ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

একটি মসজিদ ও জাপানের দোলাচল


একটি মসজিদ ও জাপানের দোলাচল

টোকিও থেকে মাত্র এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত দক্ষিণের শান্ত ও স্নিগ্ধ উপকূলীয় শহর ফুজিসাওয়া। চারদিকে সবুজে ঘেরা একটি সাধারণ ঘাসের মাঠ আজ টক অব দ্য টাউন হয়ে উঠেছে। কারণ, খুব শীঘ্রই এই জায়গাতেই গড়ে উঠতে যাচ্ছে শহরটির ইতিহাসের প্রথম মসজিদ। তবে, এই ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘদিনের বাসিন্দা নোরিকো ইজুমিজাওয়া নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের সমাজ কীভাবে বদলে যেতে পারে, তা নিয়ে আমি বেশ উদ্বিগ্ন।" ফুজিসাওয়ায় ইসলামিক কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা সাধারণ মানুষের মাঝে আশা, ভয়, ক্ষোভ ও গ্রহণযোগ্যতার এক অদ্ভুত দোলাচল সৃষ্টি করেছে। জাপানের ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনগণের সংখ্যার সাথে তীব্র শ্রমসংকটের সংকটের মুখে অভিবাসনের বিষয়টি দিন দিন অনিবার্য হয়ে উঠছে, তবে সামাজিক পরিবর্তনের এই ঢেউ স্থানীয়দের মনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ঐতিহ্যগতভাবে, অভিবাসন নিয়ে জাপান কঠোর ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হলেও, কাজের প্রয়োজনের জন্য এখন দেশটি বিদেশি কর্মীদের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এর ফলে ভিন্ন সংস্কৃতি, ভাষা ও ধর্মের মানুষের আগমন ঘটছে দেশটিতে। ফুজিসাওয়ার মতো জনপদগুলোতে চলা এই বিতর্কটি মূলত জাপানিদের আত্মপরিচয়ের গভীরে আঘাত হানছে। ইজুমিজাওয়ার মতে, আমেরিকা ও ইউরোপের মেরুকরণমূলক অভিবাসন বিতর্কও তাদের মনে এই অস্বস্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।

আরও পড়ুন: দীর্ঘ যাত্রায় চালকের ক্লান্তি, বাড়ছে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঝুঁকি

চলতি বছরের শুরুর দিকে স্থানীয় রেলওয়ে স্টেশনের সামনে মসজিদ নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে এই প্রস্তাবিত নির্মাণের প্রতিবাদ জানান। কেউ কেউ যুক্তি দেখান যে, কাছাকাছি অবস্থিত প্রাচীন শিন্তো মন্দিরের তুলনায় বিশাল আকৃতির মসজিদ নির্মাণ ঐতিহ্যের প্রতি এক ধরনের অসম্মান। একইসঙ্গে, জাপানি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ধরনের ভুল তথ্য ও ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগও উঠছে। বেশ কিছু মসজিদ অবমাননাকর ফোন কল ও ইমেলের মুখোমুখি হয়েছে, যার প্রতিবাদে বর্ণবাদবিরোধী গ্রুপগুলো পাল্টা সমাবেশ করেছে।

তবুও, শহরের বাসিন্দাদের বিরোধিতা এবং সমর্থন উভয় সুরে শোনা যাচ্ছে। মসজিদ নির্মাণের নির্ধারিত সাইটের ঠিক বিপরীত দিকের একটি কফি শপের ব্যবস্থাপক হিরোকি সুজুকা বলেন, "আমি এর সম্পূর্ণ বিরোধীও নই, আবার প্রবল সমর্থকও নই।" তিনি বলেন, "আমার মতে, প্রথম কাজ হলো তাদের সম্পর্কে জানা, ইসলাম ধর্ম ও তাদের মূল্যবোধ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া।" খোলামেলা মন এবং একে অপরকে বোঝার ইচ্ছাই এই ব্যাপারের চাবিকাঠি।

জাপানে মুসলমান হিসেবে জীবন কাটানোর অভিজ্ঞতা ভূতপূর্ব বৈচিত্র্যময়। প্রায় ৩৯ বছর আগে শ্রীলঙ্কা থেকে ওসাকায় পাড়ি জমান ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মহিদিন। তাঁর মতে, আগের তুলনায় স্থানীয় মানুষ এখন অনেক বেশি প্রতিকূল হয়ে উঠেছে। অনলাইনে কিংবা সরাসরি মুসলমানদের লক্ষ্য করে কটু মন্তব্য ছুড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাপান ছেড়ে চলে যাওয়ার মতো অবমাননাকর মন্তব্য এবং মসজিদে এসে চিৎকার করে গালিগালাজ করার ঘটনাও ঘটে।

তবে, ওসাকার স্থানীয় মসজিদে নিয়মিত যাতায়াতকারী মহিদিন কখনো নিজের জীবন হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করেন না। দীর্ঘদিনের ভালো সম্পর্কের পরও সাম্প্রতিক সময়ে এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন তার চোখে পড়েছে। তবে, এর পেছনে উভয় পক্ষেরই কিছু দায় রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, "এতদিন তারা কেবল কাজের পেছনেই ছুটেছেন এবং স্থানীয় সমাজে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরতে বা একীভূত হতে যথেষ্ট প্রচেষ্টা চালাননি।" ভবিষ্যতে সংলাপ ও বোঝাপড়া বৃদ্ধি করার কথা তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: চীনে নদীর তলদেশে ট্রেন চলাচল, আলোর লেজারের প্রদর্শনী পর্যটকদের মুগ্ধ করছে

অন্যদিকে, সাইতামা প্রিফেকচারের ইয়াসিও মসজিদের প্রতিনিধি শাকিল মোহাম্মদ গত এক দশক ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। পাকিস্তান থেকে জাপানে আসার পর তিনি প্রায় ২৬ বছর ধরে নির্মাণ খাতে সুপারভাইজর হিসেবে কাজ করছেন এবং সাবলীল জাপানি ভাষায় কথা বলেন। তিনি মনে করেন, জাপানের নিয়মকানুন কঠোরভাবে মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। নিয়ম মাফিক আবর্জনা ফেলা, পার্কিং আইন অনুসরণ করা এবং বাইক চালানোর সময় হেলমেট ব্যবহার করা সহ সাধারণ শিষ্টাচার বজায় রাখা প্রতিটি অভিবাসীর দায়িত্ব।

জাপান যখন এক বিরাট জনমিতিক পরিবর্তনের মুখে দাঁড়িয়ে নিজেদের পরিচয় টিকিয়ে রাখার লড়াই চালাচ্ছে, তখন এই সংকটের গভীরতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক হিরোফুমি তানাদার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ জাপানে বিদেশি ও স্থানীয় মিলিয়ে মুসলিম জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার, যা ২০১৯ সালে ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার। একইসঙ্গে ২০২৩ সালে জাপানের সামগ্রিক বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা চার মিলিয়ন ছাড়িয়েছে, তবে দেশের নিজস্ব জনসংখ্যা প্রায় দশ লাখ কমে গেছে।

সরকারি কর্মকর্তারা ঐতিহাসিকভাবে জাপানকে অভিবাসী দেশ হিসেবে স্বীকার করতে নারাজ এবং তারা অপেক্ষাকৃত স্বল্পমেয়াদি ভিসার ওপর বেশি জোর দিয়ে থাকেন। তবে, প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন সরকার কঠোর রক্ষণশীল নীতি বজায় রেখে গত জুন মাসে প্রায় অর্ধশত বছর পর বিদেশি নাগরিকদের ভিসার ফি পাঁচগুণ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তাছাড়া অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের মোকাবেলায় ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সির জনবল বাড়ানো এবং বিদেশি বাসিন্দাদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে নতুন সীমানা নির্ধারণের পরিকল্পনা চলছে।

সূত্র: বিবিসি

আরও পড়ুন: দু’পক্ষই আগ্রহী হলে ইরান-মার্কিন বিরোধে মধ্যস্থতায় প্রস্তুত রাশিয়া

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হঠাৎ কেন কাশ্মীরে বই জব্দের অভিযান?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫৪ এম


হঠাৎ কেন কাশ্মীরে বই জব্দের অভিযান?

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের লাইব্রেরি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসনিক শুদ্ধি অভিযানের সূচনা হয়েছে। নয়াদিল্লি কর্তৃক সরাসরি শাসিত এই অঞ্চলে 'রাষ্ট্রবিরোধী' বা 'সন্ত্রাসবাদে মদদ জোগায়' এমন অভিযোগে সমস্ত সরকারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরি থেকে বই এবং ডিজিটাল আর্কাইভ জব্দের নির্দেশ স্থানীয় প্রশাসন দিয়েছে। এ কঠোর পদক্ষেপের কারণে শিক্ষাঙ্গন তথা বুদ্ধিজীবী মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পণ্ডিত ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কাশ্মীরের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা এবং ঐতিহাসিক সত্যকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাইব্রেরি ও শিক্ষাসংস্থাগুলোর বিষয়বস্তু নিয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়। নির্দেশনায় লাইব্রেরি ও লার্নিং রিসোর্স সেন্টারগুলোতে থাকা বই, জার্নাল, সাময়িকী এবং অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রীর ওপর বহুমুখী নিরীক্ষার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যে সমস্ত প্রকাশনায় চরমপন্থা, সহিংসতা, বিচ্ছিন্নতাবাদ বা ভারতবিরোধী আদর্শ প্রচার করা হয়, তা লাইব্রেরি থেকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে, যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার পরিপন্থী।

এই শুদ্ধি অভিযানের শুরু হয় ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কিছু নেতার আপত্তির পর। তারা 'সমগ্র শিক্ষা' প্রকল্পের আওতায় নির্ধারিত দুটি বইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তি তোলে। বইগুলো হচ্ছে হিলাল আহমেদ ও সন্তোষ মিনা রচিত 'পারসোনালিটিস অ্যান্ড লিজেন্ডস অব জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর' এবং ড. সুশান্ত গিরি রচিত 'গ্রেট পারসোনালিটিস অব জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর'। বিরোধী দলনেতা সুনীল শর্মা জানান, বইগুলোতে 'ভারত-অধ্যুষিত কাশ্মীর' শব্দগুচ্ছ ব্যবহৃত হয়েছে, যা ভারতের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। তারা তরুণদের মনে বিচ্ছিন্নতাবাদী ধারণার বীজ বপনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।

তীব্র প্রতিবাদের মুখে জম্মু ও কাশ্মীরের প্রশাসনিক প্রধান মনোজ সিনহা স্কুল শিক্ষা দপ্তরের আট কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। এছাড়া তিনি সংশ্লিষ্ট লেখক ও প্রকাশকদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দেন। ইতোমধ্যে ওই দুটি প্রকাশনা সংস্থাকেও কালোতালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং তাদের পূর্বে প্রকাশিত অন্যান্য উপাদানও প্রচলন থেকে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং ২০১৯ সালে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের পর কাশ্মীর উপত্যকায় ইতিহাস ও চিন্তা নিয়ন্ত্রণের একটি চলমান প্রসেসের অংশ। এর আগে গত বছরে বেশ কিছু প্রথিতযশা লেখকের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক গ্রন্থ ও গবেষণা প্রবন্ধ নিষিদ্ধ হয়েছিল। নতুন এই দমনপীড়নের কারণে সাধারণ মানুষ ও গবেষকদের মনে এক ধরনের ভীতি কাজ করছে, যার ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে রাজনৈতিক ইতিহাস এবং ইসলামি সাহিত্য বিষয়ক বই সরিয়ে ফেলতে শুরু করেছেন।

সূত্র: মিডলইস্ট আই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গরমে যে নিয়ম মেনে ব্যায়াম করলে সুস্থ থাকবেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০৫ এম


গরমে যে নিয়ম মেনে ব্যায়াম করলে সুস্থ থাকবেন

গরমে ব্যায়াম করা শুধু অস্বস্তিকর নয়, কখনো কখনো প্রাণঘাতীও হতে পারে।

তবে গরমের কারণে একেবারে ব্যায়াম বন্ধ করে দেওয়াও দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়, স্থান ও ব্যায়ামের ধরনে কিছু পরিবর্তন আনলেই তীব্র গরমেও নিরাপদে শরীরচর্চা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।

গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ছে। এর ফলে অনেক মানুষ গরমের সময় শারীরিক কর্মকাণ্ড কমিয়ে দিচ্ছেন। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতি বছর প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার থেকে ৭ লাখ মানুষের অকালমৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ব্যায়ামের সময় শরীরের পেশি তাপ উৎপন্ন করে। শরীর তখন ঘাম এবং ত্বকের দিকে বেশি রক্তপ্রবাহ পাঠিয়ে নিজেকে ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করে। এতে পেশিতে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়, ফলে দ্রুত ক্লান্তি আসে এবং হৃদ্যন্ত্রের ওপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, দিনের সবচেয়ে শীতল সময়—ভোর বা সন্ধ্যায় ব্যায়াম করা সবচেয়ে নিরাপদ। সরাসরি রোদের বদলে ছায়াযুক্ত স্থানে হাঁটা বা দৌড়ানো ভালো বলে তারা জানান। পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রাও বিবেচনায় রাখা জরুরি। আর্দ্রতা বেশি হলে ঘাম সহজে শুকায় না, ফলে শরীর ঠান্ডা হওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। বদ্ধ ও কম বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় ব্যায়াম করাও ঝুঁকিপূর্ণ।

অতিরিক্ত গরমে দীর্ঘ সময় বা উচ্চমাত্রার ব্যায়ামের পরিবর্তে সময় কমিয়ে হালকা ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন গবেষকরা। প্রয়োজনে মাঝেমধ্যে বিরতি নিয়ে ছায়াযুক্ত বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে বিশ্রাম নেওয়া উচিত। ঠান্ডা পানি পান করা, শরীরে পানি ঢালা কিংবা ভেজা তোয়ালে ব্যবহার করলে শরীর দ্রুত ঠান্ডা হয়। শুধু বরফের প্যাক ব্যবহার করলে তেমন কার্যকর শীতলতা পাওয়া যায় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যায়ামে বের হওয়ার আগে ঠান্ডা পানি বা বরফ মিশ্রিত পানীয় পান করলে শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা কমে, যা গরমে দীর্ঘ সময় নিরাপদে ব্যায়াম করতে সহায়তা করে। এছাড়া ধীরে ধীরে গরম পরিবেশে ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুললে শরীর তাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শেখে, যা ‘হিট অ্যাক্লাইমেটাইজেশন’ নামে পরিচিত।

তবে শরীরের সতর্ক সংকেত কখনোই উপেক্ষা করা যাবে না। ব্যায়ামের সময় মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, অতিরিক্ত ক্লান্তি, হৃদ্কম্পন বেড়ে যাওয়া বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা অনুভব করলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যায়াম বন্ধ করে ঠান্ডা স্থানে গিয়ে শরীর ঠান্ডা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতায় সুস্থ থাকতে ব্যায়াম বন্ধ নয়, বরং কখন, কোথায় এবং কীভাবে ব্যায়াম করা হবে—সেই অভ্যাসে পরিবর্তন আনাই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে শহীদ আবু সাঈদের ভাইয়ের খোলা চিঠি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১৮ এম


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে শহীদ আবু সাঈদের ভাইয়ের খোলা চিঠি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন শহীদ আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হোসেন। তিনি ২০২৪ সালের আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ আবু সাঈদের ভাই।

আবু হোসেন তার ফেসবুকে প্রকাশিত একটি পোস্টে লেখেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, আপনার কাছে বিশেষ অনুরোধ।" তিনি উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন স্বাভাবিকভাবে চলতে যে সমস্ত বাধার সম্মুখীন হয়েছে, সেগুলো সমাধানে নজর দিতে।

তিনি সাধারণ জনগণের মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। আবু হোসেন আরও লেখেন, "নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করুন। কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করুন।" কৃষিকাজে ব্যবহৃত স্যারের পর্যাপ্ত সরবরাহের দাবি জানান তিনি।

বিশেষ করে তিনি জ্বালানি তেল এবং বিদ্যুতের দাম কমানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। বলেন, "জ্বালানি তেল এবং বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে।"

কৃষকের কষ্টের কথা তুলে ধরে আবু হোসেন জানান যে, সরকার কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য সঠিকভাবে নির্ধারণ করেছিল। তবে বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, শুকনো ধানের মন ১৪২০ টাকা এবং সিদ্ধ চালের কেজি ৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হলেও, কৃষকরা মাঠ থেকে সংগৃহীত কাঁচা ধান ৮০০ টাকার বেশি বিক্রি করতে পারছে না।

এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন, "ঢাকা শহরে অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে তাদের ইনকাম কমে গেছে।" গ্যারেজ মালিকদের আয় বেড়েছে। ৩০টা রিকশার জায়গায় ১০০ রিকশা গ্যারেজে রয়েছে। এই নিম্ন আয়ের মানুষদের ইনকাম আগের মতো নেই এবং ঢাকা শহরে যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

অতএব, সৌখিন এবং বিলাসী পণ্যের আমদানি কমিয়ে এবং জরুরি বিষয় নয় এমন প্রকল্প বাতিল করে, বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দিয়ে দাম কমানোর দাবি জানান তিনি।

অবশেষে, আবু হোসেন ফেসবুকে পোস্টে লেখেন, "ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনে আমলের কথা উল্লেখ করে বলেন, আপনার সরকারের সফলতা তখনই প্রকাশ পাবে যখন একজন সাধারণ নাগরিক বলতে পারবে যে আমরা শেখ হাসিনার শাসন আমল থেকে অনেক ভালো আছি।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেখ হাসিনার আসা হবে না বলে মন্তব্য করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:২০ এম


শেখ হাসিনার আসা হবে না বলে মন্তব্য করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ

হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি বলেছেন, পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা আসি আসি বলে আর কখনো আসবে না বলেই মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, "পালিয়ে যাব না বলে যে পালিয়ে যায়, সে আসি আসি বলে কখনও আসবে না।" সরকারের দিক থেকে নেতাকর্মীদের বের করে গুমের ভয় দেখানো হয়, আর তারা গণপিটুনি খাবে। মেহেরপুরের গাংনী বাস স্ট্যান্ডে এনসিপির জুলাই পথসভায় সোমবার রাতে তিনি এ কথা বলেন। হাসনাত আব্দুল্লাহ শিক্ষামন্ত্রীর ব্যাপারে বলেন, তিনি সংসদে ক্ষমা চাইবেন আবার শ্রেণী বদলি করে প্রতিশোধও নেবেন। সরকার ও প্রশাসনের ব্যর্থতা কলেজের নিরীহ শিক্ষকদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। তাঁরা বদলি করেছেন অন্যত্রে। তিনি জানান, মিলন সাহেব আপনার অতীতের সম্পর্কে আমরা জানি এবং আপনার পরিবারের দুর্নীতি সম্পর্কেও অবগত রয়েছি। তবে আপনি নিজে ছেলেকে বিদেশে পড়ালেখা করান, আবার আমাদের উপদেশ দেন নেতাদের পিছনে রাজনীতি করার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্পদের বৃদ্ধি নিয়ে হাসনাত বলেন, "তার সম্পদ কমেনি, বরং আগের চাইতে ২৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।" তাঁর ছেলে ব্যাংকের ডিরেক্টর ছিল। আসলে বিএনপি নিরপেক্ষতা চায় না, বরং তারা আওয়ামী লীগের মতো দখলদার রাজনীতি করতে চায় বলেও মন্তব্য করেন। প্রশাসনকে তিনি উদ্দেশ্য করে বলেন, সরকারি দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে কিন্তু যদি কোনো রাজনৈতিক দলের সেবাদাসে পরিণত হন তাহলে ৫ আগস্টের ঘটনা মনে করিয়ে দেন। পরবর্তী বাংলাদেশ গড়তে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আকতার হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অতিষ্ঠ হয়ে সংস্কারের আহ্বান জানানো হয়েছিল তবে ভোট হওয়ার পর বিএনপি ও তার শরিক দল আর সংস্কার চায় না। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিএনপি কিছুকিছু বিষয়ে অনুপস্থিত ছিল এবং গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন কোনো বক্তব্য দেয়নি ইতোমধ্যে। এখন বিএনপির সাথে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব নিয়ে তারা বিএনপির সুরেই কথা বলছে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশর ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তবে এখন তারা তা মানে না। জনগণের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। তাই ক্ষমতায় থাকতে হলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে জাতীয় নারী শক্তির সদস্য সচিব ড. মাহমুদা মিতু এমপি বলেন, "যদি বাংলাদেশকে আওয়ামী লীগের রাস্তায় নিয়ে যেতে চান তাহলে হাসিনার মতো পালায় না পালায় না বলে পালায় যেতে হবে।" মুখ দেখানোর জায়গা পাবেন না বলেও মন্তব্য করেন। এনসিপির বিরুদ্ধে কেউ আঘাত করার চেষ্টা করলে জনগণ জানে তা কীভাবে প্রতিহত করতে হয়। পথসভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আকতার হোসেন এমপি, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, জাতীয় নারী শক্তির সদস্য সচিব ড. মাহমুদা মিতু এমপি, নুসরাত তাবাসসুম এমপি, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও মেহেরপুর জেলা প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাড. সাকিল আহমাদ প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%