ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন ৯৮ কোটি ডলার বিনিয়োগ


নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন ৯৮ কোটি ডলার বিনিয়োগ

বাংলাদেশের ২০৩০ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বর্তমান সক্ষমতার সাথে একটি বিশাল ঘাটতি বিদ্যমান। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য প্রতিবছর প্রায় ৯৩৩ থেকে ৯৮০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর আধুনিকীকরণ, ব্যাটারি স্টোরেজ, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি তথ্যভাণ্ডার, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতির নিশ্চয়তা অপরিহার্য।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টায় ড্যাক্কা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিকস (দাইরা) কর্তৃক আয়োজিত ‘বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তর : ২০৩০ সালের ঘাটতি পূরণ ও সামনের অর্থনৈতিক সুযোগ’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব বিষয় তুলে ধরেন।

ওয়েবিনারের শুরুতে দাইরার গবেষক সুবর্ণা আক্তার লাবনী একটি নীতিবিষয়ক গবেষণার তথ্য উপস্থাপন করেন। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশের গ্রিড বিদ্যুতের প্রায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপন্ন হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ২০ শতাংশে উন্নীত করা। তবে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত দেশে মাত্র প্রায় ৩৫৮ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা নির্মাণাধীন রয়েছে। লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রতিবছর প্রায় ৭৬০ মেগাওয়াট নতুন সক্ষমতা যুক্ত করতে হবে।

আরও পড়ুন: শুধু ৯ দেশ-ই নয়, বিশ্ব এক হলেও হারবে? কারণ- ইয়েমেনের জন্য নবী (সা.) দোয়া করেছিলেন!

গবেষণায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় প্রতি ইউনিট প্রায় ৯ টাকা ৫০ পয়সা, যেখানে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় প্রায় ২৫ টাকা। ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণের মাধ্যমে জ্বালানি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

গবেষণায় আরো বলা হয়, ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রতিবছর আনুমানিক ৯৩৩ থেকে ৯৮০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ কর্মসংস্থান তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতি মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায় ২৬ দশমিক ৬টি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, যেখানে ইউটিলিটি-স্কেলের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রতি মেগাওয়াটে কর্মসংস্থান হয় প্রায় ২ দশমিক ১টি।

বিদ্যুৎ গ্রিড ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অর্থায়নের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতাও গবেষণায় তুলে ধরা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ৫১৫ মিলিয়ন ডলারের বিশ্বব্যাংকের একটি গ্রিড কর্মসূচি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ‘মাঝারি মাত্রায় অসন্তোষজনক’ হিসেবে মূল্যায়িত হয়। কর্মসূচিটির আওতায় ০ দশমিক ১৫ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য থাকলেও বাস্তবে সক্ষমতা তৈরি হয়েছে প্রায় ০ দশমিক ০৪ গিগাওয়াট।

গবেষণায় বলা হয়, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট সম্মিলিত সক্ষমতার ৩১টি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাতিল করা হয়। পরে ২০২৬ সালের এপ্রিলে প্রকল্পগুলো পুনরায় পর্যালোচনার জন্য খোলা হয়। এছাড়াও ২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে শুল্ক সুবিধা এবং ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের জন্য প্রণোদনা চালুর বিষয়ও আলোচনায় আসে।

আরও পড়ুন: জাপান বাংলাদেশে সাড়ে ৭৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা

আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের রেসিডেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জন ফ্লুহার্টি জ্বালানি রূপান্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন পক্ষকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা এবং সরকারি অর্থের ব্যবহারে স্পষ্ট নজরদারি নিশ্চিত করতে সক্ষম প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি মানেই আমলাতন্ত্র—এ ধারণাটি দেখার একটি ভুল পদ্ধতি।’ তার মতে, তথ্য প্রকাশ এবং অভিন্ন প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আস্থা বাড়ানো এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরো কার্যকর করা সম্ভব।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার কারিগরি সক্ষমতা নিয়ে র‍্যানকন ইনফ্রাস্ট্রাকচার্সের সিওও (COO) এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের অ্যাডজাঙ্ক্ট ফ্যাকাল্টি মোহাম্মদ সুবাইল বিন আলম বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত নই।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান গ্রিড মূলত সীমিতসংখ্যক বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং একমুখী বিদ্যুৎ প্রবাহকে বিবেচনায় নিয়ে তৈরি। কিন্তু ছাদভিত্তিক ও বিকেন্দ্রীভূত সৌরবিদ্যুতের বিস্তার ঘটাতে হলে দ্বিমুখী বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক, উন্নত ট্রান্সফরমার, SCADA-এর মতো আধুনিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং বেশি মাত্রায় ব্যাটারি স্টোরেজ প্রয়োজন হবে।

তিনি বলেন, ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ যুক্ত করতে হলে সঞ্চালন, উৎপাদন ও পর্যবেক্ষণ অবকাঠামোর পরিকল্পনা একসঙ্গে করতে হবে। পাকিস্তানের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত স্টোরেজ ও গ্রিড পরিকল্পনা ছাড়া দ্রুত সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ বিদ্যুৎব্যবস্থার ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন: রিয়াদ বিমানবন্দরে লাগেজ হারানো যাত্রীদের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি বার্তা

এ জন্য অন্তত পাঁচ বছরের নীতিগত নিশ্চয়তা, টেকসই ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, SREDA ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং সহজ শর্তের অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

দ্য ডেইলি জাতীয় অর্থনীতির সম্পাদক মো. ইসমাইল আলী জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি একটি কেন্দ্রীয় ও সবার জন্য উন্মুক্ত ডিজিটাল জ্বালানি তথ্যভাণ্ডার প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন। তার মতে, নিয়মিত হালনাগাদ এই তথ্যভাণ্ডারে নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা, স্থাপিত সক্ষমতা এবং প্রকৃত বিদ্যুৎ উৎপাদনের তথ্য তুলনা করার সুযোগ থাকা উচিত।

তিনি বলেন, অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের নীতির স্থায়িত্ব প্রয়োজন। স্বল্পমেয়াদি নীতি ও প্রণোদনা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের অর্থায়ন কার্যকরভাবে করা কঠিন।

ওয়েবিনারের সঞ্চালক দাইরার সিনিয়র রিসার্চ ফেলো এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির অধ্যাপক ড. সাকিব বিন আমিন বাংলাদেশের বিদ্যুৎব্যবস্থার সামগ্রিক দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সঞ্চালন ও বিতরণে ক্ষতির হার প্রায় ১০ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিকভাবে তা প্রায় ২ থেকে ৩ শতাংশ। ফলে বিদ্যুৎব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোর বড় সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: সরাইল থানায় গিয়ে ওসির ওপর চটলেন এমপি রুমিন ফারহানা

তিনি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (PPP), বিশেষ করে বিল্ড-অপারেট-ট্রান্সফার (BOT) মডেল ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি জাতীয় জ্বালানি তথ্যকেন্দ্র ও পরিবেশগত মান পরিষদ গঠন, বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ভর্তুকি প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ এবং আমদানি করা জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে জ্বালানি দক্ষতা ও চাহিদা ব্যবস্থাপনা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে পূর্বানুমানযোগ্য নীতিপরিবেশ জরুরি। প্রণোদনায় ঘন ঘন পরিবর্তন, প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের অস্পষ্টতা, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং সহজলভ্য অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রাকে বাস্তব প্রকল্পে রূপ দেওয়ার পথে বাধা তৈরি করতে পারে।

সমাপনী বক্তব্যে ড. সাকিব বিন আমিন বলেন, বাংলাদেশের সামনে এখন শুধু লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের চ্যালেঞ্জ নয়, বরং তা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, ‘নীতিকে প্রকল্পের সঙ্গে, প্রকল্পকে অর্থায়নের সঙ্গে, অর্থায়নকে অবকাঠামোর সঙ্গে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনকে এমন একটি গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে, যে গ্রিড নির্ভরযোগ্যভাবে সেই বিদ্যুৎ গ্রহণ ও সরবরাহ করতে সক্ষম।’

ওয়েবিনারে একাডেমিয়া, বেসরকারি খাত, গণমাধ্যম, গবেষণা ও নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। দাইরার টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক নীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের উদীয়মান নীতিগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ ওয়েবিনারের আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুন: সরকার নাগরিকদের জীবন রক্ষায় উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ: সিপিবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা: জিন্নাহসহ ১৪ জন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২৩ পি.এম


মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা: জিন্নাহসহ ১৪ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় শাহ আলী থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার রফিকুল ইসলাম জিন্নাহকে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহানের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে এই আদেশ প্রদান করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক লুৎফর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল রাত ৩টার দিকে আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিং এলাকা থেকে জিন্নাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ তাকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহআলী থানার এসআই মো. আতোয়ার রহমান কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

অন্যদিকে, জিন্নাহর আইনজীবী ফয়সাল হোসেন জামিনের জন্য শুনানি করেন। তবে আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটে শাহআলী থানাধীন এলাকায় অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলাকারীরা হ্যামার, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে। তারা প্রতিষ্ঠানের দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে দায়িত্ব পালনরত দুই নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার (৪৩) ও মো. আব্দুল হাইকে (৬৩) মারধর করে বেঁধে রাখে। হামলাকারীরা পরে হ্যামার দিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক ভেঙে একটি ভেকু নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে।

এরপর প্রতিষ্ঠানের পূর্ব পাশের প্রায় ২৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৫ ফুট প্রস্থের একটি সেমিপাকা ঘর ভেকু দিয়ে ভেঙে ফেলে। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত আরেকটি সেমিপাকা ঘর ও এর আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়, যার ফলে প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্লিনিক ইনচার্জ, চিকিৎসক এবং ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের ব্যবহৃত প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ ও ১৭ ফুট প্রস্থের সেমিপাকা ঘর এবং সেখানে থাকা আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুরের কারণে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এছাড়া, প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ ও ৪০ ফুট প্রস্থের রেজিস্ট্রেশন শাখায় ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়। হামলাকারীরা আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের পাকা ভবনের দরজা-জানালা ভাঙচুর করে, যা প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি করেছে।

হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন ওষুধ ও সামগ্রী, দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি ও তিনটি স্টিলের আলমারি নিয়ে যায়, যার আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ৫টি ঘর, দরজা-জানালা ভাঙচুর এবং মালামাল লুটে মোট প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় নৈশপ্রহরীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয় এবং সেখানে একটি দোকানদার সমবায় সমিতির ব্যানার ও সাইনবোর্ড লাগিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার শাহআলী থানায় দায়ের করা এজাহারে মো. হানিফ মিয়াসহ অজ্ঞাত ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পরিত্যক্ত পুকুরে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২৪ পি.এম


কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পরিত্যক্ত পুকুরে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

কিশোরগঞ্জ, ৩ অক্টোবর ২০২৬ : জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলায় আজ বাড়ির পাশে পুকুরের পানিতে ডুবে নুসাইবা (২) ও আদিবা (৩) নামের দুই শিশুর মৃত্যু ঘটে।

আজ শনিবার সকালে পাকুন্দিয়া পৌরসভাধীন আনোয়ারখালী এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।

শিশু নুসাইবা, পাকুন্দিয়া উপজেলার আনোয়ারখালী গ্রামের সিদ্দিক হোসেনের কন্যা। অপরদিকে, সিদ্দিক হোসেনের বোন মরিয়মের কন্যা আদিবা। দুই শিশু মামাতো-ফুফাতো বোন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে নুসাইবা ও আদিবা বাড়ির পাশে খেলছিল। একসময় পরিবারের সদস্যদের অগোচরে তারা একটি পরিত্যক্ত পুকুরে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর পরিবারের লোকজন বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাদের উদ্ধার করে। পরে গুরুতর অবস্থায় শিশু নুসাইবা ও আদিবাকে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।

পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তাওহীদ পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাসপাতালে আনার আগেই দুই শিশুর মৃত্যু ঘটেছিল।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুই শিশুর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লার তিতাসে বাবাকে হত্যার অভিযোগে ছেলে আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২৪ পি.এম


কুমিল্লার তিতাসে বাবাকে হত্যার অভিযোগে ছেলে আটক

কুমিল্লার তিতাসে বাবাকে হত্যার অভিযোগে তার ছেলেকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, টাকা চাওয়ার কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। স্থানীয়রা অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার কড়িকান্দি ইউনিয়নের ইউসুফপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

মৃত ব্যক্তির নাম নুরুল ইসলাম শান্তি, যিনি ৬৫ বছর বয়সী এবং ইউসুফপুর গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত মমিতুল ইসলাম রাজন, তার বয়স ২৮ বছর এবং তিনি নুরুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে নুরুল ইসলাম শান্তি ও তার ছোট ছেলে মমিতুল ইসলাম রাজনের মধ্যে টাকা চাওয়ার কারণে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি ঘটে। এই হাতাহাতির সময় নুরুল ইসলাম শান্তি অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।

ঘটনার পর স্থানীয়রা রাজনকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ তিতাস থানার সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে নুরুল ইসলাম শান্তির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। আটক রাজনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

মৃত নুরুল ইসলামের বড় ছেলে মহিমুল ইসলাম মোহন জানান, ‘আমি হোমনা উপজেলার ঘাড়মোড়ায় বিকাশের দোকানে চাকরি করি। ঘটনার খবর পেয়ে বাড়িতে এসে দেখি বাবা মারা গেছেন।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রাসেল মিয়া জানান, রাজনের মা ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি বিক্রি করে আট লাখ টাকা পেয়েছেন। শনিবার তিনি তার ভাইদের কাছ থেকে বিক্রি করা সম্পত্তির টাকা থেকে ৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা নিয়ে আসেন। এ টাকা নিয়ে রাজনের মায়ের সঙ্গে তার মামাদের ঝগড়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

তিনি আরও বলেন, রাজন শুক্রবার রাতে তার মামার বাড়ি সাহাবৃদ্ধিতে ছিল। শনিবার সকালে ইউসুফপুরে এসে বাবা-মায়ের কাছে টাকা চায়। মূলত টাকা চাওয়ার কারণে বাবা-ছেলের মধ্যে ঝগড়া হয়। রাজন আগে গৌরীপুর বাজারের একটি ফার্মেসিতে চাকরি করলেও বর্তমানে বেকার।

তিতাস থানার ওসি মো. মমিরুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। স্থানীয়রা অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।

ওসি আরও জানান, নিহতের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমার নদে নৌকাবাইচ, বৈঠার ছন্দে মুখর পূর্ব গাছবাড়িয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২৪ পি.এম


কুমার নদে নৌকাবাইচ, বৈঠার ছন্দে মুখর পূর্ব গাছবাড়িয়া

মাদারীপুর সদর উপজেলার পূর্ব গাছবাড়িয়ায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে পূর্ব গাছবাড়িয়া কুমার নদে প্রভাতী সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় ১৩টি নৌকা অংশ নেয়।

নৌকাবাইচ ঘিরে নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। বৈঠার ছন্দ, প্রতিযোগীদের হই-হুল্লোড় আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জাফর আলী মিয়া, পেয়রপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি একেএম ওসমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সহ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সরমিন ইসলাম ডেইজি। সঞ্চালনা করেন রাশেদুল ইসলাম ছোটন।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে ‘ফলিয়া এন্টারপ্রাইজ’ এবং পুরস্কার হিসেবে পায় একটি ফ্রিজ। দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী ‘আমগ্রাম এক্সপ্রেস’ও পায় একটি ফ্রিজ। তৃতীয় স্থান অর্জনকারী ‘নিরঞ্জন’ পায় ৩২ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন। এছাড়া অংশগ্রহণকারী অন্যান্য নৌকাকে সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে ২১ ইঞ্চি টেলিভিশন দেওয়া হয়।

আয়োজকেরা জানান, এলাকাবাসীর বিনোদন ও আনন্দের পাশাপাশি তরুণদের মাদক, বিভিন্ন ধরনের নেশা এবং অনলাইন জুয়া থেকে দূরে রাখতে এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তরুণদের ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত করাই তাদের লক্ষ্য।

নৌকাবাইচ দেখতে আসা দর্শকেরা এ ধরনের ব্যতিক্রমী আয়োজনকে স্বাগত জানান। এলাকাবাসীর দাবি, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই খেলা ধরে রাখতে প্রতিবছর নিয়মিত নৌকাবাইচ আয়োজন করা হোক।

অ্যাডভোকেট জাফর আলী মিয়া বলেন, পূর্ব গাছবাড়িয়ায় এমন একটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজনকে তিনি স্বাগত জানান। ভবিষ্যতেও নৌকাবাইচের মতো ইতিবাচক আয়োজন অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%