০৭:৪৩ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিরোধী যুদ্ধনীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি এই যুদ্ধকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, এমন যুদ্ধের দাবি কেউ করেনি। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নির্বাচনি সমাবেশে ট্রাম্পের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন তিনি।
ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে ওবামা বলেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এমন একটি অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ শুরু করা, যার প্রয়োজন কেউ অনুভব করেনি।
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের প্রভাব ইতিমধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানে হামলার পর তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়।
আরও পড়ুন: যুদ্ধের শঙ্কার মধ্যে দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না ইরানের শীর্ষ নেতা
ওবামার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্টের তীব্র সমালোচনা করেন এবং ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত পারমাণবিক চুক্তির প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন।
ট্রাম্প লেখেন, ওবামা ছিলেন ‘চরম অযোগ্য’ প্রেসিডেন্ট। তিনি অভিযোগ করেন, ওবামা ইরানকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিয়েছিলেন এবং দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।
২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিটি ওবামার প্রেসিডেন্ট থাকাকালে সম্পাদিত হয়। ওই চুক্তির আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছিল। তবে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে চুক্তিটির বিরোধিতা করে আসছেন।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ওবামা ও ট্রাম্পের এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইরান যুদ্ধের গুরুত্বকে তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্তগুলোও নির্বাচনি বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: মাথাপিছু আয়ে ভারতকে পেছনে ফেলছে বাংলাদেশ: আইএমএফের প্রতিবেদন
সূত্র: আল জাজিরা
এআরবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন