বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:২২ পি.এম
পেশোয়ারের দির কলোনিতে একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে অন্তত ১৬ শিশুর মৃত্যু ঘটে। বৃহস্পতিবার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া শিশু ও স্কুলকর্মীদের উদ্ধারের জন্য অভিযান চালাচ্ছেন।
লেডি রিডিং হাসপাতাল (এলআরএইচ) কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তারা জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ২০ শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
উদ্ধারকারী কর্মকর্তাদের পূর্ববর্তী তথ্য অনুযায়ী, স্কুলের ছাদ ধসে পড়ার ফলে বেশ কয়েকজন শিশু ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে যায়।
উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া শিশু ও স্কুলকর্মীদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: জিও নিউজ
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরগুনা, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ : তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে এবং নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় বেশি দামে বিক্রির অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
আজ বরগুনা সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এলপিজি সংকট মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ বিষয়ক একটি আলোচনা সভায় তিনি অংশগ্রহণ করেন।
সভায় এলপিজি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, বাজারে নির্ধারিত মূল্য কার্যকর করা এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ যাচাই করার পাশাপাশি অতিরিক্ত দামে বিক্রি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সম্প্রতি দেশে বিভিন্ন স্থানে এলপিজি সরবরাহে বিঘ্ন এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠায় সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা এবং বাজারে পণ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে সভায় আলোচনা করা হয়।
সভায় জানানো হয়, এলপিজি সংকট মোকাবিলায় সরকার জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে সরবরাহ পরিস্থিতি তদন্ত, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ যাচাই এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে এলপিজি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভায় এলপিজির মতো অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, ভোক্তাদের অতিরিক্ত দামের চাপ থেকে সুরক্ষা দেওয়া এবং বাজারে নির্ধারিত মূল্য কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় সংকট মোকাবিলা ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে স্থানীয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়।
সভায় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রয়াত স্ত্রী ইকরার জন্মদিন উপলক্ষে আবেগঘন বার্তা প্রকাশ করেছেন অভিনেতা জাহের আলভী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর একটি ছবি শেয়ার করে তিনি ভালোবাসা, অনুশোচনা ও শূন্যতার অনুভূতি তুলে ধরেছেন। ইকরাকে হারানোর পরও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাঁকে। এই বাস্তবতা নিয়েই আলভী তাঁর মনের কথা লিখেছেন।
স্ত্রীর জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে আলভী জানিয়েছেন, "একজন মৃত মানুষের মূল্য অনেক সময় জীবিত অনেক মানুষের চেয়েও বেশি হয়ে ওঠে।" ইকরা বেঁচে থাকলে হয়তো এই বিশেষ দিনে তাঁদের তিনজনের একসঙ্গে কেক কেটে জন্মদিন উদ্যাপন করা হতো। কিন্তু এখন সেই আনন্দের জায়গায় স্মৃতি এবং না পাওয়ার কষ্ট রয়েছে।
নিজের পোস্টে আলভী প্রশ্ন তুলেছেন, ইকরা চলে যাওয়ার পরেও কেন তাঁর জীবন থেমে নেই, কেন তিনি এখনও হাসেন, গান শোনেন কিংবা শুটিংয়ে যান। স্বাভাবিক জীবনযাপন করলেও এসব নিয়ে তাঁকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, জীবিকা নির্বাহ ও দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যাওয়া জীবনের প্রয়োজনের অংশ।
একমাত্র সন্তান রিযিককে ঘিরে নিজের দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেছেন আলভী। ছেলেকে সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দিতে এবং তাঁকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চেষ্টা করছেন তিনি। এই কারণে ইকরা অভিমান করে থাকলে, তাঁর কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন আলভী। স্ত্রীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি নিজের অনুশোচনা ও অনুভূতির কথা প্রকাশ করেন।
পোস্টের শেষাংশে ইকরার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের পাশাপাশি তাঁর জন্য দোয়া করার কথাও জানিয়েছেন জাহের আলভী। সন্তানকে দেখে রাখার আকুতিও জানিয়েছেন প্রয়াত স্ত্রীর উদ্দেশে। উল্লেখ্য, ইকরার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা হয়েছিল, যেখানে আলভীকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় কারাভোগের পর বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ : যেকোনো দেশের মূল পরিচিতি সাধারণত তার জাতীয় দলের মাধ্যমে তৈরি হয়, কিন্তু সেই জাতীয় দলের ভিত্তি গড়ে তোলার জন্য যুব দল বা একাডেমি দল অপরিহার্য। বিশ্বের অন্যতম বড় ক্লাবগুলো তাদের একাডেমিকে শক্তিশালী করে মূল দলের জন্য এবং পরবর্তীতে জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড় তৈরির একটি পথ তৈরি করে। ফ্রান্সও এই প্রক্রিয়ার বাইরে নয়। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ফরাশি শীর্ষ ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি) ক্রমাগত উন্নতির শিখরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। ক্লাবটির দীর্ঘদিনের লক্ষ্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়, যা তাদের উন্নতির প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে।
পিএসজির মূল দলের সাথে একাডেমির দূরত্ব এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় কমে এসেছে। ক্লাবটির ‘এসপোয়ার’ দল এবং ইয়ুথ লিগের কারণে এই অগ্রগতি সম্ভব হচ্ছে। ইয়ুথ লিগ এখন আর কেবল একটি প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি তরুণ খেলোয়াড়দের বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
পিএসজির এই উদ্যোগের সুফল তরুণ খেলোয়াড়দের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে। প্রকল্পটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন পিএসজি একাডেমির ক্রীড়া পরিচালক ইয়োহান কাবায়ে। পিএসজির কাছে ইয়ুথ লিগ কেবল একটি ট্রফি নয়, যদিও ক্লাবটির অন্যতম লক্ষ্য প্রথমবারের মতো এই শিরোপা জেতা। তাদের পরিকল্পনা আরও বিস্তৃত এবং প্রতিটি ম্যাচ তরুণ খেলোয়াড়দের বিকাশের আরেকটি ধাপ হিসেবে কাজ করছে। ম্যাচের পর ম্যাচ তাদের পেশাদার ফুটবলের ক্রীড়াগত, কৌশলগত ও মানসিক চাহিদার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
তবে প্রতিটি প্রতিযোগিতার মতো ইয়ুথ লিগেও পিএসজির উচ্চাকাঙ্খা রয়েছে যতদূর সম্ভব এগিয়ে যাওয়ার। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফএফ) র্যাঙ্কিংয়ে ফ্রান্সের সেরা পুরুষ একাডেমির স্বীকৃতি পায় ক্লাবটি। পিএসজি ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে ফরাসি অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০২৬ সালে তারা ফরাসি অনূর্ধ্ব-১৭ শিরোপা ও কুপ গামবারদেলা জয়ের পাশাপাশি উয়েফা ইয়ুথ লিগের শেষ চারে জায়গা করে নেয়।
এছাড়া, এসব সাফল্যের পেছনে রয়েছে আরও একটি বড় লক্ষ্য, তা হলো এমন খেলোয়াড় তৈরি করা, যারা একসময় মূল দলে জায়গা করে নিতে পারবেন। ইয়ুথ লিগ এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতিমঞ্চ হিসেবে কাজ করছে। এই প্রতিযোগিতার গতি, তীব্রতা ও পরিবেশ অনেকটা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কাছাকাছি।
তাহলে ইয়ুথ লিগ কি খেলোয়াড় গড়ে তোলার মাধ্যম, নাকি জেতার মতো একটি ট্রফি? কাবায়ে এ দুটির মধ্যে একটিকে বেছে নিতে রাজি নন। তিনি বলেন, “নিশ্চিতভাবেই এটি খেলোয়াড়দের বিকাশের একটি মাধ্যম। এই প্রতিযোগিতায় আমাদের খেলোয়াড়েরা বিভিন্ন প্রতিপক্ষ, খেলার ধরন ও পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। এতে তাদের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা এবং উচ্চ চাহিদার মধ্যে নিজেদের সাড়া দেওয়ার সামর্থ্য মূল্যায়নের সুযোগ পাই আমরা।
“তবে এটি একটি প্রতিযোগিতাও। আর পিএসজির হয়ে খেললে জয়ের লক্ষ্য থাকতেই হবে। ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চাপ সামলানো এবং গুরুত্বপূর্ণ জয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কাজগুলো করতে পারাও একেকটি দক্ষতা। এটিও শেখার প্রক্রিয়ার অংশ। প্রতিযোগিতাটি আমাদের উচ্চাকাঙ্খার জায়গা, আর এটি জয়ের চেষ্টা করতে গিয়ে যে পথ পাড়ি দিতে হয়, সেটিও খেলোয়াড়দের বিকাশের মাধ্যম। এক ম্যাচ থেকে আরেক ম্যাচে আমাদের দল সব সময় এক রকম থাকে না, আর এভাবেই নতুন খেলোয়াড় উঠে আসে।”
গত মৌসুমের পরিসংখ্যান এই উদ্যোগের কার্যকারিতা তুলে ধরে। পিএসজির একাডেমি থেকে উঠে আসা ১০ জন খেলোয়াড় গত মৌসুমে মূল দলের হয়ে অন্তত একটি ম্যাচ খেলেছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জনের মূল দলে অভিষেক হয়েছে। তাদের সবার মধ্যে একটি মিল রয়েছে, তারা ইয়ুথ লিগে খেলেছেন। ওই প্রতিযোগিতায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে উঠেছিল পিএসজি।
ঘরোয়া প্রতিযোগিতার বাইরেও ইয়ুথ লিগ কী ধরনের অভিজ্ঞতা দেয়, তা ব্যাখ্যা করে কাবায়ে বলেন, “ধারাবাহিকতার প্রশ্নে ঘরোয়া লিগ এখনো অপরিহার্য, কারণ সেখানে প্রতি সপ্তাহান্তে খেলতে হয়। ইয়ুথ লিগ খেলোয়াড়দের জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি অভিজ্ঞতা। সেখানে আমরা এমন দলগুলোর মুখোমুখি হই, যাদের কাজের ধরন আলাদা, যাদের মানদন্ড ভিন্ন এবং যাদের ফুটবল সংস্কৃতিও অন্য রকম। ফলে আমাদের দ্রুত মানিয়ে নিতে হয়।
“ঘরোয়া লিগের তুলনায় এই প্রতিযোগিতা খেলোয়াড়দের চাপের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বেশি শেখায়। কীভাবে তারা নিজেদের আধিপত্যের সময় এবং কঠিন পরিস্থিতি সামলায়, কীভাবে কখনো কখনো প্রতিকূল পরিবেশেও কার্যকর থাকে এসবই তারা শেখে। এই পর্যায়ে একটি ভুলের চড়া মূল্য দিতে হতে পারে।
“ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের অভিজ্ঞতাও রয়েছে দলটির। যেমন আজ আমরা ইংল্যান্ডে যাচ্ছি এবং ম্যাচের আগের দিন রওনা হচ্ছি। উয়েফার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতাও হয়। পাশাপাশি আবেগের বিষয়টিও রয়েছে, যা সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে কী প্রয়োজন, তা শেখার অংশ।”
ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিযোগিতাতেও এই উদ্যোগের সুফল দেখা যাচ্ছে। একাডেমি থেকে উঠে আসা চার খেলোয়াড় ওয়ারেন জায়ার-এমেরি, সেনি মায়ুলু, কোয়েন্তা এনজানতু ও ইব্রাহিম এমবায়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলেছেন। ২০১৮-১৯ মৌসুমের পর থেকে পিএসজির একাডেমি-স্নাতকদের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা। তরুণ খেলোয়াড়দের মূল দলে উঠে আসার ক্ষেত্রে এটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
কাবায়ে বলেন, “ইয়ুথ লিগের ম্যাচ যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচের সমতুল্য নয়, তা নিশ্চিত। তবে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলের কাছাকাছি যেতে যে মৌলিক আচরণ ও দক্ষতা প্রয়োজন, সেগুলো নিয়ে কাজ করার সুযোগ দেয় এই প্রতিযোগিতা। আমাদের খেলোয়াড়েরা নিজেদের উন্নয়নের ধারাবাহিক পথের অংশ হিসেবে প্রতি বছর ইয়ুথ লিগে খেলতে পারে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
পিএসজির এই কাঠামোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এসপোয়ার দল। ক্লাবের নিজস্ব উদ্যোগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দলটি গঠন করা হয়। বর্তমানে এটি একাডেমির কেন্দ্রীয় দল হিসেবে কাজ করছে। তরুণ খেলোয়াড়দের পেশাদার ফুটবলে প্রবেশের পথ তৈরি করাই এর প্রধান ভূমিকা।
অনূর্ধ্ব-১৬ থেকে অনূর্ধ্ব-২৩ পর্যায় পর্যন্ত খেলোয়াড়দের উপযুক্ত পরিবেশ ও পর্যাপ্ত খেলার সুযোগ দিয়ে লুইস এনরিকের মূল দলের সঙ্গে একাডেমির সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করছে এই দল।
কাবায়ে ব্যাখ্যা করেন, “দলটি ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে গঠন করা হলেও এর পেছনের চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছিল আরও আগে। আমরা দুটি সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিলাম। প্রথমটি ছিল পেশাদার ফুটবলে উত্তরণের বিষয়টি। অনূর্ধ্ব-১৯ দল ও মূল দলের মধ্যে বেশ বড় একটি ব্যবধান ছিল।
“কিছু খেলোয়াড়ের উন্নতির জন্য আরও সময় ও বেশি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে, কেউ কেউ পরবর্তী ধাপে ওঠার জন্য বেশি প্রস্তুত ছিল এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলের আরও কাছাকাছি যেতে পারত। তাই যাদের প্রয়োজন, তাদের জন্য মাঝখানে আরেকটি ধাপ তৈরির চিন্তা আসে।
“দ্বিতীয় সমস্যাটি ছিল খেলার সুযোগ। এই তৃতীয় দলটি একাডেমির সব খেলোয়াড়কে মাঠে নামার সুযোগ দেয়। আগে যখন আমাদের কেবল অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দল ছিল, তখন অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যায়ের খেলোয়াড়েরা খুব কমই খেলার সুযোগ পেত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা অনেক বেশি খেলার সুযোগ পাচ্ছে।”
পুরো ব্যবস্থাটি গড়ে তোলা হয়েছে ধারাবাহিকতার ওপর ভিত্তি করে। অনূর্ধ্ব-১৯ ও এসপোয়ার দলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রয়েছে। দুই দলের কোচ জ্যঁ-ফ্রাঁসোয়া ভলিয়েজ ও থমাস লেসালেস নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন।
এর লক্ষ্য হলো, প্রতিটি খেলোয়াড়ের অগ্রগতি দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা এবং এক বয়সভিত্তিক দল থেকে অন্য দলে যাওয়ার সময় যেন কাজের ধারাবাহিকতা ব্যাহত না হয় কিংবা কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করা।
পিএসজির ক্যাম্পাসে গত দুই মৌসুমে মূল দলের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিযান তরুণ খেলোয়াড়দের অনুপ্রেরণার বড় উৎস হয়ে উঠেছে। ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ক্লাবকে খেলতে দেখা তাদের প্রতিদিনের পরিশ্রমকে অর্থবহ করে তুলেছে। মূল দলে খেলার লক্ষ্য এখন তাদের কাছে বাস্তব ও স্পষ্ট। তারা নিজেদের সেই পর্যায়ে কল্পনা করতে পারে এবং সেখানে পৌঁছাতে কতটা নিষ্ঠা ও পরিশ্রম প্রয়োজন, তা বুঝতে পারে।
এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে একটি অভিন্ন পরিকল্পনা। ক্লাব সভাপতি নাসের আল-খেলাইফি, ক্রীড়া উপদেষ্টা লুইস কাম্পোস, প্রধান কোচ লুইস এনরিকে এবং কাবায়ে- সবাই এই পরিকল্পনায় যুক্ত।
কাবায়ের মতে, এ ক্ষেত্রে ক্যাম্পাসই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “বর্তমানে ক্যাম্পাসই আমাদের সবচেয়ে বড় সুবিধা। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এটিকে ফিরিয়ে আনতে হবে। সভাপতির দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে এই কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার ফলে আমরা একে অপরের কাছাকাছি থাকতে পারছি এবং অভিন্ন ক্রীড়া পরিকল্পনা তৈরি করতে পারছি। একাডেমিতে কী হচ্ছে, তা নিয়ে লুইস কাম্পোস ও আমার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ প্রকল্পটির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
দুজন প্রতিদিনই কথা বলেন। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও খেলোয়াড়দের নিয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠকও করেন তাঁরা।
কাবায়ের ভূমিকা অনেকটা প্রতিভা খুঁজে বের করা পর্যবেক্ষকের মতো। তিনি বলেন, “যেসব খেলোয়াড়কে পর্যবেক্ষণ করা এবং বিশেষ নজরে রাখা প্রয়োজন, তাদের সম্পর্কে জানানো আমার দায়িত্ব। কোনো খেলোয়াড় মাঝেমধ্যে মূল দলের দরজায় কড়া নাড়তে এবং নিজের সামর্থ্য দেখাতে পারবে কি না, তা বোঝার চেষ্টা করি আমি।”
এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পর্দার আড়ালেও বিভিন্ন বিভাগের কর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হয়। ভিডিও বিশ্লেষক, তথ্য বিশ্লেষক, পুষ্টিবিদ, ফিটনেস কোচ ও চিকিৎসক দল- সবাই খেলোয়াড়দের উন্নয়নে নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগান।
পিএসজির মূল দল ও যুবদলের মধ্যে সম্পর্ক এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী। সবকিছুর মূলে একটাই লক্ষ্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ যেকোন বড় আয়োজনে পিএসজির সর্বোচ্চ সাফল্য, যাতে খেলোয়াড়রাই মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে, যা ভারী বৃষ্টির কারণে ঘটেছে। সড়ক, বাড়িঘর এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পানিতে ডুবে গেছে। বিভিন্ন স্থানে সড়ক ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে এবং যানবাহন আটকে পড়েছে। বৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১৪ বছর বয়সি এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ শহরজুড়ে উদ্ধারকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক যানবাহন মোতায়েন করেছে।
আল-জাজিরার যাচাই করা নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ইস্তাম্বুলের ফাতিহ জেলার বালাত এলাকায় একটি গাড়ির পার্কিংয়ের প্রবেশপথে জমে থাকা পানির মধ্যে হাঁটছিল কিশোরটি। হঠাৎ সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ভারী বৃষ্টির মধ্যে পানিতে পা দেওয়ার পর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু ঘটে।
ইস্তাম্বুলের গভর্নরের কার্যালয় জানিয়েছে, কিশোরটিকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। উদ্ধারকর্মীদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইস্তাম্বুলের গভর্নর দাভুত গুল। তিনি বেসমেন্ট এবং নিচতলার ফ্ল্যাটে বসবাসকারীদের রাতের বেলায় ভবনের ওপরের তলায় থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে খাল, ছোট নদীর তীর, আন্ডারপাস এবং বন্যাপ্রবণ এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছেন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার শহরজুড়ে ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে। মোটরসাইকেল চলাচলও নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিবন্ধী সরকারি কর্মচারী এবং ছোট শিশুর মায়েদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাত ৯টা থেকে মোটরসাইকেল চলাচলের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার ও বৃহস্পতিবার দেশের কয়েকটি প্রদেশে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে। প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষের শহর ইস্তাম্বুলে প্রায় ৮ হাজার উদ্ধারকর্মী এবং ২ হাজার যানবাহন ও নির্মাণযন্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ।
আড়াই হাজারের বেশি জরুরি খবর
তুরস্কের আবহাওয়া বিভাগের সতর্কবার্তার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে ইস্তাম্বুলে বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন এলাকার সড়ক ও আন্ডারপাস পানিতে ডুবে যায়। এসেনইউর্ট ও সুলতানগাজিসহ কয়েকটি এলাকায় যানবাহন আটকে পড়ে। বাড়িঘর, দোকানপাট এবং বেসমেন্টেও পানি ঢুকে পড়ে।
ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে, আবহাওয়াজনিত ঘটনায় জরুরি সেবাকেন্দ্রে আড়াই হাজারের বেশি খবর আসে। কর্তৃপক্ষ ১ হাজার ২৭৭টি বন্যার ঘটনা এবং ১৫টি ভূমিধসের তথ্য নথিভুক্ত করেছে। বন্যার পানিতে ৪৭ জন আটকা পড়েন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮০০টির বেশি বাড়ি, ২৮০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং ৭৬টি যানবাহন।
তুরস্ক টুডে জানিয়েছে, শহরের আইয়ুপসুলতান ও গাজিওসমানপাশা জেলায় সড়কের কিছু অংশ ধসে পড়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এসেনইউর্ট এলাকায় বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া এক নারীকে উদ্ধার করেন পথচারীরা।
বন্যার পানি দুটি হাসপাতালে পৌঁছেছে। হাচিওসমান মেট্রো স্টেশনের ছাদ থেকেও পানি ঢুকে পড়ে। সুলতানগাজি এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে থাকা অবস্থায় বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীরের ঠেকনাদেয়াল ধসে পড়ে। তবে কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়নি।
ইস্তাম্বুলের এশীয় অংশের বেইকোজ জেলার ওমেরলি এলাকায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ডেইলি সাবাহর তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ১৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। ভারপ্রাপ্ত ইস্তাম্বুল মেয়র নুরি আসলান জানিয়েছেন, শহরের কয়েকটি এলাকায় ১২ ঘণ্টায় প্রায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় কর্মব্যস্ত সময়ে শহরের যানজটের মাত্রা প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছায়। তবে বিমান চলাচল স্বাভাবিক ছিল বলে জানিয়েছে ডেইলি সাবাহ।
[[KEEP_2]
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ