১০:০৬ পি.এম
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট। সমাবেশে জোটের নেতৃবৃন্দ এনসিটি ও সিসিটির মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালনা এবং রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান। তারা সিসিটি বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানান।
সোমবার (৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জোটের কেন্দ্রীয় নেতা ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাম্যবাদী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, বাসদ (মার্কসবাদী)-এর সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মাহবুব)-এর কেন্দ্রীয় নেতা মহিনউদ্দিন চৌধুরী লিটন প্রমুখ।
আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
নেতৃবৃন্দ জানান, ১ অক্টোবর সরকারের অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এনসিটি ১৫ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার উদ্দেশ্যে খসড়া কনসেশন চুক্তি অনুমোদন করেছে। তবে কোন কোম্পানিকে টার্মিনালটি দেওয়া হবে এবং চুক্তিতে কী কী শর্ত থাকবে, তা প্রকাশ করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারও দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে লালদিয়ার চর ও পানগাঁও টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। জনগণের আন্দোলনের মুখে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এখন নির্বাচিত সরকারও আগের সরকারের জাতীয় স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দেশীয় অর্থায়নে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এনসিটি নির্মাণ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় ৪৪ শতাংশ কনটেইনার ওঠানামা এই টার্মিনালের মাধ্যমে হয়ে থাকে। একটি লাভজনক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ টার্মিনাল কেন বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দিতে হবে, সেই প্রশ্নের জবাব সরকারকে দিতে হবে। তারা আরও বলেন, এনসিটি শুধু অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়; এর সঙ্গে দেশের ভূ-রাজনৈতিক কৌশল, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নও জড়িত। বিদেশি অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হলে বন্দরের রাজস্বের বড় অংশ বিদেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্স করপোরেশনকে (আইএফসি) প্রকল্পের লেনদেনবিষয়ক পরামর্শক নিয়োগের কঠোর সমালোচনা করেন নেতারা। তারা বলেন, বন্দর ব্যবহারকারী ও বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে বিশ্বব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠানটির পরামর্শ সরকার কেন অনুসরণ করছে, তার ব্যাখ্যা দিতে হবে। এনসিটি-সংক্রান্ত খসড়া কনসেশন চুক্তি, লালদিয়া ও পানগাঁও ইজারা চুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত অসম বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে হবে।
সমাবেশ থেকে ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা দেশি-বিদেশি লুটেরাদের কাছে বিক্রির সিদ্ধান্তেরও প্রতিবাদ জানানো হয়। পাশাপাশি এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ১৩ অক্টোবর চট্টগ্রামে বন্দর রক্ষা কমিটি ও স্কপ সমর্থিত কর্মসূচি এবং ৩০ অক্টোবর ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জোটের সমাবেশ সফল করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন