সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:১৮ পি.এম
বিশ্বের অধিকাংশ বিলিয়নিয়ারের কাছে সুপারইয়টের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো বিশাল মাস্টার স্যুট। তবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদের ৪৩৯ ফুট দীর্ঘ বিলাসবহুল ইয়ট ‘সেরিন’-এ সবচেয়ে চমকপ্রদ শয়নকক্ষটি মূল স্যুটের তিন ডেক নিচে অবস্থিত। এই কক্ষটির নাম ‘সি কেবিন’ এবং এটি আকার বা চাকচিক্য দিয়ে নজর কাড়ার জন্য তৈরি হয়নি। বরং ইয়ট সমুদ্রে চলার সময় যাত্রী যাতে আরামে ঘুমাতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই বিশেষভাবে নকশা করা হয়েছে।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সমুদ্রযাত্রায় অসুস্থতাবোধ করেন বলে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই কারণেই ‘সেরিন’-এর এই বিশেষ কেবিনটি আলোচনায় এসেছে। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়া হোক কিংবা দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা, ইয়টের অনেক ওপরে থাকা বিশাল মালিকের স্যুটের তুলনায় এই বালিনিজ ধাঁচের কক্ষটি অপেক্ষাকৃত শান্ত ও স্থির জায়গা হিসেবে কাজ করে। এখানে নকশার মূল লক্ষ্য ছিল চারপাশের দৃশ্য দেখানো নয়, বরং উত্তাল সমুদ্রে ইয়টের দুলুনি যতটা সম্ভব কম অনুভব করা।
১৩৪ মিটার দীর্ঘ ‘সেরিন’-এর দ্বিতীয় ডেকের মাঝামাঝি, ডান পাশে এই ‘সি কেবিন’ অবস্থিত। ইয়টের এই অবস্থানটিকে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
নৌযানের নকশাবিদ্যার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ঢেউয়ের বিপরীতে চলার সময় ইয়টের সামনের অংশ সবচেয়ে বেশি ওঠানামা করে। অন্যদিকে পেছনের অংশে ইয়টের দুলুনি, কম্পন এবং প্রপেলারের কারণে তৈরি নড়াচড়া বেশি অনুভূত হয়। একই সঙ্গে ওপরের ডেকগুলো ইয়ট দুললে তুলনামূলকভাবে বড় পরিসরে ওঠানামা করে।
এর বিপরীতে ইয়টের নিচের দিকে এবং মাঝামাঝি অংশে থাকা কেবিনটি নৌযানের দোলা ও ওঠানামার স্বাভাবিক কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকে। ফলে সেখানে নড়াচড়া তুলনামূলকভাবে কম অনুভব হয়। ‘সেরিন’-এ অত্যাধুনিক স্ট্যাবিলাইজার বা দুলুনি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রয়েছে, যা ইয়টের পাশ থেকে পাশের দোলা অনেকটাই কমিয়ে দেয়। তবে দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় কোনো স্ট্যাবিলাইজারই সব ধরনের নড়াচড়া পুরোপুরি বন্ধ করতে পারে না। সমুদ্রযাত্রায় অসুস্থতাবোধ করেন এমন কারও জন্য নিচের দিকে ও মাঝামাঝি অবস্থানে ঘুমানো তাই বেশ কার্যকর হতে পারে।
বালিনিজ আবহে শান্ত শয়নকক্ষ
কেবিনটির নকশায় রয়েছে পরিমিত বিলাসিতা। পেছনের দিকে মুখ করা একটি ডাবল বেড ঘরের মূল আকর্ষণ। এর ওপরের ছাদটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে ঐতিহ্যবাহী বালিনিজ খড়ের ছাদের নিচের অংশের মতো দেখায়।
মাটির কাছাকাছি রঙের উপকরণ ও আধুনিক বালিনিজ ধাঁচের সাজসজ্জা পুরো কক্ষটিকে শান্ত একটি সৈকত অবকাশকেন্দ্রের আবহ দিয়েছে। মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি হেডবোর্ড ঘুমানোর জায়গাকে খোলা ধরনের বাথরুম থেকে আলাদা করেছে।
কেবিনটির অন্যতম আকর্ষণ হলো বড় একটি শেল দরজা। এটি ভাঁজ করে নামিয়ে দিলে একটি ব্যক্তিগত জলপারের বারান্দায় পরিণত হয়। ইয়ট যখন শান্ত সমুদ্রে নোঙর করা থাকে, তখন ঘুম থেকে উঠে প্রায় সমুদ্রপৃষ্ঠের সমান উচ্চতায় দাঁড়ানোর সুযোগ পাওয়া যায়। তবে ইয়ট চলার সময় বারান্দাটি বন্ধ রাখা হয়। অর্থাৎ এটি মূলত সমুদ্রে চলার সময় আরামে ঘুমানোর জন্য তৈরি একটি ব্যবহারিক শয়নকক্ষ, নিছক বিলাসী অবকাশযাপনের জায়গা নয়।
ইয়টটির ডিজাইনার পাসকেল রেমন্ড একসময় কক্ষটিকে ইয়টের অন্যতম আকর্ষণীয় ধারণা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তার মতে, এর নকশায় মাটির সঙ্গে এক ধরনের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।
কক্ষটির অবস্থানও বেশ সুবিধাজনক। এর ঠিক পাশেই রয়েছে অতিথিদের রান্নাঘর। ফলে রাতে হালকা কিছু খেতে চাইলে আলাদা করে কর্মীদের ডাকতে হয় না কিংবা কয়েক ডেক ওপরে-নিচে যেতে হয় না।
কেবিনের পেছনেই অল্প দূরত্বে রয়েছে স্পা ও বিচ ক্লাব। আর একটি ব্যক্তিগত লিফটের মাধ্যমে কক্ষটি সরাসরি পঞ্চম ডেকে থাকা মূল মালিকের স্যুটের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা যায়।
অর্থাৎ মোহাম্মদ বিন সালমানের জন্য এখানে কার্যত দুটি মাস্টার বেডরুমের ব্যবস্থা রয়েছে। নোঙর করা অবস্থায় আরাম ও চারপাশের দৃশ্য উপভোগের জন্য রয়েছে বিশাল ও খোলামেলা মূল স্যুট। আর ইয়ট সমুদ্রে চলার সময় শান্তিতে ঘুমানোর জন্য রয়েছে নিচের এই নিরিবিলি ‘সি কেবিন’।
ধারণাটি নতুন নয়, তবে ‘সেরিন’ ব্যতিক্রম।
ইয়টের নিচের দিকে মাঝামাঝি অংশে এ ধরনের ‘সি কেবিন’ রাখার ধারণা একেবারে নতুন নয়। বড় আকারের কয়েকটি ইয়টেই নড়াচড়া কম অনুভব করার জন্য হালের মাঝামাঝি নিচের ডেকগুলোতে এ ধরনের কেবিন রাখা হয়েছে।
তবে ‘সেরিন’-কে আলাদা করেছে এর বিস্তৃত বালিনিজ সাজসজ্জা, সরাসরি সমুদ্রের সঙ্গে কক্ষটির সংযোগ এবং মালিকের ব্যক্তিগত স্যুটের সঙ্গে এর সরাসরি যোগাযোগ।
ভাসমান প্রাসাদ যেন ‘সেরিন’
ইতালির ফিনকান্তিয়েরি নির্মিত ‘সেরিন’ ২০১১ সালে পানিতে নামানো হয়। এটি ইতালিতে নির্মিত সবচেয়ে বড় ইয়টগুলোর একটি। ইয়টটির দৈর্ঘ্য ৪৩৯ ফুট বা ১৩৪ মিটার এবং প্রস্থ ৬০ দশমিক ৭ ফুট বা ১৮ দশমিক ৫ মিটার।
এস্পেন ওইনোর নকশা করা বাইরের অংশে রয়েছে সাতটি বিশাল ডেক। আর রেমন্ড ল্যাংটন ডিজাইন এর ভেতরের অংশ তৈরি করেছে। বিশাল পরিসরের পাশাপাশি ইয়টের ভেতরে তুলনামূলক ছোট ও ব্যক্তিগত আবাসনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
আটটি এমটিইউ ৪০০০ সিরিজের ইঞ্জিনে চলে ‘সেরিন’। ইয়টটির স্বাভাবিক চলার গতি প্রায় ১৫ নট এবং সর্বোচ্চ গতি ২০ নট। এতে সর্বোচ্চ ২৪ জন অতিথির থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের জন্য রয়েছে ১২টি কেবিন। আর তাদের সেবা দিতে কাজ করেন ৫২ জন কর্মী। এসব তথ্য চার্টার ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হেলিপ্যাড থেকে সাবমেরিন হ্যাঙ্গার
‘সেরিন’-এর সুযোগ-সুবিধার তালিকাও বেশ দীর্ঘ। ইয়টে রয়েছে দুটি হেলিকপ্টার অবতরণ ও ওঠানামার জায়গা। এর একটি প্রয়োজন অনুযায়ী সুইমিংপুল কিংবা নাচের মঞ্চে রূপান্তর করা যায়।
এতে রয়েছে সাবমেরিন রাখার হ্যাঙ্গার। রয়েছে ‘টোয়েন্টি থাউজ্যান্ড লিগস আন্ডার দ্য সি’ উপন্যাস থেকে অনুপ্রাণিত পানির নিচের ‘নিমো রুম’ও।
এ ছাড়া ইয়টে রয়েছে গম্বুজ আকৃতির ফায়ারপ্লেসসহ একটি পর্যবেক্ষণ লাউঞ্জ, সম্মেলনকক্ষ, পিয়ানো লাউঞ্জ, খোলা আকাশের নিচে সিনেমা দেখার ব্যবস্থা, বিচ ক্লাব, বিউটি সেন্টার, হাম্মাম, সনা, স্টিম রুম এবং একাধিক স্পা পুল।
সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যবস্থাগুলোর একটি হলো ইয়টের বিখ্যাত ‘স্নো রুম’।
ইয়টের ভেতরেই তুষারপাত!
‘সেরিন’-এর স্নো রুমের তাপমাত্রা প্রায় ১২ ডিগ্রি ফারেনহাইটে বা প্রায় মাইনাস ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে আনা যায়। সেখানে ছাদ থেকে সত্যিকারের তুষার পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
অতিথিরা চাইলে এই বরফশীতল কক্ষ থেকে সরাসরি সনা, হাম্মাম কিংবা উষ্ণ স্পা পুলে যেতে পারেন। মধ্যপ্রাচ্যের মতো উষ্ণ অঞ্চলে চলাচলকারী একটি ইয়টের জন্য গরম থেকে বাঁচার এটি নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা।
সব মিলিয়ে ‘সেরিন’-এর বিলাসিতা চোখ ধাঁধানো। তবে ইয়টটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক সম্ভবত এর গোপন ‘সি কেবিন’। মালিকের বিশাল ও জাঁকজমকপূর্ণ মূল স্যুটের নিচে থাকা তুলনামূলক ছোট এই বালিনিজ ধাঁচের কক্ষটি দেখিয়ে দেয়, বিলাসিতার অর্থ সবসময় আড়ম্বর নয়।
তথ্যসূত্র: লাক্সারিলঞ্চেস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তিনি পড়তে বা লিখতে জানেন না। তবে ছোটবেলা থেকেই রেডিওতে কোরআন তিলাওয়াত শুনে পবিত্র কোরআনের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা গড়ে উঠেছিল। সেই ভালোবাসার সূত্র ধরেই তিনি কোরআন মুখস্থ করার চেষ্টা শুরু করেন। জীবনের নানা দায়িত্ব ও প্রতিকূলতায় তার এই যাত্রা বারবার থেমে গেছে। তবুও তিনি হাল ছাড়েননি। অবশেষে ৭১ বছর বয়সে পুরো কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেছেন মিশরের সানা আবদেল সাত্তার।
মিশরের মনুফিয়া প্রদেশের শোহাদা এলাকার মিত শাহালা গ্রামের বাসিন্দা সানা বর্তমানে নিয়মিত মুখস্থ কোরআন পুনরাবৃত্তি করছেন। মিসরীয় সংবাদমাধ্যম মাসরাওয়ির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতিদিন তিনি প্রায় পাঁচ পারা কোরআন পুনরাবৃত্তি করেন।
সানা পড়তে বা লিখতে না জানায়, অন্যদের মতো কোরআন দেখে দেখে হিফজ করেননি। বরং তিনি শুনে শুনে, মনে রেখে এবং বারবার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে পুরো কোরআন মুখস্থ করেছেন। ছোটবেলা থেকেই রেডিওতে কোরআন তিলাওয়াত শোনা ছিল তার কোরআনের সঙ্গে পরিচয়ের অন্যতম মাধ্যম।
জীবনের বিশের কোঠার শুরুতেই সানা কোরআন হিফজ শুরু করেন। কিন্তু বিয়ের পর সংসারের দায়িত্ব, তিন সন্তানের লালন-পালনসহ নানা ব্যস্ততায় তার হিফজের পথ কঠিন হয়ে ওঠে।
এরপর অসুস্থ হয়ে পড়েন তার স্বামী। প্রায় ছয় মাস তিনি স্বামীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। এই সময় কোরআন হিফজের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে স্বামীর মৃত্যুর পরও বিভিন্ন কারণে কিছু সময়ের জন্য থেমে থাকে তার হিফজের যাত্রা।
তবে কোরআন হিফজের ইচ্ছা থেকে কখনো সরে যাননি সানা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তিনি আবারও মুখস্থ করার কাজ শুরু করেন। একই সঙ্গে তিনি এমন নারীদের সঙ্গে নিয়মিত বসতে শুরু করেন, যাদের সঙ্গে কোরআন মুখস্থ করা এবং একে অপরকে শুনিয়ে তা পুনরাবৃত্তি করা যায়।
বর্তমানে ২০ জনের বেশি নারীর সঙ্গে নিয়মিত কোরআনের মজলিসে অংশ নেন তিনি। বিভিন্ন বয়সী এসব নারী পরস্পরকে কোরআন শুনিয়ে মুখস্থ করা অংশগুলো পুনরাবৃত্তি করেন। সানার এক প্রতিবেশী ও বান্ধবীও পড়তে-লিখতে জানেন না। তিনিও পুরো কোরআন হিফজ করেছেন।
সানার হিফজ জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা হলো এক বৈঠকে পুরো কোরআন মুখস্থ থেকে তিলাওয়াত করে শোনানো। ফজরের নামাজের পর তিনি তিলাওয়াত শুরু করেন এবং মাগরিবের সময় পর্যন্ত তা অব্যাহত রাখেন। এভাবে প্রায় ১৪ ঘণ্টায় পুরো কোরআন মুখস্থ থেকে শুনিয়েছেন তিনি।
৭১ বছর বয়সে এসেও কোরআনের সঙ্গে তার সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। বয়সের ভারকে উপেক্ষা করে প্রতিদিন নিয়মিত হিফজ করা কোরআন পুনরাবৃত্তি করেন সানা। তার ভাষায়, বর্তমানে কোরআন পুনরাবৃত্তি তার প্রতিদিনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
সানার এই কোরআন হিফজের গল্প প্রমাণ করে, বয়স কিংবা জীবনের প্রতিকূলতা—কোনোটিই দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির পথে চূড়ান্ত বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নতুন সিনেমা ‘দাইরা’, যা কারিনা কাপুর খান ও পৃথ্বীরাজ সুকুমারন অভিনীত, মুক্তির পর বক্স অফিসে যাত্রা শুরু করেছে। মেঘনা গুলজার পরিচালিত এই অপরাধভিত্তিক সিনেমাটি ভারতের প্রেক্ষাগৃহে গত ১৮ সেপ্টেম্বর মুক্তি পায়।
মুক্তির প্রথম দিনে, শুক্রবার, সিনেমাটির আয় ছিল প্রায় ১ কোটি রুপি। পরবর্তী দিন শনিবার, দর্শক উপস্থিতির কিছুটা বৃদ্ধি ঘটায় এবং আয়ও বেড়ে যায়। এদিন ছবিটি আয় করে প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ রুপি। রোববার রাত ১০টা পর্যন্ত একই পরিমাণ আয় হয়েছে বলে জানা গেছে।
মোট মিলিয়ে, মুক্তির প্রথম তিন দিনে ভারতে ‘দাইরা’র নিট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ রুপি। আর গ্রস আয় হয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ রুপি।
সিনেমাটির গল্পটি একটি ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। ঘটনার পর অভিযুক্তদের পুলিশ এনকাউন্টারে নিহত হওয়ার বিষয়টি নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। পুলিশের দাবি ছিল, হেফাজত থেকে পালানোর সময় অভিযুক্তদের গুলি করা হয়। তবে এনকাউন্টারের ঘটনা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে এর প্রকৃত সত্য অনুসন্ধানে নামে বিশেষ তদন্তকারী দল।
ছবিতে তদন্তকারী কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করেছেন কারিনা কাপুর খান। অন্যদিকে, পৃথ্বীরাজ সুকুমারনকে দেখা গেছে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভূমিকায়। তদন্তের মাধ্যমে এনকাউন্টারের পেছনের আসল ঘটনা কীভাবে সামনে আসে, সেটিই সিনেমার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে পুষ্টিবিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে কিশোরগঞ্জে শুরু হয়েছে ‘সুস্বাস্থ্যের জন্য ফলিত পুষ্টি’ বিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ। এ প্রশিক্ষণে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা, খাদ্যাভ্যাস এবং পুষ্টির সঙ্গে সুস্বাস্থ্যের সম্পর্কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এ প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়নুল আলম তালুকদার। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।
বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান), কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ এবং কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (এসএএও), শিক্ষক-শিক্ষিকা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা, তথ্য আপা, সাংবাদিক, ইমাম-পুরোহিত এবং এনজিওকর্মীসহ ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থী। বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিদের এ প্রশিক্ষণে যুক্ত করার উদ্দেশ্য হল নিজ নিজ কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক পরিসরে পুষ্টিবিষয়ক সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়নুল আলম তালুকদার বলেন, "সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত শাকসবজি ও পুষ্টিকর খাবার রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি বলেন, "শুধু একটি নির্দিষ্ট ধরনের সবজির ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন রঙ ও বৈচিত্র্যের শাকসবজি খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "বর্তমানে বাজারে প্রচলিত সাদা ফুলকপির পাশাপাশি সবুজ, হলুদ, কমলা ও বেগুনি রঙের ফুলকপিও পাওয়া যাচ্ছে। এসব সবজিতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান, যা শরীরের জন্য উপকারী।"
জয়নুল আলম তালুকদার আরো বলেন, "কমলা ও হলুদ রঙের ফুলকপিতে বিটা-ক্যারোটিনসহ বিভিন্ন ক্যারোটিনয়েড রয়েছে, যা শরীরে ভিটামিন ‘এ’-তে রূপান্তরিত হয়। অন্যদিকে বেগুনি ফুলকপির স্বতন্ত্র রঙের জন্য দায়ী অ্যান্থোসায়ানিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তাই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ও পুষ্টিকর খাবার রাখার মাধ্যমে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা পূরণে গুরুত্ব দিতে হবে।"
প্রশিক্ষণে উপস্থিত ছিলেন বারটানের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম, সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সোহাগ মিয়া এবং কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি আশরাফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রশিক্ষণের বিভিন্ন সেশনে প্রশিক্ষকরা সুষম খাদ্যের ধারণা, পুষ্টিকর খাবারের প্রয়োজনীয়তা, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস, দৈনন্দিন জীবনে পুষ্টির গুরুত্ব এবং বয়স ও শারীরিক প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাশাপাশি পরিবারে শিশু, কিশোর-কিশোরী, গর্ভবতী নারী ও বয়স্কদের পুষ্টির চাহিদা পূরণে সচেতনতার গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা করা হয়।
এ ছাড়া নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ, স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উপাদানের ব্যবহার এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে বিভিন্ন পুষ্টিঘাটতি মোকাবিলার বিষয়েও প্রশিক্ষণার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়। পরিবার ও সমাজে পুষ্টিবিষয়ক সচেতনতা তৈরিতে শিক্ষক, কৃষি কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, ধর্মীয় নেতা এবং এনজিওকর্মীদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করা হয়।
আয়োজকরা জানান, পুষ্টি সম্পর্কে সঠিক ধারণার অভাব অনেক সময় মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই মাঠপর্যায়ে কাজ করা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পুষ্টিবিষয়ক জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়াই এ প্রশিক্ষণের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
তাদের আশা, প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগানোর পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের মানুষের মধ্যে সুষম খাদ্য, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং পুষ্টির গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার জনপ্রিয় সিনেমা ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ নব্বইয়ের দশকে দর্শকদের মনে এক গভীর ছাপ ফেলেছিল। ১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া সেই সিনেমার ২৮ বছর পর নতুন প্রজন্মের জন্য আধুনিক আঙ্গিকে ফিরছে একই গল্প। নতুন সিনেমাটির নাম রাখা হয়েছে ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’।
বর্তমান সময়ের উপযোগী করে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন তরুণ নির্মাতা কামরুজ্জামান, মূল গল্পের কাঠামো ঠিক রেখেই। আগের সিনেমায় ফেরদৌস আহমেদ ও প্রিয়াঙ্কা ত্রিবেদীর অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করেছিল। এবার সেই দুই কেন্দ্রীয় চরিত্রে নবীন অভিনয়শিল্পী আরিয়ান ও রাদিফাকে দেখা যাবে।
‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’ সিনেমাটি প্রযোজনা করছে আশীর্বাদ চলচ্চিত্র ও ইমপ্রেস টেলিফিল্ম। প্রধান দুই চরিত্রের পাশাপাশি সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন আজাদ আবুল কালাম, ফারজানা ছবি, ক্রিস্টিয়ানো তন্ময়, কায়েস আরজু, মৌ খান ও ঝুনা চৌধুরীসহ আরও অনেকে।
সিনেমাটির জনপ্রিয়তার পেছনে গানগুলোরও একটি বড় ভূমিকা ছিল। নচিকেতা চক্রবর্তীর সুরে তৈরি সেই সময়ের জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে ‘ছোট ছোট স্বপ্নের নীল মেঘ’, ‘একদিন স্বপ্নের দিন’ ও ‘সোনালি প্রান্তরে’ এখনও শ্রোতাদের কাছে পরিচিত। পুরোনো আবহ ধরে রাখতে ছয়টি জনপ্রিয় গানের মধ্যে তিনটি নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের পছন্দের কথা মাথায় রেখে যুক্ত হয়েছে দুটি নতুন গান।
নতুন সিনেমা ও অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে নির্মাতা আশাবাদী। আগামী ২ অক্টোবর দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’র।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ