০৫:৪২ পি.এম
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় বাড়ি নির্মাণের ঋণ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক গ্রাহকের কাছ থেকে দফায় দফায় বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পূবালী ব্যাংক কাঁঠালিয়া উপ-শাখার ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান। তবে ব্যাংক কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহক উপজেলার আমরিবুনিয়া গ্রামের লতিফ হাওলাদারের ছেলে কালাম হাওলাদার। তিনি এই আর্থিক প্রতারণা ও হয়রানির সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
দুই বছর ঘোরানোর পর ঋণ বাতিল: ভুক্তভোগী কালাম হাওলাদার জানান, নিজের একটি বাড়ি নির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে তিনি পূবালী ব্যাংক কাঁঠালিয়া উপ-শাখায় ১৫ লাখ টাকা গৃহনির্মাণ ঋণের (Home Loan) জন্য আবেদন করেছিলেন। আবেদন করার পর থেকেই ব্যাংকের উপ-শাখা ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ঋণ পাস করিয়ে দেওয়ার নানা আশ্বাস দিতে থাকেন। এই সুযোগে ফাইল প্রসেসিং ও বিভিন্ন খরচের কথা বলে ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান লোক মারফত তার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।
আরও পড়ুন: উখিয়ার অগ্নিকাণ্ডে নাহিদ ও তার পরিবারের খোঁজ নেই, হতাহতদের তালিকা নেই
অভিযোগ উঠেছে, শুধু নগদ টাকাই নয়, ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আপ্যায়নের অজুহাত দেখিয়ে ভুক্তভোগী কালামের কাছ থেকে দামি চিংড়ি ও বেলে মাছও চেয়ে নেওয়া হয়। এভাবে দীর্ঘ দুই বছর ধরে বিভিন্ন অজুহাতে ঋণের ফাইলটি ঝুলিয়ে রাখা হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ঋণ দেওয়ার কথা থাকলেও, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে হঠাৎ কালামকে জানানো হয়—তার ঋণ অনুমোদন হয়নি।
অভিযোগ অস্বীকার ব্যাংক কর্মকর্তার : ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে পূবালী ব্যাংক কাঁঠালিয়া উপ-শাখার ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "আমি কোনো টাকা নিইনি। ঋণের ফাইলের প্ল্যান পাস ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কাজের জন্য যে খরচ হয়েছে, তা গ্রাহক নিজেই বহন করেছেন।
ঋণ বাতিল হওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, কালাম হাওলাদারের ছেলের বিদেশ থেকে টাকা পাঠানোর লেনদেন সংক্রান্ত নথিপত্রে কিছু জটিলতা ও সমস্যা ছিল। মূলত এই অভ্যন্তরীণ টেকনিক্যাল কারণেই প্রধান কার্যালয় থেকে তার ঋণটি পাস করা সম্ভব হয়নি। এতে ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তার গাফিলতি বা দুর্নীতি ছিল না।
এদিকে, দীর্ঘ দুই বছর ধরে বিপুল পরিমাণ টাকা ও সময় নষ্ট হওয়ায় চরম আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী কালাম হাওলাদার।তিনি ব্যাংকটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নিখোঁজ নাহিদুরের স্ত্রী ও দুই মেয়ের সন্ধান চায় পরিবার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন