ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কিউবায় জ্বালানি সরবরাহের জন্য শেরিটকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি


কিউবায় জ্বালানি সরবরাহের জন্য শেরিটকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি

ঢাকা, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ : ওয়াশিংটন কিউবায় জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহের জন্য খনিজ কোম্পানি শেরিটকে অনুমতি প্রদান করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে কিউবায় কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ। মঙ্গলবার কানাডাভিত্তিক কোম্পানিটি এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

এ খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

শেরিট ১৯৯০-এর দশক থেকে কিউবার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান জেনারেল নিকেল কোম্পানি এসএর সঙ্গে যৌথভাবে দেশটিতে নিকেল ও কোবাল্ট উত্তোলন করে আসছে।

আরও পড়ুন: এবার যুক্তরাষ্ট্রকে সাবমেরিন ক্যাবল লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দিল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে কোম্পানিটি গত মে মাসের শুরুতে কিউবা থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল। মঙ্গলবারের ঘোষণার উদ্দেশ্য হলো— দেশটির মোয়া এলাকার খনিতে ভবিষ্যতে আবার কার্যক্রম শুরুর পথ তৈরি করা।

কিন্তু কিউবা থেকে সরে যাওয়ার পরপরই নিজেদের সম্পদ বিক্রি করে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে শেরিট সরে আসে। একই সঙ্গে কোম্পানিটি ৫৫ শতাংশ শেয়ার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গিলন ক্যাপিটালের কাছে বিক্রির বিষয়ে আলোচনা শুরু করে। চুক্তিটি সম্পন্ন হলে গিলন ক্যাপিটাল শেরিটের সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারের মালিক হয়ে যাবে।

গিলন ক্যাপিটালের মালিক রে ওয়াশবার্ন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উন্নয়ন অর্থায়নবিষয়ক প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

শেরিট এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর (ওএফএসি) থেকে পাওয়া ‘ফুয়েল লাইসেন্স’ বা জ্বালানি সরবরাহের অনুমতিপত্রের আওতায় মোয়া নিকেলের জন্য জ্বালানি, ফুয়েল অয়েল ও সালফার বিক্রি, পরিবহন, রপ্তানি ও সরবরাহ করা যাবে। এ-সংক্রান্ত অর্থ পরিশোধ এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সেবাও এই অনুমতির আওতায় থাকবে।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের কিউবা পরিকল্পনা, ইরান থেকে ফেরার পথে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ইঙ্গিত

কিউবার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা পরিচালনাকারী ওএফএসির সঙ্গে আলোচনাগুলো গিলন ক্যাপিটালের ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে হয়েছে বলেও মঙ্গলবারের বিবৃতিতে জানিয়েছে শেরিট।

তবে কোম্পানিটি বলেছে, মোয়া নিকেলের কার্যক্রম বাস্তবে পুনরায় চালু করার জন্য ওএফএসির কাছ থেকে দ্বিতীয় একটি জরুরি অনুমতিপত্র পেতে হবে।

গত জানুয়ারিতে কিউবার ওপর জ্বালানি অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই ব্যবস্থার আওতায় কেবল যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিউবার বেসরকারি খাতের জন্য পাঠানো জ্বালানি সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হয়।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যেই কিউবার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির মূল হোতা ইসরাইল, দাবি মিসর, সৌদি, তুরস্ক ও পাকিস্তানের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১০ বছর পর মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে বের হতে পারবে সদস্য দেশগুলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:১৪ পি.এম


১০ বছর পর মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে বের হতে পারবে সদস্য দেশগুলো

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে বের হতে পারবে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক। তবে চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর অন্তত ১০ বছর পার হতে হবে। এরপর যদি কোনো দেশ চুক্তি থেকে বের হতে চায়, তাহলে তাকে অন্তত তিন মাস আগে লিখিত নোটিশ দিতে হবে।

তুরস্কের পার্লামেন্টে অনুমোদনের জন্য চুক্তিটি পাঠানোর আগে এর ১৬টি ধারার পূর্ণাঙ্গ লেখা প্রকাশ করেছে দেশটির সংবাদমাধ্যম তুর্কিয়ে টুডে। এতে চুক্তি থেকে বের হওয়ার নিয়মের পাশাপাশি কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশগুলো কিভাবে সহায়তা করবে, তা-ও বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইন্ডিয়া টুডে জানায়, চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোর যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।

তুর্কিয়ে টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তির ১৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কার্যকর হওয়ার ১০ বছর পর যেকোনো সদস্য দেশ চুক্তি থেকে সরে যেতে পারবে। এ জন্য কূটনৈতিক মাধ্যমে লিখিত নোটিশ দিতে হবে। নোটিশ দেওয়ার অন্তত তিন মাস পর দেশটি চুক্তি থেকে বের হতে পারবে।

চুক্তিতে এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ রাখা হয়নি। জোটের সচিবালয়ে চুক্তি অনুমোদনের শেষ দলিল জমা দেওয়ার পর এটি কার্যকর হবে। অর্থাৎ চুক্তিতে সই করার দিন থেকে নয়, এটি কার্যকর হওয়ার দিন থেকে ১০ বছরের হিসাব শুরু হবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার তুরস্ক সরকার চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য পার্লামেন্টে পাঠিয়েছে।

গত ৭ আগস্ট মক্কায় এই চুক্তিতে সই করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। চুক্তিতে যৌথ সামরিক মহড়া, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সহযোগিতার কথাও বলা হয়েছে। চুক্তির পূর্ণাঙ্গ লেখায় বলা হয়েছে, কোনো সদস্য দেশ অন্য দেশ বা কয়েকটি দেশের জোটের সশস্ত্র হামলা কিংবা সামরিক আগ্রাসনের শিকার হলে অন্য সদস্যদের দ্রুত তাকে সহায়তা করতে হবে।

তবে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঠিক করা হবে। আক্রান্ত দেশটির প্রয়োজন, অন্য সদস্যদের সহায়তা দেওয়ার সামর্থ্য এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়া হবে। চুক্তিতে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি, আক্রান্ত দেশকে সহায়তা করতে কতজন সেনা পাঠাতে হবে বা কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে হবে। ফলে সহায়তা করা বাধ্যতামূলক হলেও কিভাবে সহায়তা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে রয়েছে সৌদি আরব। এই পরিস্থিতিতে আক্রান্ত সদস্যকে সহায়তা করার শর্ত বাস্তবে কিভাবে কার্যকর হয়, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে এক জরুরি বৈঠকে তিন দেশের প্রতিনিধিরা সৌদি আরবে দ্রুত সামরিক বাহিনী ও সামরিক সক্ষমতা মোতায়েন নিশ্চিত করার বিষয়ে সম্মত হন।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও পবিত্র স্থানগুলোর সুরক্ষায় পাকিস্তান ‘যেকোনো প্রয়োজনীয় সহায়তা’ দিচ্ছে।

রবিবার ইনডিপেনডেন্ট আরাবিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এসব স্থান ও স্থাপনার সুরক্ষা পাকিস্তানের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। তবে কী ধরনের বা কতটা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তা জানাননি তিনি। তুরস্কের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, সৌদি আরবকে তুরস্কের সহায়তা মূলত সামরিক সরঞ্জাম, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও অস্ত্রব্যবস্থার মধ্যে সীমিত থাকতে পারে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান চুক্তিটিকে প্রতিরক্ষামূলক বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, অন্য কোনো দেশে হামলা চালানোর জন্য তুরস্ক সেখানে সেনা পাঠাবে না।

চুক্তি কার্যকর করার প্রক্রিয়া তিন দেশে এক রকম নয়। তুরস্কে চুক্তিটি কার্যকর করতে পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। এ ছাড়া দেশের বাইরে সেনা পাঠাতেও পার্লামেন্টের আলাদা অনুমতি নিতে হয়। সৌদি আরবে আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুমোদনের জন্য পার্লামেন্টের বদলে রাজকীয় আদেশের ব্যবস্থা রয়েছে। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে চুক্তির আওতায় সেনা মোতায়েন এবং ইয়েমেনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় সেনা মোতায়েন করতে পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন নেই। তাদের দাবি, এ ধরনের মোতায়েন বিদ্যমান আইন ও সরকারি প্রক্রিয়া অনুযায়ী করা হবে। ২০১৫ সালে পাকিস্তানের পার্লামেন্ট সৌদি আরবের ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল। তবে ইয়েমেনের যুদ্ধে অংশ নিতে সেনা পাঠানোর অনুমতি দেয়নি। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, বর্তমান চুক্তির আওতায় পাকিস্তানি সেনারা সৌদি আরবের ভূখণ্ড রক্ষা করবেন। হুতিদের ওপর হামলা চালাতে তারা ইয়েমেনে প্রবেশ করবেন না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিশিগানে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে প্রতিবেশীদের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বিভাজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:১৫ পি.এম


মিশিগানে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে প্রতিবেশীদের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বিভাজন

ঢাকা, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিভাজন ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ— এই দুটি ইস্যুতে প্রতিবেশীদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

মিশিগানের অবসরপ্রাপ্ত গাড়ি কারখানার দুই কর্মী, মাইক ও রিচ, একে অপরের বাড়ির দূরত্ব কয়েক সেকেন্ডের হলেও, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক পার্থক্য।

আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নির্ধারিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে।

মিশিগানে সিনেট আসনের জন্য লড়াই করছেন বামপন্থী ডেমোক্র্যাট চিকিৎসক আবদুল এল-সাইয়েদ এবং ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া রিপাবলিকান দলের সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্স। জনমত জরিপে দুই প্রার্থী প্রায় সমান অবস্থানে রয়েছেন।

৬৭ বছর বয়সী মাইক, ক্রাইসলার গাড়ি কোম্পানির অবসরপ্রাপ্ত কর্মী, বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধ এবং এ যুদ্ধের পেছনে করদাতাদের অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি তাকে উদ্বিগ্ন করছে।

মাইক বলেন, ‘রিপাবলিকানরা যদি সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যায়, তাহলে এই লোক (ট্রাম্প) আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবেন। তিনি নিজেকে গ্যাংস্টার মনে করেন।’

অন্যদিকে, মাইকের প্রতিবেশী রিচ ডিমিশেলের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। ইরান ইস্যুতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এল-সাইয়েদের অবস্থানকে দুর্বল মনে করে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন করছেন।

ইতালির পতাকাসংবলিত টুপি পরা রিচ বলেন, ‘আমি প্রার্থনা করছি, আবদুল যেন নির্বাচিত না হন। এমন একজনকে আমি কোনোভাবেই ভোট দেব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে তিনি একজন মুসলিম, আর তিনি আমেরিকাকে ঘৃণা করেন। তাকে ওই পদে বসানো মানুষের সবচেয়ে বোকামির কাজ হবে।’

এল-সাইয়েদ, যিনি ইসরাইলের কঠোর সমালোচক, ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন রিচ। তার আশা, এ অবস্থানের কারণে নির্বাচনে এল-সাইয়েদকে মূল্য দিতে হবে।

তবে ইরানের যুদ্ধ মাইকের পরিবারের জন্যও উদ্বেগের কারণ। মাইকের ছেলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কর্মরত। ওই অঞ্চলে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক হাজার সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করছেন এবং সংঘাতের বিভিন্ন পর্যায়ে ২০ জনের বেশি মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন।

মাইক বলেন, ‘আমার করের টাকা কোনো অসহায় পরিবারের চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হোক, সেটাই আমি চাই। কোনো বখাটের পকেটে যাক, তা চাই না। অথচ এখন আমার টাকা সেখানেই যাচ্ছে। এর খরচ কে বহন করছে? আমি করছি। প্রতিবার মুদি দোকানে গেলে আমাকে এর মূল্য দিতে হয়, প্রতিবার গ্যাস কিনতে গেলেও দিতে হয়।’

নির্বাচন ঘিরে মানুষের মধ্যে কতটা তীব্র আবেগ তৈরি হয়েছে, তা বোঝা যায় মাইকের আচরণেও। বহু বছর ধরে ফোন ধরেন না বলে দাবি করা এই অবসরপ্রাপ্ত কর্মী নিজের পদবি প্রকাশ করতেও রাজি হননি।

‘আমি ট্রাম্পের সমর্থক নই’

৭৮ বছর বয়সী রিচও ক্রাইসলারের সাবেক কর্মী। তার অভিযোগ, ডেমোক্র্যাটরা তার মতো বয়স্ক ভোটারদের অবহেলা করছে এবং তরুণ ও অভিবাসী পরিবারের ভোটারদের বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

রিচ বলেন, ‘তারা চায় অবৈধ অভিবাসীরা এসে ভোট দিক।’

মিশিগানের এই নির্বাচনী লড়াইয়ে দুই দলই বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। অঙ্গরাজ্যজুড়ে স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করে আরও কঠোর প্রচারবিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে।

২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে সমর্থন করলেও ২০২৪ সালে মিশিগানের ভোটাররা অল্প ব্যবধানে ট্রাম্পকে জয়ী করেছিলেন। ফলে আসন্ন নির্বাচনেও অঙ্গরাজ্যটির ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ওয়ারেন শহরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন ৩২ বছর বয়সী মরিস স্টার। তিনি ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্স (ইউএডব্লিউ) শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য এবং পেশায় বীমা খাতের কর্মী।

ইউনিয়নের সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালানোর সময় তিনি ধৈর্য ধরে ভোটারদের অভিযোগ শুনছেন। এ সময় আশপাশে অ্যামাজনের ডেলিভারি ড্রোন উড়ছিল, আর বাড়ির মালিকরা নিজেদের উঠোনের পরিচর্যা করছিলেন।

স্টার বলেন, ‘আমরা এই বাড়িতে এবং এর আগের বাড়িতেও যা শুনেছি, তাতে মনে হয়েছে, মানুষ মনে করছে দেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ প্রশ্ন করছে, তাহলে আমি ভোট দেব কেন? এ কারণেই আমরা মাঠে নেমেছি।

আমরা আশা করছি, এসব নির্বাচনী এলাকায় রাজনৈতিক পালাবদল ঘটাতে পারব।’

স্টারের হাতে ছিল মিশিগানের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নির্বাচনী আসনে ইউনিয়ন-সমর্থিত প্রার্থীদের পরিচিতি-সংবলিত প্রচারপত্র। এর মধ্যে সিনেট নির্বাচনও রয়েছে।

তার সঙ্গে প্রচারে অংশ নেওয়া ৪৫ বছর বয়সী রব ব্যাংকস, জেনারেল মোটরসের একটি বডি শপের টিম লিডার। তিনি ইউনিয়নের সক্রিয় ও অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের তালিকা ধরে ফোন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, যাতে তাদের ইউনিয়ন-সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে যুক্ত করা যায়। এসব প্রার্থীই ডেমোক্র্যাট দলের।

জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ :

ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিও ভোটারদের আলোচনায় বারবার উঠে আসছে।

৮৫ বছর বয়সী সু অ্যাডামস্কি বলেন, ‘প্রতি মাসে যে সামান্য টাকা পাই, তার ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে, গ্যাসের দামও বাড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘না, পরিস্থিতি কঠিন। এভাবে বলতে পারেন, আমি ট্রাম্পের সমর্থক নই। ১৫ বছর আগেও তাঁকে পছন্দ করতাম না, এখনো করি না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক মামলার আসামিকে ধরতে গিয়ে বিপাকে পুলিশ, হামলায় আহত দুই সদস্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৭ পি.এম


মাদক মামলার আসামিকে ধরতে গিয়ে বিপাকে পুলিশ, হামলায় আহত দুই সদস্য

ময়মনসিংহের ভালুকায় পুলিশের ওপর হামলা, পরোয়ানাভুক্ত আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ; আহত ২


ময়মনসিংহের ভালুকায় মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে আটক করার পর পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তার এবং হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নের সজনগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন এএসআই রাহিদুল ইসলাম ও কনস্টেবল বাকিরুল। তাঁদের উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আব্দুল কুদ্দুসকে আটক করতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায় ভালুকা মডেল থানার একটি পুলিশ দল। অভিযানকালে পুলিশ তাঁকে আটক করে।

এ সময় আব্দুল কুদ্দুস জামিনে রয়েছেন বলে দাবি করেন। তবে তাঁর জামিনের কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে গড়িমসি করেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তাঁকে নিয়ে পুলিশের কার্যক্রম চলার সময় ঘটনাস্থলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আব্দুল কুদ্দুসকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁর স্বজনেরা। পুলিশ সদস্যরা এতে বাধা দিলে তাঁদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার একপর্যায়ে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আব্দুল কুদ্দুসকে তাঁদের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যান হামলাকারীরা। এতে ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সমস্যার মুখে পড়েন।

তবে হামলায় ঠিক কতজন অংশ নিয়েছেন এবং তাঁদের পরিচয় কী, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার পুরো বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

 

আসামিকে আটকের অভিযান চলাকালে হামলায় এএসআই রাহিদুল ইসলাম ও কনস্টেবল বাকিরুল আহত হন। ঘটনার খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পরে তাঁরা আহত দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহত দুই সদস্য চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তাঁদের আঘাতের ধরন ও শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে আটক করতে গিয়ে পুলিশের দুই সদস্য হামলার শিকার হয়েছেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠিয়ে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। আহত দুজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

 

মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে আটক করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা এবং পরে তাঁকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ ধরনের ঘটনায় হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, পলাতক আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা জরুরি।

তবে এ ঘটনায় নতুন করে কোনো মামলা দায়ের হয়েছে কি না, অভিযুক্ত আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে কি না এবং হামলার অভিযোগে কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পরবর্তী তদন্তে হামলার প্রকৃত ঘটনা, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা স্পষ্ট হওয়ার কথা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলুতে কপাল পুড়ল কৃষকের, বস্তার দাম ৬৮০ টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০৮ পি.এম


আলুতে কপাল পুড়ল কৃষকের, বস্তার দাম ৬৮০ টাকা

জয়পুরহাটের হিমাগারে মজুত আলু এখন কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণে ২০ টাকা খরচ হলেও বর্তমানে হিমাগার গেটের কাছে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১১ টাকায়। এতে লোকসানে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি বিপণন বিভাগ কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে।

জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চ মাসে জয়পুরহাটের হিমাগারগুলোতে আলু সংরক্ষণ করেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ২০২৫ সালের লোকসান ২০২৬ সালে পুষিয়ে নেওয়া। সেই সময়ে ৬৫ কেজির এক বস্তা আলু সংরক্ষণের জন্য তাদের খরচ হয়েছিল এক হাজার ৩০০ টাকা। বর্তমানে ৬০ কেজির প্রতি বস্তা আলু হিমাগার গেটে সর্বোচ্চ ৬৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, টানা দুই বছর আলুর মূল্য না পাওয়ার পর চলতি বছরের দামে তারা লোকসান গুণছেন। জেলার ২২টি হিমাগারে মৌসুমের শুরুতে দুই লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছিল। মৌসুম শেষ হওয়ার কিছুদিন আগে মাত্র ৫৫ শতাংশ আলু খালাস হয়েছে। হিমাগার কর্তৃপক্ষ বলছে, রফতানিসহ আলুর বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে কারখানা নির্মাণ জরুরি।

কৃষি বিপণন বিভাগ জানাচ্ছে, সম্প্রতি কালাই উপজেলায় কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য জায়গা নির্ধারণের প্রস্তুতি চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে কৃষকরা আলুর বিভিন্ন পণ্যের সঠিক বাজার পাবেন।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছর জয়পুরহাটে প্রায় ৪৩ হাজার হেক্টর জমিতে ১০ লাখ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম আলু উৎপাদনকারী জেলা জয়পুরহাট। এ বছর সেই আলুতেই কপাল পুড়ছে জেলার প্রান্তিক কৃষক ও ব্যবসায়ীদের। আলুর বাজারে দরপতনের ফলে অনেক কৃষকের পরিবার পথে বসার উপক্রম হয়েছে। বিশেষ করে যারা অন্যের জমি বর্গা নিয়ে আলু চাষ করেছেন। ব্যবসায়ী ও মৌসুমি আলুর পাইকারি বিক্রেতারাও বিপাকে পড়েছেন। তারা বিভিন্ন এনজিও থেকে এবং ধারদেনা করে হিমাগারে আলু মজুত করেছিলেন বেশি দামে বিক্রির আশায়।

আলুর দাম কমে যাওয়ার কারণে তারা পুঁজি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন। শুধু কৃষক এবং ব্যবসায়ী নয়, হিমাগারের মালিক কর্তৃপক্ষও শঙ্কিত। সময়মতো হিমাগার থেকে আলু খালাস না হলে তাদের লোকসান হবে।

কৃষক ও হিমাগার কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, এ বছর আলু উৎপাদন থেকে শুরু করে হিমাগারে সংরক্ষণ, সব মিলিয়ে প্রতি বস্তা আলুর জন্য খরচ হয়েছে এক হাজার ৩০০ টাকা। বর্তমানে হিমাগারের আলু বিক্রি হচ্ছে ৬৮০ টাকায়। ফলে প্রতি বস্তা আলুতে ৫০০ টাকার লোকসান হচ্ছে।

প্রান্তিক কৃষক শহিদুল ইসলামের ভাষ্য, এ বছর প্রতি বিঘা জমিতে আলুর বীজ, সার, কীটনাশক, শ্রমিক ও সেচসহ সব মিলিয়ে কৃষকের খরচ হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। আর প্রতি বিঘা জমিতে আলু উত্তোলনের সময় বিক্রি করেছেন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায়। এতে করে ভরা মৌসুমেই কৃষকের ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার লোকসান হয়েছে।

কৃষক বকুল হোসেন বলেন, "গত বছরের লোকসান কাটিয়ে এ বছর লাভের মুখ দেখবো বলে আশা করেছিলাম। মৌসুমের শুরুতে লোকসান হয়েছে, তাই ভেবেছিলাম হিমাগারে রাখলে হয়ত দাম বাড়বে, তখন বিক্রি করবো। কিন্তু এখন পর্যন্ত আলুতে সবাই লোকসানে আছি আমরা। সরকার যদি আমাদের দিকে একটু নজর দিত তাহলে কৃষকদের উপকার হতো।"

আলু ব্যবসায়ী জাকারিয়া হোসেন বলেন, "এ বছর আলুর দরপতনের কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছেন আলু ব্যবসায়ীরাও। বাজারদর কমে যাওয়ায় মজুত করা আলু প্রত্যাশিত দামে বিক্রি করতে পারছেন না অনেক ব্যবসায়ী। ফলে হিমাগারে রাখা আলুর পেছনে বিনিয়োগ করা অর্থ আটকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। হিমাগার থেকে আলু বের করছেন না কৃষকরা।"

কালাইয়ের এম ইসরাত হিমাগারের ব্যবস্থাপক আবু রায়হান এবং পুনট কোল্ড স্টোরেজের হিসাব রক্ষক এনামুল হক জানান, "তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং শ্রমিকের মজুরি কয়েক গুণ বেড়েছে, তবে তারা ভাড়া বাড়াননি। আগের ভাড়াই নিচ্ছেন। এ বছর আলুর দরপতনের কারণে হিমাগার থেকে আলু বিক্রি করছেন না কৃষকরা। এতে করে একদিকে যেমন পাইকাররা অলস সময় পার করছেন, অন্যদিকে হিমাগার থেকে এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ আলু খালাস হওয়ার কথা তা হচ্ছে না। এতে করে সময়মত হিমাগার থেকে আলু খালাস নিয়েও শঙ্কায় আছে হিমাগার কর্তৃপক্ষ।"

জয়পুরহাট কৃষি বিপণন অধিদফতরের কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, "জেলার ২২টি হিমাগারে এ বছর প্রায় দুই লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন আলু মজুত রাখা হয়েছিল। অথচ চলতি মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত আলু খালাস হয়েছে মাত্র এক লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন; যা মূল সংরক্ষণ করা আলুর ৫৫ ভাগ দাঁড়ায়।"

তবে তিনি আলু চাষি ও ব্যবসায়ীদের জন্য সুখবর দিয়ে জানান, "সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই কালাই উপজেলায় একটি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য জায়গা নির্ধারণ করার চেষ্টা চলছে। এটি বাস্তবায়ন হলে আলুর বিভিন্ন পণ্যের সঠিক বাজার পাবেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%