ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কিশোর নজরুলের ত্রিশাল: গল্প ও স্মৃতির গুরুত্ব


কিশোর নজরুলের ত্রিশাল: গল্প ও স্মৃতির গুরুত্ব

রুদ্র আল মুত্তাকিন

ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : মানুষের জীবন কি কখনো ভৌগলিক সীমারেখায় বাঁধা পড়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব? সম্ভব নয় মনে হয়! তথাপি কিছু স্থান ও কাল মানুষের জীবনের সঙ্গে এত গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে যে, সেই মানুষটিকে আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য ফিরে যেতে হয় সেই মাটির কাছে। তার ধুলো-মাটি, জল-হাওয়া, লোকজীবন এবং বিস্মৃতপ্রায় স্মৃতির কাছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বুঝতে গেলেও তেমন একটি ফিরে দেখা অপরিহার্য। বাংলা সাহিত্যের আকাশে যিনি ধূমকেতুর মতো আবির্ভূত হয়েছিলেন। যাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছিল মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা, যাঁর কবিতায় প্রেম ও বিদ্রোহ পরস্পরের হাত ধরেছিল—তাঁর জীবনেও এমন কিছু ভৌগোলিক সফরের স্মৃতি রয়েছে, যাদের কথা বলতে গেলে ইতিহাসের ‘গম্ভীর’ বয়ান খানিক থেমে যায়, কান পাততে হয় মাটির নিজস্ব ভাষায়।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল তেমনই একটি স্থান যা কবি নজরুলের জীবনে নানা ভাবে প্রভাব ফেলেছে। এখানে নজরুল কবি হিসেবে আসেননি। এসেছিলেন এক কিশোর হিসেবে। সামনে ছিল অনিশ্চিত জীবনের দীর্ঘপথ। ত্রিশালযাপনের মধ্য দিয়ে তিনি তৎকালীন পূর্ববঙ্গের মানুষ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে প্রথম জানতে পারেন। কে জানত এই কিশোরের নাম একদিন বাংলা ভাষার সবচেয়ে দুর্দম উচ্চারণগুলোর একটি হয়ে উঠবে! আজ এত বছর পর ‘ত্রিশালে নজরুলের স্মৃতির’ পথে হাঁটতে হাঁটতে তাই শুধু নজরুলের স্মৃতিচিহ্ন খুঁজলে চলে না, খুঁজতে হয় সেই সময়ের সেই কিশোরের স্পন্দন, কিশোরের বেড়ে ওঠার অনুষঙ্গ, আর ত্রিশাল কীভাবে ধারণ করে রেখেছে তার ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অথচ বহুমাত্রিক অধ্যায়। কারণ, নজরুলকে ফিরে দেখা মানে কেবল একজন কবিকে স্মরণ করা নয়, তার সময়কেও নতুন করে পাঠ করা।

আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন

তিনি নিজেও বিভিন্ন বয়সে ত্রিশালের স্মৃতি স্মরণ করেছেন। তেমনই তাঁর রচিত একটি গল্প ‘অগ্নিগিরি’! আমরা এই লেখায় অগ্নিগিরি গল্পকে কেন্দ্র করে কিশোর নজরুলের ত্রিশাল ভ্রমণ করব।

‘অগ্নিগিরি’ গল্পের পটভূমি ও বাস্তব ত্রিশাল:

আগেই বলেছি, ‘অগ্নিগিরি’ ছোটগল্পটির প্রেক্ষাপট হলো ত্রিশাল। গল্পটিতে সরাসরি উল্লেখ রয়েছে ‘ত্রিশালের মাদ্রাসা’, ‘গফরগাঁও-এর জমিদারের হাতি’ এবং ‘ময়মনসিংহের হাসপাতাল’-এর মতো বাস্তব অনুষঙ্গ। নজরুল তাঁর এই গল্পে যে ‘বীররামপুর’ গ্রামের চিত্র এঁকেছেন, তা মূলত বাস্তব জীবনের ‘দরিরামপুর’ গ্রামকেই নির্দেশ করে।

বাস্তবতার সঙ্গে গল্পের এই মেলবন্ধন আরও স্পষ্ট হয় ভৌগোলিক অবস্থানের বর্ণনায়। নজরুল ত্রিশালে থাকাকালীন শেষপর্যন্ত নামাপাড়ার বিচ্যুতিয়া ব্যাপারীবাড়িতে জায়গির ছিলেন। এই বাড়ির ঠিক পাশের গ্রামটি হলো ছলিমপুর। ছলিমপুরের মানুষজন বিচ্যুতিয়া ব্যাপারী বাড়ি পেরিয়ে এবং একটি বটগাছ অতিক্রম করে দরিরামপুর বাজারে যাতায়াত করতেন। এই বাস্তব ভৌগোলিক চিত্রটিই গল্পে মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে।

আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে ‘দাদা ভাই বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধে ৫ জেলে উদ্ধার

কৈশোরের স্মৃতি ও নজরুলের জীবনসংগ্রামের প্রতিচ্ছবি:

ত্রিশালের মাটিতে পা রাখার সময় কাজী নজরুল ইসলামের বয়স ছিল চৌদ্দ কি পনেরোর কাছাকাছি। এই বয়সে পৃথিবীকে দেখার চোখ তৈরি হয়। নিজের মতো করে বাঁচার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। কিন্তু জীবন তখনো নজরুলের জন্য স্থির কোনো আশ্রয় সাজিয়ে রাখেনি। পড়াশোনার জন্য বাড়ি ছেড়ে আসা, নতুন মানুষের সংসারে জায়গা করে নেওয়া, এক আশ্রয় ছেড়ে অন্য আশ্রয়ে যাওয়া-এই ছিল তাঁর ত্রিশাল জীবনের বাস্তবতা। পরে যে মানুষটি বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহের এক অনন্য ভাষা হয়ে উঠবেন, তাঁর কৈশোরের দিনগুলোতেও কি সেই স্বাধীনচেতা সত্তার কোনো আভাস ছিল?

প্রশ্নটি আরও কৌতূহলোদ্দীপক হয়ে ওঠে নজরুলের ‘অগ্নিগিরি’ গল্পের কাছে গেলে। গল্পের চরিত্র, সম্পর্ক ও ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে কবির ত্রিশাল-জীবনের কিছু সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যায়। সেখানে উঠে এসেছে সবুর, নূরজাহান ও রুস্তমের প্রসঙ্গ। গল্পের ভেতরকার মানুষদের সঙ্গে নজরুলের বাস্তব জীবনের কোনো মানুষের মিল ছিল কি না, কিংবা কৈশোরের কোনো অভিজ্ঞতা গল্পের উপাদান হয়ে উঠেছিল কি না—এসব প্রশ্ন পাঠককে ফিরিয়ে নিয়ে যায় এক শতাব্দীরও বেশি আগের ত্রিশালে।

নজরুল ১৯১৪ সালের জুনে দারোগা রফিজউল্লাহর সঙ্গে ত্রিশালে এসেছিলেন। ভর্তি হয়েছিলেন দরিরামপুর ইংরেজি হাইস্কুলে, বর্তমানে যা নজরুল একাডেমি নামে পরিচিত। শুরুতে তাঁর থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল কাজীর শিমলা গ্রামে। সেখান থেকে বিদ্যালয়ের দূরত্ব ছিল প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। প্রতিদিন এই পথ হেঁটে যাতায়াত করতে হতো তাঁকে। পরে রফিজউল্লাহ তাঁর থাকার ব্যবস্থা করেন নামাপাড়া গ্রামের কাজী হামিদুল্লাহর বাড়িতে। সেখানেও বেশিদিন থাকা হয়নি তাঁর। এরপর আশ্রয় মেলে বিচ্যুতিয়া ব্যাপারী বাড়িতে, পুকুরের পাশে ছোট্ট একটি ঘরে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লার আদালতে মহিলা আ.লীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ, আটক

এই বাড়ি বদলের ঘটনাগুলো নিছক জীবনী-তথ্য বলে মনে হতে পারে। কিন্তু কিশোর বয়সে জায়গির থাকার অভিজ্ঞতা, নিজের ইচ্ছা ও অন্যের নিয়মের মধ্যে টানাপোড়েন, আর এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরে যাওয়ার বাস্তবতা-এসবের মধ্যেও লুকিয়ে থাকে মানুষের বেড়ে ওঠার গল্প। ‘অগ্নিগিরি’র সবুরের সঙ্গে নজরুলের জীবনের তুলনা টানতে গেলে এই অভিজ্ঞতার জায়গাটিই প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। কেননা সবুরের জীবনেও ঠিক একই ঘটনা ঘটেছে। তবে মিল থাকলেই যে চরিত্রটি কবির আত্মপ্রতিকৃতি, তা নিশ্চিত বলা যায় না।

ত্রিশাল তাই এখানে শুধু নজরুলের জীবনের একটি অধ্যায়ের নাম নয়। তাঁর কৈশোরের বাস্তবতা আর সাহিত্যের সম্ভাব্য অনুরণনকে পাশাপাশি রেখে দেখা যায়। ‘অগ্নিগিরি’ সেই দেখার একটি জানালা খুলে দেয়।

ত্রিশালের এই দিনগুলোতে একদিকে যেমন ছিল ময়মনসিংহের শ্যামল প্রকৃতি ও আতিথেয়তা, অন্যদিকে ছিল নিঃসঙ্গতা ও কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা। ‘ভিনদেশি’ কথনরীতির কারণে স্থানীয় বালকদের কাছে উত্ত্যক্ত হওয়া, কিংবা তাঁর প্রতিভা (গান গাওয়া, বাঁশি বাজানো, পরীক্ষায় প্রথম হওয়া) দেখে সহপাঠীদের ঈর্ষা করার মতো ঘটনাও তাঁকে মোকাবিলা করতে হয়েছিল।

কৈশোরের সেই অম্লমধুর স্মৃতি নজরুল কখনো ভোলেননি। ১৯২৬ সালের গফরগাঁওয়ের প্রজা সম্মিলনীতে পাঠানো চিঠিতেও তিনি ময়মনসিংহের মাটি ও মানুষের প্রতি তাঁর অশেষ ঋণ এবং শৈশবের উজ্জ্বল স্মৃতির কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেছেন। ‘অগ্নিগিরি’ গল্পের মাধ্যমে নজরুল তাঁর কিশোর বেলার সেই চেনা ভূমি, চেনা মানুষ আর ফেলে আসা দিনগুলোকেই সাহিত্যের পাতায় চিরদিনের জন্য অমর করে রেখে গেছেন।

আরও পড়ুন: কালীগঞ্জে ডোপ টেস্টে মাদক সেবনের প্রমাণ, ৫ জনের কারাদণ্ড

এই প্রসঙ্গে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও লেখক মাওলা প্রিন্স বলেন, ‘ত্রিশাল অধ্যায় বাদ দিয়ে নজরুলের জীবন বিচার করার সুযোগ নেই। তাঁর ভাষায়, তিনি ত্রিশালে এসেছিলেন 'মানুষ হতে' এবং ময়মনসিংহ জেলার কাছে তিনি 'অশেষ ঋণে ঋণী'। তাঁর জীবনে প্রথমত ত্রিশাল এবং দ্বিতীয়ত করাচি ছিল দূরদেশ ভ্রমণ বা অবলোকন। তাঁর সৃষ্টিশীল সাহিত্যকর্মে এই দুই অঞ্চলের প্রকৃতি ও মানুষের সমাহার ঘটেছে। 'অগ্নিগিরি' ছোটগল্প, প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁকে লেখা চিঠি ও গফরগাঁও নিখিল বঙ্গীয় প্রজা সম্মেলনে পাঠানো অভিভাষণে ত্রিশাল কেন্দ্রিক তাঁর স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও সাহিত্যিক সত্তার পরিচয় পাওয়া যায়।’

বর্তমানে ত্রিশালে নজরুলের স্মৃতি সংরক্ষণে করণীয়:

কবি নজরুলের স্মৃতি সংরক্ষণে ত্রিশালে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কাজীর শিমলায় দারোগা রফিজউল্লাহর বাড়ি ও নামাপাড়ায় বিচ্যুতিয়া ব্যাপারীর বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে দুটি নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র। সেখানে কবির স্মারক, আলোকচিত্র ও বই সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। কবির স্মৃতিবিজড়িত দরিরামপুর হাইস্কুল বর্তমানে নজরুল একাডেমি নামে পরিচিত। ২০০৬ সালে ত্রিশালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। একই বছর বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও নজরুল ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে চালু হয় ‘নজরুল পর্যটন’ কর্মসূচি। এ ছাড়া প্রতিবছর কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নজরুল মেলার আয়োজন করা হয়। তবে স্মৃতিকেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, নতুন নিদর্শন সংগ্রহ ও গবেষণামূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এখনো গুরুত্বপূর্ণ।

স্মৃতি স্থাপনাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ কিভাবে করা যায় সে প্রসঙ্গে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও লেখক মাওলা প্রিন্স বলেন, কবি নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি ও স্থাপনাগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ঢাকাস্থ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এবং ত্রিশালস্থ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়কে যৌথভাবে দায়িত্ব প্রদান করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন: বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকেরা বিএনপির রাজনীতিতে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু দায়িত্ব দিলেই হবে না, কে বা কারা দায়িত্ব নিচ্ছেন, পরিচালনা করছেন, তিনি বা তারা আদৌ নজরুল অনুরাগী কিনা, দক্ষ ও আন্তরিক কিনা, তিনি বা তারা সরকারের তরফ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছেন কিনা ইত্যাদি বিষয়গুলো নিশ্চিত করে উদ্যোগ নিলে কার্যকর সুফল মিলবে। জাতীয় জীবনের বিকাশের লক্ষ্যে নজরুলচর্চায় যেমন বাজেট বাড়াতে হবে তেমনি বাজেটের সুষ্ঠু ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। নজরুল স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনাগুলো সর্বসাধারণের সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্র হিসাবে দাঁড় করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোবিন্দ পরকীয়ার অভিযোগে মুখ খুললেন, স্ত্রীকে প্রভাবিত করার দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৫ এম


গোবিন্দ পরকীয়ার অভিযোগে মুখ খুললেন, স্ত্রীকে প্রভাবিত করার দাবি

বলিউডের অভিনেতা গোবিন্দ এবং তাঁর স্ত্রী সুনীতা আহুজার দাম্পত্য সমস্যা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সুনীতা একাধিকবার স্বামীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। বিশেষ করে কোমল রানি স্বর্ণকরের সঙ্গে গোবিন্দের সম্পর্কের বিষয়ে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। এবার এই অভিযোগগুলোর মধ্যে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন গোবিন্দ। অভিনেতার দাবি, কেউ একজন তাঁর স্ত্রীকে প্রভাবিত করছেন।

সম্প্রতি এবিপি লাইভকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গোবিন্দ তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতির আভাস তিনি সাত-আট বছর আগে থেকেই পেয়েছিলেন। অভিনেতার মতে, তাঁর সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে নেতিবাচক মন্তব্য ও বদনাম ছড়ানো হচ্ছে। অনেকেই একসময় তাঁকে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন বলেও মন্তব্য করেছেন।

স্ত্রীর অভিযোগের জবাবে সরাসরি পাল্টা আক্রমণে যেতে চান না গোবিন্দ। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেকেই এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। বিশেষ করে নারীদের মন্তব্য নিয়েও তাঁর আপত্তি নেই। তবে তিনি পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে বেশি কথা বলার পরিবর্তে নীরব থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

গোবিন্দের দাবি, তাঁকে এবং সুনীতাকে ঘিরে একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। তিনি মনে করেন, কেউ তাঁর স্ত্রীকে প্রভাবিত করছেন। যদিও সেই ব্যক্তির পরিচয় তিনি প্রকাশ করেননি। তাঁর মতে, কথার মাধ্যমে সম্পর্কের তিক্ততা আরও বাড়তে পারে। তাই কাউকে বিব্রত বা অসম্মান না করে পরিস্থিতি সামাল দিতে চান তিনি।

দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন চললেও সুনীতার অবদান তিনি অস্বীকার করেননি। গোবিন্দ নিজের জীবনে অর্জিত পরিচিতি ও সাফল্যের পেছনে স্ত্রীর ভূমিকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও স্ত্রীর প্রতি অসম্মান করার ইচ্ছা তাঁর নেই।

সাক্ষাৎকারে গোবিন্দ তাঁর জীবনের আরেকটি কঠিন অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। পায়ে গুলি লাগার ঘটনার পর এক পা হারানো ব্যক্তির চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি একাধিক প্রস্তাব পেয়েছিলেন। এমনকি ২০ থেকে ২২ কোটি টাকার প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গোবিন্দ ১৯৮৭ সালে সুনীতা আহুজাকে বিয়ে করেন। তাঁদের দুই সন্তান, মেয়ে টিনা ও ছেলে যশবর্ধন। সম্প্রতি গোবিন্দের আসন্ন ছবি ‘রূপা’র সহশিল্পী কোমল রানি স্বর্ণকরের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে দম্পতিকে নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে পরকীয়ার অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কোটচাঁদপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আ. লীগ ও যুবলীগের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৫ এম


কোটচাঁদপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আ. লীগ ও যুবলীগের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী একটি মামলায় পুলিশ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে, যারা নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সঙ্গে যুক্ত। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ১১টার সময় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কোটচাঁদপুর মডেল থানার একটি বিশেষ দল তাদের গ্রেপ্তার করার জন্য অভিযান চালায়।

কোটচাঁদপুর মডেল থানার ওসি মেহেদী হাসান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—কোটচাঁদপুর উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে মো. ইবাদত হোসেন (৩৫), যিনি বলুহর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সদস্য। অপরজন হলেন—কোটচাঁদপুর পৌরসভার রেলস্টেশন দর্গাতলা পাড়া এলাকার মো. আশাদুল ইসলামের ছেলে মো. মোস্তাফিজুর রহমান ডালিম (৪২), যিনি কোটচাঁদপুর পৌরসভা যুবলীগের সদস্য।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রূপপুরে কড়া নিরাপত্তায় পৌঁছেছে নতুন ইউরেনিয়াম চালান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৬ এম


রূপপুরে কড়া নিরাপত্তায় পৌঁছেছে নতুন ইউরেনিয়াম চালান

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে আসা পারমাণবিক জ্বালানির (ইউরেনিয়াম) একটি নতুন চালান কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৭টা ৪৬ মিনিটে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ইউরেনিয়ামবাহী তিনটি গাড়ি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।

এর আগে, সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৮টা ১৪ মিনিটে ৪১ টন পারমাণবিক জ্বালানি নিয়ে রাশিয়ার একটি বিশেষ কার্গো বিমান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বিমানটিতে ১২টি টিপিএসে মোট ৪১ টন পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহন করা হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পশ্চিম তীরে ইসরাইল যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে: জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৭ এম


পশ্চিম তীরে ইসরাইল যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে: জাতিসংঘ

জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন জানিয়েছে যে, ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইল যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। এসব অপরাধের মধ্যে রয়েছে নির্মূল, নিপীড়ন, নির্যাতন, ধর্ষণ এবং অন্যান্য ধরনের যৌন সহিংসতা।

কমিশন একটি নতুন প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জমা দেওয়া এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি সামরিক অভিযান ও ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা একটি ‘ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলার’ অংশ হয়ে উঠেছে।

প্রতিবেদনটি জানায়, জাতীয়তা, বর্ণ, জাতিগত পরিচয়, লিঙ্গ ও বয়সের ভিত্তিতে ফিলিস্তিনিদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এই হামলার শিকারদের মধ্যে শিশুদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনীর হাতে ১ হাজার ৮০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ৩৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন।

প্রতিবেদনে গাজা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় ইসরাইল গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। সেখানে ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার বিস্তৃতি আরও বাড়ানোর ফলে বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে।

জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন আরো বলেছে, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করা, বশীভূত রাখা এবং তাদের সমাজকে অস্থিতিশীল করে তোলার উদ্দেশ্যে যৌন সহিংসতা ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রায় সম্পূর্ণ দায়মুক্তি ভোগ করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%