বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৫৪ পি.এম
গোপালপুরের গ্রামাঞ্চলে এখনো দেখা যায় খেজুরগাছের সারি। রাস্তার ধারে, বাড়ির আঙিনায় এবং ফসলের মাঠের আইলে অবস্থান করছে এসব গাছ, যা হারিয়ে যেতে বসা এক গ্রামীণ ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। পরিচর্যা ও সংরক্ষণের অভাবের কারণে খেজুরগাছের সংখ্যা ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। যদিও পুরোনো গাছগুলো টিকে আছে, নতুন করে চারা রোপণের কিংবা সংরক্ষণের তেমন কোনো উদ্যোগ নেই।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়, কিছু পুরোনো খেজুরগাছ এখনো সবুজে ভরা। কোথাও গাছের কা-জুড়ে লতাপাতা (পরগাছা) এবং বট-পাকুরগাছ গজিয়েছে, আবার কোথাও গোড়ার চারপাশে ঘন আগাছা দেখা যাচ্ছে। রাস্তার পাশে কিংবা বাড়ির সীমানায় অবস্থিত এসব গাছের অধিকাংশেরই নিয়মিত পরিচর্যার কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেই।
স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, একসময় গোপালপুরের গ্রামাঞ্চলে খেজুরগাছ ছিল প্রতিদিনের পরিচিত দৃশ্য। শীতের মৌসুমে গাছিরা খেজুরগাছের কা- পরিষ্কার করে রস সংগ্রহ করতেন। সেই রস দিয়ে তৈরি হতো খেজুরের গুড় ও পাটালি। শীতের সকালে খেজুরের রস ঘিরে জমে উঠত গ্রামীণ উৎসবের আমেজ।
কালের পরিবর্তনে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহের ঐতিহ্য যেমন কমেছে, তেমনি নতুন খেজুরগাছ লাগানোর প্রবণতাও হ্রাস পেয়েছে। ফলে বিদ্যমান গাছগুলো বয়সের ভারে নষ্ট হয়ে গেলে সেগুলোর জায়গা পূরণ করার মতো নতুন গাছ তৈরি হচ্ছে না।
গোপালপুরের গুড় ব্যবসায়ী সন্তোষ পাল জানান, স্থানীয়ভাবে খেজুরের গুড়ের চাহিদা থাকলেও এলাকায় উৎপাদন না হওয়ায় তাদের বাইরের অঞ্চল থেকে গুড় সংগ্রহ করতে হয়। তিনি বলেন, “প্রতি বছর বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চল থেকে প্রায় একশ মণেরও বেশি খেজুরের গুড় এনে গোপালপুর ও আশপাশের এলাকায় বিক্রি করি।”
স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, “এখনো অনেক খেজুরগাছ আছে। কিন্তু গাছগুলোর যতœ নেওয়ার মানুষ কমে গেছে। পুরোনো গাছ নষ্ট হলে নতুন গাছ লাগানোও হয় না। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছর পর খেজুরগাছ খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে।”
গোপালপুর সকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক (কৃষি), ফারুক আহম্মদ বলেন, খেজুরগাছ গ্রামীণ পরিবেশ ও কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ গাছ। নতুন করে খেজুরের চারা রোপণ ও পুরোনো গাছ সংরক্ষণের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। কৃষকদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে এ বিষয়ে সচেতন করা গেলে খেজুরগাছের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব।
পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিদের মতে, খেজুরগাছ শুধু রস ও গুড়ের উৎস নয়, এটি গ্রামীণ প্রকৃতি ও সংস্কৃতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাস্তার পাশে ও পতিত জমিতে পরিকল্পিতভাবে খেজুরের চারা রোপণ করা হলে একদিকে যেমন পরিবেশের সৌন্দর্য বাড়বে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে খেজুরের রস ও গুড় উৎপাদনের ঐতিহ্যও টিকে থাকবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষি বিভাগের সমন্বয়ে খেজুরগাছ সংরক্ষণ ও নতুন চারা রোপণের উদ্যোগ এবং একই সঙ্গে পুরোনো গাছগুলোর তালিকা তৈরি করে সেগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
গোপালপুরের পথে-প্রান্তরে এখনো দাঁড়িয়ে থাকা এসব খেজুরগাছ যেন কালের সাক্ষী। কিন্তু এখনই সংরক্ষণের উদ্যোগ না নিলে একসময় গাছ থাকবে না, থাকবে শুধু স্মৃতিÑআর হারিয়ে যাবে শীতের ভোরে খেজুরের রস ও গুড়কে ঘিরে থাকা গ্রামীণ ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিজিবি এবং র্যাবের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে ১০ টন ভারতীয় জিরা জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় একটি ট্রাকে অভিযান চালিয়ে এই জিরাগুলি উদ্ধার করা হয়। অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করা এই জিরাগুলি আটক করা হয়েছে।
এই অভিযানের ফলে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, সিলেটের দক্ষিণ সুরমার মো. এম ফয়সাল আবীর, রাজশাহীর এয়ারপোর্ট এলাকার আজিজুল হাকিম এবং একই এলাকার হাবিবুর রহমান। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি) এর অধিনায়ক লে. কর্নেল জাব্বার আহমেদ জানিয়েছেন, বুধবার রাতে সিলেট থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে সরাইলের শাহবাজপুর এলাকায় একটি ট্রাক তল্লাশির জন্য থামানো হয়। বিজিবি এবং র্যাবের যৌথ টহলদল ট্রাকে থাকা ব্যক্তিদের কাছে জিরার বৈধ কাগজপত্র চাওয়া হয়। বৈধ কাগজপত্র প্রদান করতে ব্যর্থ হওয়ায় এই জিরাগুলি জব্দ করা হয়। জব্দ করা জিরা এবং ট্রাকের মোট মূল্য প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আটকদের সরাইল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। জব্দ করা জিরা কাস্টমসে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ১ হাজার ৯ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত একদিনে নতুন করে ১ হাজার ১৯৪ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে শুধু ঢাকা বিভাগেই ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে রাজশাহী, সিলেট, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে হামের উপসর্গে একজন করে মোট ৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে।
তাদের নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ১ হাজার ৯ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৯০৯ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ১৬৫ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৪৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১৯ হাজার ৯৩৩ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৮৮৮ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালীতে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারী অবৈধ জাল উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর ও নৌ পুলিশের যৌথ অভিযানে উপজেলার চিরাপাড়া সংলগ্ন সন্ধ্যা নদীর তীরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩ হাজার মিটার অবৈধ চরগড়া জাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এই জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯০ হাজার টাকা।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমান এবং কাউখালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও নৌ পুলিশ পরিদর্শক মোঃ ইমরান হোসাইন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমান জানান, মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং প্রজনন নিরাপদ রাখতে অবৈধ জালের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ