শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:২৯ এম
বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, যখন বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে হ্যাকারদের জন্য সফটওয়্যারের দুর্বলতা খুঁজে বের করা এবং সেগুলো কাজে লাগানো সহজ হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে, অনলাইনে নিরাপদ থাকার জন্য বিশেষজ্ঞরা পাঁচটি পরামর্শ প্রদান করেছেন।
১. একাধিক স্তরের নিরাপত্তা চালু করুন: প্রতিটি ওয়েবসাইটের জন্য আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি, দ্বিস্তরীয় বা বহুধাপের পরিচয় যাচাইকরণ (এমএফএ) চালু রাখা প্রয়োজন। সম্ভব হলে, পাসওয়ার্ডের বিকল্প হিসেবে পাসকি ব্যবহার করা উচিত।
২. স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালু রাখুন: ফোন, কম্পিউটার, রাউটার এবং অন্যান্য ইন্টারনেট-সংযুক্ত যন্ত্রে স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালু রাখা উচিত। নিরাপত্তা ত্রুটি সংশোধনে প্রকাশিত আপডেটগুলো দ্রুত ইনস্টল করা জরুরি।
৩. সফটওয়্যার নিয়মিত হালনাগাদ করুন: ব্যবহৃত অ্যাপ ও ডিজিটাল সেবাগুলো নিয়মিতভাবে আপডেট করা উচিত। স্মার্ট হোম ডিভাইসসহ যেসব যন্ত্রে নিরাপত্তা আপডেট কম আসে, সেগুলোর বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
৪. প্রতারণামূলক লিংক থেকে সতর্ক থাকুন: বড় কোনো সাইবার হামলার খবর ছড়ালে, প্রতারকেরা ভুয়া বার্তা দিয়ে ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলতে পারে। অ্যাকাউন্ট সুরক্ষার নামে আসা অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে সরাসরি প্রবেশ করা উচিত।
৫. অনলাইন লেনদেনে সতর্ক থাকুন: ব্যাংকের নিরাপত্তাব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হলেও, অপরিচিত অনলাইন বিক্রেতা বা কম সুরক্ষিত ওয়েবসাইটে কেনাকাটার সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। বিভিন্ন সাইটে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার না করার পাশাপাশি, সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে নজর রাখা উচিত।
ব্যক্তিগত সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ, তবে সব সাইবার ঝুঁকি ব্যবহারকারীর পক্ষে ঠেকানো সম্ভব নয়। তাই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত নিরাপত্তা ত্রুটি সংশোধন, নিয়মিত সফটওয়্যার হালনাগাদ এবং আক্রান্ত সিস্টেমে অনুপ্রবেশ ঘটেছে কি না, তা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
সূত্র: রয়টার্স
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পরিচালিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪৭৭ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে ৩৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এই তথ্য নিশ্চিত করেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।
তিনি উল্লেখ করেন, আটকদের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে ২৫ জন, লালবাগ বিভাগ থেকে ৩৪ জন, ওয়ারী বিভাগ থেকে ৩৫ জন, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৩৬ জন, তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৮৫ জন, মিরপুর বিভাগ থেকে ১৬১ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ৫২ জন, উত্তরা বিভাগ থেকে ৪৬ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগ থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে ৪৩৬ পিস ইয়াবা, ৪ বোতল বিদেশি মদ, ৭টি মোবাইলফোন, নগদ ৬ হাজার ৫৫০ টাকা এবং একজন ভিকটিম উদ্ধার করা হয়।
রাজধানীর বিভিন্ন থানার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ আটককৃতদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
আটকদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের কালীগঞ্জে রাতে টহল দেওয়ার সময় কাভার্ড ভ্যানের চাপায় পুলিশের এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) দুজন নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় আরো দুইজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান (৩০) এবং তুমুলিয়া এলাকার মৃত ওয়াজ উদ্দিন মোল্লার ছেলে রফিক মোল্লা (৪৫)। আহতদের মধ্যে উপপরিদর্শক জাবেদ ওমর (২৮) ও গাড়িচালক রাব্বি (২৮) অন্তর্ভুক্ত। জাবেদ ওমর বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এসআই মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল নিয়মিত টহল দিচ্ছিল। এক পর্যায়ে, কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে পুলিশের গাড়ি থামিয়ে সড়কের পাশে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন মিজানুর রহমান, জাবেদ ওমর ও রাব্বি। এই সময় ঘোড়াশালমুখী একটি কাভার্ড ভ্যান তাদের চাপা দিয়ে চলে যায়।
পরে অন্য পুলিশ সদস্যরা আহত চারজনকে উদ্ধার করে রাত ৩টা ৫০ মিনিটে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রফিক মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত মিজানুর রহমান ও জাবেদ ওমরকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে শুক্রবার সকাল ৬টা ৪৭ মিনিটে চিকিৎসকরা মিজানুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, দিনগত রাতে পুলিশের নিয়মিত টহল চলছিল। এ সময় তাদের গাড়িচাপা দেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় এসআই মিজানুর রহমানের মৃত্যু হয়। জাবেদ ওমর গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রাব্বি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এই ঘটনায় স্থানীয় একজন ব্যক্তিও মারা গেছেন।
চাপা দেওয়া গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বাচল ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়েতে সংঘটিত একটি দুর্ঘটনায় দুই বন্ধু প্রাণ হারিয়েছেন। মোটরসাইকেল ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তার অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পূর্বাচল ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়ের ভূঁইয়াবাড়ী ব্রিজ এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রূপগঞ্জ উপজেলার দিঘিরপাড় এলাকার আক্তার মিয়ার ছেলে রুদ্র মিয়া এবং বেল্লারটেক এলাকার কামালের ছেলে ইয়াছিন। অপরদিকে, আহত শ্রাবণ মিয়া বাঘবের সিটি মার্কেট এলাকার জিল্লুরের সন্তান।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিন বন্ধু একটি নিবন্ধনহীন মোটরসাইকেলে করে পূর্বাচল এলাকায় ঘুরতে বের হন। এক পর্যায়ে, তারা ভূঁইয়াবাড়ী ব্রিজের পশ্চিম পাশে সার্ভিস লেন দিয়ে উল্টো পথে যাওয়ার সময় একটি অজ্ঞাতনামা ট্রাকের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই সংঘর্ষের ফলে ঘটনাস্থলেই রুদ্র ও ইয়াছিন নিহত হন এবং গুরুতর আহত হন শ্রাবণ মিয়া।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক পালিয়ে যায়। পুলিশ ট্রাক ও চালককে শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এই ঘটনার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগের টেকসইতা নিয়ে উদ্বেগের ফলস্বরূপ যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় দরপতন ঘটেছে। বৃহস্পতিবার, বিশেষভাবে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলোর উপর ব্যাপক বিক্রির চাপ লক্ষ্য করা গেছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব এশিয়ার শেয়ারবাজারেও পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক কম্পোজিট সূচক ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। এটি গত ৫ জুনের পর সূচকটির সবচেয়ে বড় এক দিনের পতন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ওই দিন নাসডাকের দর ৪ দশমিক ২ শতাংশ কমেছিল। অন্যদিকে, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১ দশমিক ২১ শতাংশ কমেছে, যা ২৯ জুলাইয়ের পর সবচেয়ে বড় পতন।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের শীর্ষ সাত প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান, যেগুলো ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ নামে পরিচিত, তাদের মধ্যে অ্যাপল ছাড়া বাকি সব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে। এআই খাতে ব্যয় বাড়ানোর ঘোষণা এবং প্রত্যাশার তুলনায় কম মুনাফার খবরের পর মেটার শেয়ারের দাম প্রায় ৭ শতাংশ কমে যায়।
মেটা জানিয়েছে, ২০২৬ সালে তাদের মূলধনি ব্যয় ১৩৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এআই অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একই সময়ে অ্যামাজনের শেয়ারের দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশ, এনভিডিয়ার ৪ দশমিক ৪ শতাংশ, টেসলা ও অ্যালফাবেটের ৩ দশমিক ১ শতাংশ করে এবং মাইক্রোসফটের ২ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে, অ্যাপলের শেয়ারের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ২ শতাংশ।
চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইন্টেল ও এএমডির শেয়ারের দাম প্রায় ৮ শতাংশ করে কমেছে। ব্রডকমের শেয়ারও ৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। গত ৬ অক্টোবর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর পর নাসডাক সূচকটি এখন প্রায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ নিচে রয়েছে।
সিপোর্ট রিসার্চ পার্টনার্সের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক জে গোল্ডবার্গ আলজাজিরাকে বলেন, "বাজারের ওঠানামায় মৌলিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চেয়ে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে।"
এআই খাতে বিপুল ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, প্রযুক্তি খাতের এই উত্থান কোনো আর্থিক বুদ্বুদের দিকে এগোচ্ছে কি না। ২০০০ সালের ডটকম ধসের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনাও করছেন কেউ কেউ। তাঁদের আশঙ্কা, ডেটা সেন্টার ও এআই চিপে বিপুল বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত মুনাফা না এলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো চাপের মুখে পড়তে পারে। তবে অন্য বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনীতি ও ব্যবসায় এআইয়ের সম্ভাব্য পরিবর্তন এতটাই বড় যে এই বিনিয়োগের যৌক্তিকতা রয়েছে।
গার্টনারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে এআই খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ২ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২৭ সালে তা বেড়ে ৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে।
এদিকে, জ্বালানি বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৪ শতাংশ বেড়েছে। শুক্রবার সকালে প্রতি ব্যারেলের দাম ১১৪ ডলার ২০ সেন্ট ছাড়িয়ে যায়, যা মে মাসের পর সর্বোচ্চ। ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এশিয়ার বাজারেও শুক্রবার দরপতন দেখা যায়। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক শুরুতে ২ শতাংশের বেশি কমলেও পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক একপর্যায়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক কমেছে প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ