০২:৩৮ পি.এম
বৈশ্বিক উষ্ণতা মোকাবিলায় নিজেদের নেতৃত্বের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করতে চীন ২০২৮ সালের জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন (কপ-৩৩) আয়োজনের জন্য প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করছে।
এই বিষয়ে অবগত দুটি সূত্র শুক্রবার এএফপিকে বিষয়টি জানিয়েছেন।
তবে চীন কপ-৩৩ আয়োজনের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়নি। চলতি বছরেই সম্মেলনের আয়োজক দেশ নির্ধারণ করতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতাও নেই।
আরও পড়ুন: পদত্যাগের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কী কথা হয়েছিল, জানালেন ইশরাক হোসেন
এখনও পর্যন্ত কপ-৩৩ আয়োজনের উদ্দেশ্যে চীনের আগ্রহের খবর প্রথম প্রকাশ করেছে ব্লুমবার্গ নিউজ।
জাতিসংঘের বার্ষিক জলবায়ু সম্মেলনগুলো বিভিন্ন আঞ্চলিক জোটের মধ্যে পালাক্রমে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। চলতি বছরের কপ-৩১ তুরস্কে অনুষ্ঠিত হবে এবং ২০২৭ সালের কপ-৩২ ইথিওপিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
২০২৮ সালের সম্মেলন আয়োজনের দায়িত্ব এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ওপর পড়বে।
গত এপ্রিল মাসে ভারত কপ-৩৩ আয়োজনের প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেয়। তবে কেন এই প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হয়েছে, তা নির্দিষ্টভাবে জানায়নি দেশটি। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়াও সম্মেলনটি আয়োজনের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে।
আরও পড়ুন: এল নিনোর প্রভাবে পেরুর দাবানলে ১২ জনের মৃত্যু
চীনের এই সম্ভাব্য উদ্যোগের বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি) সচিবালয় এএফপিকে জানিয়েছে, কপ-৩৩-এর আয়োজক দেশ হিসেবে কোনো দেশের নাম এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক জোট তাদের জানায়নি।
সচিবালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো দেশ আয়োজক হওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক জোটের সদস্য দেশগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে। ঐকমত্যে পৌঁছানোর পর আঞ্চলিক জোটের চেয়ারম্যান আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের সচিবালয়ে আয়োজক দেশের নাম প্রস্তাব করেন।
সাম্প্রতিক সময়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতে নিজেদের অবস্থানকে আরো সুদৃঢ়ভাবে তুলে ধরছে চীন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে দ্বিতীয়বারের মতো বের হয়ে গেছে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
আরও পড়ুন: সরকারকে নাগরিকদের জীবন নিয়ে তামাশা না করতে বললেন বিরোধীদলীয় নেতা
এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন আয়োজন করা চীনের জন্য নিজেদের জলবায়ু নেতৃত্বের দাবি আরও শক্তিশালী করার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে চীনের এখানে একটি অর্থনৈতিক স্বার্থও রয়েছে। এই দেশটি সৌর প্যানেল, বৈদ্যুতিক গাড়ি, বায়ুবিদ্যুৎ টারবাইন ও ব্যাটারিসহ বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি রপ্তানিতে শীর্ষস্থানীয়।
যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কও এই প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ।
তবে যদি চীন সম্মেলন আয়োজন করে, তখন তাদের জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নিজেদের রেকর্ড নিয়ে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হতে পারে। ১৪০ কোটির বেশি জনসংখ্যা এবং বিশাল শিল্প উৎপাদনের জন্য চীন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ। এর পরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
আরও পড়ুন: চীন ও রাশিয়া ইউরেশিয়ায় ‘বিধ্বংসী বহিরাগত হস্তক্ষেপের’ নিন্দা জানাল
চীন ২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে ২০৩৫ সালের মধ্যে অর্থনীতিজুড়ে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় শুধুমাত্র ৭ থেকে ১০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, কপ-৩৩ আয়োজনের বিষয়টি পর্যালোচনার সময় চীন যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের গতিপ্রকৃতিও বিবেচনায় নিচ্ছে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও বারাক ওবামার সময় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র-চীন সহযোগিতা দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। ২০২৮ সালে যদি কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, তাহলে কপ-৩৩ দুই দেশের মধ্যে নতুন করে জলবায়ু সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
সম্মেলনটি সম্ভবত ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কয়েক দিন পরে অনুষ্ঠিত হবে।
আরও পড়ুন: নাইজারে অপহৃত সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ার ২ নারীকে লিবিয়া উদ্ধার করেছে
জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ই৩জি-এর বিশেষজ্ঞ অ্যালডেন মেয়ার এএফপিকে বলেছেন, গত ৩৫ বছরে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক কখনো অগ্রগতির, আবার কখনো উত্তেজনার কারণ হয়েছে। আগামী মার্কিন নির্বাচনের ফল যা-ই হোক, বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের চ্যালেঞ্জ অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন