০৩:১৮ পি.এম
ইবোলা প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মঙ্গবোয়ালুর খনিগুলোতে, জীবিকার প্রয়োজনের তাগিদে ভাইরাসের ভয় উপেক্ষা করে কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাচ্ছেন সোনার খনির শ্রমিকরা।
হস্তচালিত খনি শ্রমিক জাস্টিন ওকাউমে বলেন, 'ইবোলা সত্যি এবং এটি আমাদের ভয় দেখায়। কিন্তু যদি আমি ঘরে বসে থাকি, তাহলে আমার সন্তানরা কী খাবে?'
অস্থির ইতুরি প্রদেশের খনিজসমৃদ্ধ মঙ্গবোয়ালুতে, কিছু মানুষের অজ্ঞাত কারণে মৃত্যু হওয়ার পর, গত ১৫ মে ডিআর কঙ্গোর ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
মধ্য আফ্রিকার বিশাল এই দেশে এ পর্যন্ত ১ হাজার মানুষ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ২৫০ জনের বেশি মারা গেছেন। তবে সংকটের প্রকৃত চিত্র নিরূপণ করা কঠিন।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মঙ্গবোয়ালুতেই ২০৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৮৯ জন মারা গেছেন।
স্থানীয় হাসপাতালের প্রধান রিচার্ড লোকুদু এএফপিকে বলেন, মৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন খনি শ্রমিকও রয়েছেন।
আরেক খনি শ্রমিক জাস্টিন উকেতি বলেন, 'তারা আমাদের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে বলে। কিন্তু তা মেনে চলা কঠিন, কারণ আমাদের কাজই পরস্পরের সংস্পর্শে থাকতে বাধ্য করে।'
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
যতদূর চোখ যায়, বিস্তৃত পিচ্ছিল ও কাদামাটির জমি রয়েছে। লালচে-হলুদ রঙের ভূদৃশ্যে অসংখ্য গর্ত দেখা যায়। সেখানে কয়েক ডজন হস্তচালিত খনি শ্রমিক নিরলসভাবে খনন করে চলেছেন।
কাদা মাখা নারী-পুরুষ পাথর ভেঙে এনে সেগুলো গুঁড়ো করে সোনার কণা বের করছেন।
তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ঘামে ভিজে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। সেখানকার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিও খুবই নাজুক।
অনেক শ্রমিক পার্শ্ববর্তী প্রদেশ বা উগান্ডার মতো প্রতিবেশী দেশ থেকেই এসেছেন।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
তাদের আশা সপ্তাহে কয়েকশ ডলার আয় করা।
এ ধরণের বড় মানুষের চলাচল, অত্যন্ত সংক্রামক এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এবং শরীরের তরলের মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়ায়।
'কে আক্রান্ত, আমরা জানি না' - খোলা খনিতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করা সাত সন্তানের মা জেনেট আকেলো বলেন, খনি শ্রমিকদের কোনো উপায় নেই। বাঁচতে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।
বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি বান্দিবুগিও স্ট্রেইনের কারণে হয়েছে, এটির কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।
আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে
২০১৮ ও ২০১৯ সালের মধ্যে তৈরি বিদ্যমান ইবোলা টিকাগুলো শুধু জাইরে স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে কার্যকর। এর আগের বড় ধরণের প্রাদুর্ভাবগুলোর জন্য এই স্ট্রেইন দায়ী ছিল।
গ্রামীণ এলাকার পাহাড়গুলোতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পূর্ণ সুরক্ষা পোশাক পরা রেডক্রসের কর্মীরা নিয়মিত কাজ করছেন। তারা লাশগুলো কাপড়ে মুড়িয়ে দিচ্ছেন এবং মৃত্যুর পর ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।
ভোরের আলো ফুটতেই খনির প্রথম শ্রমিকরা কাজ শুরু করেন। নিরক্ষীয় অঞ্চলের অসহনীয় গরম শুরু হওয়ার আগেই তারা কাজে নেমে পড়েন।
ডিআর কঙ্গোতে সোনার বেশিরভাগ উৎপাদন আসে হস্তচালিত খনি থেকে।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম
দীর্ঘ সময় কাজ করার পর কেউ কেউ পাতা দিয়ে তৈরি ঝোলসহ এক প্লেট ভাত খেতে থামেন, আবার অনেকে সময় নষ্ট না করে কাজে লেগে থাকেন।
তারা খনি থেকে তোলা বাদামি রঙের উপাদানের সঙ্গে খালি হাতে পারদ মেশান। এতে তৈরি হয় ছোট, ধূসর, ভারী ও চকচকে একটি দলা, যা উত্তপ্ত করলে কাঁচা সোনায় পরিণত হয়।
জ্যঁ-বাতিস্ত লিওয়াওয়ি বলেন, 'কে আক্রান্ত আর কে নয়, আমরা জানি না। কাজ শেষে সবাই নিজ নিজ বাড়িতে চলে যায়।'
তিনি বলেন, সংক্রমণ ঠেকাতে তিনি আদা ও কিছু মিশ্রণ ব্যবহার করেন।
আরও পড়ুন: সাঈদীর মামলার বাদীকে দাফনে বাধা দেয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন জামায়াতের
প্রাদুর্ভাব শুরুর পর অনেক রোগী চিকিৎসা কেন্দ্রে যাওয়ার পরিবর্তে সনাতন কবিরাজদের কাছে যেতে স্বেচ্ছায় পছন্দ করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন