বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:০৯ পি.এম
পিরোজপুরের কাউখালীতে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারী অবৈধ জাল উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর ও নৌ পুলিশের যৌথ অভিযানে উপজেলার চিরাপাড়া সংলগ্ন সন্ধ্যা নদীর তীরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩ হাজার মিটার অবৈধ চরগড়া জাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এই জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯০ হাজার টাকা।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমান এবং কাউখালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও নৌ পুলিশ পরিদর্শক মোঃ ইমরান হোসাইন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমান জানান, মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং প্রজনন নিরাপদ রাখতে অবৈধ জালের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাজশাহী জেলা পরিষদ কর্তৃক অসহায়, দুস্থ, শিক্ষার্থী ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন মানবিক ক্ষেত্রে সহায়তার জন্য আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ ও আলোচনা সভা আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও চেক বিতরণ অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।
জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল আলিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চেক বিতরণ করেন রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. মো. এরশাদ আলী (ঈশা)।
প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. মো. এরশাদ আলী (ঈশা) উল্লেখ করেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাঁর নেতৃত্বে দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণ, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং শিক্ষা, চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, তারই ধারাবাহিকতায় সমাজের অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারলে আমাদের দায়িত্ববোধ আরও অর্থবহ হবে। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে নিতে সহায়তা করা এবং অসুস্থ মানুষের চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া একটি মানবিক কাজ।
আলোচনা সভা শেষে ৩৮ জন উপকারভোগীর মাঝে মোট ২ লাখ ৬২ হাজার টাকার আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা, সহকারী প্রকৌশলী মো. আল আমীন মল্লিক এবং প্রধান সহকারী এস. এম. আল মতিন।
এছাড়াও জেলা পরিষদের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপকারভোগী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাৎকালে, ইরানের রাষ্ট্রদূত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান।
রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং আজ বিকেলে এই তথ্য প্রকাশ করে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, ফেরদৌসি, শেখ সাদি, হাফিজ, জালাল উদ্দিন রুমির মতো প্রখ্যাত পার্সি কবি ও মনীষীদের সৃষ্টিশীল কর্ম ও সাহিত্য এই অঞ্চলের মানুষের চিন্তা ও সংস্কৃতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
রাষ্ট্রপতি এসময় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গানে ইরানের মানুষের প্রতি মমত্ববোধের কথা উল্লেখ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের ফলে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলো ব্যাপক জ্বালানি সংকটে পড়েছে।"
তিনি বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে বাংলাদেশের নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে সংলাপ, সমঝোতা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রপতি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ইরানে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন করে ইরানের মাটিতে ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের নিন্দা পুনর্ব্যক্ত করেন।
এসময় রাষ্ট্রপতি বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইরানের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় ইরানের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে একটি অভিনন্দনপত্র হস্তান্তর করেন।
তিনি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে বাংলাদেশের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের অংশগ্রহণের বিষয়টি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশ ও ইরান বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে একযোগে কাজ করবে।
রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রদূতকে তার দায়িত্ব পালনে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, তার দায়িত্বকাল বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিববৃন্দ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইরান দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন, গণতন্ত্রের বিকাশ ও শক্তিশালীকরণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, ‘যদি গণমাধ্যম বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে, তাহলে সমাজে সন্ত্রাস এবং ঘুষের পরিমাণ কমে যাবে এবং সমাজ অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন হয়ে উঠবে।’
আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এই বক্তব্য দেন।
রুহুল কবির রিজভী আরও জানান, ‘ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সঙ্গে আমার দীর্ঘকালীন নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে যখন আশ্রয়ের অভাব ছিল, তখন ডিআরইউকে আমি আশ্রয়ের স্থান হিসেবে দেখেছি।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘গত ১৭ বছরে অনেক টেলিভিশন এবং পত্রিকা থাকলেও কথা বলার এবং মত প্রকাশের সুযোগ ছিল শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি এবং একটি রাজনৈতিক দলের। যারা এর বাইরে চেষ্টা করেছেন, তাদের কেউ গুমের শিকার হয়েছেন, আবার কেউ কেউ কারাগারে থাকতে বাধ্য হয়েছেন।’
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান না হলে পরিস্থিতি কেমন হতে পারত, তা উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘মিডিয়া, টকশো, টকশো হোস্ট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। তবুও মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকরা গণতন্ত্রের আলো কিছুটা জ্বালিয়ে রেখেছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমকে সত্য প্রচার করতে হবে, কিন্তু অনেক যাচাই-বাছাইয়ের পর। সত্য প্রচার করতে গিয়ে যদি জীবনের ঝুঁকি আসে, তবে সেই ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা থাকতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইনের শাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসন এবং আদালতকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হয়, ঠিক তেমনি গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে গণমাধ্যমকেও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে।’
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং কেউ কেউ পৃথিবী থেকে চলে গেছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার মাধ্যমে সাংবাদিকতার এই মহান পেশাকে আরও মহিমান্বিত করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, ‘গণমাধ্যম রাষ্ট্র এবং জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। জনগণের সমস্যা, প্রত্যাশা, সাফল্য এবং সম্ভাবনার কথা নীতি-নির্ধারকদের কাছে পৌঁছাতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো সত্যনিষ্ঠা, বস্তুনিষ্ঠতা, পেশাদারিত্ব এবং দায়িত্বশীলতা।’
তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সংবাদ দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এছাড়া গুজব, অপতথ্য এবং যাচাই-বাছাইহীন সংবাদের মতো নতুন চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি হয়েছে। তাই দ্রুত সংবাদ দেওয়ার পাশাপাশি সঠিক এবং যাচাইকৃত তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া পেশাদার সাংবাদিকদের বড় দায়িত্ব।’
তিনি বলেন, ‘সড়ক পরিবহন, রেল যোগাযোগ এবং জনসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে উন্নয়ন এবং সংস্কার কাজ এগিয়ে চলছে। এসব বিষয়ে গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন এবং বাস্তবভিত্তিক মতামত সরকার এবং নীতি-নির্ধারকদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক।’
এ সময় প্রতিমন্ত্রী ডিআরইউয়ের উত্তরোত্তর সাফল্য, সমৃদ্ধি এবং সকল সদস্যের কল্যাণ কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ