ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরানের পরমাণু ইস্যু ঘিরে জাতিসংঘের বৈঠকে উত্তেজনা


ইরানের পরমাণু ইস্যু ঘিরে জাতিসংঘের বৈঠকে উত্তেজনা

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে চীন এবং রাশিয়ার বিরোধিতার মধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক শেষ হয়েছে।

বৈঠকে অধিকাংশ সদস্য দেশ সতর্ক করেছে যে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা তেহরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর কার্যকর নজরদারির সক্ষমতা হারিয়েছে। এর ফলস্বরূপ, পরমাণু বিস্তার রোধের বিষয়ে গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু মস্কো ও বেইজিং দাবি করেছে, ২০১৫ সালের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের আইনি কার্যকারিতা শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে এ বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের আর যৌক্তিকতা নেই। আলোচনার বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের বিরোধিতা সত্ত্বেও নিরাপত্তা পরিষদের ইউরোপীয় সদস্য বাহরাইন এবং ইউরোপীয় অঞ্চলের পাঁচটি দেশ ডেনমার্ক, ফ্রান্স, গ্রিস, লাটভিয়া ও যুক্তরাজ্য বৈঠকের আহ্বান করেছিল।

বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে ১১টি সদস্য দেশের সমর্থন, দুটি দেশের বিরোধিতা এবং দুটি সদস্য রাষ্ট্রের ভোটদানে বিরত থাকার মধ্য দিয়ে একটি পদ্ধতিগত ভোটাভুটির পর। এটি ছিল ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ইরান সম্পর্কিত নিরাপত্তা পরিষদের তিন নম্বর বৈঠক। চলতি বছরের মার্চ ও জুন মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছিল আগের দুটি বৈঠক, যা কোনো আনুষ্ঠানিক ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছিল।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

ইরান এবং পি৫+১ শক্তিগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন’ (জেসিপিওএ)-কে অনুমোদন দেওয়ার লক্ষ্যে ২০১৫ সালে গৃহীত ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবটির মেয়াদ ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর শেষ হবে।

এক্ষেত্রে তেহরান, মস্কো এবং বেইজিংয়ের অবস্থান হলো, প্রস্তাবটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল বিধান, বিধিনিষেধ এবং নিরাপত্তা পরিষদের দায়িত্বও অবসান ঘটেছে। এর ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর নিরাপত্তা পরিষদের কোনও আইনি কর্তৃত্ব নেই।

তারা আরও যুক্তি দিয়েছে, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি কর্তৃক তথাকথিত ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়া কার্যকর করার প্রচেষ্টা আইনি ও পদ্ধতিগতভাবে অকার্যকর, কারণ প্রস্তাবটির মেয়াদ আগেই শেষ হয়েছে।

বৈঠকের আগে নিরাপত্তা পরিষদে বক্তব্য রাখার সময় জাতিসংঘে রাশিয়ার উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি আনা এভস্টিগনিয়েভা বলেছিলেন, ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবটির কার্যকারিতা শেষ হওয়ায় এ সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনার কোনো ম্যান্ডেট নিরাপত্তা পরিষদের নেই।

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

তিনি পরিষদের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত নিয়মকানুন উপেক্ষা করার অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এমন একটি বিষয় নিয়ে বারবার বৈঠক ডাকা হচ্ছে, যা এখন আর নিরাপত্তা পরিষদের আলোচ্যসূচিতে নেই।

এভস্টিগনিয়েভা আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে চলা উত্তেজনা বৃদ্ধি বা নিরাপত্তা পরিষদকে রাজনৈতিক সংঘাতের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহারের যে অযৌক্তিক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে, রাশিয়া তা প্রত্যাখ্যান করে। তিনি যোগ করেন, ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়া কার্যকর করা হয়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

জাতিসংঘে চীনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি সান লেই মস্কোর অবস্থানের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেছেন, ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের মেয়াদ ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর শেষ হয়েছে এবং এর ফলে নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের পারমাণবিক ইস্যু সংক্রান্ত আলোচনা শেষ হয়েছে।

সান যুক্তি দেন, নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনা থেকে বাদ পড়া কোনো বিষয় নিয়ে বারবার বৈঠকের আয়োজন করা কূটনৈতিক আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশকে ক্ষুণ্ণ করে।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

তিনি সতর্ক করে বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের ভেতরে ক্রমবর্ধমান রাজনীতিকরণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিভাজনকে আরও গভীর করে এবং রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর পথে বাড়তি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অবিরাম বৃষ্টিতে পানিবন্দি আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুই শতাধিক পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৪০ পি.এম


অবিরাম বৃষ্টিতে পানিবন্দি আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুই শতাধিক পরিবার

টানা বৃষ্টির কারণে নওগাঁর মান্দা উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের বর্দ্দপুর গ্রামে অবস্থিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর প্লাবিত হয়েছে। শনিবার তোলা। কালের কণ্ঠ।

অবস্থার কারণে প্রকল্পের ২০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। স্থানীয়বাসিন্দাদের মতে, তাদের ঘরে পানি ঢুকে পড়ার ফলে তিন দিন ধরে অনেক পরিবারের চুলায় আগুন জ্বলেনি। তারা রান্না করা খাবারের পরিবর্তে শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। জলাবদ্ধতার মাঝেই সাপ ও জোঁকের উপদ্রব বেড়ে গেছে যা তাদের আতঙ্কে দিন কাটাতে বাধ্য করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা প্রশাসনের সূত্র মতে, গত বুধবার (৮ জুলাই) রাতে ভারি বৃষ্টি শুরু হয় যা উজানের কয়েকটি উপজেলা থেকে আসা পানির কারণে আশ্রয়ণ প্রকল্প প্রাঙ্গণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আশ্রয়ণের ঘরে পানি ঢুকতে শুরু করে। বর্তমানে পুরো এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমেছে এবং পানিতে ঘরের মেঝে ডুবে গেছে, যার ফলে বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বেড়ে চলেছে।

শনিবার (১১ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অনেক ঘরে পানি ঢুকেছে। রান্না করার সুযোগ না থাকায় বাকি শুকনো খাবারই বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হঠাৎ জলাবদ্ধতায় পুরো এলাকায় সাপ ও জোঁকের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার শঙ্কায় নারী ও শিশুরা পানিতে নামতে ভয় পাচ্ছে। সাপের আতঙ্কে অনেক পরিবারে নির্ঘুম রাত কাটছে।

প্রকল্পের বাসিন্দা বায়োজিদ হোসেন মন্তব্য করেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘরে পানি ঢুকতে শুরু করে। এখন পুরো এলাকায় হাঁটুসমান পানি। রান্নার চুলা ডুবে গেছে, ঘরেও পানি উঠেছে। তিন দিন ধরে রান্না করা খাবার খেতে পারিনি। খুব কষ্টে দিন কাটছে।’

অন্যদিকে, বাসিন্দা মরিয়ম বেগম বলেন, ‘ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে। চুলা তলিয়ে যাওয়ায় রান্না করা যাচ্ছে না। আমরা অনেক কষ্টে আছি।’

এদিকে, আজ শনিবার দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপুর নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পানিবন্দি ২০০ পরিবারের মধ্যে স্যালাইন, মোমবাতি ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সার্থী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, মৈনম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছার রহমান, মৈনম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাহারুল ইসলাম প্রমুখ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সার্থীর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘বন্যা নয়, হঠাৎ ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে শুক্রবার এলাকা পরিদর্শন করা হয়। সংসদ সদস্যের তাৎক্ষণিক নির্দেশনায় আজ (শনিবার) পানি বন্দি পরিবারগুলোর মাঝে স্যালাইন, মোমবাতি ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাঁচ জেলায় ফের বন্যার শঙ্কা, সতর্কবার্তা জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৪২ পি.এম


পাঁচ জেলায় ফের বন্যার শঙ্কা, সতর্কবার্তা জারি

 

উজানের ঢল এবং বৃষ্টিপাতে ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার ও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কুড়িগ্রামসহ রংপুরের পাঁচ জেলায় নিম্নাঞ্চলে ফের স্বল্পমেয়াদী বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে দেওয়া এক পূর্বাভাস বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতিতে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতে পরামর্শ দিয়েছে পাউবো। দুর্যোগ মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র ও শুকনা খাবারসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রেখেছে জেলা প্রশাসন।

আবহাওয়া সংস্থার তথ্যের বরাতে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম প্রদেশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।

পূর্বাভাসে আরো বলা হয়েছে, এ সময় রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানির সমতল বৃদ্ধি পেয়ে কিছু কিছু স্থানে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে কুড়িগ্রাম, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলা সংলগ্ন এসব নদীর নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

শনিবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দেওয়া তথ্য মতে, জেলার সবকটি নদ-নদীর পানি এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদীর পানি কুড়িগ্রামের তালুক শিমুলবাড়ী এবং সেতু পয়েন্টে বৃদ্ধি পেয়েছে।

পাউবো, কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যার পূর্বাভাস রয়েছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের যেসব স্থান দুর্বল রয়েছে, সেগুলো মেরামতে আমাদের কাজ চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চলতি বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৩৬০ শিক্ষার্থীর: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৪৩ পি.এম


চলতি বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৩৬০ শিক্ষার্থীর: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে দেশে ৩২০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী নিহত এবং ১০৯ জন আহত হয়েছেন বলে তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, যদি শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করা যায় তাহলে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং একটি সুশৃঙ্খল জাতির গঠনও সম্ভব হবে।

শনিবার (১১ জুলাই) মিরসরাই ট্রাজেডির ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেছেন।

বিবৃতিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, মিরসরাই ট্রাজেডির পুনরাবৃত্তি রোধে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচির অভাব রয়েছে। এর কারণেই প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য শিক্ষার্থী প্রাণ হারাচ্ছে এবং অনেকেই আহত হয়ে স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে ৩২০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী নিহত এবং ১০৯ জন আহত হয়েছেন।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী আরও বলেন, ২০১১ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থী বহনকারী একটি মিনিট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে শিক্ষার্থীসহ ৪৫ জন নিহত হন। এটি দেশের ইতিহাসে একক সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা। ওই দুর্ঘটনার পর এখনও শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে কার্যকর ও নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি। এর ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে প্রয়োজনীয় সচেতনতা তৈরি হয়নি এবং প্রতিবছরই সড়ক দুর্ঘটনায় বহু শিক্ষার্থীর প্রাণহানি ঘটছে।

সংগঠনটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ৫৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৭ শিক্ষার্থী নিহত ও ২২ জন আহত হন। ফেব্রুয়ারিতে ৩৯টি দুর্ঘটনায় ৪৭ জন নিহত ও ১১ জন আহত হন। মার্চে ৫৯টি দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত ও একজন আহত হন। এপ্রিলে ৫১টি দুর্ঘটনায় ৫৬ জন নিহত ও ২৫ জন আহত হন। মে মাসে ৬১টি দুর্ঘটনায় ৭৩ জন নিহত ও ২৩ জন আহত হন। জুনে ৫৩টি দুর্ঘটনায় ৬০ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হন।

শিক্ষার্থীদের প্রাণহানি কমানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি পাঁচ দফা সুপারিশও তুলে ধরেছে। সুপারিশগুলো হলো—

১. পাঠ্যবইয়ে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতামূলক বার্তা অন্তর্ভুক্ত করা।

২. প্রতি মাসে অন্তত একবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে ঘণ্টাব্যাপী সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা।

৩. জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের সব গুরুত্বপূর্ণ পারাপারস্থল, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে জেব্রা ক্রসিং আঁকা এবং সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা।

৪. মহাসড়কসংলগ্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে 'রোড সেফটি গার্ড' নিয়োগের মাধ্যমে লাল পতাকা ব্যবহার করে যানবাহন থামিয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করা।

৫. প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে সড়ক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রস্তুত রংপুর স্বাস্থ্য বিভাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ পি.এম


ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রস্তুত রংপুর স্বাস্থ্য বিভাগ

বর্ষাকালীন ডেঙ্গুর প্রভাব মোকাবেলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করছে রংপুর বিভাগীয় প্রশাসন। এই ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সাধারণ নাগরিকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় উপপরিচালক ডা. ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘রংপুরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত দেড় বছরে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও কমেছে। তবে এখনো পুরোপুরি ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়নি। ডেঙ্গু যেন না হয় সেজন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মশা নিধন, মশারি টাঙিয়ে ঘুমানোসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আর যদি ডেঙ্গু হয়েই যায় তাহলে চিকিৎসাসেবার জন্য প্রতিটি জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রক্ত পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কিট সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।’

ডা. ওয়াজেদ বলেন, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্থানীয় প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা পালন করলে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা সম্ভব।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সারাদেশে বর্ষা শুরুর সাথে সাথে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বাড়তে শুরু করলেও রংপুর অঞ্চলে এখনো ডেঙ্গুর বড় কোনো প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়নি। তবে, ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় এডিস মশার ঘনত্ব এবং ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

এই পরিস্থিতিতে যে কোনো ধরনের বড় বিপর্যয় এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সাধারণ নাগরিকদের আগাম সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে রংপুর স্বাস্থ্য বিভাগ।

বর্ষাকালে ঝোপঝাড়ে মশার প্রজনন বৃদ্ধি পায়। এসব মশা থেকে নানা ধরনের রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার জন্য চিকিৎসকরা আহ্বান জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রংপুর বিভাগে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা অন্যান্য বিভাগের তুলনায় কম। তবে বর্ষা মৌসুমের এই সময়ে যে কোনো মুহূর্তে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা কিংবা অন্যান্য আক্রান্ত অঞ্চল থেকে যাতায়াতকারীদের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে এডিস মশার বংশ বিস্তারের ঝুঁকি রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে ডেঙ্গুর ধরন বদলেছে। ডেঙ্গু একদিকে যেমন ভয়ংকর হয়ে উঠছে, তেমনি শহর ছাড়িয়ে ঝুঁকি বাড়িয়েছে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও। কমবেশি সারা বছরই ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। বাড়ির আশপাশে ডাবের খোসা, টায়ার, ফুলের টব বা যে কোনো পরিত্যক্ত পাত্রে যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগী বাড়লে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড চালু করার মতো প্রাথমিক প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।

রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন জানান, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গত ২৫ জুন থেকে মাসব্যাপী বিশেষ মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি শুরু হয়েছে। শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে এডিস মশার বিস্তার রোধ ও লার্ভা ধ্বংস করার জন্য এই ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হচ্ছে।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে দুই বছরে রংপুরের আট জেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সরকারি মেডিক্যালে মারা গেছেন ১৪ জন। এর বাইরে বেসরকারি মেডিক্যাল ও বাড়িতেও মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালে রংপুর বিভাগের আট জেলায় ডেঙ্গু জ্বরে মোট আক্রান্ত রোগী ছিল ২৬৫ জন। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৪৭ জন এবং রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫৪ জন। এর বাইরে ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে ১০ জন, নীলফামারী হাসপাতালে ৩২ জন, পঞ্চগড় হাসপাতালে নয় জন, লালমনিরহাটে সাত জন, কুড়িগ্রামে চার জন এবং গাইবান্ধায় দুই জন।

২০২৩ সালে এ বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজার ৪৯৪ জন। মৃত্যু হয়েছিল ১২ জনের। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ছিল দিনাজপুরে পাঁচ জন। এরপর রংপুরে চার জন, গাইবান্ধায় দুজন ও লালমনিরহাটে একজন। ওই বছর বেশি রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন রংপুরে ১ হাজার ২৯৫ জন। এরমধ্যে স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৪৬০ জন।

এছাড়া গাইবান্ধায় এক হাজার ৪৪ জন, দিনাজপুরে ৮৮৩ জন, নীলফামারীতে ৭৬৫ জন, কুড়িগ্রামে ৭০৮ জন, লালমনিরহাটে ৩০৩ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ৩০৯ জন এবং পঞ্চগড়ে ১৮৭ জন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত আট জেলায় মোট আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৪৭২ জন। এর মধ্যে বেশি রোগী দিনাজপুরে ৩৪৪ জন, নীলফামারীতে ৩০১, কুড়িগ্রামে ২১৭, গাইবান্ধায় ১৪৬, রংপুরে ১৯৭, লালমনিরহাটে ৬৩, ঠাকুরগাঁওয়ে ৭৭ এবং পঞ্চগড়ে ১১৮ জন। মৃত্যু হয়েছে দুজনের। এর মধ্যে গাইবান্ধায় একজন এবং নীলফামারীতে একজন।

২০২৫ সালে আট জেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১১৮৭ জন। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ছিল দিনাজপুরে ২৫৬ জন। এরপর রংপুরে ২৪৪ জন, নীলফামারীতে ২০৭ জন, গাইবান্ধায় ১৬২ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ৯৯ জন, লালমনিরহাটে ৯৬ জন এবং কুড়িগ্রামে ৩৫ জন। এ বছর কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বিভাগের আট জেলায় ৪৪ জন রোগী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। এরমধ্যে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ জেলায় মোট ১১ জন, গাইবান্ধায় ১০ জন, লালমনিরহাট ও নীলফামারীতে আটজন, দিনাজপুরে চারজন এবং ঠাকুরগাঁওয়ে তিনজন। এই সময়ের মধ্যে ৩৭ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং কোনো মৃত্যু হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%