বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:২৯ পি.এম
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাৎটি বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান সামরিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরো বেগবান ও সুদৃঢ় করার বিষয়ে আলোচনা করেন। উভয় দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উন্নত পেশাগত প্রশিক্ষণ, সামরিক শিক্ষা বিনিময় এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির উপর ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
আধুনিক সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দুই দেশের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রশিক্ষণ সহযোগিতা বৃদ্ধির ফলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উভয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব, কৌশলগত অংশীদারি এবং উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় চীনের সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন। তিনি ভবিষ্যতে চীনের সহযোগিতা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠককালে চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতের আধুনিকায়নে অব্যাহত সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খাগড়াছড়ির দীঘিনালার মেরুং বাজারে মাদক সেবনের দায়ে মো. আজাদ হোসেন নামে এক যুবককে আটক করেছে মেরুং ইউনিয়নের মাদক নির্মূল কমিটি। আটকের পর থানায় খবর দিলে, থানা পুলিশের সহযোগিতায় তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত । একই সঙ্গে তাকে ১০০ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ১ নম্বর মেরুং ইউনিয়নের মেরুং বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
দীঘিনালা থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মেরুং বাজার এলাকায় মাদক সেবনের অভিযোগে মো. আজাদ হোসেনকে আটক করা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৯(১)(গ) ধারায় তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আজাদ হোসেন (ঠিকানা: ছোট মেরুং বাজার) মো. ইকবাল হোসেনের ছেলে।পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের আদেশ অনুযায়ী তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
দীঘিনালা থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের অপব্যবহার প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক সেবন ও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে খাদ্যশস্যের কোনো ঘাটতি নেই। সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে নির্ধারিত নিরাপত্তা মজুদের তুলনায় অধিক পরিমাণ খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে।
আজ জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধীদলীয় (জামায়াতে ইসলামী) সংসদ সদস্য মো. মশিউর রহমান খানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
খাদ্যমন্ত্রী জানান, ৩০ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে মোট ২৪ লাখ ৩৭ হাজার ৮০৭ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ ছিল।
তিনি উল্লেখ করেন, গত ৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত খাদ্য পরিকল্পনা ও পর্যবেক্ষণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায় স্বাভাবিক সময়ে সরকারি খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা মজুদ ১৪ লাখ মেট্রিক টন এবং সংকট সময়ে ১৫ লাখ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে।
‘সুতরাং দেশে খাদ্য (চাল ও গম/আটা) ঘাটতির কোনো সুযোগ নেই,’ বলেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ‘ফুড আউটলুক’-এর তথ্য উল্লেখ করে তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে চালের চাহিদা বা ভোগের পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ২৩ লাখ মেট্রিক টন। বিপরীতে মোট সরবরাহ ছিল ৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫২ হাজার মেট্রিক টন।
তিনি জানান, মোট চাল সরবরাহের মধ্যে ৪ কোটি ২৪ লাখ ৬৭ হাজার মেট্রিক টন এসেছে দেশীয় উৎপাদন থেকে এবং ১২ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন এসেছে আমদানির মাধ্যমে।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, একই অর্থবছরে দেশে গমের চাহিদা বা ভোগের পরিমাণ ছিল ৮২ লাখ মেট্রিক টন। বিপরীতে মোট সরবরাহ ছিল ৮৩ লাখ ৬৭ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে দেশীয় উৎপাদন ছিল ১০ লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টন এবং আমদানির পরিমাণ ছিল ৭৩ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন।
তিনি আরও জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এফএও’র ‘ফুড আউটলুক’ অনুযায়ী দেশে চালের চাহিদা বা ভোগের পরিমাণ ৪ কোটি ২৬ লাখ মেট্রিক টন এবং গমের চাহিদা ৮৩ লাখ মেট্রিক টন হতে পারে।
খাদ্যমন্ত্রী আরো বলেন, চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকার ও বেসরকারি উভয় খাতই চাল ও গম আমদানি করে থাকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভিয়েতনামের আদালত একটি বড় মাদক পাচার মামলায় ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া তদন্তের ভিত্তিতে এই মামলা করা হয়, যখন চারজন বিমানবালার কাছ থেকে টুথপেস্টের টিউবের ভেতর লুকানো মাদক উদ্ধার করা হয়।
ভিয়েতনামের সংবাদমাধ্যম ভিএনএক্সপ্রেসের তথ্য অনুযায়ী, হো চি মিন সিটি পিপলস কোর্ট মাদক পাচারের অভিযোগে ১১ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ছিল ২২৭ জন।
২০২৩ সালের মার্চ মাসে প্যারিস থেকে ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটির তান সন নাত বিমানবন্দরে পৌঁছান ভিয়েতনাম এয়ারলাইনসের চার বিমানবালা। তাদের বহন করা ১৫৭টি টুথপেস্টের টিউব থেকে ১০ কেজির বেশি মাদক উদ্ধার করা হয়। তদন্তের পর জানা যায়, ওই চার বিমানবালা মাদকের বিষয়ে অবগত না হয়েই সেগুলো বহন করেছিলেন।
তদন্তকারীরা একটি আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের সন্ধান পান। অভিযোগ রয়েছে, চক্রটি ফ্রান্স থেকে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের মধ্যে মাদক লুকিয়ে ভিয়েতনামে পাচার করত।
প্রসিকিউটরদের মতে, চক্রের সদস্যরা মাদক বিতরণের জন্য এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ, অন্য ব্যক্তির নামে খোলা ব্যাংক হিসাব এবং বিভিন্ন ডেলিভারিসেবা ব্যবহার করত। পরে তারা দক্ষিণ ভিয়েতনামের বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহ করত।
ভিয়েতনামে বড় মাদক পাচার মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ১১ আসামির আইনজীবীদের সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ভিয়েতনামের সংবাদমাধ্যম ভিএনএক্সপ্রেস জানিয়েছে, একই মামলায় অন্তত ২০ জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ভিয়েতনাম বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডের বিধান কিছুটা পরিবর্তন করার কথা বিবেচনা করছে। গত মাসে দেশটির সরকার ফৌজদারি আইন সংশোধনের অংশ হিসেবে ছয়টি অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে মাদক পাচারও রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত এসব পরিবর্তন এখনো কার্যকর হয়নি। ফলে বর্তমান আইনের অধীনেই মাদক পাচারের এই মামলায় ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠি, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জেলায় মশাবাহিত রোগ, বিশেষ করে ডেঙ্গু প্রতিরোধের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ঝালকাঠি পৌরসভা ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের সামনের সড়ক থেকে এই কর্মসূচির সূচনা করে।
কর্মসূচির নেতৃত্ব প্রদান করেন জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন।
এ সময় পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক জুলিয়া সুকায়না, সদর হাসপাতালের পরিচালক (তত্ত্বাবধায়ক) ডা. মাসুম ইফতেখারসহ পৌরসভা ও স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এই কর্মসূচির আওতায় হাসপাতালের সামনের সড়ক এবং আশপাশের এলাকা থেকে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, ড্রেন ও নালা পরিষ্কার করা এবং জনসাধারণকে পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন করা হয়।
জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বাসসকে জানিয়েছেন, "ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধুমাত্র প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হলে নাগরিকদেরও নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমতে দেয়া যাবে না।" তিনি আরও বলেন, "সমন্বিতভাবে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হলে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।"
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং নিয়মিত মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ