সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৫৬ এম
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রির বিরোধের কারণে ভাবী হামিদা খানম (৬০) কে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা এবং নাতনী রুমা আক্তার সীমাকে (৪) হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মো. আজলু মিয়া (৪০) নামের আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। এছাড়াও, তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে; অনাদায়ে আরও ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সুনামগঞ্জের ১ম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আকবর হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাড. শেরেনুর আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলা ও এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর দিরাই পৌরসভার নতুন বাগবাড়ী এলাকায় এই হত্যার ঘটনা ঘটে।
নিহত হামিদা খানমের মেয়ের স্বামী মো. মফশ্বির আলী জানান, পৈতৃক সম্পত্তি কম দামে বিক্রি করার কারণে আসামি আজলু মিয়ার সঙ্গে তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী হামিদা খানমের বিরোধ তৈরি হয়। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আজলু মিয়া হামিদার বসতঘরে ঢুকে লোহার হাতুড়ি দিয়ে হামলা চালান। এ সময় হাতুড়ির আঘাতে ঘটনাস্থলেই হামিদার মৃত্যু ঘটে এবং শিশু সীমা গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা আজলু মিয়াকে হাতুড়িসহ ঘটনাস্থল থেকে আটক করে এবং আহতদের দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। শিশু রুমা আক্তার সীমাকে পরবর্তীতে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পরদিন, ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর, আটক আজলু মিয়ার বিরুদ্ধে দিরাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে আদালত আসামি আজলু মিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করে আজকের রায় প্রদান করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার ১৮তম ব্যাচে সারা দেশের ২০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছেন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার মো. মহিউদ্দিন রুমান। এই সাফল্যের মাধ্যমে তিনি জুডিশিয়ারির সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
এ সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার ফলে পরিবার, স্বজন, শিক্ষক, বন্ধুবান্ধব ও গ্রামবাসীর মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
মো. মহিউদ্দিন রুমান রায়পুর উপজেলার চরমোহনা গ্রামের পাঁচ কড়ি মাতাব্বর বাড়ির সাবেক ইউপি সদস্য মো. শদুমিয়ার সন্তান।
মহিউদ্দিন রুমানের শিক্ষাজীবনও ছিল কৃতিত্বপূর্ণ। ২০২০ সালে গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজ থেকে তিনি এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৮৭তম স্থান অর্জন করে আইন বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান। তিনি ২০২৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি সম্পন্ন করবেন। বর্তমানে এলএলএম পড়াশোনা করছেন।
নিজের সাফল্যের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে মো. মহিউদ্দিন রুমান বলেন, "সফলতার অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এটি আমার জীবনের একটি লাইফ চেঞ্জিং মোমেন্ট ছিল। এই সফলতার পেছনে অনেকের অবদান রয়েছে। তবে বাবা-মা ও বড় ভাইয়ের অবদান অনস্বীকার্য। এছাড়া আমার অনেক শিক্ষক, বন্ধুবান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষী নানাভাবে এ সময়ে সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন।"
তিনি নিজের বেড়ে ওঠার পরিবেশকে সফলতার পথে একটি বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, "আমার বেড়ে ওঠার পরিবেশটাই ছিল একটি বড় বাধা। আমাদের গ্রামে শিক্ষার পরিবেশ নেই বললেই চলে। নেশা, জুয়া ও বখাটেপনায় জড়িয়ে অনেক ছেলেমেয়ে অকালে ঝরে পড়ে। এমন পরিবেশ থেকে উঠে এসে নিজের লক্ষ্য ধরে রাখা অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে বাবার শাসন ও দিকনির্দেশনার কারণে সেই বাধা অতিক্রম করা সম্ভব হয়েছে।"
১৮তম বিজেএস পরীক্ষার ফল প্রকাশের মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মহিউদ্দিন রুমান বলেন, প্রথমে তিনি বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যে প্রকাশিত ফলাফলটি সত্যিই তার। ফল প্রকাশের সময় ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে সমস্যা হচ্ছিল। পরে নিজে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ফলাফল নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, "বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে এটা আসল রেজাল্ট কিনা। তখন ঘরে মা ও ছোট বোন ছিল। আনন্দে তাদের জড়িয়ে ধরে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম।"
সাবেক ইউপি সদস্য মো. শদুমিয়া বলেন, "আমি অত্যন্ত সৎভাবে জীবনযাপন করার চেষ্টা করেছি। মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। মহিউদ্দিন রুমানের এই সাফল্য শুধু তার পরিবারের নয়, পুরো রায়পুর উপজেলাবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। প্রত্যন্ত গ্রামের প্রতিকূল পরিবেশ থেকে উঠে এসে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পেশায় প্রবেশের এ অর্জন এলাকার তরুণ প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার সৃষ্টি করেছে।"
এলাকাজুড়ে তার সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবার, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষক, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার এ অর্জন নিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের বার্তা দেওয়া হচ্ছে। এলাকাবাসীর মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।
মহিউদ্দিন রুমানের পরিবার ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে তিনি সততা, ন্যায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বিচার বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন এবং রায়পুরের নাম আরও উজ্জ্বল করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৫ সালের প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত যশোরের ৯২ জনকে অবশেষে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়েছে। রোববার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জিএম আলমগীর কবীর পৃথক চিঠির মাধ্যমে তাদের নিয়োগপত্র ইস্যু করেন।
এর আগে শনিবার যশোর জেলার চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত ১০৬ জনের নিয়োগপত্র প্রদান না হওয়ায় প্রার্থীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থান নেন। একদিন পর তাদের মধ্যে ৯২ জনের জন্য নিয়োগপত্র ইস্যু করা হলো।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জিএম আলমগীর কবীর এই বিষয়ে জানান, প্রথম দফায় ১০৬ জনের নিয়োগপত্র ইস্যু করা বাকি ছিল। তাদের মধ্যে ১৩ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। বাকি ৯৩ জনের মধ্যে ৯২ জনের নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়েছে। একজনের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় তার নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়নি।
তিনি আরও জানান, নিয়োগপত্র পাওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজেদের জেলা শিক্ষা কার্যালয়ে যোগদান করবেন।
জানা যায়, ২০২৫ সালের প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় যশোর জেলায় মোট ২৯০ জন চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় ১৮৪ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। বাকি ১০৬ জনের নিয়োগপত্র না দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
রোববার ওই ১০৬ জনের মধ্যে ৯২ জনের নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়। ১৩ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ার কারণে এবং একজনের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় তার নিয়োগপত্র ইস্যু হয়নি।
নিয়োগপত্র পাওয়া প্রার্থীরা আগামী ১ অক্টোবর নিজেদের জেলা শিক্ষা কার্যালয়ে যোগদান করবেন। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর থেকে তাদের পদায়ন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : ‘বাংলাদেশ-মালদ্বীপ গ্রিন ইনিশিয়েটিভ’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে, যা পরিবেশগত স্থায়িত্ব, কৃষি গবেষণা ও জলবায়ু সহনশীলতায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
আজ রোববার মালদ্বীপের মিয়ানজ কলেজ এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগের আওতায় মিয়ানজ কলেজ স্কুল অব এগ্রিকালচারকে ৯টি নির্বাচিত প্রজাতির ২১ হাজার ৩৬০ বীজ ও ২২ হাজার ৩৬০টি পলিব্যাগ প্রদান করা হয়েছে।
মালদ্বীপের ৫০ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব বীজ দেশটির পরিবেশগত পরিস্থিতিতে গবেষণা, অঙ্কুরোদ্গম ও চাষাবাদের কাজে ব্যবহার করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে হস্তান্তরিত বীজের মধ্যে রয়েছে ৫ হাজার পেয়ারা, ৫ হাজার গগন শিরীষ, ৫ হাজার ইপিল-ইপিল, ২ হাজার ৫০০টি আকাশমণি, ১ হাজার ৬০০টি কৃষ্ণচূড়া, ১ হাজার ২০০টি নিম, ৭০০টি বকুল, ২০০টি অর্জুন এবং ১৬০টি বহেরা গাছ।
অনুষ্ঠানে মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম মন্তব্য করেন, ‘এই উদ্যোগ শুধুমাত্র বীজ বা চারা বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সহযোগিতার নতুন গবেষণামুখী মাত্রা। জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকিতে থাকা দুই দেশ যৌথ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পরিবেশগত স্থায়িত্ব ও সবুজায়ন জোরদার করবে।’
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৯ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পবিত্র আরাফাহ ময়দানে জলবায়ু ও পরিবেশ সুরক্ষায় যে নিমগাছ রোপণের ঐতিহ্য সূচনা করেছিলেন—যা ‘জিয়া ট্রি’ নামে পরিচিতি পায়—সেই ধারাবাহিকতা থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে পরিবেশ কূটনীতির এই প্রয়াস গ্রহণ করা হয়েছে। সফলভাবে উৎপাদিত চারাগুলো মালদ্বীপ সরকারের কাছে হস্তান্তরের পর যৌথ প্রতীকী প্রয়াস হিসেবে তা বিবেচনা করার সম্ভাবনা উন্মোচিত হবে।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, মিয়ানজ কলেজ স্কুল অব এগ্রিকালচার প্রদত্ত বীজের মান, অঙ্কুরোদ্গম ও প্রবৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা করবে। সফলভাবে বেড়ে ওঠা চারাগুলো তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে মালদ্বীপ সরকার ও জনগণের উদ্দেশ্যে বন্ধুত্বের উপহার হিসেবে প্রদান করা হবে।
অনুষ্ঠানে মিয়ানজ কলেজের চেয়ারম্যান আহমেদ মোত্তাকী, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, শিক্ষকবৃন্দ ও হাইকমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমাজসেবী বিল গেটস সতর্ক করেছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির উন্নয়নে যথাযথ নিয়ন্ত্রণের অভাব বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, অসৎ উদ্দেশ্যে এআই ব্যবহার হলে তা ‘১০০ কোটি মানুষের মৃত্যুর’ কারণ হতে পারে।
গেটস এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহারে সরকারি নিয়ন্ত্রণ এবং নজরদারি প্রয়োজন বলে জানান।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ক্রিস্টেন ওয়েলকারের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
গেটস বলেন, এআই খাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি কেমন হবে, সে বিষয়ে আইনপ্রণেতা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে আলোচনায় যুক্ত হতে হবে। তিনি বলেন, এ ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।
এআই খাতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কিছু অতিরিক্ত খরচ হবে বলে মন্তব্য করেন গেটস। তবে তিনি মনে করেন, এতে প্রযুক্তির উন্নয়ন উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর হয়ে যাবে না।
সাক্ষাৎকারের আরেক অংশে এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে গেটস আরও কঠোর সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, সর্বাধুনিক এআই প্রযুক্তি খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হলে তা বিপুল প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটানোর জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী হতে পারে।
এআই বন্ধ করার জন্য ‘কিল সুইচ’ রাখার ধারণা নিয়েও কথা বলেন গেটস। তার মতে, শুধু একটি কিল সুইচ থাকলেই যথেষ্ট নয়। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, এআই এখনো এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি যে নিজে থেকেই কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটিকে বন্ধ করা যাবে না।
আগস্টের শেষ দিকে প্রকাশিত প্রায় ৬ হাজার শব্দের একটি প্রবন্ধেও এআইয়ের সম্ভাব্য ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছিলেন গেটস। এর আগে প্রযুক্তি খাতের আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এআই উন্নয়নের গতি কমানো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সও ২৩ সেপ্টেম্বর একটি আইন প্রস্তাব করেন। এতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত উন্নত এআই প্রযুক্তির বিকাশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে গেটসের প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটও এআই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মী ও বিভিন্ন অধিকারকর্মী ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে মাইক্রোসফটের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
গেটসের সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে এআই ব্যক্তিগত জীবনে কতটা ব্যবহার করেন, তা জানতে চান উপস্থাপক ক্রিস্টেন ওয়েলকার। জবাবে গেটস জানান, ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি এআই ব্যবহার করেন না। পরিবার ও বন্ধুদের কারণে এ ক্ষেত্রে তার এআইয়ের প্রয়োজন হয় না।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ