শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:১৮ পি.এম
আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসিকে শেষবার মাঠে দেখার জন্য ভক্তদের উন্মাদনা টিকিট বিক্রির মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচের সকল টিকিট মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে।
আর্জেন্টিনা আগামী ৬ অক্টোবর বেনিনের বিরুদ্ধে একটি প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামবে। এই ম্যাচটি জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির জন্য শেষ ম্যাচ হতে যাচ্ছে। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিএনটি স্পোর্টস জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার বিক্রি শুরু হওয়ার পর দ্রুত ৮৫ হাজার ১৮টি টিকিট শেষ হয়ে যায়।
মেসির বিদায়ী ম্যাচ উপলক্ষে বিশেষ আয়োজনও থাকবে। এই ম্যাচে ৩৯ বছর বয়সী কিংবদন্তি একটি বিশেষ জার্সি পরিধান করবেন। জার্সিটিতে তার নাম এবং ঐতিহাসিক ১০ নম্বর সোনালি নকশায় থাকবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জার্সিটি প্রকাশ করে মেসি লিখেছেন, “শেষ একটি ম্যাচ। আজীবনের জন্য একটি জার্সি।”
মেসির আর্জেন্টিনার হয়ে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে রয়েছে ২০২২ বিশ্বকাপ, ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা এবং ২০০৮ অলিম্পিকের সোনা। জাতীয় দলের হয়ে ২০৭ ম্যাচে তার গোল ১২৫টি, এবং অ্যাসিস্ট ৬৮টি।
মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে ৬ অক্টোবর শুধু একটি প্রীতি ম্যাচ নয়, বরং আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসিকে শেষবার দেখার একটি আবেগঘন উপলক্ষ হতে যাচ্ছে। সেই মুহূর্তের সাক্ষী হতে টিকিট নিয়ে এখন হাহাকার চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার পর আবেগঘন একটি পোস্ট করেছেন তার মা, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তিনি তার ফেসবুক পেজে এই আবেগঘন পোস্টটি প্রকাশ করেন।
ছেলের জন্য আবেগে আপ্লুত হয়ে তিনি লেখেন, ‘মা, তুমি তো বলেছিলে আমি তোমার পৃথিবী… আজ সেই পৃথিবীটা এত নিঃশব্দ কেন? আমি তো আর তোমার কাছে ফিরব না মা… শুধু আমার জন্য একটু দোয়া করো। আর আমার চলে যাওয়ার সত্যটা যেন চাপা না পড়ে।’
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে অপ্রতিম আর ফেরেনি। পরবর্তী সময়ে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধার করা হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত চারজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন কারণ উঠে এসেছে। পুলিশ জানায়, আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়।
অপ্রতিমের পরিবারের দাবি, তাকে হত্যার পেছনে শুধুমাত্র আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার কারণ নয়। মাদকের বিরুদ্ধে ডা. নাহিদার কঠোর পদক্ষেপের কারণে সালমানপুর এলাকার মাদকচক্র তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছে। দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করে কৌশলে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
ঘাতকদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে নেপথ্যের কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন হতে পারে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
এদিকে, অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগমের অভিযোগ, পূর্ববিরোধের কারণে তার ছেলেকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে একটি শ্রেণি তার ছেলেকে অপবাদ দিচ্ছে।
অপ্রতিমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা বিভিন্ন প্রচারের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগম। মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা তার বাসায় দেখা করতে গেলে তিনি ক্ষোভের কথা জানান।
নাহিদা বেগম বলেন, "আমার দুধের শিশু, তাকে ব্লেমিং করা আমি কোনোদিন মেনে নেব না। আমার দুধের বাচ্চা, আমার ছেলে বোঝে না। তাকে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে, দীর্ঘদিন সময় নিয়ে বন্ধু বানিয়ে, সবার কাছে ভিকটিম বানিয়ে দিয়ে বলছে, ‘দেখো, ও আমাদেরই একজন সদস্য, ও আমাদের সঙ্গে খেলছে, ওর কারণে ও মরে গেছে’-আমি সেটা মানব না।"
তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আমার দুধের বাচ্চাকে কেন ভিকটিম ব্লেমিং করা হচ্ছে?’
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, তিনি শুধু তার ছেলের জন্য বিচার চান না। যারা তার ছেলেকে হত্যা করেছে, তারা যদি জেল থেকে বের হয়ে আসে, তাহলে আরও কত বাচ্চার জীবন নেবে, কত বাচ্চার জীবন ধ্বংস করবে-সেটা নিয়েও তিনি চিন্তিত। তিনি চান, এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হোক।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম তার স্বামী ও একমাত্র সন্তান অপ্রতিমকে নিয়ে কোটবাড়ী গন্ধমতি এলাকার ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বসে মাদকসেবনরত অবস্থায় সালমানপুর এলাকার ৮ কিশোরকে আটক করে শিক্ষার্থীরা। পরে প্রক্টর নাহিদা বেগম তাদের পুলিশে সোপর্দ করেন। সে সময় এসব মাদক নিয়ন্ত্রণে সালমানপুরের মাদক ব্যবসায়ী মিলন ও আল আমিনের নাম উঠে আসে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই ঘটনায় এলাকার কিশোর গ্যাং এবং মাদকচক্র অপ্রতিমের মায়ের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে এসব চিহ্নিত মাদক চক্রের ইন্ধন থাকতে পারে।
অনুসন্ধান বলছে, পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসাবে ১৮ সেপ্টেম্বর ছবি তোলার প্রলোভন দিয়ে ঘাতক তুহিন তাকে পাহাড়ে নিয়ে যায়। এ সময় ঘাতক ফাহাদ-কামরুলরা তাকে হত্যার জন্য ওতপেতে থাকে। পরে শ্বাসরোধ করে এবং বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে।
এদিকে পুলিশ বলছে, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যই ঘাতকরা তাকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় জড়িত চার ঘাতক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ঘাতকরাও আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যই তাকে হত্যা করেছে বলে জবানবন্দিতে আদালতকে বলেছে। তাছাড়া পরিবারের দাবি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে অন্য কোনো ইস্যু রয়েছে কিনা পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।
নিহত অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম বলেন, শুধু আইফোনের জন্য তার ছেলেকে হত্যা করা হয়নি। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ায় এলাকার মাদক সিন্ডিকেট তার ছেলেকে টার্গেট করেছে।
তিনি বলেন, যারা নেপথ্যে থেকে হত্যাকাণ্ডের ইন্ধন জুগিয়েছে তাদের খুঁজে বের করতে হবে। একটি শ্রেণি ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।
অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে এসব অপরাধী ছাড়া পেয়ে যেন তার মতো অন্য বাবার বুক খালি করতে না পারে, সেদিকে কঠোর দৃষ্টি রাখতে হবে। এসব অপরাধীকে নিয়ে তার ভয় হচ্ছে। জেল থেকে বেরিয়ে ভবিষ্যতে তারা আরও খুনখারাবি করতে পারে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। ঘাতকরা আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। অন্যান্য বিষয়গুলোও তারা খতিয়ে দেখছেন।
সদর দক্ষিণ থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, আলোচিত এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে তারা আরও চুলচেরা বিশ্লেষণ করবেন। অন্য কারও সম্পৃক্ততা থাকলে তদন্তে বেরিয়ে আসবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লিওনেল মেসি জাতীয় দল ছাড়ার পর, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।
স্কালোনি একটি সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন, যা বলিভিয়া, বুরকিনা ফাসো ও বেনিনের বিপক্ষে আসন্ন প্রীতি ম্যাচের আগে অনুষ্ঠিত হয়। তিনি উল্লেখ করেন, মেসি এবং নিকোলাস ওতামেন্দির পর, রোমেরো ইতিমধ্যেই দলের তৃতীয় অধিনায়ক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
স্কালোনি বলেন, ‘কুতিই অধিনায়ক হবে। সে আগে থেকেই লিও আর ওতার পরের অধিনায়ক ছিল।’ এছাড়াও, তিনি জানান, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, রদ্রিগো দে পল ও লাউতারো মার্তিনেজও দলের আর্মব্যান্ড পরিধান করার সুযোগ পেতে পারেন।
২৮ বছর বয়সী রোমেরো এর আগে তিনবার আর্জেন্টিনার অধিনায়কত্ব পালন করেছেন। তিনি প্রথমবার আর্মব্যান্ড পরেন ২০২৫ সালে চিলির বিপক্ষে ১-০ গোলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের জয়ে। এরপর ভেনেজুয়েলা ও মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও তিনি অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালন করেন।
৬ অক্টোবর মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিরুদ্ধে ম্যাচে আর্জেন্টিনার হয়ে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন মেসি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম নগরীর চন্দনপুরা এলাকার একটি সম্পত্তি ও বসতবাড়ি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তারেক ও হারুনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, জমি ও ভবন দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর, ভাঙচুর, চাঁদাবাজি, প্রতারণা এবং সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচিত হয়ে আসছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ হলো-প্রবাসে কর্মরত গণির পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে তাঁর নিজ বসতঘরে নানা ধরনের হয়রানি ও ভয়ভীতির মধ্যে রাখা হয়েছে। তাঁর ঘরের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। পরিবারটির দাবি, একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীকে প্রয়োজনীয় পানি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার ফলে তাঁর শারীরিক নিরাপত্তা ও অনাগত সন্তানের সুরক্ষা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বলছেন, বিষয়টি শুধু একটি ব্যক্তিগত জমি বা সম্পত্তি বিরোধ নয়; এর সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে ভয়ভীতি, প্রভাব বিস্তার এবং একাধিক পুরোনো অভিযোগের বিষয়ও জড়িয়ে আছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি যাচাই করা প্রয়োজন।
যৌথ মালিকানাধীন ভবন নির্মাণের চুক্তি নিয়ে বিরোধ: অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, চন্দনপুরা এলাকায় একটি যৌথ মালিকানাধীন বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে ২০১৩ সালের ৭ এপ্রিল তারেক, পিতা-মুনাফ, একটি চুক্তিপত্রের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ২০১৬ সালের ৭ এপ্রিলের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট মালিকদের ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও ভবনের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হয়নি এবং ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ভবন নির্মাণের অনুমোদন, নকশা, নির্মাণের বৈধতা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অনুমোদনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। স্থানীয়দের মতে, বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা, অগ্নিনিরাপত্তা, কাঠামোগত নিরাপত্তা এবং অন্যান্য বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়েছে কি না-তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
ওয়ারিশদের জমি দখলের অভিযোগ: অভিযোগকারীদের দাবি, আহমদ উল্লাহর অন্যান্য ওয়ারিশদের জমি থেকে সরিয়ে দিয়ে সংশ্লিষ্ট জায়গার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জমির প্রকৃত মালিকানা, ওয়ারিশানা, দলিল, খতিয়ান, নামজারি, রেজিস্ট্রি এবং দখল-সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগকারীদের আরও দাবি, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের সময় কয়েকজনকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে এবং তাঁদের আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিলকিস বেগম নামের এক নারীর পরিবারের পক্ষ থেকেও গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, তাঁর স্বামীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁদের তিন ভাইয়ের নামে ভবনসংক্রান্ত রেজিস্ট্রি লিখিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রি দলিল, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং প্রয়োজনে আদালতের নথি পরীক্ষা করা জরুরি।
পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ: এই ঘটনার সবচেয়ে মানবিক ও উদ্বেগজনক দিক হিসেবে সামনে এসেছে প্রবাসী গণির স্ত্রীকে ঘিরে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, গণি দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকায় তাঁর স্ত্রী স্থানীয়ভাবে বসতবাড়িতে অবস্থান করছেন। বর্তমানে তিনি প্রায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।অভিযোগ অনুযায়ী, সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাঁর বসতঘরের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের ভাষ্য, গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ ও পানির সংকট এবং রান্নার জন্য গ্যাসের সুবিধা না থাকায় ওই নারী চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মানসিকভাবে হয়রানি করার অভিযোগও করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের আশঙ্কা, প্রবাসী স্বামী দেশে না থাকায় তাঁরা আরও বেশি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। তাঁদের দাবি, দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ করে ওই নারী ও তাঁর অনাগত সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ: ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, কোনো বৈধ কর্তৃপক্ষের লিখিত আদেশ বা আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই তাঁদের বাসার বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদি অভিযোগটি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে এ ধরনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রক্রিয়া কীভাবে এবং কার নির্দেশে করা হয়েছে-তা তদন্তের বিষয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড যাচাই করেও প্রকৃত ঘটনা বের করা সম্ভব বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা।
সামরিক কর্মকর্তা ও আইনজীবী পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ: স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, তারেক বিভিন্ন সময় নিজেকে সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। এ ছাড়া নিজেকে হাইকোর্টের আইনজীবী পরিচয় দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করছেন, এসব পরিচয় ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। কেউ যদি আইনজীবী পরিচয় দিয়ে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সমিতি বা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে তাঁর প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। একইভাবে সামরিক পরিচয়ের দাবির সত্যতাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি উঠেছে। মামলা নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ, অভিযোগকারীদের দাবি, আইনজীবী পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন মামলা বা আইনি সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে কয়েকজনের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে।
কারও কাছ থেকে এ ধরনের অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের প্রমাণ, ব্যাংক রেকর্ড, মোবাইল আর্থিক সেবার তথ্য, রসিদ এবং সাক্ষীদের বক্তব্যের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব। তাই অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সুদের কারবার ও সম্পত্তি দখলের অভিযোগ, স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সুদের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন করে অনেককে আর্থিকভাবে চাপে ফেলা হয়েছে।অভিযোগকারীদের দাবি, কেউ ঋণের টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে তাঁর জমি বা বসতবাড়ি নিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ভুক্তভোগী, লেনদেনের নথি, দলিল এবং সাক্ষ্য যাচাই করা প্রয়োজন। মোবারককে ঘিরেও অভিযোগ, তারেক ও হারুনের সঙ্গে তাঁদের ভাই মোবারকের নামও স্থানীয় অভিযোগে উঠে এসেছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, মোবারক ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন এবং মাদক ব্যবসার মতো অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয়দের একটি অংশ দাবি করেছেন, এলাকায় প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে কয়েকজনকে ব্যবহার করা হয়। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলেই তিনি আইনগতভাবে অপরাধী হয়ে যান না। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে মামলা, তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মসজিদের দানবাক্স চুরির অভিযোগ, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ৭ মে চন্দনপুরার একটি স্থানীয় মসজিদের দানবাক্স চুরির ঘটনায় তারেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগটি সত্য কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সময়ের থানার রেকর্ড, জিডি, মামলা ও তদন্ত নথি যাচাই করা প্রয়োজন।মসজিদের দানবাক্সের মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পদ চুরির অভিযোগ গুরুতর হওয়ায় বিষয়টি পুনরায় যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সাংবাদিকের বাসায় লুটপাটের অভিযোগ, অভিযোগকারীদের দাবি, একজন ভাড়াটিয়া সাংবাদিক মারা যাওয়ার পর তাঁর পরিবারের সদস্যরা গ্রামের বাড়িতে গেলে তাঁদের অনুপস্থিতির সুযোগে বাসায় প্রবেশ করে মালামাল নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিবারটির দাবি, ওই ঘটনায় প্রায় ৭ ভরি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তাঁদের বাসা থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এই অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি, মালামালের তালিকা, সাক্ষী, জিডি বা মামলার নথি এবং তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই করা প্রয়োজন। ভাইয়ের পরিবারের সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ, তারেকের ভাই ফারুকের স্ত্রীকে ঘিরেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর জমিয়ে রাখা স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পরবর্তীতে তাঁকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে।
এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ, সাক্ষ্য, লেনদেনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট মামলার নথি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অস্ত্রের মুখে বসতবাড়িতে লুটপাটের অভিযোগ, স্থানীয় অভিযোগ অনুযায়ী, তারেকের এক চাচাতো ভাই ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে বসতবাড়িতে লুটপাট চালানো হয়েছে। অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। যেহেতু বিষয়টি বিচারাধীন বলে দাবি করা হয়েছে, তাই আদালতের নথি ও মামলার বর্তমান অবস্থান যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা প্রয়োজন। মেয়ের বিয়ের জন্য রাখা অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ, স্থানীয় হাবিব মিস্ত্রির পরিবারকে ঘিরেও একটি অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর মেয়ের বিয়ের জন্য জমিয়ে রাখা নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মোবারক ও তারেকের নাম অভিযোগে এসেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। অভিযোগটির সত্যতা নির্ধারণে ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মামলা বা জিডি এবং অন্যান্য প্রমাণ যাচাই প্রয়োজন। চাচা হত্যার অভিযোগ, সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে তারেকের আপন চাচাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ। তবে এটি একটি গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ। কোনো আদালতের রায় বা তদন্তের নির্ভরযোগ্য নথি ছাড়া এ অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা যায় না। তাই এ অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানার মামলা, এজাহার, চার্জশিট, তদন্ত প্রতিবেদন এবং আদালতের রেকর্ড যাচাই করা জরুরি।
২০২৫ সালের চকবাজার থানার মামলা: নথিতে যা রয়েছে, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের চকবাজার থানায় একটি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। মামলার তথ্য: থানা: চকবাজার, জেলা/মেট্রোপলিটন: সিএমপি, মামলা নম্বর: ৭, তারিখ: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, বার্ষিক নম্বর: ৯৮ আইন: Penal Code, 1860, ধারা: ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৪২৭/৩০৭/৩৫৪/৫০৬, ঘটনার তারিখ: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ঘটনার সময়: রাত আনুমানিক ২টা ১০ মিনিট থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত, থানা থেকে আদালতে প্রেরণের তারিখ: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫,মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, বেআইনি জনতাবদ্ধে গৃহে প্রবেশ, মারধর করে গুরুতর জখম, ভাঙচুর করে ক্ষতিসাধন, চুরি, শ্লীলতাহানি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের কথা উল্লেখ রয়েছে। এজাহার ও মামলার নথিতে থাকা অভিযোগের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার মিল রয়েছে কি না, তা তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আদালতের নথি যাচাইয়ের বিষয়।
ঘটনার সময় ও মামলার নথি নিয়ে প্রশ্ন, প্রদত্ত নথির তথ্য অনুযায়ী, ঘটনা ঘটে ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ রাতে। পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ মামলা রুজু করা হয়।তবে আপনার সরবরাহ করা তথ্যে “সংবাদ প্রাপ্তির তারিখ” অংশে ৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ লেখা রয়েছে, যা মামলার ২০২৫ সালের তারিখের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।
এ কারণে প্রকাশের আগে মূল এজাহার বা থানার নথি দেখে এই তারিখটি সংশোধন করা জরুরি। ২০২৬ সালের জিডির তথ্য,প্রাপ্ত তথ্যে জিডি নম্বর ২৭৫, তারিখ ৫ আগস্ট ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া আরও একটি জিডি-সংক্রান্ত নম্বর ও তারিখের তথ্য দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সরবরাহ করা লেখায় সেটির কিছু অংশ অস্পষ্ট। সুতরাং মূল জিডির কপি দেখে- জিডি নম্বর, ট্র্যাকিং নম্বর, তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট থানার নাম, হুবহু মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট থানার জিডি ও এজাহার। এসব নথি যাচাই ছাড়া সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা বা দখলের বৈধতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, চন্দনপুরার স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিরোধ ও অভিযোগের কারণে এলাকায় এক ধরনের ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
তাঁদের অভিযোগ, কেউ প্রকাশ্যে অভিযোগ করলে পরবর্তীতে হয়রানি বা ভয়ভীতির আশঙ্কা থাকে। তবে এই দাবিরও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যের পাশাপাশি থানার রেকর্ড, মামলা ও প্রশাসনিক নথি পর্যালোচনা করলে পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হতে পারে। প্রশাসনের প্রতি স্থানীয়দের দাবি, চন্দনপুরার বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে কয়েকটি দাবি জানানো হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত, তারেক, হারুন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। অন্তঃসত্ত্বা নারীর নিরাপত্তা
প্রবাসী গণির পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নাগরিক সুবিধা, বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ তদন্ত করে আইনসম্মত ব্যবস্থা নিতে হবে। সম্পত্তির নথি যাচাই, জমি ও ভবনের প্রকৃত মালিকানা দলিল, খতিয়ান, রেজিস্ট্রি ও ওয়ারিশানা নথির মাধ্যমে যাচাই করতে হবে। ভবনের অনুমোদন পরীক্ষা, সিডিএসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, নকশা ও নির্মাণ নিরাপত্তা পরীক্ষা করতে হবে। মামলার নথি যাচাই, ২০১৭ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলা, জিডি ও আদালতের নথি পর্যালোচনা করতে হবে। বিচারাধীন মামলায় আদালতের নির্দেশনা,l যেসব মামলা আদালতে বিচারাধীন, সেগুলোর ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশনা ও প্রচলিত আইন অনুসরণ করতে হবে। সাক্ষী ও ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা অভিযোগের তদন্ত চলাকালে ভুক্তভোগী, সাক্ষী ও অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অভিযুক্তদের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ, এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তারেক, হারুন, মোবারক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে যুক্ত করা প্রয়োজন। চন্দনপুরার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুতর। বিশেষ করে একজন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীর ওপর নির্যাতন এবং তাঁর মৌলিক নাগরিক সুবিধা বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ দ্রুত তদন্তের দাবি রাখে। অন্যদিকে, জমি ও ভবনসংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে দলিল, রেজিস্ট্রি, খতিয়ান ও আদালতের নথিই হবে প্রকৃত মালিকানা ও অধিকার নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। একইভাবে হত্যা, ডাকাতি, চুরি, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি কিংবা প্রতারণার মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে মামলা ও আদালতের নথি যাচাই ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়। তাই ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চন্দনপুরার সম্পত্তি বিরোধ, অন্তঃসত্ত্বা নারীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি বিচ্ছিন্ন করার ঘটনা এবং পূর্বের মামলাগুলোর নথি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চলবে.........
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত সংকটের একমাত্র সমাধান হচ্ছে কূটনৈতিক আলোচনা, এর বিকল্প কিছুই নেই—এমনটাই অভিমত রাশিয়া ও ইরানের শীর্ষ কূটনীতিকদের। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এবং ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এ বিষয়ে তাদের দৃঢ় মতামত প্রকাশ করেছেন।
বৈঠক শেষে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে জানায়, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বেআইনি এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের ফলেই এ অঞ্চলে তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বৈঠক শেষে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এই সংকটের সমাধানের জন্য কোনো সামরিক বা বিকল্প পথ কার্যকর হবে না; একমাত্র কূটনৈতিক আলোচনা ও শান্তি প্রক্রিয়াই এই পরিস্থিতি শান্ত করতে সক্ষম।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালীন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই বৈঠককে বিশ্লেষকরা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে মনে করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ