ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

কুড়িগ্রামে অসুস্থ গরুর মাংস বিক্রির সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিককে মারপিট, মামলায় গ্রেফতার ১


কুড়িগ্রামে অসুস্থ গরুর মাংস বিক্রির সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিককে মারপিট, মামলায় গ্রেফতার ১

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিককে মারধর, হত্যাচেষ্টা ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সদর ইউনিয়নের নলেয়া গ্রামের হায়দার আলীর পুত্র মাংস ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক (৩৫) ও তার ভাই মোঃ মাসুদ রানা মুন্না (২৮) এবং মৃত অবর উদ্দিন এর পুত্র মোঃ সাইফুর রহমান (৪২) এর বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাদ্দাম মোড়ের পূর্ব পার্শ্বে আমিনুর মেম্বারের বাড়ির সামনে। এ ঘটনায় আহত সাংবাদিকের মা বাদী হয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে পুলিশ মাসুদ রানা মুন্নাকে গ্রেফতার করে‌ আদালতে প্রেরণ করেছে।

সাংবাদিক মাইদুল মাস্টার্স ও এল এল বি পড়ালেখা শেষ করে দীর্ঘদিন থেকে উপজেলার সমস্যা, সম্ভাবনা, সচেতনতা, অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সুনামের সাথে অগ্রযাত্রা প্রতিদিন, তালাশ বিডি, দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকায় কর্মরত থেকে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে এবং কুড়িগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের একজন সদস্য।

আরও পড়ুন: চাঁদপুরে নিষিদ্ধ আ.লীগের সভাপতি নাসিরসহ ৩০ জন আটক

গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ইং ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস কর্তৃক বাজারে অভিযান পরিচালনা করে অসুস্থ গরুর মাংস বিক্রি বন্ধ করে এবং জব্দকৃত মাংস মাটিচাপা দেয়। জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ওই ঘটনাটি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সাংবাদিক মাইদুল ইসলামও সংবাদ প্রকাশ করেন।

অভিযোগ ‍ও স্থানীয় ‍সূত্রে জানা যায়, সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই মাংস ব্যবসায়ী মোজাম্মেল মাইদুলের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ফোনে হুমকি দিলে বিষয়টি সচেতন ব্যবসায়ীরা ঝামেলা করতে বাধানিষেধ করলেও মোজাম্মেল বিভিন্ন সময়ে অসুস্থ গরু জবাই নিউজের বিষয়ে কথা বলে আসছিলো। সর্বশেষ গত ২০ মে ২০২৬ রাতে সাংবাদিক মাইদুলকে মেসেঞ্জারে ফোন করে সংবাদ প্রকাশের কারণে ক্ষতির কথা উল্লেখ করে। সাংবাদিক মাইদুল ৪ জুন বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মোটরসাইকেলযোগে ব্যবসায়ীক কাজে ভূরুঙ্গামারী বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সাদ্দাম মোড়ের পূর্ব পার্শ্বে আমিনুর মেম্বারের বাড়ির সামনে পৌঁছালে মোজাম্মেলের ছোট ভাই মাসুদ রানা মুন্না হাতুড়ি নিয়ে তার পথরোধ করে এবং মোজাম্মেলকে ফোন করলে বলে সে না আসা পর্যন্ত ছাড়তে নিষেধ করে। কিছুক্ষণ পর মোজাম্মেল ও সাইফুর বাজার থেকে ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিককে অসুস্থ গরু জবাইয়ের সংবাদ প্রকাশের কথা বলেই প্রথমে মোজাম্মেল ও সাইফুর পরে মুন্নাসহ তিনজন সাংবাদিক মাইদুকে মেরে ফেলার উদ্যেশে এলোপাতাড়িভাবে মাথায়, মুখে, কানে, বুকে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল ঘুষি মেরে আহত করে। হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরেন, সাংবাদিকের পকেটে থাকা নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয় দোকানদার ও পথচারীরা এগিয়ে এসে হামলাকারীদের নিকট থেকে তাকে ছাড়ালেও একপর্যায়ে মোজাম্মেল হাতে ধারালো কিছু দ্বারা সাংবাদিককে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করে এতে নাকের হাড় ভেঙে গুরুতর রক্তাক্ত হয়ে ও পড়নের শার্ট ও প্যান্ট রক্ত দিয়ে ভিজে যায়। স্থানীয়রা পরিবারের সদস্যদের খবর দেয় এবং উদ্ধার করে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। সেখানে ৪ দিন চিকিৎসা নিলেও নাকের হাড় ভাঙ্গা ও কানের পর্দা ফেটে অঙ্গহানি হওয়ায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে এবং সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অভিযোগ বিষয়ে অভিযুক্ত মোজাম্মেল বলেন, অসুস্থ গরু তিনি জবাই করেনি। অভিযান হলে মাইদুল এ বিষয়ে নিউজ করে, পরে তাকে অনেকবার ডাকা হলে দুইতিনজন সাংবাদিকসহ বাজারে আসে ও কথা হয়। ঘটনার দিন সাড়ে নয়টার দিকে বাজার থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিককে মারপিটের ঘটনায় রক্তাক্ত হলে হাসপাতালে ভর্তি হয় বলে জানায়।

সাংবাদিক হাসপাতালে ভর্তি থাকাবস্থায় অভিযুক্ত মুন্না ৬ জুন (বুধবার) আনুমানিক রাত ১১টার দিকে শফিকুল এর ছেলে রাকিব ও মোটরসাইকেল মেকার সুলতানকে সাথে নিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন। অনেকক্ষণ কথা বলেন এবং বলেন, প্রায় দুই মাস আগে আমার ফেসবুকে ছবি পোস্ট করলে মাইদুল ভাই ছবিটির ইমোজি সরিয়ে কমেন্ট শুধু ছবি দিয়েছিলো এবং ফোন করলে সাথে সাথে ডিলিট করে দেয়। এ নিয়ে দুইমাস আগে কথা হয়েছিল। তবে ঘটনার দিন আমার মেজাজ ভালো ছিলোনা। ভাইকে বাইক থামিয়ে কথা বলার ফাঁকে বড় ভাই মোজাম্মেলকে ফোন করলে ভাই বাজারে ছিলো এবং আটক করে রাখতে বলে। এখানে মারামারির কোন বিষয় ছিলো না তবে বাজার থেকে মোজাম্মেল ভাই ও সাইফুর এসেই গরু জবাইয়ের নিউজের কথা উল্লেখ করেই মাইদুল ভাইকে মারপিট শুরু করে, আমি ফাঁকে ছিলাম পরে এসে সাথে আমিও মারি। মোজাম্মেল ভাইয়ের ঘুষিতেই মাইদুল ভাইয়ের নাক ফেটে রক্তাক্ত হয়। এ রকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে আমি বুঝতে পারি নাই। এ সময় ভর্তি রোগী মৃত ইবর উদ্দিনের ছেলে মুসলিম উপস্থিত থেকে ঘটনা শুনেন।

আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জে আব্দুল মজিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১ হাজার তালগাছ রোপণ

সাংবাদিক মাইদুল বলেন, অসুস্থ গরু জবাই করা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের মতো আমিও সংবাদ প্রকাশ করি। এরই জের ধরে আমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল মোজাম্মেল। মোজাম্মেল, মুন্না ও সাইফুর তিনজনে হত্যার উদ্দেশ্যে আমাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে, হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চিপে ধরে, নাক ফাটিয়ে রক্তাক্ত করে। এক লাখ বিশ হাজার টাকা ছিনতাই করে। আমি গুরুত্বর অসুস্থ চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছি। বিষয়টি পত্রিকা অফিস ও সাংবাদিকদের জানিয়েছি তারা খোঁজখবর নিচ্ছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই এবং স্বাধীনভাবে কাজ করতে চাই।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী সাংবাদিকের মা বলেন, “আমার ছেলে জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশ করে। সাংবাদিকদের যদি নিরাপত্তা না থাকে তাহলে সাংবাদিকতা করে কি লাভ। সকল সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানো ও হামলাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান।

এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে জেলার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।কুড়িগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম রিগান বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন বা সংবাদ প্রকাশের জে‌রে সাংবাদিকের ওপর হামলা গ্রহণযোগ্য নয়। সংবা‌দে কেউ সংক্ষুদ্ধ হ‌লে যথাযথ আই‌নি ব‌্যবস্থা নি‌তে পা‌রেন। কিন্তু সাংবা‌দিকের ওপর হামলা স্বাধীন সাংবা‌দিকতার জন‌্য অশ‌নিসং‌কেত। মাঈদু‌লের ওপর হামলাকারী‌দের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দা‌বি জানাই। ভবিষ্যতে কেউ যেন হামলার শিকার না হয় সে জন্য রাষ্ট্রয‌ন্ত্রের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছি।

রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সাদেকুজ্জামান সালেক বলেন, সাংবাদিক মাইদুলের ওপর হামলা নিন্দনীয়, উদ্বেগজনক এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছি।

আরও পড়ুন: বাঘা ও চারঘাটে ট্যাপেন্টাডল ও এস্কাফসহ গ্রেপ্তার ৩

কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ শফি খান তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, সংবাদ প্রকাশের জেরে যদি একজন সাংবাদিককে এভাবে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়, তবে তা আমাদের সমাজের জন্য অশনি সংকেত। স্বাধীন গণমাধ্যমের কথা মুখে বলা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা যা জানাচ্ছি এবং জড়িতদের কঠোরতম শাস্তির দাবি করছি।

বাংলাদেশ সাংবাদিক লেখক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোঃ কুতুব উদ্দিন বলেন, “সাংবাদিকের ওপর হামলা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, এটি সত্য ও জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতার ওপরও আঘাত। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, সাংবাদিক নির্যাতনকারীরা দেশ-সমাজ ও রাষ্ট্রের শত্রু। এদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা উচিত।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আশিকুজ্জামান বলেন, মাংস হাটে অভিযানে একটি রোগাক্রান্ত গরু জবাই করছিলো যা জব্দ করে মাটির নিচে পুঁতে ফেলা হয়েছিল। এ সময় অনেকে সংবাদ প্রকাশ করে। সাংবাদিককে মারপিটের ঘটনা নিন্দনীয়। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা হয়েছে।

আরও পড়ুন: নওগাঁ সদর মডেল থানার নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি

ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ আজিম উদ্দিন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে একজন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সীমান্ত নিরাপত্তায় লালমনিরহাটে বিজিবির কঠোর তৎপরতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:২৪ পি.এম


সীমান্ত নিরাপত্তায় লালমনিরহাটে বিজিবির কঠোর তৎপরতা

পুশ ইন ঠেকানোর উদ্দেশ্যে লালমনিরহাট সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কড়া নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করেছে। এ কার্যক্রমে স্থানীয় বাসিন্দারা এবং আনসার সদস্যরাও সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছেন।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাটের প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার এবং কুড়িগ্রামের প্রায় ১৯৮ কিলোমিটার সীমান্তে রাতভর টহল ও নজরদারি বৃদ্ধির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কোথাও যদি অবৈধ অনুপ্রবেশের আশঙ্কা দেখা দেয়, বিজিবি সদস্যরা সহযোগিতায় স্থানীয় জনগণ ও আনসার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন।

গত এক সপ্তাহে লালমনিরহাট জেলার চারটি সীমান্ত পয়েন্টে অন্তত আট দফা পুশ ইন প্রতিহত করা হয়েছে। সেই কারণে সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা অনেক বেড়েছে।

বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর ও দীঘলটারী সীমান্ত বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। বিএসএফের পক্ষ থেকে এসব সীমান্ত দিয়ে লোকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ রয়েছে।

আদিতমারীর দীঘলটারী সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা খয়বর আলী বলেন, ভারতে তাদের আত্মীয়-স্বজন রয়েছেন। বিএসএফ যখন সীমান্তে লোকজন নিয়ে আসে, তখন তারা বিজিবিকে অবহিত করেন। স্থানীয় জনগণ বিজিবির সঙ্গে উক্ত রাতের টহলে অংশ নিয়ে পুশ ইন ঠেকানোর জন্য ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন।

জাহেদুল ইসলাম নামে আরেক বাসিন্দা মন্তব্য করেন, বিজিবির তৎপরতা অনেক বেড়ে গেছে। তারা দেশের নিরাপত্তা রক্ষা করতে অবিরাম কাজ করছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সীমান্ত সুরক্ষায় তাদের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

সীমান্ত টহলে অংশ নেওয়া আনসার সদস্য সাইফুল ইসলাম জানান, বিজিবির সঙ্গে সীমান্ত টহলে অংশগ্রহণ করতে পেরে তিনি গর্বিত বোধ করেন। তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বিএসএফের পুশ ইন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে।

লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সচেতন করা হচ্ছে যাতে তারা জিরো লাইন অতিক্রম না করেন।

তিনি জানান, বিজিবির এই নজরদারি স্থানীয় জনগণ ও আনসার সদস্যদের সহযোগিতার কারণে আরও কার্যকর হচ্ছে। দেশের সার্বভৌমত্ব এবং সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা করতে বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোঃ আমিনীর নামে প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রসঙ্গে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পারভিন আক্তার,নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি,

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:২৮ পি.এম


মোঃ আমিনীর নামে প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রসঙ্গে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান

তিনি বলেন, ১১ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে “নিউজ 24 নারায়ণগঞ্জ” অনলাইন পত্রিকায় তাঁর বিরুদ্ধে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।

মোহাম্মদ আমিন জানান, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নিয়ম ও নীতি মেনে তিনি ই-টেন্ডারের (ই-জাদার) মাধ্যমে কালিবাজার এলাকায় টাকার কালেকশনের দায়িত্ব পান। সে অনুযায়ী তিনি অর্ধেক এলাকায় নিয়মিতভাবে ই-টেন্ডারের মাধ্যমে টাকার কালেকশন করে আসছেন।

তিনি আরও বলেন, এই বিষয়টিকে পুঁজি করে কিছু দুষ্কৃতিকারী তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মীর কাছে সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদিত ইজারার কাগজপত্র উপস্থাপন করেছেন।

তিনি প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্র্যাজুয়েট পর্যন্ত নারীদের পড়াশোনার খরচ বহন করবে সরকার: বিমানমন্ত্রী রিতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:২৮ পি.এম


গ্র্যাজুয়েট পর্যন্ত নারীদের পড়াশোনার খরচ বহন করবে সরকার: বিমানমন্ত্রী রিতা

এবারের বাজেটে নারীদের গ্র্যাজুয়েট পর্যন্ত বিনা খরচে পড়াশোনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা মন্তব্য করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ প্রস্তাবের বাস্তবায়ন করবেন। শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা হলরুমে ‘এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন।

আফরোজা খানম রিতা এসময় বলেন, দেশের মানুষের স্বার্থে এবারের বাজেট পেশ করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট। বাজেটে শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। আজ ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১৮টি প্রকল্প উপস্থাপন করেছে। তিনি বলেন, এসব প্রকল্প যেন চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়। প্রয়োজনে একটি হলেও প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে—এতে তিনি সকলের পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করছেন। তিনি চান, শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে নারীরা, সাটুরিয়া থেকে জাতীয় পর্যায়ে প্রবেশ করে ভালো করুক এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে পুরস্কার পেতে পারে।

শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি উল্লেখ করেন, যেহেতু সরকার নারীদের গ্র্যাজুয়েট পর্যন্ত বিনা খরচে পড়াশোনার ব্যবস্থা করছে, তাই শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে নারীদের প্রতি আরও যত্নশীল হতে হবে। সাটুরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের যৌথ উদ্যোগে ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে স্বাগতিক বক্তব্য রাখেন সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম।

এ সময় মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতি, এবং মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম ও সাটুরিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফকির জাকির হোসেন এছাড়াও বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল কুদ্দুছ খান মজলিশ মাখন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সরকার, সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোশারফ হোসেন, সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম সহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, স্থানীয় সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে প্রধান অতিথি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষক গ্রুপের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। এছাড়া তিনি প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ১০ জনকে নগদ অর্থ প্রদান করেন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে সাটুরিয়া উপজেলার ১৭টি উচ্চ বিদ্যালয় ও ১টি কলেজ অংশগ্রহণ করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেয়াদ শেষের দুই বছর পরও নতুন কমিটি নেই বেরোবি পরিবহন কর্মচারী ইউনিয়নের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসফিকুল হাসান, বেরোবি প্রতিনিধি

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩১ পি.এম


মেয়াদ শেষের দুই বছর পরও নতুন কমিটি নেই বেরোবি পরিবহন কর্মচারী ইউনিয়নের

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) পরিবহন কর্মচারী ইউনিয়নের দ্বি-বার্ষিক কমিটি ২০২২-২০২৪ মেয়াদের জন্য গঠিত হলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হতে চলেছে। তবে এখনো নতুন কমিটি গঠন কিংবা নির্বাচন আয়োজনের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি। এ পরিস্থিতিতে পরিবহন বিভাগের বিভিন্ন কর্মচারীর মধ্যে অসন্তোষ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবহন ইউনিয়নের ২০২২-২০২৪ মেয়াদের কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান মো. মনিরুজ্জামান মনু এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন মো. শয়ন মিয়া। এছাড়া সহ-সভাপতি, সাংগঠনিক সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ ও অন্যান্য পদেও প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু কমিটির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নতুন নির্বাচন না হওয়ায় পুরোনো কমিটির সদস্যরাই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

পরিবহন বিভাগের একাধিক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একটি দ্বি-বার্ষিক কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর স্বাভাবিক নিয়মেই নতুন নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নির্বাচন বা নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকায় কর্মচারীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা মনে করেন, ইউনিয়নের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও অংশগ্রহণমূলক করতে নিয়মিত নির্বাচন প্রয়োজন।

পরিবহন বিভাগের একজন কর্মচারী বলেন, “আমরা চাই একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হোক। পরিবহন ইউনিয়ন তো কর্মচারীদের অধিকার ও কল্যাণের জন্য। তাই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ সবার থাকা উচিত।”

এ বিষয়ে বর্তমান সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান মনু বলেন, “কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, বিষয়টি সত্য। ব্রাকসু হওয়ার পরবর্তীতে আমাদের নির্বাচন হওয়ার কথা কারন বিশ্ববিদ্যালয় প্রসাশন থেকে বলা হয়েছিলো ছাত্র সংসদ না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্বাচন হবে না বিশ্ববিদ্যালয়ে।”

সাধারণ সম্পাদক মো. শয়ন মিয়া বলেন, “আমাদের কমিটির পরবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল শিক্ষক নির্বাচন এর পরে কিন্তু এখনো শিক্ষক সমিতির নির্বাচন না হওয়ায় কোনো নির্বাচন দিতে পারছি না এটা একটা নিয়মের মধ্যে রয়েছে।”

তবে এ বক্তব্যে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন অনেক কর্মচারী। পরিবহন বিভাগের আরেক কর্মচারী বলেন, “নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন একই নেতৃত্ব বহাল থাকা গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা উচিত।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কর্মচারী সংগঠনগুলোর নিয়মিত নির্বাচন ও নেতৃত্বের পরিবর্তন সংগঠনের জবাবদিহিতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই পরিবহন কর্মচারী ইউনিয়নের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে সদস্যদের প্রত্যাশা দিন দিন বাড়ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%