মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:১৩ পি.এম
বলিউডের অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের সাবেক ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। ৬ বছরেরও বেশি সময় আগে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় মুম্বাই হাইকোর্টের নির্দেশনার পর একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। দিশার বাবা সতীশ সালিয়ান এতে তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তা, কিছু মন্ত্রী ও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে প্রমাণ লোপাট এবং গণধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ তুলেছেন।
২০২০ সালের ৮ জুন রাতে মুম্বাইয়ের একটি ১২ তলা ভবন থেকে পড়ে মারা যান ২৮ বছর বয়সী দিশা সালিয়ান। বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রথম দিকে পুলিশ এটিকে মদ্যপ অবস্থায় দুর্ঘটনাবশত পড়ে যাওয়া এবং পরে আত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করলেও তার পরিবার শুরু থেকেই এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছিল।
গত ২ সেপ্টেম্বর মুম্বাই হাইকোর্ট পূর্বের পুলিশি তদন্তের ব্যাপারে তীব্র সমালোচনা করে জানায়, দীর্ঘ সময় ধরে দুই ধাপে করা তদন্তে অসংখ্য স্পষ্ট অসঙ্গতি রয়েছে। আদালত মন্তব্য করে বলেন, ময়নাতদন্তের আঘাতের চিহ্ন ১২ তলা থেকে পড়ে যাওয়ার সাথে মেলে না। যেখানে লাশ পাওয়া গেছে, সেখানে রক্তের কোনো আলামতও পাওয়া যায়নি। ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে দেখা হলেও পুলিশ কোনো এফআইআর দায়ের করেনি। আদালত উল্লেখ করে, পুলিশের এই তদন্ত সমাধানের চেয়ে আরো বেশি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সিবিআইয়ের কাছে দাখিল করা অভিযোগে দিশার বাবা উল্লেখ করেন, একটি আন্তর্জাতিক চক্রের সাথে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও অভিনেতাদের মাদক পাচার এবং শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধমূলক তথ্যের প্রমাণ দিশার হাতে এসেছিল। দিশা এই তথ্য সুশান্ত সিং রাজপুতকে জানান এবং দুজনে মিলে সংবাদ সম্মেলন করে তা ফাঁসের পরিকল্পনা করেছিলেন। অভিযোগে বলা হয়, সেই তথ্য ফাঁস হওয়া রোধ করতে দিশাকে গণধর্ষণ ও হত্যা করে প্রমাণ লোপাট করা হয়। এর ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় সুশান্ত সিং রাজপুতকেও তার বাসায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়, যা সারা ভারতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
মেয়ের জন্য ৬ বছর ধরে লড়াই করে আসা সতীশ সালিয়ান আদালতের এই আদেশে কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি তার একমাত্র সন্তানের জন্য সুবিচারের দাবি জানিয়ে অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন। তবে আদালত স্পষ্ট করে জানায়, এফআইআর দায়ের হওয়া মানেই কারও বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। আপাতত এফআইআর-এ উল্লিখিত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সিবিআই নতুন করে নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এমপি এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধিদল কক্সবাজারে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে আকাশপথে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছালে জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাঁদের ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান।
এ সময় কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী এমপি, কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামিম আরা স্বপ্না, কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক এ.টি.এম. নুরুল বশর চৌধুরীসহ অন্যান্য বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার নাফ নদীসংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন পোল্ডার ও বেড়িবাঁধ পুনর্বাসন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করবেন। এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে পোল্ডার ৬৭/এ, ৬৭, ৬৭/বি ও ৬৮-এর পুনর্বাসন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পরিদর্শনের পর তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
অন্যদিকে, দুই দিনের সরকারি সফরে আসা পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদও মঙ্গলবার উখিয়া-টেকনাফের নাফ নদী বরাবর পোল্ডারগুলোর পুনর্বাসন কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। সেখানে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের চলমান কার্যক্রম, বাঁধের বর্তমান অবস্থা এবং উপকূলীয় ও সীমান্ত এলাকার সুরক্ষা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করার পরিকল্পনা করেছেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রতিমন্ত্রী কুতুবদিয়া সফর করবেন। সেখানে তিনি পোল্ডার নং-৭১ এলাকায় প্রস্তাবিত ‘সুপার ডাইক নির্মাণসহ টেকসই পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করবেন। প্রথম পর্যায়ে কুতুবদিয়ায় প্রায় ৬ কিলোমিটার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনকালে তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
কুতুবদিয়া ছাড়াও প্রতিমন্ত্রীর পেকুয়া উপজেলার উপকূলীয় পোল্ডার পুনর্বাসন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে তিনি বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়ন সংক্রান্ত কার্যক্রম পর্যালোচনা করবেন।
উল্লেখ্য, কক্সবাজারের উপকূলীয় ও সীমান্তবর্তী এলাকার বেড়িবাঁধগুলো ভাঙন, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ফলে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর এই যৌথ পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, বাঁধের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় জনপদের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের ছুটির তারিখ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে এই ছুটি কার্যকর হবে। পূর্বে এই ছুটির তারিখ ছিল ২৪ সেপ্টেম্বর। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ছুটির তারিখ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
এতে আরো বলা হয়েছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ১২ সেপ্টেম্বরের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-১ শাখা কর্তৃক জারীকৃত প্রজ্ঞাপন আংশিক সংশোধন করে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকায় পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের তারিখ পরিবর্তন করে ২৩ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরো পড়ুন
২৩ সেপ্টেম্বর কি সরকারি ছুটি? কারা পাবেন, যাদের নেই
এর আগে, গত রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ২০ মে তারিখে জারীকৃত প্রজ্ঞাপন আংশিক সংশোধন করে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকায় পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতাকে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে গুলশান-২-এর ৪৩ নম্বর সড়কের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ডিবির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার আ.ফ.ম. আনোয়ার হোসেন খান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গুলশান-২-এর ৪৩ নম্বর সড়কের ২৯ নম্বর বাসায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখান থেকেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক এই সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর মাহফুজুর রহমান মিতাকে মিন্টো রোডে অবস্থিত ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিবির কর্মকর্তারা। তবে তাকে ঠিক কোন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, মিতা চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থানায় দায়ের করা একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। ফলে এসব মামলার কোনো একটির পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মাহফুজুর রহমান মিতার বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের মামলায় প্রায় ৯ কোটি ৮৮ লাখ ৩০ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। অনুসন্ধানে তার নামে ১০ কোটি ৬৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬৪ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেলেও ব্যয় বাদে বৈধ সঞ্চয়ের সঙ্গে এর বড় একটি অংশের উৎসের সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের ওই মামলায় অভিযোগের সময়কাল ২০০২ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ধরা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছিল, আয়কর নথি, সম্পদের বিবরণ ও বিভিন্ন আর্থিক তথ্য পর্যালোচনার ভিত্তিতে মামলাটি করা হয়েছে। তবে ওই মামলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি; বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তদন্তাধীন রয়েছে।
মাহফুজুর রহমান মিতা চট্টগ্রাম-৩ আসন থেকে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাদশ জাতীয় সংসদে তিনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ