শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৩১ এম
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বাচল ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়েতে সংঘটিত একটি দুর্ঘটনায় দুই বন্ধু প্রাণ হারিয়েছেন। মোটরসাইকেল ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তার অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পূর্বাচল ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়ের ভূঁইয়াবাড়ী ব্রিজ এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রূপগঞ্জ উপজেলার দিঘিরপাড় এলাকার আক্তার মিয়ার ছেলে রুদ্র মিয়া এবং বেল্লারটেক এলাকার কামালের ছেলে ইয়াছিন। অপরদিকে, আহত শ্রাবণ মিয়া বাঘবের সিটি মার্কেট এলাকার জিল্লুরের সন্তান।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিন বন্ধু একটি নিবন্ধনহীন মোটরসাইকেলে করে পূর্বাচল এলাকায় ঘুরতে বের হন। এক পর্যায়ে, তারা ভূঁইয়াবাড়ী ব্রিজের পশ্চিম পাশে সার্ভিস লেন দিয়ে উল্টো পথে যাওয়ার সময় একটি অজ্ঞাতনামা ট্রাকের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই সংঘর্ষের ফলে ঘটনাস্থলেই রুদ্র ও ইয়াছিন নিহত হন এবং গুরুতর আহত হন শ্রাবণ মিয়া।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক পালিয়ে যায়। পুলিশ ট্রাক ও চালককে শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এই ঘটনার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগের টেকসইতা নিয়ে উদ্বেগের ফলস্বরূপ যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় দরপতন ঘটেছে। বৃহস্পতিবার, বিশেষভাবে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলোর উপর ব্যাপক বিক্রির চাপ লক্ষ্য করা গেছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব এশিয়ার শেয়ারবাজারেও পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক কম্পোজিট সূচক ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। এটি গত ৫ জুনের পর সূচকটির সবচেয়ে বড় এক দিনের পতন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ওই দিন নাসডাকের দর ৪ দশমিক ২ শতাংশ কমেছিল। অন্যদিকে, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১ দশমিক ২১ শতাংশ কমেছে, যা ২৯ জুলাইয়ের পর সবচেয়ে বড় পতন।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের শীর্ষ সাত প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান, যেগুলো ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ নামে পরিচিত, তাদের মধ্যে অ্যাপল ছাড়া বাকি সব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে। এআই খাতে ব্যয় বাড়ানোর ঘোষণা এবং প্রত্যাশার তুলনায় কম মুনাফার খবরের পর মেটার শেয়ারের দাম প্রায় ৭ শতাংশ কমে যায়।
মেটা জানিয়েছে, ২০২৬ সালে তাদের মূলধনি ব্যয় ১৩৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এআই অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একই সময়ে অ্যামাজনের শেয়ারের দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশ, এনভিডিয়ার ৪ দশমিক ৪ শতাংশ, টেসলা ও অ্যালফাবেটের ৩ দশমিক ১ শতাংশ করে এবং মাইক্রোসফটের ২ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে, অ্যাপলের শেয়ারের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ২ শতাংশ।
চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইন্টেল ও এএমডির শেয়ারের দাম প্রায় ৮ শতাংশ করে কমেছে। ব্রডকমের শেয়ারও ৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। গত ৬ অক্টোবর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর পর নাসডাক সূচকটি এখন প্রায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ নিচে রয়েছে।
সিপোর্ট রিসার্চ পার্টনার্সের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক জে গোল্ডবার্গ আলজাজিরাকে বলেন, "বাজারের ওঠানামায় মৌলিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চেয়ে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে।"
এআই খাতে বিপুল ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, প্রযুক্তি খাতের এই উত্থান কোনো আর্থিক বুদ্বুদের দিকে এগোচ্ছে কি না। ২০০০ সালের ডটকম ধসের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনাও করছেন কেউ কেউ। তাঁদের আশঙ্কা, ডেটা সেন্টার ও এআই চিপে বিপুল বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত মুনাফা না এলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো চাপের মুখে পড়তে পারে। তবে অন্য বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনীতি ও ব্যবসায় এআইয়ের সম্ভাব্য পরিবর্তন এতটাই বড় যে এই বিনিয়োগের যৌক্তিকতা রয়েছে।
গার্টনারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে এআই খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ২ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২৭ সালে তা বেড়ে ৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে।
এদিকে, জ্বালানি বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৪ শতাংশ বেড়েছে। শুক্রবার সকালে প্রতি ব্যারেলের দাম ১১৪ ডলার ২০ সেন্ট ছাড়িয়ে যায়, যা মে মাসের পর সর্বোচ্চ। ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এশিয়ার বাজারেও শুক্রবার দরপতন দেখা যায়। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক শুরুতে ২ শতাংশের বেশি কমলেও পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক একপর্যায়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক কমেছে প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পোলাওর চাল ও আটা-ময়দার দাম কমছে না। বিভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রে কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা। এরই মধ্যে আদা, রসুন ও লেবুর দাম হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, নজরদারি না থাকার কারণে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো নিত্যপণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর, কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর ও নিউমার্কেট এলাকার বাজার পরিদর্শন করে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে।
বাজারে দেখা গেছে, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে চীনা আদার দাম কেজিতে বেড়ে গেছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া আদা এখন ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে, চীনা রসুনের দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে ১৮০ টাকায় পৌঁছেছে এবং দেশি রসুনের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ১০০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জাতভেদে হালিপ্রতি লেবুর দামও ১৫ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ৩০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শীতের আগাম সবজি বাজারে উঠতে শুরু করলেও ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি নেই। সরবরাহ কম থাকায় এসব সবজি কিনতে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। পটোল, ঢ্যাঁড়শ, ধুন্দল ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, ঝিঙা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুমুখি ৭০ টাকা, কাঁকড়ল ও বেগুন ৭০ থেকে ৯০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে শীতের আগাম সবজি শিমের দাম কমলেও তা এখনো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে শিমের দাম ১৬০ টাকা পর্যন্ত ছিল। আকারভেদে ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতাদের টম্যাটো প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ২০০ টাকা দিতে হচ্ছে। শান্তিনগর বাজারের সবজি বিক্রেতা বেলায়েত জানিয়েছেন, বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় সবজির দাম কিছুটা কমতির দিকে। তিনি বলেন, "এখন নতুন করে আর সবজির দাম বাড়বে না।"
এদিকে, আটা-ময়দার দাম বাড়ছে। বাজারে খোলা আটা ৪৮ থেকে ৫৫ টাকা এবং প্যাকেটজাত আটা ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পোলাও চালের দাম ১২০ টাকা কেজি থেকে এক লাফে মানভেদে বেড়ে ১৯০ থেকে ২৩০ টাকা হয়ে গেছে, যা ক্রেতাদের হতবাক করেছে। বাজারে মানভেদে নাজিরশাইল ও মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইজাম, ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ চালের দাম ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা এবং মোটা চাল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। টিসিবির হিসাব অনুযায়ী, গত এক মাসে খোলা আটার দাম ২ শতাংশ ও প্যাকেটজাত আটার দাম ৮ শতাংশ বেড়েছে। খোলা ময়দা ও প্যাকেটজাত ময়দার দাম যথাক্রমে ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ ও ৬ শতাংশ বেড়ে ৭০ টাকা এবং ৮৫ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডাল ও মসলার মতো মৌলিক পণ্যগুলো এখনো বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, ডিমের দাম কিছুটা কমলেও মুরগি, মাছ ও অন্যান্য মাংসের দাম চড়া রয়েছে।
সপ্তাহ দুয়েক আগে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। পরে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়।
মুরগি ও অন্যান্য মাংসের দামেও তেমন স্বস্তি নেই। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা এবং সোনালি মুরগি জাতভেদে ৩১০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও ক্রেতাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। পাঙ্গাশ মাছ কেজি ২২০ থেকে ২৫০ টাকায়, তেলাপিয়া মাঝারি ও বড় সাইজের কেজি ২৪০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া চাষের রুই মাছ প্রতি কেজি ৩৮০ থেকে ৫০০ টাকা এবং কাতল মাছ ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সংকট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা এবং কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা নিয়ে ইউরোপজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। ফ্রান্সে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে অন্তত আটটি দেশের তরুণেরা যোগ দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে স্পেন, পর্তুগাল, ইতালি, বেলজিয়াম, আলবেনিয়া ও গ্রিস। ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ এবং হতাশা থেকে তাঁরা রাস্তায় নেমে এসেছেন।
ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের শুরুটা স্কুলের দুরবস্থা, শিক্ষকসংকট, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকার প্রতিবাদে হয়েছে। পরে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মূল্যস্ফীতি, নিম্ন মজুরি, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং সরকারি সেবার অবনতির বিরুদ্ধে বৃহত্তর বিক্ষোভ। ইতালি ও বেলজিয়ামেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
স্পেন এবং পর্তুগালে তরুণদের প্রধান উদ্বেগ হচ্ছে আবাসন ব্যয়। বাড়িভাড়া এবং বাড়ির দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে অনেকের জন্য নিজস্ব বাসস্থান গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে। পর্তুগালের রাজধানী লিসবনসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীরা সাশ্রয়ী আবাসন এবং ন্যায্য মজুরির দাবিতে তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান করছেন।
তরুণদের আশঙ্কা, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, সীমিত কর্মসংস্থান এবং শিক্ষা ও সামাজিক সেবায় চাপের কারণে তাদের সামনে ভালো ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিক্ষোভের দাবি ও পরিস্থিতি এক না হলেও, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আন্দোলনগুলোর একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুর, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : পদ্মা-মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশ শিকারের অভিযোগে ২০ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় নিষিদ্ধ কারেন্টজাল, নৌকা এবং ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত জেলা টাস্ক ফোর্সের আওতায় সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল হুদার নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে অংশগ্রহণকারী সদর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় বাসসকে জানান, অভিযানের সময় ২০ জন জেলে আটক করা হয়। এছাড়া ৩০ কেজি ইলিশ, ৩৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল এবং ৩টি ইঞ্জিন চালিত মাছ ধরার কাঠের নৌকা জব্দ করা হয়েছে।
কারাদণ্ড প্রাপ্ত জেলেদের মধ্যে শুক্কুর শেখ (২৫), মফিজ গাজী (৬০), সাব্বির গাজী (১৮), ফরহাদ গাজী (১৯), হাবিব খান (২০), তোফাজ্জল হোসেন (৫৫), সিয়াম পাটওয়ারী (২২), আলমগীর হাওলাদার (২৫), শহীদ গাজী (২৬), মো. আব্বাস (৪০), রিপন মিয়াজী (২০), মো. মাসুদ (৪১), নুর মোহাম্মদ (৩৫), দেলু সরদার (৪৫), মো. শাকিল (১৯), কালু খান (৩০), মো. হাবিব (৩৫), মো. হাবিব খান (৪০), মো. বারেক (২৮) এবং মো. রবিউল ইসলাম (১৯) অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
এসব জেলেদের বাড়ি সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে অবস্থিত।
আটক ২০ জেলের মধ্যে ১৩ জনকে ১০ দিন করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৭ জনকে ১৫ দিন করে সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া, প্রত্যেকের কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
জব্দকৃত ইলিশ এতিমখানা ও দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হবে এবং নৌকাটি কোস্ট গার্ডের হেফাজতে রাখা হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জব্দকৃত জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ