ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মালদ্বীপে ভারতীয় সেনার উপস্থিতি থাকবে না, সাদা পোশাকেও নয়: মুইজ্জু


মালদ্বীপে ভারতীয় সেনার উপস্থিতি থাকবে না, সাদা পোশাকেও নয়: মুইজ্জু

মালদ্বীপে ভারতীয় সেনা থাকবে না, সাদা পোশাকেও নয়: মুইজ্জু মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী ১০ মে’র পর দেশটিতে কোনো ভারতীয় সামরিক সদস্যের উপস্থিতি থাকবে না। তিনি এমনকি ভারতীয় সেনারা বেসামরিক নাগরিকের পরিচয়ে পোশাক পরিবর্তন করে মালদ্বীপে অবস্থান করবেন—এমন গুজবকেও অস্বীকার করেছেন।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনের সূত্রে এ তথ্য প্রকাশ করেছে মালদ্বীপের সংবাদমাধ্যম এডিশন টিভি।

আরও পড়ুন: তালা ভেঙে বাসায় ঢুকে ৮ লাখ টাকা, ২ ভরি সোনা ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি: ডেমরায় চাঞ্চল্য

মুইজ্জু এক বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন, ভারতীয় সামরিক সদস্যরা দেশ ত্যাগ করছেন না কিংবা পোশাক পরিবর্তন করে ফিরে আসছেন—এ ধরনের গুজবে বিশ্বাস করা উচিত নয়।

তিনি বলেন, ১০ মে’র পর মালদ্বীপে কোনো ভারতীয় সেনা থাকবে না। ইউনিফর্ম পরা অবস্থায়ও নয়, বেসামরিক পোশাকেও নয়। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলছেন, কোনো ধরনের পোশাকেই ভারতীয় সামরিক সদস্যরা এ দেশে অবস্থান করবেন না।

মুইজ্জুর এই বক্তব্য এমন একটি দিনে এসেছে, যখন মালদ্বীপ চীনের সঙ্গে বিনামূল্যে সামরিক সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি সম্পন্ন করেছে। চীনঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মুইজ্জু গত বছর ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতীয় সামরিক সদস্যদের প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন।

মালদ্বীপে বর্তমানে তিনটি বিমান পরিচালনা প্ল্যাটফর্মে মোট ৮৮ জন ভারতীয় সামরিক সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তারা দুটি হেলিকপ্টার ও একটি ডর্নিয়ার উড়োজাহাজের মাধ্যমে দেশটির জনগণকে মানবিক সহায়তা ও চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিবহনসেবা প্রদান করে আসছেন।

আরও পড়ুন: ঢামেকে ভুয়া চিকিৎসক মো. রাকিব আটক, থানায় হস্তান্তর

গত ২ ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ১০ মে’র মধ্যে তিনটি প্ল্যাটফর্ম থেকে ভারতীয় সামরিক সদস্যদের সরিয়ে তাদের জায়গায় বেসামরিক কর্মী মোতায়েন করা হবে। এর প্রথম ধাপ ১০ মার্চের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা।

এদিকে, গত সপ্তাহে একটি ভারতীয় বেসামরিক দল মালদ্বীপে পৌঁছে তিনটি বিমান প্ল্যাটফর্মের একটির দায়িত্ব নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

‘সামরিক সদস্যরাই বেসামরিক পোশাকে এসেছেন’—বিরোধীদের অভিযোগ

তবে মুইজ্জু সরকারের বিরোধীরা অভিযোগ করছেন, ভারত থেকে মালদ্বীপে আসা বেসামরিক কর্মীদের মধ্যে অনেকেই আসলে সামরিক কর্মকর্তা, যারা ইউনিফর্ম খুলে বেসামরিক পোশাক পরিধান করেছেন। বিরোধী দলগুলো সরকারের পক্ষ থেকে তাদের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করার তিন দাবি

মালদ্বীপের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে আরও বলা হয়েছে, চিকিৎসাজনিত জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য দেশটি শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বিকল্প বিমানসেবা পরিচালনার বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। এতে ভারতীয়দের পরিবর্তে অন্য দেশের সহায়তায় এ ধরনের সেবা চালানোর মালদ্বীপ সরকারের প্রচেষ্টার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।

ক্ষমতায় এসেই ভারতকে সেনা প্রত্যাহারের দাবি

গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর মুইজ্জু শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মালদ্বীপ থেকে ভারতীয় সামরিক সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। তার নির্বাচনি প্রচারণার অন্যতম প্রধান বক্তব্য ছিল ‘ইন্ডিয়া আউট’ নীতি।

৫ ফেব্রুয়ারি পার্লামেন্টে দেওয়া নিজের প্রথম ভাষণেও তিনি ভারতীয় সামরিক সদস্যদের প্রত্যাহারের বিষয়ে একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন: বিএমইউতে ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব বিশেষজ্ঞদের

মুইজ্জু আরও বলেন, মালদ্বীপের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করাকে তার সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ভারতীয় সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি দেশের ‘বঞ্চিত দক্ষিণাঞ্চলীয় সমুদ্রসীমা’ পুনরুদ্ধারের বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে দাবি করেন তিনি।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মালদ্বীপ

ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মালদ্বীপ ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের লাক্ষাদ্বীপের মিনিকয় দ্বীপ থেকে দেশটির দূরত্ব প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল এবং ভারতের পশ্চিম উপকূল থেকে প্রায় ৩০০ নটিক্যাল মাইল।

ভারতের কাছে মালদ্বীপ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক প্রতিবেশী। ভারতের ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতি এবং ‘সাগর’ (সাগর—সিকিউরিটি অ্যান্ড গ্রোথ ফর অল ইন দ্য রিজিওন) উদ্যোগেও দেশটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

আরও পড়ুন: শ্বাসকষ্টে হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি নেতা বুলু, দোয়া চাইলেন পরিবার

মুইজ্জু সরকারের ভারতবিরোধী অবস্থান এবং চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা তাই শুধু দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, গোটা ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূরাজনীতিতেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে আবারও আলোচনায় হাসিনা প্রসঙ্গ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১৫ পি.এম


ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে আবারও আলোচনায় হাসিনা প্রসঙ্গ

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে আবারো উঠে এসেছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ। শুক্রবার অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই বিষয়ে মন্তব্য করেন।

এক সাংবাদিক ভারতীয় গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার একাধিক সাক্ষাৎকার প্রকাশের সময়কালকে আকর্ষণীয় উল্লেখ করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চান। মুখপাত্র জয়সওয়াল স্পষ্টভাবে বলেন, এই সাক্ষাৎকারগুলোর বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য নেই।

এদিকে, অন্য এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, হাসিনা সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এ বছরের ডিসেম্বরে তার দেশে ফেরা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কোনো বোঝাপড়া হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের সঙ্গে নেপথ্যে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। দেশে প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে তিনি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চান এবং আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের নিশ্চয়তা দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তিনি চান স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত হোক।এ বিষয়ে শেখ হাসিনা ভারত সরকারকে কিছু জানিয়েছেন কি না, তা জানতে চাওয়া হলে জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়েও তার কিছু জানা নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজা থেকে সব ফিলিস্তিনিকে বিতাড়নের পরিকল্পনা প্রকাশ করল ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:২১ পি.এম


গাজা থেকে সব ফিলিস্তিনিকে বিতাড়নের পরিকল্পনা প্রকাশ করল ইসরায়েল

ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির গাজা উপত্যকা থেকে সব ফিলিস্তিনিকে বিদেশে পাঠানোর একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। এই পরিকল্পনায় গাজার ফিলিস্তিনি জনগণের অবৈধ ও জোরপূর্বক বিতাড়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বেন গভির, ইসরায়েলি নির্বাচনের আগে দেওয়া একটি ভাষণে জানান, পরিকল্পনার আওতায় প্রথম বছরে গাজা থেকে আড়াই লাখ ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। পরবর্তীতে পরবর্তী ছয় বছরে গাজার প্রায় ২০ লাখ জনসংখ্যার অবশিষ্ট অংশকেও সরানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি দাবি করেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নযোগ্য এবং কিছু দেশ রয়েছে, যারা গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের গ্রহণ করতে ‘প্রস্তুত’। কিন্তু তিনি এসব দেশের নাম উল্লেখ করেননি।

জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, অধিকৃত অঞ্চল থেকে বেসামরিক নাগরিকদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। অন্যদিকে, গাজা নিয়ে ইসরায়েলি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নিজেদের পরিকল্পনা কতটা কঠোর হবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিযোগিতা চলছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি কার্যকরের প্রচেষ্টাও তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অভিযোগ তোলার প্রস্তাব পশ্চিমা জোটের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:২৬ পি.এম


ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অভিযোগ তোলার প্রস্তাব পশ্চিমা জোটের

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাঠানোর প্রস্তাব পশ্চিমা জোটেরযুক্তরাষ্ট্র এবং তার পশ্চিমা মিত্ররা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর আন্তর্জাতিক চাপকে আরও তীব্র করছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) আসন্ন বোর্ড সভায় ইরানের বিরুদ্ধে একটি নতুন প্রস্তাব পাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি লবিং শুরু করেছে। রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সভায় যদি প্রস্তাবটি পাস হয়, তাহলে ইরান পারমাণবিক চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে রিপোর্ট করা হবে।

মূল বিরোধের পটভূমি

পুরোনো প্রস্তাব ও নজরদারি সংঘাত: ২০২৫ সালের জুনে গৃহীত একটি প্রস্তাবে আইএইএ জানিয়েছিল, অঘোষিত স্থানে ইউরেনিয়ামের নমুনার উপস্থিতির বিষয়ে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা না করে ইরান চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে।

পরিদর্শনের নিষেধাজ্ঞা: রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত ইউরেনিয়াম কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনের জন্য আইএইএ কর্মীদের প্রবেশ করতে দিচ্ছে না তেহরান।

ইরানের অবস্থান: পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি)-এর স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে ইরান কোনো পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারে না। তেহরান বারবার ঘোষণা করেছে যে, তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না এবং তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে শান্তিপূর্ণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজে অচলাবস্থা কাটাতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র, নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে তৎপর ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩২ পি.এম


হরমুজে অচলাবস্থা কাটাতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র, নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে তৎপর ইরান

হরমুজে অচলাবস্থা ভাঙতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র, নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চায় ইরানইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা আবার শুরু হয়েছে। এই হামলাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলো আগের তুলনায় সীমিত হওয়ায় দুই পক্ষই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে ফিরে যেতে চাচ্ছে না। বরং যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে রেখে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে ইরান অর্থনৈতিক চাপ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য অচলাবস্থা ভাঙার পথ খুঁজছে।

 

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র আবারো ইরানে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান জর্ডান, বাহরাইন এবং কুয়েতে হামলা করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বে সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যদি পাল্টা হামলা চালায়, তাহলে তাদের আরও ‘কঠোরভাবে’ আঘাত করা হবে।

তবে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে মূলত সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। উভয় পক্ষ বেসামরিক এবং জ্বালানি অবকাঠামোকে তুলনামূলকভাবে এড়িয়ে চলেছে। ইরানও সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাতে নতুন করে হামলা চালায়নি।

ইসরাইলি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার ইরান শাখার সাবেক প্রধান ড্যানি সিত্রিনোভিচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, দুই পক্ষই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়িয়ে চললেও ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার’ ঝুঁকি রয়েছে।

হরমুজ প্রণালিই হয়ে উঠেছে মূল যুদ্ধের কেন্দ্র।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান অচলাবস্থার অন্যতম কেন্দ্র হরমুজ প্রণালি। এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ, যেখানে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন করা হয়। ইরানের পক্ষ থেকে এই পথে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ—দুটিই পরিস্থিতিকে ক্রমেই কঠিন করে তুলছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের (আইসিজি) ইরানবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হামিদরেজা আজিজি বলেন, কোনো পক্ষই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে ফিরতে চায় না। তবে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বাধা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ—দুটিই উভয় পক্ষের জন্য ক্রমেই ‘অসহনীয়’ হয়ে উঠছে।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি দিয়ে ৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজকে সামরিক পাহারা দিয়ে নিরাপদে পার করে। এসব জাহাজে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল ছিল। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধ শুরুর পর একদিনে এটিই ছিল সর্বোচ্চ সংখ্যক বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে পার করে দেওয়ার ঘটনা।

অনলাইনক্যালকুলেটর ব্যবহার

তবে এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট পুরোপুরি কাটেনি। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সামান্য কমলেও তা এখনো যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রতি গ্যালন পেট্রলের জাতীয় গড় মূল্য ৪ দশমিক ১৪ ডলার। এক বছর আগে এই দাম ছিল ৩ দশমিক ১৯ ডলার।

যুদ্ধের খরচ যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও চাপ বাড়াচ্ছে।

ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়ছে। জুলাই পর্যন্ত সংঘাতে ওয়াশিংটনের প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত থেকেও বিপুল পরিমাণ তেল ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভের মজুত ১৯৮৩ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।

সামরিক ক্ষেত্রেও চাপ বাড়ছে। যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স বা থাডের প্রায় ৮০ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহৃত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। একই সময়ে প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় অর্ধেক ইন্টারসেপ্টরও ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ রয়েছে। তবে কিছু ধরনের অস্ত্রের মজুত ‘তুলনামূলকভাবে সীমিত’ বলেও তিনি স্বীকার করেছেন।

এদিকে যুদ্ধের মেয়াদ বা জ্বালানির দাম কবে আবার যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ে ফিরবে—এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে পারেননি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বরং সংঘাত শেষ করার দায়িত্ব ইরানের ওপরই দিয়েছেন তিনি।

যুদ্ধ নিয়ে বাড়ছে মার্কিন জনঅসন্তোষ

ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও অসন্তোষ বাড়ছে। ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয় অ্যামহার্স্টের (ইউমাস অ্যামহার্স্ট) প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মার্কিনি ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার পদ্ধতিতে অসন্তুষ্ট। সোমবার প্রকাশিত ওই জরিপে ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদনের হার ৩২ শতাংশে নেমে এসেছে।

এদিকে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে সতর্ক করেছেন যে ইরানে দীর্ঘমেয়াদি বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া টেকসই নয়। এতে বিশ্বের অন্য অঞ্চলের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি সিএনএন।

অর্থনৈতিক সংকটে আরো বিপর্যস্ত ইরান

অন্যদিকে যুদ্ধের প্রভাব ইরানের অর্থনীতিতে আরো গভীর। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপের মধ্যে ইরানের তেল বিক্রি কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে অস্ত্রের মজুতও দ্রুত কমছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ‘আশঙ্কাজনক পর্যায়ে’ পৌঁছেছে। অনেক শ্রমজীবী পরিবার নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কেনার সামর্থ্য হারাচ্ছে।

ইরানি লেবার নিউজ এজেন্সির (আইএলএনএ) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই পর্যন্ত ১২ মাসে দেশটির বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৬৬ শতাংশে পৌঁছেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইরান বিশেষজ্ঞ আরাশ আজিজির মতে, ইরানের অর্থনীতি ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটির শাসকগোষ্ঠী মনে করছে, সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করলে তাদের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে ইরান হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। কারণ তেহরান হিসাব করছে, বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ অনির্দিষ্টকাল সহ্য করা সম্ভব নয় এবং অচলাবস্থা ভাঙতেই হবে।

আলোচনার দরজা খোলা রাখতে চায় তেহরান

যদিও সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে, ইরান এখনো আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেনি।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) অধীনে নিজেদের প্রতিশ্রুতিতে ফিরে এলে তেহরানও তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা পদক্ষেপ নেবে এবং আলোচনায় ফিরতে প্রস্তুত থাকবে।

তবে ট্রাম্পের অবস্থান ভিন্ন। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসার জন্য তিনি কোনো চাপ প্রয়োগ করতে চান না। বরং হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থান এবং ইরানের অর্থনীতির দুর্বল হয়ে পড়াকে তিনি নিজেদের জন্য বেশি সুবিধাজনক বলে মনে করছেন।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, তিনি আলোচনার টেবিলে ইরানকে বাধ্য করার চেষ্টা করছেন না এবং বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে তিনি বেশি পছন্দ করছেন।

অচলাবস্থা কত দিন টিকবে?

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি এমন এক ভারসাম্য তৈরি করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—দুই পক্ষই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন। কিন্তু একই সঙ্গে কেউই নিজেদের অবস্থান থেকে পিছু হটতে চাইছে না।

সিত্রিনোভিচের মতে, ওয়াশিংটন যেখানে সংঘাতকে সামরিকভাবে নিয়ন্ত্রিত রেখে মূলত অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখতে চাইছে, তেহরান সেখানে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি করা নতুন বাস্তবতা চ্যালেঞ্জ করতে চাইছে।

আইসিজির হামিদরেজা আজিজির মতে, ইরানের সাম্প্রতিক আচরণ এবং মার্কিন হামলার পর দ্রুত ও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখানোর মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে যে তেহরান আত্মসমর্পণের পরিবর্তে পাল্টা জবাব দেওয়ার পথই বেছে নিয়েছে।

ফলে দুই পক্ষই উত্তেজনার সিঁড়িতে ধাপে ধাপে ওপরে উঠছে, যদিও তারা জানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%