০৫:৪৪ পি.এম
ঢাকার প্রতিটি রুটে বাস মালিকদের নিয়ে একক কোম্পানি গঠনের মাধ্যমে গণপরিবহন পরিচালনার পরিকল্পনা করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ মন্ত্রী এ কথা বলেন।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, বাস ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ইলেকট্রিক যানবাহনকে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে অনেক দূর অগ্রগতি হয়েছে। কোন রুটে কোন কোম্পানি পরিচালনা করবে, তা নির্ধারণেও বাস মালিকরা কাজ করছেন। নির্দিষ্ট রুটে চলবে বাস, নির্ধারিত টার্মিনাল ও স্টপেজে থামবে এবং সেখান থেকেই যাত্রী ওঠানামা করবে। বর্তমানে যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামার যে অনিয়ম চলছে, তা আর চলতে দেওয়া হবে না।
আরও পড়ুন: গত ২৪ ঘণ্টায় ডিএমপির ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ১,৮১০ মামলা
ঢাকায় একই রুটে বিভিন্ন মালিকের বাস আলাদাভাবে পরিচালিত হওয়ায় অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়। এতে বাসগুলো নির্দিষ্ট টার্মিনালে না থেমে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করায় যানজট ও বিশৃঙ্খলা বাড়ে। এ ব্যবস্থা পরিবর্তন করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা দেখেছি বাস টার্মিনালগুলোতে সারাদিন বাস থাকে। ওখানে ওয়ার্কশপ হয়ে গেছে। একটি বাস আট-দশ দিন ধরে ওখানে রং করছে, ডেন্ট করছে, ইঞ্জিন ডাউন দিয়ে আবার সেটা রিসেট করছে—এ রকম চলছে। এটা ওখানে চলবে না। আমরা ডিপো করার জন্য পরিকল্পনা নিয়েছি, একটা ৩০০ ফিটে। একটা হচ্ছে কাঁচপুরে। কাঁচপুরে যেটা আমরা ডিপো করছি, সেটা টার্মিনালই হয়ে যাবে। সায়েদাবাদ টার্মিনাল আস্তে আস্তে কাঁচপুরে চলে যাবে। ফুলবাড়িয়া টার্মিনালটা চলে যাবে কেরানীগঞ্জে, জেলখানার ঠিক অপজিটে। গাবতলীরটা চলে যাবে হেমায়েতপুরে।
মন্ত্রী আরও বলেন, এ রকমভাবে টার্মিনাল শিফট হবে, কিন্তু এখনই হচ্ছে না। এখন ডিপো হিসেবে ওখানে ব্যবহার হবে। আর এখান থেকে গাড়ি ছাড়বে, কিন্তু গাড়িগুলো (টার্মিনালে) আসবে আবার কখন? গাড়ি ছাড়ার যে সময় আছে, তার আগে আসবে। আসবে এবং গাড়ি এখান থেকে ছেড়ে যাবে।
তিনি বলেন, গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া বাসের ওই ডিপো হিসেবে ব্যবহার হবে না, টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার হবে। আলাদা ডিপো করে আমরা ওখানে পর্যায়ক্রমে দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে বাস টার্মিনালগুলো সরিয়ে নেব। গাবতলীরটা হেমায়েতপুর, মহাখালীরটা উত্তরা, আব্দুল্লাহপুরের কাছাকাছি ওখানে ৫০ বিঘা জায়গা অ্যাকোয়ার করতে চলেছি আমরা এরই মধ্যে। তার আগ পর্যন্ত ডিপোটা হবে ৩০০ ফিটে। কাঁচপুরে চলে যাবে সায়েদাবাদ টার্মিনাল। ফুলবাড়িয়ারটা চলে যাবে কেরানীগঞ্জে। অর্থাৎ এভাবে শিফট হচ্ছে ওটাকে বিবেচনায় নিয়ে।
আরও পড়ুন: ১৭ কোটি টাকার বিল অনুমোদন, টেন্ডার ব্যবস্থাপনা ও সম্পদের উৎস নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে মাহবুবুল হক চৌধুরীর
টেম্পোরারি টার্মিনাল গুলোর ব্যাপারে শেখ রবিউল আলম বলেন, আর এটা আমরা এনশিওর করতে চাচ্ছি যে, কলাবাগান, কল্যাণপুর—যে সমস্ত জায়গায় কাউন্টার, এসি কাউন্টারকে বা অনেকগুলো বেসরকারি বাসের কাউন্টারকে কেন্দ্র করে টেম্পোরারি টার্মিনালের মতো হয়েছে, রাস্তার পাশে বাস দাঁড়িয়ে থাকে, তারা কাউন্টারগুলো পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেবে। আর অবশ্যই কাউন্টারের সামনে বাস এনে যাত্রী উঠাতে পারবে না— আমরা মোটামুটি এই পদক্ষেপ নিয়েছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন