মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৮:৪৪ পি.এম
শান্ত এক বিকেলে ৬৫ বছর বয়সি জনপ্রিয় নারী সংসদ সদস্য হেলেন হেইনস নিজের অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ করেই একটি দ্রুতগামী সাদা ল্যান্ডক্রুজার গাড়ি তার ওপর তুলে দেয় এক চালক। হামলাটি যেন নিশ্চিত হয়, সেই জন্য চালক গাড়িটি ঘুরিয়ে এনে দ্বিতীয়বারের মতো তাঁকে আরেকটি গাড়ির সাথে পিষে ফেলে।
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের কাছে ওয়াঙ্গারাতা শহরের সেই ভয়াবহ দৃশ্যে উপস্থিত পথচারীরা স্তব্ধ হয়ে যান। মুহূর্তের মধ্যে এক সাহসী নাপিত ছুটে এসে চালকের হাত থেকে ছুরি কেড়ে নেন। সাধারণ মানুষ একজোট হয়ে ৪৩ বছর বয়সি ওই হামলাকারীকে ঘেরাও করে ফেলে, পরে পুলিশ এসে তাকে গ্রেফতার করে। চিকিৎসকেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় হেলেনকে মেলবোর্নের হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে দীর্ঘ অস্ত্রোপচারের পর আফসোসের বিষয় হলো, তার একটি পা কেটে বাদ দিতে হয়েছে। অপর পা-টি বাঁচানোর জন্য এখন চিকিৎসকেরা আপ্রাণ লড়াই চালাচ্ছেন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ নিশ্চিত করেছেন, এটি কোনো নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং পুরোপুরি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে ঘটনার নেপথ্য কারণ জানতে পুলিশ ও সন্ত্রাসবাদ বিরোধী বিশেষ দল যৌথ তদন্ত শুরু করেছে।
হাসপাতালের বিছানায় জীবন-মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা হেলেন হেইনস ছিলেন সাধারণ মানুষের খুব কাছের একজন মানুষ। তিনি কেবল রাজনীতিকই নন, একজন সাবেক নার্স, গবেষক ও তিন সন্তানের মা। গরুর খামারে বেড়ে ওঠা এই লড়াকু নারী ২০১৯ সাল থেকে নিজের যোগ্যতা ও ভালোবাসায় পরপর তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। একজন সেবিকা ও নেত্রীর প্রতি এমন নির্মমতায় থমকে গেছে পুরো অস্ট্রেলিয়া। দেশজুড়ে এখন শুধুই তার প্রাণ ফিরে পাওয়ার আকুল প্রার্থনা।
সূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যের ১২টি দেশে ভ্রমণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সতর্ক করেছে মার্কিন দূতাবাসগুলো, যেগুলো ওই দেশগুলোতে অবস্থিত। সংঘাত, ফ্লাইট বাতিল এবং আকাশসীমা বন্ধ থাকার ঝুঁকির কারণে সোমবার (১৯ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে এই সতর্কতা প্রকাশ করা হয়। ইউরো নিউজের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সতর্কতা জারি করা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, জর্ডান, বাহরাইন, ওমান, ইরান, কাতার, ইরাক, লেবানন, ইয়েমেন ও ইসরাইল।
যৌথ বিবৃতিতে মার্কিন নাগরিকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, তারা আপাতত এসব দেশে ভ্রমণ এড়িয়ে চলুন। বর্তমানে ওই ১২টি দেশে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিমান সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের ওপর নজর রাখতে এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে থাকা মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে বলা হয়েছে। যেকোনো আকস্মিক পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরান এবং দেশটির সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো বিদেশে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে, সৌদি আরবে ইরান-সমর্থিত হুতি বাহিনীর চালানো হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব হামলায় বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হওয়ার কারণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে এবং ভ্রমণব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
ফ্লাইটের তথ্য নিশ্চিত করার পরামর্শ
মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলো ভ্রমণকারীদের ফ্লাইটের সময়সূচি সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইট চলবে—এমনটি ধরে না নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা বা বিমানবন্দরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে যাত্রার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
লেবাননে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস নাগরিকদের বৈরুতের রফিক হারিরি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দিয়েছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ফ্লাইটসংক্রান্ত তথ্যের জন্য ইয়েমেনিয়া এয়ারওয়েজ ও ফ্লাই এডেন এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে।
আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও বিমান চলাচলে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে দূতাবাসগুলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ : ঢাকা ও চট্টগ্রাম শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেল বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মাধ্যমে শ্রমিকদের জন্য ৭ কোটি ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৬১০ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করেছে।
এ তথ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের জন্য প্রি ও পোস্ট-কেইসে মোট ৪২৫ কোটি ২০ লাখ ৬৪ হাজার ৪৮২ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৪ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে ৪১৮ কোটি ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ৮৭২ টাকা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেলের মাধ্যমে ৭ কোটি ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৬১০ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। সরকারি খরচে আইনি সহায়তা পাওয়া উপকারভোগীর সংখ্যা ১৬ লাখ ৬৩ হাজার ৬২০ জন।
বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশের ৬৪টি জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস, ঢাকা ও চট্টগ্রাম শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেল এবং সরকারি আইনি সহায়তায় জাতীয় হেল্পলাইন কল সেন্টার (টোল ফ্রি-’১৬৬৯৯’) এই আইনি সেবা প্রদান করছে।
দেশের আর্থিকভাবে অসচ্ছল এবং অসমর্থ বিচারপ্রার্থী জনগণের জন্য আইনি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন’-এর অধীনে সরকারি খরচে এই সেবা দেওয়া হচ্ছে।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধীনে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রদলের ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক শ্রুতিরাজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে তাচ্ছিল্যপূর্ণ ও উপহাসমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদির প্রতি এই ধরনের আচরণ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শ্রুতিরাজ তার ফেসবুক পৃষ্ঠায় লেখেন, ‘ইশরাক ভাইয়ের ব্যাপারটা নিয়ে আবার হাদি ভাইকে ভুলে যাবেন না, এদিকেও খেয়াল রাখতে হবে!’
শ্রুতিরাজ চৌধুরী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের স্পোর্টস সাইন্স বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি সপ্তম চাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
ফুটবলে আর্জেন্টিনার একটি জয়ের পর শ্রুতিরাজ পূর্বে ফেসবুকে পোস্ট করে লিখেছিলেন, ‘হাদি ভাই থাকলে আজ ফ্যাসিস্ট আর্জেন্টিনা জিতত না।’
এছাড়া, গত ২৪ মে চবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিফ রহমান এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় আটক হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রুতিরাজ লেখেন, ‘সামগ্রিক এই ক্যাচাল আর বিভ্রান্তির ভিড়ে আমরা যেন হাদি ভাইকে ভুলে না যাই। জাস্টিস ফর হাদি।’
এসব পোস্টের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে শ্রুতিরাজ চৌধুরী বলেন, ‘ওসমান হাদির মৃত্যুর আগে তাকে অনেকেই চিনত না। তার মৃত্যুর পর মানুষের মধ্যে আবেগ তৈরি হয়।’ তবে তিনি অভিযোগ করেন, হাদির হত্যাকাণ্ডের পর তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে অসংখ্য ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে।
শ্রুতিরাজ আরও জানান, ‘এসব অ্যাকাউন্ট থেকে আমার মতো প্রগতিশীল রাজনীতি চর্চাকারী নারীদের ফেসবুক পোস্টে অশালীন মন্তব্য করা হতো। আমার ইনবক্সেও মাঝেমধ্যে এ ধরনের বার্তা আসত। এতে আমি মানসিক হয়রানির শিকার হয়েছি।’
তিনি বিরোধীদের হাদিকে অতিরিক্ত মূল্যায়নের চেষ্টা করছে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি সততার সঙ্গেই বলছি—আমার কখনোই মনে হয়নি হাদি এমন অসাধারণ কেউ ছিলেন, যাকে জাতির পিতা হতে হবে কিংবা বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
তবে শ্রুতিরাজ হাদির ছবি ও নাম ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে অশালীন মন্তব্যের বিষয়ে বলেন, ‘এখানে হাদির সরাসরি কোনো দোষ নেই। মূল সমস্যা হলো তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে নারীদের অশালীন মন্তব্যের মাধ্যমে হয়রানি করা। কেউ হাদিকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে চাইলে তার সম্পর্কে সঠিক ও গঠনমূলক তথ্য প্রচার করা উচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচনের পক্ষে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগের দিন নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানালেও সোমবার (১৯ অক্টোবর) ভ্যান্স তার অবস্থান স্পষ্ট করেন।
ভ্যান্স সাংবাদিক মার্ক হালপেরিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমেরিকার কিংবা আন্তর্জাতিক রাজনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী সমর্থনটি প্রেসিডেন্টের।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমেরিকান প্রার্থীদের সমর্থন করি। আর এখন আমার মনোযোগ মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে। তাই আমি ইসরাইলের নির্বাচনে জড়াচ্ছি না।’
তবে গত বসন্তে হাঙ্গেরির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে ভ্যান্স বলেন, অরবানের দল পরবর্তীতে সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান দলের ইহুদি সমর্থকদের মধ্যে ভ্যান্সের ইহুদি আমেরিকানদের প্রতি অঙ্গীকার এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল কৌশলগত অংশীদারত্ব নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
এদিকে, মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইহুদিবিদ্বেষ নিয়ে উদ্বেগও বৃদ্ধি পেয়েছে। রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের, বিশেষ করে মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক দলের সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদকে ইহুদি ও ইসরাইলবিরোধী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। একই সময়ে রিপাবলিকান শিবিরের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধও প্রকাশ্যে আসছে।
সাবেক ফক্স নিউজ উপস্থাপক টাকার কার্লসনের সঙ্গে ভ্যান্সের সম্পর্ক নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত বছর কার্লসন তার পডকাস্টে ইহুদিবিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত নিক ফুয়েন্তেসের সাক্ষাৎকার নেওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।
ইসরাইলের বিরুদ্ধে ভ্যান্সের সমালোচনা
জেডি ভ্যান্স ইসরাইল সরকারের কয়েকজন সদস্যের সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা ও প্রাথমিক সমঝোতার প্রকাশ্য বিরোধিতা করায় ইসরাইলি কর্মকর্তাদের সমালোচনা করেন। ভ্যান্স একবার বলেছিলেন, ‘এই মুহূর্তে সারা বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে ডোনাল্ড জে. ট্রাম্পই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি ইসরাইলের প্রতি সহানুভূতিশীল।’
তিনি ইসরাইলি কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ঝুঁকির মুখে ফেললে তারা ‘সবকিছু হারানোর ঝুঁকিতে’ পড়তে পারেন। নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার সদস্যদের উদ্দেশে ভ্যান্স আরও বলেন, ইসরাইলকে সুরক্ষা দেওয়া প্রতিরক্ষাব্যবস্থার দুই-তৃতীয়াংশই যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি এবং মার্কিন করদাতাদের অর্থে কেনা।
ভ্যান্স বলেন, ‘ইসরাইলের সমস্যা ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প নন। আর ইসরাইলে যারা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টই তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা, তাদের বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে হবে।’ গত জুলাইয়ে ভ্যান্স অভিযোগ করেছিলেন, ইসরাইল সরকারের কিছু অংশ ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে দিতে মার্কিন জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে।
জো রোগানের পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা নিশ্চিতভাবে জানি, তাদের ব্যবস্থার কিছু লোক আমেরিকার জনমতকে প্রভাবিত করছে এবং যুদ্ধ অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যাওয়ার জন্য জনমত পরিবর্তনের চেষ্টা করছে।’
ইরান যুদ্ধ নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে উত্তপ্ত ফোনালাপ চলতি বছরের শুরুর দিকে হয়েছিল জেডি ভ্যান্সের। যুদ্ধের পরিস্থিতি সম্পর্কে নেতানিয়াহুর অতিরিক্ত আশাবাদী মূল্যায়ন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে নেতানিয়াহুর আত্মবিশ্বাসের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন ভ্যান্স। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘যুদ্ধের আগে বিবি (নেতানিয়াহুর ডাকনাম) প্রেসিডেন্টকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে এটি সহজ হবে এবং সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা বাস্তবের চেয়ে অনেক বেশি। ভাইস প্রেসিডেন্ট এসব বক্তব্যের বিষয়ে বাস্তবসম্মত অবস্থান নিয়েছিলেন।’
ফোনালাপের পর এক মার্কিন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া ভ্যান্সকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে ইসরাইল। দীর্ঘদিন ধরে অনির্দিষ্টকালের বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে আসা ভ্যান্স বর্তমানে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।
ওই কর্মকর্তা আরও অভিযোগ করেন, ইরান যুদ্ধ বন্ধের সমঝোতায় পৌঁছাতে ভ্যান্সের সঙ্গে আলোচনা করতে বেশি আগ্রহী—এমন খবর ছড়ানোর পেছনে ইসরাইলের ভূমিকা রয়েছে। তার দাবি, ভ্যান্স চুক্তির বিষয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি আগ্রহী হতে পারেন—এমন ধারণা থেকেই এসব খবর ছড়ানো হয়েছে।
অ্যাক্সিওসকে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি জেডি-র বিরুদ্ধে ইসরাইলের একটি অভিযান।’ তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইসরাইলের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ