আঃ হামিদ, মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৪২ পি.এম
টাঙ্গাইলের মধুপুরে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পাঁচ বিশিষ্টজনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার আহাম্মদ আলী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মধুপুর উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও আহাম্মদ আলী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ আলাল হোসেন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
অনুষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৩৯ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শিক্ষা ও সমাজে অবদানের জন্য পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাকির হোসেন সরকার। সভাপতিত্ব করেন আহাম্মদ আলী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ আলাল হোসেন।
এ সময় বক্তব্য দেন মধুপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এম. রতন হায়দার, আহাম্মদ আলী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাহান আলী, আলোকদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম বাবুল, সাধারণ সম্পাদক মো. চান মাহমুদ ও তোফাজ্জল হোসেন তোতা।
বক্তারা কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি তাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় উৎসাহ জোগাবে। পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজ ও দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখার জন্য তারা শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুর জেলা কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৫৮ বছর বয়সী কয়েদি সেকেন্দার শাহী মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। ভোর ৪টায় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জেল সুপার মো. মাইন উদ্দিন ভূঁইয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মৃত সেকেন্দার শাহী দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলার মধ্য বাসুদেবপুর গ্রামের সামসুল হুদার ছেলে ছিলেন। তিনি চেক চালিয়াতি মামলায় ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি হিসেবে গত ২৫ আগস্ট কারাগারে আসেন।
জেল সুপার জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় কারাগারের অভ্যন্তরে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর সেকেন্দার শাহীকে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সকাল ১০টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
বিকেলে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের মিক্সড মার্শাল আর্টস (এমএমএ) ভক্তদের জন্য অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। রাজধানী বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির জুলকান ইনডোর এরিনায় শুরু হতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এমএমএ প্রমোশন জুলকান ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপের (জেডএফসি) দ্বিতীয় আসর।
আগামীকাল ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ। এবারের আসরের অফিশিয়াল নামকরণ করা হয়েছে ‘জেডএফসি ২ : বাংলাদেশের গর্ব’ বলে।
আরো পড়ুন
ভারতের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য ব্যাটিং পারফর্ম্যান্সে আইসিসির আগস্ট মাসের সেরা দিনুশা।
শৈল্পিক ও পেশাদার ফাইটিংয়ের এই জমজমাট আন্তর্জাতিক আসরে অংশগ্রহণ করবেন বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সেরা ফাইটাররা। রিংয়ের ভেতর রক্তগরম করা লড়াইয়ের পাশাপাশি দর্শকদের বাড়তি বিনোদন দিতে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দেশের জনপ্রিয় নাট্য অভিনেতা-অভিনেত্রীরা।
আরো পড়ুন
ইতিহাস ছোঁয়ার অপেক্ষায় বোর্নমাথ, নরউইচের বিপক্ষে অপ্রতিরোধ্য ম্যানসিটি।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইভেন্টটি সরাসরি মাঠে বসে উপভোগ করার জন্য দর্শকদের টিকিটের ব্যবস্থা রয়েছে। আগ্রহীরা জুলকান অফিশিয়াল টিকিট পোর্টাল থেকে সহজেই নিজেদের টিকিট বুক করতে পারবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় সংসদীয় কমিটি গুরুতর পদ্ধতিগত দুর্বলতা চিহ্নিত করেছে বলে মনে করছে। কমিটির মতে, কর্মী পাঠানোর পূর্বে যথাযথ যাচাই-বাছাই না করার কারণে দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো এখন মোকাবেলা করতে হচ্ছে। নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার জন্য প্রবাসী কর্মীদের তথ্য ও নথিপত্রের যথাযথ সত্যায়ন (অথেন্টিকেশন) নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, মো. আমানউল্লাহ আমান, এস কে আজিজুল বারী, এ বি এম মোশাররফ হোসেন এবং সানজিদা ইসলাম। বিশেষ আমন্ত্রণে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
কমিটি সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে বিদেশে কর্মী পাঠানোর বিদ্যমান প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দুর্বলতার কথা তুলে ধরা হয়। আলোচনার সময় প্রবাসী কর্মীদের তথ্য ও নথিপত্রের সত্যতা যাচাইয়ের গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে আরো স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়। কমিটি উপযুক্ত ও যাচাই করা রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে প্রতারণা, অনিয়ম ও মানবপাচারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
বৈঠকে নিরাপদ অভিবাসন এবং প্রবাসী কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রথমবারের মতো মাইগ্রেশন উইং চালুর প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
জানানো হয়, বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক সহায়তা জোরদার এবং অভিবাসী কর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় এ উইং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ন্ত্রণে বিদেশে যাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে কর্মী পাঠানোর প্রাথমিক পর্যায় থেকেই যাচাই-বাছাই জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়। দালাল ও অননুমোদিত মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রতারণা থেকে সম্ভাব্য অভিবাসীদের সুরক্ষায় তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান জোরদার এবং বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা করা হয়। সেখানে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। তবে পররাষ্ট্রনীতি ভারসাম্যপূর্ণ থাকতে হবে। বাংলাদেশের প্রতিটি দেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব থাকবে; তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থানও তুলে ধরা হয়। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনগত উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকটের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শেষে আগামী অক্টোবর মাসে কমিটির সদস্যদের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের আশা প্রকাশ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের মধুপুরে সরকারি বিনামূল্যের পাঠ্যবই অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার নরকোনা এলাকায় প্রায় এক টন বিনামূল্যের পাঠ্যবই জনতার হাতে আটক হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। এ ঘটনায় ভাঙারি ব্যবসায়ী ইব্রাহীম হোসেন ও মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের নৈশপ্রহরী তোফায়েল আহমেদকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে।
তবে স্থানীয় শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, শুধু ভাঙারি ব্যবসায়ী ও নৈশপ্রহরীকে আসামি করে মামলা হওয়ায় বই সরবরাহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত অন্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বছরের পর বছর অবিক্রীত বইয়ের হিসাব, অতিরিক্ত চাহিদাপত্রের মাধ্যমে বই সংগ্রহ এবং এসব বই শেষ পর্যন্ত কোথায় যাচ্ছে—এসব বিষয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের চাহিদার ভিত্তিতে সরকার বিনামূল্যের পাঠ্যবই সরবরাহ করে। পরে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষা অফিস থেকে বই সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করে।
অভিযোগ রয়েছে, মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস প্রতিবছর অক্টোবর-নভেম্বরের দিকে প্রায় পৌনে চার লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ বইয়ের চাহিদাপত্র পাঠায়। সরবরাহ করা বইয়ের মধ্যে জুন পর্যন্ত সাধারণত দুই থেকে আড়াই লাখ বই বিতরণ করা হয়। অবশিষ্ট বই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুদামে সংরক্ষিত থাকার কথা।
গত শিক্ষাবর্ষেও প্রায় চার লাখ বইয়ের চাহিদাপত্র পাঠানো হয় এবং চাহিদা অনুযায়ী পুরো বই সরবরাহ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। জুন পর্যন্ত প্রায় পৌনে দুই লাখ বই বিতরণের পর প্রায় সোয়া দুই লাখ বই অবশিষ্ট থাকার কথা বলা হচ্ছে। এসব বইয়ের বর্তমান অবস্থান ও হিসাব নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো কারণে পাঠ্যবই অবিতরণকৃত থেকে গেলে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে উপজেলা পাঠ্যবই বিতরণ কমিটির সম্মতিক্রমে নিলামের মাধ্যমে তা বিক্রির সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ২০১০ সাল থেকে মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে অবিতরণকৃত পাঠ্যবই নিলামের মাধ্যমে বিক্রির কোনো কার্যকর নজির নেই।
স্থানীয় কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের দাবি, গত দেড় যুগে এভাবে প্রায় ৩৫ লাখ বই অবিতরণকৃত থাকার কথা বলা হলেও সেগুলোর সঠিক হিসাব ও পরিণতি স্পষ্ট নয়। এত বিপুলসংখ্যক বই কোথায় গেল, কীভাবে হিসাব সমন্বয় করা হয়েছে এবং কোনো কোনো বই কীভাবে ভাঙারির দোকানে পৌঁছেছে—এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
স্থানীয় কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় একাডেমিক অফিসার মহিউদ্দীন আহমেদের প্রভাব বেড়েছে। তাদের অভিযোগ, অতিরিক্ত চাহিদাপত্রের মাধ্যমে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বই আনা, অবিতরণকৃত বই গুদামজাত করে রাখা এবং পরে সেগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্রির সঙ্গে একটি চক্র জড়িত থাকতে পারে।
তবে এসব অভিযোগের কোনোটি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, বই পরিবহনের ক্ষেত্রেও অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, প্রকৃতপক্ষে যতসংখ্যক বই পরিবহন করা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি বই পরিবহনের বিল দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।
একাডেমিক অফিসার মহিউদ্দীন আহমেদ এসব বিষয়ে নিজের দায় অস্বীকার করে বলেন, চাহিদাপত্র পাঠানো, অবিতরণকৃত বইয়ের হিসাব এবং গুদামজাতকরণের বিষয়গুলো মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এসব বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন শিক্ষক আরও অভিযোগ করেন, মহিউদ্দীন আহমেদ ২০১৫ সালে মধুপুরে যোগদানের পর দীর্ঘ সময় একই কর্মস্থলে রয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে তার ঘিরে একটি প্রভাববলয় গড়ে ওঠার অভিযোগ রয়েছে। ওই বলয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত বই সংগ্রহ ও অবিতরণকৃত বই বিক্রির অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে বলে তাদের দাবি।
তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) বাবুল হাসান বলেন, তিনি মাত্র সাত মাস ধরে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা পাঠ্যবই-সংক্রান্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে বর্তমান একাডেমিক অফিসার এবং আগে দায়িত্বে থাকা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা বিস্তারিত বলতে পারবেন।
অন্যদিকে টাঙ্গাইল জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা বলেন, জেলা শিক্ষা অফিসের এ বিষয়ে কোনো দায় নেই। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোনো বই অবিতরণকৃত অবস্থায় থাকার কথা নয়। মধুপুরে এত বই কীভাবে অবিতরণকৃত অবস্থায় থেকে গেল বা চোরাই পথে বিক্রি হলো, তার দায় মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও উপজেলা পাঠ্যবই বিতরণ কমিটিকেই বহন করতে হবে।
মধুপুর উপজেলা পাঠ্যবই বিতরণ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক পাঠ্যবই-সংক্রান্ত অভিযোগ ও অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তদন্ত শেষে কমিটিই বলতে পারবে কেন এসব ঘটনা ঘটেছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত।
এদিকে এক টন সরকারি বিনামূল্যের পাঠ্যবই আটকের ঘটনা সামনে আসার পর শুধু আটক বইয়ের উৎস ও গন্তব্য নয়, গত কয়েক বছরের বইয়ের চাহিদাপত্র, সরবরাহ, বিতরণ, অবিতরণকৃত বইয়ের হিসাব, গুদামজাতকরণ এবং নিলামসংক্রান্ত নথিপত্র যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব নথি পর্যালোচনা করা হলে সরকারি বই সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ