ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কুংফুতে দাপট দেখালেও কারখানার কাজে এখনও পিছিয়ে চীনা রোবট


কুংফুতে দাপট দেখালেও কারখানার কাজে এখনও পিছিয়ে চীনা রোবট

কুংফু ও নাচের ক্ষেত্রে চীনা রোবটগুলো চমক দেখালেও, কারখানার বেশিরভাগ কাজে তারা এখনও পিছিয়ে রয়েছে। চীন দ্রুত রোবট তৈরি করছে, তবে বাজারে এর চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে।

 

ফলে, প্রয়োজনের তুলনায় অধিক রোবট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ চীনের একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে শতাধিক হিউম্যানয়েড রোবটকে বিভিন্ন কাজ শেখানো হচ্ছে। প্রশিক্ষকেরা রোবটগুলোকে বাক্স গোছানো, নুডলস প্যাকেট করা এবং কফি তৈরির মতো কাজ শেখাচ্ছেন। তবে, রোবটগুলো এখনও ধীর এবং কিছুটা আনাড়ি।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

 

রোবটগুলোকে প্রশিক্ষণ দিতে কন্ট্রোলার ব্যবহার করা হচ্ছে। রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইউবিটেক এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রের জন্য ১ কোটি ৮০ লাখ ডলারের সরকারি চুক্তি পেয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো রোবটকে বাস্তব জগতের কাজ শেখানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ডেটা তৈরি করা।

চীনে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে শ্রমনির্ভর কাজে হিউম্যানয়েড রোবটের চাহিদা বৃদ্ধি পেতে পারে।

 

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

তবে, এসব রোবট এখনও সাধারণ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় বুদ্ধিমত্তা সম্পূর্ণরূপে অর্জন করতে পারেনি। পূর্বনির্ধারিত কাজের বাইরে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হলে তারা সমস্যায় পড়ে। শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের রোবট নির্মাতারা উন্নত হার্ডওয়্যার তৈরি করলেও, রোবটের বুদ্ধিমত্তা এবং বাস্তব কাজের সক্ষমতা এখনও সীমিত। অনেক প্রদর্শনীতে রোবটের নাচ বা বিভিন্ন কৌশল দেখা গেলেও, এসব কাজ আগে থেকেই প্রোগ্রাম করা থাকে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বিশ্বে প্রায় ২০ হাজার হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহ করা হয়েছে।

 

এর ৯৫ শতাংশই ছিল চীনা কোম্পানির তৈরি। চীন এ বছর ১ লাখের বেশি হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে। তবে, প্রযুক্তিটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় এর বুদ্ধিমত্তা, নির্ভরযোগ্যতা, কর্মদক্ষতা এবং উৎপাদন খরচ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সরকারি ভর্তুকি এবং বিনিয়োগের কারণে উৎপাদন দ্রুত বাড়লেও, প্রকৃত বাজার চাহিদা এখনও সীমিত।

আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন

কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, মানুষের মতো দেখতে হিউম্যানয়েড রোবট সব কাজের জন্য অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর নয়। নির্দিষ্ট কাজের জন্য তৈরি রোবটিক হাত তুলনামূলকভাবে সস্তা, নির্ভরযোগ্য এবং শিল্পকারখানায় ইতোমধ্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিশ্লেষক পো ঝাও বলেন, বর্তমানে হিউম্যানয়েড রোবট ব্যাপকভাবে ব্যবহারের মতো অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরি হয়নি। তবে, বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতে এসব রোবটের ব্যবহার বাড়বে, এই আশায় বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছেন।

মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইন্টারকানেক্টেড ক্যাপিটালের কেভিন শু বলেন, ভবিষ্যতে এই খাতে অনেক কোম্পানি টিকে থাকতে না পারায় একীভূতকরণ বা কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।

চীনের জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ১৫০টির বেশি হিউম্যানয়েড রোবট কোম্পানি রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে চীনের বিভিন্ন পর্যায়ের সরকার হিউম্যানয়েড রোবট এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম কিনতে অন্তত ২৩ কোটি ডলার খরচ করেছে। এক বছর আগে একই সময়ে এই ব্যয় ছিল ৬ কোটি ২০ লাখ ডলার।

আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে

চীন বিভিন্ন এলাকায় হিউম্যানয়েড রোবটের প্রশিক্ষণকেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান স্টেট গ্রিডও বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজে হিউম্যানয়েড রোবট, রোবটিক ব্যবস্থা এবং রোবট কুকুর ব্যবহারে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।

শেনঝেন শহর আগামী বছরের মধ্যে হিউম্যানয়েড ও ‘এমবডিড এআই’ প্রযুক্তি নিয়ে ১ হাজার ২০০টির বেশি কোম্পানির একটি ১৫ বিলিয়ন ডলারের শিল্পকেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে।

চীনে হিউম্যানয়েড রোবট খাতে বড় বিনিয়োগের ফলে কম খরচে সরবরাহব্যবস্থা তৈরি এবং দ্রুত প্রশিক্ষণ ডেটা সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে, অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে ভবিষ্যতে বাজারে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

নিউইয়র্কের এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের গবেষক লিজ্জি লি বলেন, সরকারি ভর্তুকি এবং অতিরিক্ত উৎপাদনের ফলে প্রতিযোগিতা বাড়ে এবং দাম কমে যায়। এতে অনেক কোম্পানি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে না।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম

বিশ্লেষকদের মতে, ইউবিটেক এবং ইউনিট্রির মতো কয়েকটি চীনা কোম্পানি এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার ভালো অবস্থানে রয়েছে। ইউনিট্রি ১৯ আগস্ট সাংহাই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর প্রথম দিনেই এর শেয়ারের দাম পাঁচ গুণের বেশি বেড়ে যায়। এতে কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। পরে অবশ্য দাম কিছুটা কমে।

চীনে হিউম্যানয়েড রোবটের বাজার এখনো অনেকটাই সরকারি ক্রয় এবং ভর্তুকির ওপর নির্ভরশীল। বেইজিংয়ের ই-টাউন এলাকায় রোবট কোম্পানিগুলোকে বিক্রয় ভর্তুকি, বিনামূল্যে কর্মস্থল এবং অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তবে, সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ডিপ রোবোটিক্সের গত বছরের ৪২ লাখ ডলার নিট লাভের প্রায় ৪২ শতাংশই এসেছিল সরকারি ভর্তুকি থেকে।

এদিকে, ইউবিটেক গত বছরের শেষ তিন মাসে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে অন্তত ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলারের নতুন চুক্তি পেয়েছে। প্রতিযোগিতা বাড়ায় হিউম্যানয়েড রোবটের দামও কমছে। মরগ্যান স্ট্যানলির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে রোবটের গড় দাম আরো ১৫ শতাংশ কমতে পারে।

নাচের রোবটের ভাড়াও কমেছে। প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত এসব রোবট এখন দিনে ৪৪০ থেকে ৬০০ ডলারে ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে গত বছর ভাড়া ছিল প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডলার।

আরও পড়ুন: সাঈদীর মামলার বাদীকে দাফনে বাধা দেয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন জামায়াতের

চীনে হিউম্যানয়েড রোবটের ব্যবহার এবং উৎপাদন দ্রুত বাড়ছে। নাচ এবং বক্সিংয়ের মতো প্রদর্শনীর মাধ্যমে এসব রোবট জনপ্রিয় হলেও, বাস্তব কর্মক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক কাজে প্রচলিত রোবটিক আর্ম এখনও হিউম্যানয়েডের চেয়ে দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য।

শাওমির বেইজিংয়ের বৈদ্যুতিক গাড়ির কারখানায় অ্যাসেম্বলি কাজের ৯১ শতাংশ স্বয়ংক্রিয়। সেখানে ৭০০টির বেশি শিল্প রোবট কাজ করছে। শাওমি হিউম্যানয়েড রোবটকে নাট লাগানোর মতো কাজে প্রশিক্ষণ দিলেও, উৎপাদন লাইনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখনও প্রচলিত রোবট এবং স্বয়ংক্রিয় যানবাহনই করছে।

হিউম্যানয়েড রোবটের কিছু বাণিজ্যিক ব্যবহারও শুরু হয়েছে। চীনা প্রতিষ্ঠান গ্যালবট দুই ডজনের বেশি শহরের ফার্মেসিতে রোবট ব্যবহার করছে। বেইজিংয়ের একটি ফার্মেসিতে রোবট ডিজিটাল অর্ডার পাওয়ার পর শেলফ থেকে ওষুধ তুলে প্রস্তুত করে। কোম্পানির দাবি, এসব রোবটের সফলতার হার ৯৫ শতাংশের বেশি।

তবে, হিউম্যানয়েড রোবটের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। আলো, বস্তু বা সরঞ্জামের অবস্থান সামান্য বদলালেই অনেক সময় রোবট কাজটি ঠিকভাবে করতে পারে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের মতো পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করার সক্ষমতা তৈরি করতে আরও অনেক উন্নত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। এ জন্য চীন বিপুল পরিমাণ প্রশিক্ষণ ডেটা সংগ্রহের চেষ্টা করছে। বিশ্লেষক পো ঝাওয়ের মতে, বর্তমানে প্রায় ৫ লাখ ঘণ্টার উচ্চমানের প্রশিক্ষণ ডেটা রয়েছে, অথচ উন্নত শারীরিক বুদ্ধিমত্তার জন্য প্রায় ১০ কোটি ঘণ্টার ডেটা প্রয়োজন।

চীনে রোবটের সংখ্যা বাড়লেও, বাজারে অতিরিক্ত উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। অনেক বিনিয়োগকারী এবং উদ্যোক্তা মনে করছেন, ২০২৬ সালের শেষ দিকে বা ২০২৭ সালে এ খাতে বড় ধরনের একত্রীকরণ শুরু হতে পারে। সরকারি ভর্তুকি কমে গেলে দুর্বল কোম্পানিগুলো টিকে থাকতে নাও পারে।

চীনের শক্তিশালী সরবরাহব্যবস্থা এবং সরকারি সহায়তার কারণে রোবটের যন্ত্রাংশের দাম দ্রুত কমছে। তবে, এর ফলে কোম্পানিগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, অনেক কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেলেও চীনের রোবটের সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী থাকতে পারে।

চীনের হিউম্যানয়েড রোবটের বাজার এখনো অনেকটাই সরকারি ক্রয় এবং ভর্তুকির ওপর নির্ভরশীল। বেইজিংসহ বিভিন্ন শহর রোবট কোম্পানিকে বিক্রয় ভর্তুকি, বিনামূল্যে কর্মস্থল এবং অন্যান্য সুবিধা দিচ্ছে।

সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরতার বিষয়টি কোম্পানিগুলোর আর্থিক তথ্যেও দেখা যাচ্ছে। ডিপ রোবোটিক্সের গত বছরের ৪২ লাখ ডলার নিট লাভের প্রায় ৪২ শতাংশ এসেছে সরকারি ভর্তুকি থেকে। অন্যদিকে, ইউবিটেক গত বছরের শেষ তিন মাসে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে অন্তত ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলারের নতুন চুক্তি পেয়েছে।

প্রতিযোগিতা বাড়ায় হিউম্যানয়েড রোবটের দামও কমছে। মরগ্যান স্ট্যানলির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে রোবটের গড় দাম আরো ১৫ শতাংশ কমতে পারে। প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত নাচের রোবটের ভাড়াও গত বছরের প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডলার থেকে কমে বর্তমানে দিনে ৪৪০ থেকে ৬০০ ডলারে নেমেছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের হিউম্যানয়েড রোবট এখনো ধীর এবং ত্রুটিপ্রবণ। লিউঝৌর একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের এক কর্মীর দাবি, সাধারণ কাজে রোবটগুলো এখনো মানুষের গতি এবং দক্ষতার প্রায় ২০ শতাংশে কাজ করতে পারে। তবে, আগামী দুই থেকে তিন বছরে এই ব্যবধান অনেকটাই কমে আসতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ছে, আজ রাতেই খুলতে পারে ১৬ জলকপাট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:২৯ পি.এম


কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ছে, আজ রাতেই খুলতে পারে ১৬ জলকপাট

কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে উজান ও ভাটি অঞ্চলের বন্যা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট খুলে পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শনিবার দুপুর দুইটায় কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা ছিল ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল (মিনস সি লেভেল)। লেকের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ এমএসএল। সাম্প্রতিক সময়ে ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে ক্যাচমেন্ট এলাকায় পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় লেকের পানি দ্রুতগতিতে বাড়ছে। এই পরিস্থিতির কারণে শনিবার রাত দশটায় স্পিলওয়ের ১৬টি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে পানি নিষ্কাশন শুরু করা হতে পারে।

 

এতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হবে। কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান জানান, লেকের পানির উচ্চতা, উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ (ইনফ্লো) এবং বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে স্পিলওয়ে খোলার সময় এগিয়ে বা পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে ইনফ্লো বৃদ্ধি পেলে ধাপে ধাপে গেট আরো বেশি খুলে পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ বাড়ানো হবে।

 

মাহমুদ হাসান আরও জানান, বর্তমানে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রয়েছে। এসব ইউনিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে।

এদিকে, স্পিলওয়ে খোলার সম্ভাব্য ঘোষণার প্রেক্ষিতে কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ প্রদান করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুলাই পানি বৃদ্ধির কারণে কাপ্তাই বাঁধের জলকপাট খোলা হয়েছিল। পরে পানি কিছুটা কমলে ২৩ জুলাই পুনরায় গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হিমবাহ থেকে বছরে যে পরিমাণ পানি গলছে, তাতে ১২০০ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে বিশাল শহর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৩০ পি.এম


হিমবাহ থেকে বছরে যে পরিমাণ পানি গলছে, তাতে ১২০০ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে বিশাল শহর

এশিয়ার উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের হিমবাহগুলো থেকে প্রতিবছর যে পরিমাণ বরফ গলে পানি হয়ে বের হচ্ছে, তা বোঝাতে এক মার্কিন বিজ্ঞানী একটি অবাক করার মতো হিসাব উপস্থাপন করেছেন। তাঁর মতে, এসব হিমবাহ থেকে গলে যাওয়া পানির পরিমাণ নিউইয়র্কের ম্যানহাটন দ্বীপকে প্রায় ১২০০ ফুট পানির নিচে তলিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

কলোরাডো স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড্যান ম্যাকগ্রাথ সিএনএনকে এই তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, এশিয়ার পাহাড়ি অঞ্চলে প্রায় ৯৫ হাজার হিমবাহ বিদ্যমান। এই সব হিমবাহের যে এলাকা জুড়ে রয়েছে, তার আয়তন দক্ষিণ কোরিয়ার সমান।

ম্যাকগ্রাথ বলেন, এসব হিমবাহ দ্রুত তাদের বরফের ভর হারাচ্ছে। প্রতিবছর গলে যাওয়া পানির পরিমাণ বোঝাতে তিনি বলেন, যেন প্রতিবছর ম্যানহাটনের ওপর ১২০০ ফুটের বেশি উচ্চতার পানির স্তর জমছে।

বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য বিষয়টি আরও সহজ করে বললে, ১২০০ ফুট উচ্চতা একটি সাধারণ বহুতল ভবনের কয়েকশ তলার সমান। অর্থাৎ বিজ্ঞানীর এই তুলনা শুধুমাত্র বিপুল পরিমাণ পানির ধারণা দেওয়ার জন্য নয়, বরং হিমবাহ গলার মাত্রা কতটা বড় হয়ে উঠেছে, সেটিও বোঝায়।

নেপাল-চীন সীমান্তে গত বুধবারের ভয়াবহ দুর্যোগের পর হিমবাহ গলার এই চিত্র আবারও সামনে এসেছে। ওই দিন লাংটাং লিরুং পর্বতের কাছাকাছি একটি হিমবাহের বড় অংশ ভেঙে পড়ে। এরপর তীব্র ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।

চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও পরে সিএনএনের পক্ষ থেকে অবস্থান শনাক্ত করে যাচাই করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে হিমবাহের একটি বিশাল অংশ ভেঙে নিচে নেমে আসছে।

স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন, পাহাড়ের অনেক ওপরে থাকা হিমবাহের একটি বিশাল অংশ নদীর দিকে ধসে পড়ে। সিএনএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বরফের ওই অংশ প্রায় ৭ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়।

ধসে পড়া হিমবাহের অংশটির প্রস্থ ছিল প্রায় ২ হাজার ফুট। এর পাশের প্রায় একই আকারের একটি পাথুরে অংশও ধসে পড়ে। এতে পাহাড়ের গায়ে প্রায় ৩ হাজার ফুট প্রশস্ত একটি ক্ষত তৈরি হয়েছে বলে স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণে জানা গেছে।

ঘটনাটির শক্তি এতটাই বেশি ছিল যে শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস এটিকে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে নথিবদ্ধ করেছিল। পরে বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওই ভূকম্পনের সংকেত আসলে ভূমিধস থেকেই তৈরি হয়েছিল।

হিমবাহ ধসের পর বরফ, পানি ও পাথরের বিশাল স্রোত নদীর দিকে ছুটে আসে। প্ল্যানেটারি সায়েন্স ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী জেফরি কারগেলের হিসাব অনুযায়ী, এই ঢল প্রথম ২২ কিলোমিটার পথ ঘণ্টায় গড়ে ১৯৩ কিলোমিটার গতিতে অতিক্রম করে।

অর্থাৎ মাত্র ৬ মিনিট ৫০ সেকেন্ডে প্রায় ১৪ মাইল পথ পাড়ি দেয় ওই ধ্বংসের স্রোত। বরফ ও পাথর গুঁড়িয়ে পানির সঙ্গে মিশে যাওয়ায় ঢলটির ধ্বংসক্ষমতাও ছিল অত্যন্ত বেশি।

বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি, ঠিক কী কারণে হিমবাহের ওই অংশ ভেঙে পড়েছিল। তবে এশিয়ার হিমবাহগুলো দ্রুত সংকুচিত হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে।

উচ্চ পার্বত্য এ অঞ্চলে হিমবাহ গলে যাওয়ার ফলে শুধু সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা নয়, পাহাড়ি ঢল, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। নেপালের সাম্প্রতিক দুর্যোগ সেই ঝুঁকির ভয়াবহ একটি উদাহরণ সামনে এনেছে।

ম্যাকগ্রাথের দেওয়া হিসাবের মূল বার্তা হলো, হিমবাহ হারানোর পরিমাণ এখন আর শুধু পাহাড়ি এলাকার সমস্যা নয়। এসব বরফের মজুদ এশিয়ার বহু নদীর পানির অন্যতম উৎস। ফলে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়া অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এর প্রভাব বিস্তৃত অঞ্চলের পানি, পরিবেশ ও মানুষের জীবনে পড়তে পারে।

সূত্র:

সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাছ রোপণের পাশাপাশি এর পরিচর্যায়ও গুরুত্ব দিতে হবে: ভূমিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৩৩ পি.এম


গাছ রোপণের পাশাপাশি এর পরিচর্যায়ও গুরুত্ব দিতে হবে: ভূমিমন্ত্রী

রাজশাহী, ২৯ আগস্ট, ২০২৬ : প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি রোপণ করা গাছগুলো বড় হওয়া পর্যন্ত যথাযথ যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।

তিনি আরও বলেছেন, বৃক্ষরোপণ করার চেয়ে সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে গাছের নিয়মিত পরিচর্যা করা আরও কঠিন। বিশেষ করে তালগাছ, কেননা প্রকৃতিগতভাবেই এই গাছের রক্ষণাবেক্ষণে বাড়তি যত্ন প্রয়োজন।

আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে ক্রমবর্ধমান বজ্রপাত প্রতিরোধ এবং জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় তালগাছ রোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, তালগাছ রোপণ করার এ কর্মসূচিটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। তবে শুধু তালগাছ নয়, অন্যান্য প্রজাতির গাছও ব্যাপকভাবে রোপণ করতে হবে। আর গাছ লাগানোর পর সেগুলো বড় হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত পরিচর্যা করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে তালগাছ রোপণ করার পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে রোপণের জন্য তা বিতরণ করা হচ্ছে। এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। আমরা সবাই মিলে বেশি বেশি বৃক্ষরোপণ করবো। এতে পরিবেশ বাঁচবে,সেইসঙ্গে বাঁচবে মানুষ ও পশু-পাখি।’

রাজনীতি করার কারণে দীর্ঘ সময় রাজশাহী কারাগারে ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, যখন মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলাম তখন কারাগার প্রাঙ্গণে বহু গাছ লাগিয়ে ছিলাম। সেই গাছগুলো এখন অনেক বড় হয়েছে, এর ছায়ার নিচে হাজতি ও কয়েদিরা বিশ্রাম করেন। এসব গাছে এখন শত শত পাখি আশ্রয় নিচ্ছে।

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে প্রকৃতিকে বাঁচাতে তিনি সবাইকে বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানান।

এরপর মন্ত্রী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে একটি তালগাছের চারা রোপণ করেন।

অনুষ্ঠানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খন্দকার ফয়সাল আলম এবং সিটি কর্পোরেশনের সচিব সোহেল রানা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফোরামের উদ্যোগে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের হাতে তালগাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুনামগঞ্জে জাতীয় কবি নজরুলের ৫০তম প্রয়াণ দিবসে আলোচনা সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৩৮ পি.এম


সুনামগঞ্জে জাতীয় কবি নজরুলের ৫০তম প্রয়াণ দিবসে আলোচনা সভা

সুনামগঞ্জ, ২৯ আগস্ট, ২০২৬ : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে সুনামগঞ্জে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় ও সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় গতকাল শুক্রবার বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে হাছন রাজা মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সংগীত প্রশিক্ষক সৌরভ অধিকারী অয়নের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, সুনামগঞ্জ পৌর ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শেরগুল আহমেদ, কবি ও প্রাবন্ধিক সুখেন্দু সেন, সংগীতশিল্পী ছানা গোপাল সরকারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

আলোচনা পর্বে বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও সাম্যবাদী চেতনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। 

তারা বলেন, নজরুলের সাহিত্যকর্ম বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবতা ও শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অনন্য দৃষ্টান্ত। নতুন প্রজন্মের মাঝে কবি নজরুলের জীবন ও কর্মের চর্চা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

আলোচনা সভা শেষে নজরুলের রচনা ও সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%