০৯:৩৭ পি.এম
“মুহূর্তটির কথা মনে পড়লে, আমি বুঝতে পারি আমি নিজের জীবন রক্ষার জন্য লড়াই করছিলাম। রক্তে ভেসে যাওয়া শরীরে যখন আমি মাটিতে পড়ে গিয়েছিলাম, তখন মনে হচ্ছিল—আমি কি আর উঠে দাঁড়াতে পারব?” —এইভাবে দুঃস্বপ্নঘেরা মুহূর্তের স্মৃতি শেয়ার করছিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের বীর পাইলট ক্যাপ্টিন স্মিত মাচ্ছার।
গত বুধবার তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের FZ ১০৭৩ ফ্লাইটে একটি ভয়াবহ ছিনতাইয়ের চেষ্টা ও বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটেছিল, যা প্রতিহত করেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই পাইলট। সহ-পাইলটের নির্মম আক্রমণের শিকার হয়েও, শেষ মুহূর্তের সাহসিকতায় তিনি বিমানে থাকা শত শত যাত্রীর প্রাণ রক্ষা করেন।
শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির একটি হাসপাতালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ভিডিও কলের মাধ্যমে নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন মাচ্ছার।
আরও পড়ুন: ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫৩ সেনা নিহত
“একটি শেষ চেষ্টা!”
বিমানের ককপিটে সহ-পাইলটের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল ক্যাপ্টেন স্মিতের। তিনি ককপিটের মেঝেতে পড়ে যান এবং অনুভব করেন বিমানটি নিচের দিকে হু হু করে নামছে।
মাচ্ছার বলেন, “মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থাতেও সে আমাকে মারধর করছিল। কিন্তু আমি জানতাম, বিমানটি নিচে নেমে যাচ্ছে। সেই চরম মুহূর্তে নিজের ভেতরে এক প্রচণ্ড জোর এনে নিজেকে বললাম—‘স্মিত, আর একটি শেষ চেষ্টা! উঠে দাঁড়াও, দরজাটা তো তোমার হাতের কাছেই।’”
শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে ককপিটের ইমার্জেন্সি লক খুলে দেন তিনি। ককপিটের দরজা খুলতেই বাইরে থাকা যাত্রীরা ভেতরে প্রবেশ করেন এবং উগ্র রূপ নেওয়া হামলাকারী কো-পাইলটকে চেপে ধরেন।
আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামো বদলাচ্ছে: বিশ্লেষক
স্মিত মাচ্ছার বলেন, “আমি আমার জীবনের জন্য লড়াই করছিলাম ঠিকই, কিন্তু একইসঙ্গে আমার মাথায় কাজ করছিল—আমি বিমানের কোনো মানুষকে এভাবে মরতে দিতে পারি না।”
পরিবার ও চিকিৎসাভাবনা
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে আকাশপথের পাইলট হয়ে ওঠা স্মিত বর্তমানে আবুধাবির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সৌদি আরবে জরুরি অবতরণের পর প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে আবুধাবিতে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালে তার মেয়ে বাবাকে দেখতে এলেও, বাবার ক্ষতবিক্ষত শারীরিক অবস্থা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তার দুই বছরের ছোট ছেলে এখনো তাকে দেখতে পায়নি।
স্মিতের স্ত্রী সোনাল মাচ্ছার জানান, মারাত্মক মানসিকভাবে আঘাত পাওয়ার আশঙ্কায় পরিবার থেকে এখনো তাকে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ নিয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে না। তিনি মানসিকভাবে স্থির হলে নিজেই বিষয়টি প্রকাশ করবেন।
আরও পড়ুন: ভারতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র দুই নেতার আটকাদেশ দুই দিন বৃদ্ধি
হামলাকারী সম্পর্কে যা জানা গেছে
হামলাকারী সহ-পাইলট একজন ওমানের নাগরিক। তাকে ইতোমধ্যে প্রাথমিক আটকস্থল সৌদি আরব থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হস্তান্তর করা হয়েছে, যেখানে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদবিরোধী তদন্ত চলছে। আমিরাতের উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক আনোয়ার গারগাশ ঘটনাটিকে এক ‘বিপজ্জনক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করেছেন। ইসরায়েলি ও মার্কিন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, হামলাকারী ব্যক্তি চরমপন্থায় অনুপ্রাণিত হয়ে বিমানটি ধ্বংসের চেষ্টা করছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন