়েতে দুই পরিবারের সম্মতি ছিল।
শানেরহাট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘তাদের আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে তাদের বিয়ে হয়েছে।’
চীন থেকে এক যুবক পীরগঞ্জে এসে বিয়ে করায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। নবদম্পতিকে দেখতে তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন আশপাশের অনেক মানুষ। দুই দেশের দুই তরুণ-তরুণীর পরিচয় থেকে তৈরি হওয়া সম্পর্ক এখন গড়িয়েছে বিয়ের বন্ধনে। নতুন সংসার নিয়ে উচ্ছ্বসিত নবদম্পতি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে উদ্বোধনের দিনেই একটি শো-রুমে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, লাইভ শপিং ফ্যাক্টরি আউটলেট নামের ওই শোরুমে ৩ হাজার টাকার ফ্রি শপিং অফারকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে, যা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় পল্লবী মেট্রো স্টেশনের পাশে শোরুমটির উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। উদ্বোধনের জন্য ‘লাইভ শপিং’ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রচারণা চালানো হয়। প্রচারিত পোস্টারে উল্লেখ ছিল, দুটি গোল পোস্টে শট নিয়ে একটি গোল করতে পারলেই ৩ হাজার টাকার শপিং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা যাবে।
এই আকর্ষণীয় অফারকে কেন্দ্র করে উদ্বোধনের আগেই শোরুমের সামনে বিপুলসংখ্যক মানুষের ভিড় জমে। শুরুতে অফার ও গেমকে ঘিরে উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকলেও একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
শোরুম কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি সাধারণ ক্রেতাদের ভিড়ে মিশে শোরুমে প্রবেশ করে পরে সংঘবদ্ধভাবে ভাঙচুর শুরু করেন। এর ফলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ‘লাইভ শপিং’ ফেসবুক পেজ থেকে জরুরি সহায়তা চেয়ে পোস্ট দেওয়া হয়। একই সময়ে পুলিশকে ফোন করে সহায়তা চাওয়ার দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই শোরুমে ব্যাপক লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে একই ফেসবুক পেজে আরেকটি পোস্ট দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য ক্রেতাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ।
ক্রেতা আকৃষ্ট করতে নেওয়া বিশেষ এই মার্কেটিং উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত শোরুমটির জন্য বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ঘটনাটির পর শোরুমটির কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এদিকে, জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় এমন আকর্ষণীয় অফার দেওয়ার আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা প্রস্তুতি ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুর, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : আজ ‘লিচুর মিষ্টি ঘ্রাণে, সোনালী ধানের প্রাণেÑজাগুক রোভার তারুণ্যে’ শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে পাঁচদিন ব্যাপী ৪র্থ রোভার মুটের আয়োজন করা হয়েছে।
৪র্থ রোভার মুটের উদ্বোধন আজ শুক্রবার বিকাল ৫ টায় গোর-এ-শহীদ বড় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়, যা দিনাজপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে পরিচালিত।
দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা পতাকা উত্তোলন করে এবং বেলুন উড়িয়ে ৪র্থ রোভার মুটের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, যিনি দিনাজপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শেখ হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মাজহারুল ইসলাম সহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেটের বিশ্বনাথে পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ বকুলের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা ও পৌর বিএনপি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে তারা একটি বিবৃতি জারি করে এই নিন্দা জানান।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি গৌছ আলী এবং সাধারণ সম্পাদক মো. লিলু মিয়া চেয়ারম্যান, পাশাপাশি বিশ্বনাথ পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুল হাই ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শামছুল ইসলামের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বিএনপি নেতারা উল্লেখ করেন যে, ছাত্রদল নেতা আবদুল মজিদ বকুল দীর্ঘ সময় ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। গত বুধবার সন্ধ্যায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতার আকস্মিক হামলায় তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। বর্তমানে তিনি সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। বিএনপি নেতারা তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অবিলম্বে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা শামীম আহমদকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় বিএনপি এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোকে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ ১১ সেপ্টেম্বর, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তির দিন।
২০০৮ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ৩৭২ দিন আটক থাকার পর এই দিনে তিনি সংসদ ভবন এলাকার ভেতরে স্থাপিত বিশেষ কারাগার থেকে মুক্তি পান।
এই দিনটি বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে শুধুমাত্র একটি দিন নয়। এটি অপেক্ষা, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার অবসান এবং স্বাধীনতার আনন্দ উদযাপনের একটি আবেগঘন মুহূর্ত।
বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে ১১ সেপ্টেম্বর একটি বিশেষ তারিখ হয়ে উঠেছে; এটি দীর্ঘ অপেক্ষা, উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে মুক্তির আনন্দ উদযাপনের সময়।
২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে, ঢাকা সেনানিবাসের মইনুল রোডের বাসভবন থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে আটক করা হয়।
আদালতে হাজির করার পর তার জামিন নামঞ্জুর করে সংসদ ভবন এলাকার একটি ভবনে বন্দি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। ঐ ভবনটি বিশেষ কারাগারে পরিণত হয়।
দিন, মাস, বছর গড়িয়ে যায়। এই সময়ের মধ্যে দলের নেতা, কর্মী-সমর্থক ও আত্মীয়স্বজন উৎকণ্ঠা নিয়ে প্রতিদিন কারাগারের বাইরে অপেক্ষা করতে থাকেন।
অবশেষে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বেগম খালেদা জিয়া বন্দিদশা থেকে মুক্তি পান।
মুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে রাজপথে মানুষের ঢল নামে। কারও হাতে ছিল ফুল, আবার কারও চোখে আনন্দাশ্রু। প্রিয় নেত্রীকে স্বাগত জানাতে সবার মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ছিল।
বহু বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী মানুষের স্মৃতিতে আজও অমলিন ১১ সেপ্টেম্বর।
বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক পথচলা নানা উত্থান-পতন, সংগ্রাম, দুর্ভোগ ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে খ্যাত আপসহীন এই নেত্রীর দুর্ভোগের অবসান ঘটে।
২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মারা যান। তার মৃত্যুর পর তাকে ঘিরে মানুষের ভালোবাসার যে বহিঃপ্রকাশ ঘটে, তা ছিল নজিরবিহীন।
দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জানাজা শেষে তাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও ১৯৭৮ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ